তুমি আমায় ডেকে ছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে

তুমি আমায় ডেকে ছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে

1147
SHARE
Humayun-AHmed

জন্মদিন নিয়ে একবার হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। প্রশ্ন করেছিলামÑ স্যার আজ ১৩ নভেম্বর আপনার জন্মদিন। অনুভূতি জানতে চাই। প্রশ্ন শুনে তিনি একটু হেসে ছিলেনÑ জন্মদিনের আবার অনুভূতি কি? অনুভূতি ভালো। সবাই উইশ করতেছে। ভালো খাওয়া-দাওয়া হবে। আড্ডা হবে। কেউ কেউ উপহার পাঠাবে। ভালোই তো… কথা বলতে বলতে তিনি আমাকে একটা ধাঁধা ধরলেনÑ বলোতো কোন জিনিস বাড়লেই কমে…? উত্তরটা আমার জানা ছিল। কিন্তু না জানার ভান করতেই তিনি ব্যাপারটা ধরে ফেললেন। বললেন, তোমার চোখ-মুখ বলছে তুমি উত্তরটা জানো। অথচ তুমি প্রকাশ করতেছোÑ জানো না। ঠিক আছে ধরে নিলাম তুমি উত্তরটা জানোনা। তাই উত্তরটা বলি। উত্তর হলো মানুষের বয়স। জন্মদিন মানেই নতুন বছরে পা দেয়া। কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য আনন্দের হলেও ব্যক্তির ক্ষেত্রে আনন্দের না। কারণ জন্মদিন মানেই একটা বছর চলে যাওয়া। তোমার জীবন থেকে এক বছর মাইনাস হলো। তাই বলে কি আমরা জন্মদিনে আনন্দ করবো না? অবশ্যই করবো। এসো আমরা মনে মনেই জন্মদিনের কেক কাটি। বলো হ্যাপি বার্থ ডে টু ইয়্যু…

আরেকদিন। আনন্দ আলোর জন্য তাঁর একটা লেখা চাইতে গেছি। এর আগে টেলিফোনে জানিয়েছেন, তোমার লেখা রেডি, আসো…

গেলাম তার ধানমন্ডির বাসায়। যথারীতি সদর দরজা খোলা। কাজের লোক আমার নাম জানতে চাইল। নাম বলার আগেই হুমায়ূন আহমেদ ড্রয়িংরুমে ঢুকলেন। তার হাতে অনেকগুলো ছোট্টো ছোট্টো বাক্স। মেঝেতে বসলেন। আমাকে বসতে বললেন। অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি। বাক্সগুলো খুলতে খুলতে বললেনÑ তুমি কি জানো আমি জাদু দেখাতে পারি?

বললামÑ হ্যাঁ, শুনেছি।

আসো, তোমাকে একটা জাদু দেখাই। বলেই একটা দড়ি দিয়ে জাদু দেখালেন। লম্বা দড়ির উভয় প্রান্ত ছেঁড়া। হঠাৎ দেখি দুই অংশ জোড়া লাগা। টানাটানি করেও খোলা যায় না। এরপর আরও কয়েকটা জাদু দেখালেন। আমি যার পর নাই অভিভূত।

আনন্দ আলোর জন্য একটা নতুন গল্প দিলেন। সঙ্গে একটা বইও দিলেন। বইয়ের নামÑ তুমি আমায় ডেকে ছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে।

বইটি হাতে নিয়ে বললামÑ স্যার, আজ আমার জন্মদিন। কিছু লিখে দেন।

জন্মদিনের কথা শুনে খুশিতে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন হুমায়ূন আহমেদ। হাসতে হাসতে বললেনÑ এই যে এক বছর মাইনাস হয়ে গেল…

দুঃখজনক হলোÑ আমার সেই বইটি সংগ্রহে নাই। এক বন্ধু পড়তে নেয়ার পর আর ফেরত দেয়নি। তার বক্তব্যÑ কে নাকি তার কাছ থেকে বইটি নিয়েছে। সেও ফেরত দেয়নি।

১৩ নভেম্বর হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। বাংলা সাহিত্যে জাদুকর। নির্মাণের মহান কারিগর হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে নেই। কিন্তু তার চলচ্চিত্র, সাহিত্যকর্ম, টিভি নাটক আমাদেরকে পথ দেখাচ্ছে প্রতিদিন। আমরা আনন্দের সঙ্গে লক্ষ্য করছি হুমায়ূন পুত্র নুহাশ বাবার পথেই হাঁটা শুরু করেছেন। তাকে নিয়ে চলতি সংখ্যায় থাকলো একটি বিশেষ প্রতিবেদন। পাশাপাশি বোনাস হিসেবে প্রকাশ হলো হুমায়ূন আহমেদের নাটকের আবিষ্কার দেশের দুই খ্যাতিমান তারকা ডা. এজাজ ও ফারুক আহমেদের ওপর একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার।

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা।