Home শীর্ষ কাহিনি তারকাদের হেঁশেল ঘর

তারকাদের হেঁশেল ঘর

SHARE

প্রীতি ওয়ারেছা:
শুধু আমাদের দেশের সেলিব্রেটিই নন বিশ্বের নামি দামি সেলিব্রেটিরও আছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। যেন-তেন রেস্টুরেন্ট কিন্তু নয়, সেলিব্রেটিদের রেস্টুরেন্ট হয় অভিনব আইডিযা় সমৃদ্ধ। সেলিব্রেটি বলে কথা! টেলিভিশনের পর্দায় একসময় ছোট্ট পুতুল পুতুল একটি মেযে়র উপস্থিতি সবাইকে মুগ্ধ করতো। নাচ, গান, অভিনয় কোথায় ছিলেন না তিনি! এখনো টিভির পর্দায় উজ্জ্বল সেই মেযে়টির নাম রুমানা রশীদ ঈশিতা। সবার কাছে একনামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে স্বনামধন্য একটি মিডিযা় হাউজে কাজ করার পাশাপাশি চলতি বছরের মে মাসে ঈশিতা বনানীর কামাল আতার্তুক এভিনিউযে় ‘হোযা়ই নট’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন। রেস্টুরেন্টটি ঠিক ঈশিতার ব্যক্তিত্বের মতই ছিমছাম এবং ভীষণ গর্জিযা়স। ‘হোযা়ই নট’ রেস্টুরেন্টে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি পাবেন নানা ধরণের প্রাণ জুডা়নো ড্রিঙ্কস্ আইটেম। আরেক জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আসিফ আকবর একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসাযী়ও। ‘বাংলা রেঁস্তোরা’ নামে কুমিল্লা শহরে তার একটি রেস্টুরেন্ট আছে। যদিও তিনি জানিযে়ছেন ব্যবসার উদ্দেশ্যে এই রেস্টুরেন্টটি করা হয়নি। ভাল রেস্টুরেন্টের তীব্র অভাববোধ থেকে অনেকটা প্রাণের তাগিদেই রেসটুরেন্ট ব্যবসার সাথে জড়ীত হযেছেন। আসিফের কাছে তার রেস্টুরেন্টের বিশেষত্ব সম্মন্ধে জানতে চাওযা় হলে বলেন, কুমিল্লার ঠিক যে জায়গায় আমার এই বাংলা রেঁস্তোরা সেটা ছিল আসলে আমাদের বন্ধু মহলের আড্ডাস্থল। আমরা আড্ডা দিতাম আর ভাবতাম আহারে পুরো কুমিল্লা খুঁজলেও এমন একটা রেস্টুরেন্ট পাওযা় যাবে না যেখানে আনন্দ নিযে় পরিবারের সকলকে নিযে় একবেলা খাওযা় যেতে পারে। অথচ শহরে অনেক সৌখিন মানুষ আছেন যারা পরিবার নিযে় ঘুরতে বের হন ইচ্ছে থাকলেও কোথাও বসে আরাম করে খেতে পারেন না। রেস্টুরেন্টগুলোতে সেই পরিবেশই নেই। বিষয়টা আমাকে পীডা় দিতো। হঠাৎ একসময় মাথায় আসলো উদ্যোগটা নিজে নিলে কেমন হয়! এভাবেই আসলে ‘বাংলা রেঁস্তোরা’ দাঁড়িযে় গেল। আমার রেস্টুরেন্টের বিশেষত্ব হলো কুমিল্লার পরিবারগুলোকে সম্পৃক্ত করতে পারা। এবং আমি সফল হযে়ছি। যেহেতু আমি নিজে ভাল পরিবেশের অভাবটা অনুভব করেছি তাই আমার রেস্টুরেন্টকে এই অভাববোধের জায়গা থেকে পুর্ণাঙ্গ রুপ দিতে কোন ঘাটতি রাখিনি। জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী এস আই টুটুলের ‘ফাযা়র অন আইস’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট আছে। রেস্টুরেন্ট মানেই মজার মজার সব খাবার, তাই না? ফাযা়র অন আইস এর বৈশিষ্ট্য হলÐ টুটুল রেস্টুরেন্টকে শুধু খাবারের মধ্যেই বেঁধে রাখেননি। খাবারের সাথে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রেখেছেন লাইভ মিউজিক। ফাযা়র অন আইস উত্তরা ১ নম্বরে অবস্থিত। এস আই টুটুল জানান, আমাদের রেস্টুরেন্টটি পুরো মাত্রায় একটি মিউজিক ক্যাফে। শহরে হয়তো অনেক মিউজিক ক্যাফেই পাবেন কিন্তু বছরের ৩৬৫ দিনই লাইভ গান পরিবেশিত হয় এমন কোন মিউজিক ক্যাফে আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না। আমি মনে করি আমাদের রেস্টুরেন্টে আসা অধিকাংশ গ্রাহকই শুধু খেতে আসেন না, আসেন রিফ্রেশমেন্টের জন্য। খাওযা়র পাশাপাশি গান কিংবা গানের পাশাপাশি খাওযা় যাইবলি না কেন বিষয়টা কিন্তু দারুণ উপভোগ্য। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িত আছেন অভিনেতা শাহরিযা়র নাজিম জয়। বনানীতে তিনি একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন নাম ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’। চেন্নাই এক্সপ্রেসের ইন্টেরিয়র যে কারো দৃষ্টি আকর্ষন করবে। পুরো রেস্টুরেন্টের ব্ল্যাক ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা চক দিযে় লেখা যেন পুরো রেস্টুরেন্টিই মেন্যু চার্ট। কালোর ভিতরে সাদা আঁকি বুকি রেস্টুরেন্টকে আলাদা সৌন্দর্য এনে দিযে়ছে। চেন্নাই এক্সপ্রেসে মূলত ভারতীয় খাবার পাওযা় যায়। এখানকার চেলো কাবাব এককথায় অসাধারণ। সঙ্গীত শিল্পী এস আই টুটুল এবং আসিফের মত নগর বাউল জেমসেরও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা আছে। জেমসের রেস্টুরেন্টটি ধানমন্ডির ৯/১ রোডে অবস্থিত। সম্প্রতি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নাম লিখিযে়ছেন সুফি ঘরানার সঙ্গীতশিল্পী পারভেজ। মাত্র কযে়কদিন আগে কারওযা়ন বাজারে ‘ভর্তা-ভাত’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন তিনি। নাম শুনলেই বোঝা যায় ভর্তা-ভাতের স্পেশালিটি কোথায়! Chennei-Express হরহামেশা বিদেশ সফরের কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই তারকারা বৈচিত্রময় খাবারের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা পেযে় থাকেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেও অনেক তারকা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় আগ্রহী হন। তারকারা নিজের প্রিয় খাবারগুলোকে তাদের রেস্টুরেন্টের মেন্যুতে রাখেন এবং সেই খাবারকে ভক্তদের কাছে পরিচিত করিযে় দেন। ভক্তরাও খুব আহ্লাদের সাথে সেলিব্রেটিদের পছন্দের মেন্যু চেখে দেখেন। বিষয়টা সুখকর, সুতরাং উভয় পক্ষই খুশি। সাম্প্রতিক সমযে় বনানীতে ‘সাকিব’স ডাইন-দ্য অল রাউন্ড ফুড এক্সপেরিযে়ন্স’ নামের নতুন একটি রেস্টুরেন্ট সবার দৃষ্টি কেডে়ছে। রেস্টুরেন্টের সাথে আছে স্পোর্টস্ লাউঞ্জও। ব্যাপারটাতে কি একটু খটকা লাগলো! খটকা লাগলে বলছি- রেস্টুরেন্টটি ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার দেশের গর্ব সাকিব আল হাসানের। আপনি আড্ডা এবং খাবারের সাথে এখানে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলা দেখার অনুভূতি পাবেন। সাকিবস্ ডাইনের বিশেষত্ব হল সাব স্যান্ডউইচ ও এশিযা়ন ফিউশনধর্মী খাবার। এছাডা়ও থাকছে অলরাউন্ডারের পছন্দের খাবার। আপনি সাকিবস্ ডাইনে গিযে় সাকিবের প্রিয় খাবার উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। অলরাউন্ডারের লাউঞ্জটি বনানী ১১ নম্বর রোডে অবস্থিত। আমাদের আরেক প্রিয় ক্রিকেটার আশরাফুলেরও আছে নিজ মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট। বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে অবস্থিত আশরাফুলের ‘সিচুযা়ন’ নামের রেস্টুরেন্টটি। বাঙালির চাইনিজ খাবার এবং ফাস্ট ফুড প্রীতির কথা মাথায় রেখেই আশরাফুল রেস্টুরেন্টটির ক্যুইজিন সেট করেছেন চাইনিজ। সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল সম্প্রতি একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন। নাম দম ফুঁক। চোঙায় ফুঁ দিযে় চুলায় আগুন জ্বালানোর দৃশ্য এখন নিভৃত গ্রামেও খুব একটা দেখা যায় না। গ্রামবাংলার সেই ঐতিহ্যকে আধুনিকতার মোড়কে ধারণ করেছে ‘দম ফুঁক’। চোঙায় ফুঁ দিযে় এখানে চুলা জ্বালানো হবে না, তবে রেস্টুরেন্টের নামে বাঁচিযে় রাখা হযে়ছে ওই ঐতিহ্যই। চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজারের ইস্পাহানী চত্বরে অবস্থিত ভারতীয় খাবারের এই রেস্টুরেন্টটি। ক্রিকেটারদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাযী় হিসেবে শুধু সাকিব, আশরাফুল ও নাফিসই নেই, আছেন লিজেন্ডারি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। শচীনের রেন্টুরেন্টের নাম ‘টেন্ডুলকারস্’। রেস্টুরেন্ট ব্যবসাযী় ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীও। সৌরভের রেস্টুরেন্টের নাম ‘সৌরভস্- দ্য প্যাভিলিয়ন ফুড কর্ণার’। আমাদের নাট্যাঙ্গনের তারকাদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাযী় হিসেবে নাম লিখিযে়ছেন অপুর্ব। ঢাকার বনানীতে আবেদিন টাওযা়রের নিচতলায় তিনি গডে় তুলেছেন ‘টামি টাইম’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট। তার রেস্টুরেন্টে গ্রাহকরা কন্টিনেন্টাল, মেক্সিকান ও চাইনিজ খাবার পাবেন, পাশাপাশি পাবেন নানা ধরণের ড্রিংক ও কফি। নাটকের মানুষ শর্মীমালা ও জযি়তা মহলানবীস। মঞ্চ ও টিভি দুই মাধ্যমেই তাদের সমান বিচরণ। অভিনযে়র পাশাপাশি সবসময়ই জযি়তার ইচ্ছে ছিল অন্যরকম কিছু একটা করার। ব্যক্তিজীবনে আড্ডাপ্রিয় মানুষ ও ভোজনরসিক হওযা়র কারণে রেস্টুরেন্টের প্রতি একটা দুর্বলতা কাজ করত। বিষয়টা সহকর্মী শর্মীমালার সঙ্গে শেযা়র করলে তিনিও এককথায় রাজি হযে় যান। যেহেতু নাট্যাঙ্গনের মানুষ তাই ভাবলেন রেস্টুরেন্টটা যদি নাটকের আঙ্গিনায় হয় তাহলে কেমন হয়! যে কথা সেই কাজ। প্রায় দুবছরের চেষ্টায় তারা দুজন মিলে শিল্পকলায় চালু করেন ‘হেঁশেল’ নামের একটি স্ট্রিট ফুড রেস্টুরেন্ট যেখানে সন্ধ্যা হলেই জমে ওঠে নাট্য জগতের মানুষের আড্ডা। স্ট্রিট ফুডের এই রেস্টুরেন্টে পাওযা় যায় লুচি, গরুর চাপ, মুরগীর চাপ, মুরগীর মুঠা কাবাব, চিকেন টিক্কা, ফ্রুট সালাদ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কোল্ড কফি ও লাচ্ছি। এছাডা়ও রযে়ছে হেঁশেল স্পেশাল ন্যুডলস্, চা ও কফি। সেলিব্রেটিরা সবসময়ই গ্রাহক আকৃষ্ট করতে অভিনব আইডিযা় প্রযো়গ করে থাকেন। যেমনটি করেছিলেন হলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। ওযা়র হাউজ, জুরাসিক পার্কের মত অসাধারণ সব ছবির কল্যানে বিশ্বনন্দিত স্পিলবার্গ। তার সিনেমার প্লট যেমন অভিনব তেমনি রেস্টুরেন্টের ধারটাও ছিল অভিনব। সাবমেরিনের মধ্যে রেস্টুরেন্ট করে সবাইকে অবাক করে দেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ‘ডাইভ’ নামের আধো ভাসমান এই রেস্টুরেন্টটি ১৯৯৪ সালের দিকে ব্যাপক সাডা় ফেলেছিল। একসমযে়র সুপার মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল গুলশান শিশু পার্কে দুর্ঘটনায় পরিত্যক্ত বাংলাদেশ বিমানের ফকার-২৮ এনে তার ভেতর শিশুদের জন্য একটি রেস্টুরেন্ট করেছিলেন। অভিনব আইডিযা়ই আসলে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাকে বিশ্বব্যাপি উৎকর্ষতা এনে দিযে়ছে। রেস্টুরেন্টের অভিনব আইডিযা়র একটি হল সুউচ্চ ভবনের ছাদে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ। সিরোকো রেস্টুরেন্ট ব্যাংককের তেমনি একটি রেস্টুরেন্ট। ব্যাংককের স্টেট টাওযা়রের একেবারে ৬৩ তলার ওপরে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টটিতে যাওযা় মানেই দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা অর্জন। সিরোকো রেস্টুরেন্টের যেকোনো স্থান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় গোটা ব্যাংকক। বিষয়টাতে কেমন যেন পাগল করা একটা ব্যাপার আছে। রেস্টুরেন্টের অভিনব আইডিযা়র একটি হলো সাগরতলের রেস্টুরেন্ট। মালদ্বীপ সমুদ্রের ২৬ ফুট নিচে অবস্থিত বিশ্বের একমাত্র সাগরতলের রেস্টুরেন্টটির নাম ইটহা। রেস্টুরেন্টটি কোরাল ও বাগান দিযে় সাজানো, নানা রঙের সামুদ্রিক মাছ, স্টিংরে, হাঙরের বিচরণ ভোজনরসিকদের জন্য দারুণ এক্সসাইটিং। বাদ আছে শুধু মহাকাশে আর গ্রহগুলোতে রেস্টুরেন্ট করা। তবে ইতোমধ্যে সেই আইডিযা়টা কারো মাথায় চলে এসেছে কিনা কে জানে! মজার ব্যাপার হল বাংলাদেশে টাইটানিকের আদলে একটি রেস্টুরেন্ট নির্মিত হচ্ছে সেটা বেশ দারুণ একটা খবর। রেস্টুরেন্টটি নির্মাণে তত্বাবধান করছে পিকাসো কর্তৃপক্ষ। পিকাসো একটি আর্ন্তজাতিক চেইন রেস্টুরেন্ট। ঢাকায় হাতিরঝিলের কোল জুডে় নির্মিত পিকাসো নিশ্চয়ই আমাদের রেস্টুরেন্ট অভিজ্ঞতায় অভিনব কিছু যোগ করবে। অর্থাৎ এই ব্যবসাযী়ক ধারণায় ব্যতিক্রমী কিছু থাকতেই হবে, না হলে গ্রাহক আকৃষ্ট হবে না- এটাই সহজ হিসেব। রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে বিষয়টি বোধ হয় আরো প্রবল। মজার ব্যাপার হল শুধু আমাদের দেশের তারকাদের কাছেই নয় বিশ্বব্যাপিই তারকাদের পছন্দের একটি ব্যবসার নাম রেস্টুরেন্ট। ভারতকে প্রথম বিশ্বকাপ জযে়র স্বাদ এনে দেযা় ক্রিকেটার কপিল দেবও পিছিযে় নেই সেক্ষেত্রে। কপিল দেবের রেস্টুরেন্টের নাম ইলেভেনস্। একই সারিতে আছেন আরো অনেক তারকা। বলিউড অভিনেত্রী পেরিজাদ জোরাবিযা়নসের রেস্টুরেন্টের নাম গন্ডলা, ক্রিকেটার জহির খানের রেস্টুরেন্টের নাম জেকে, অভিনেতা দিনো মরিযা়র রেস্টুরেন্ট ক্রেপ স্টেশন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আশা ভোশলের রেস্টুরেন্ট আশাস্, হলিউডের জনপ্রিয় পপস্টার জে-জেডের রেস্টুরেন্ট ৪০/৪০ ক্লাব, অভিনেতা অ্যাস্টন কুচারের রেস্টুরেন্ট গেইসা হাউজ, পপস্টার জাস্টিন টিম্বারলেকের রেস্টুরেন্ট সাউদার্ন হসপিটালিটি, অস্কার জযী় অভিনেত্রী সান্দ্রা বুলকের রেস্টুরেন্ট বেস বিস্ট্রো, রবার্ট ডি নিরোর রেস্টুরেন্ট নবু এবং লোকানডা ভার্ডে, পপস্টার লেডি গাগার রেস্টুরেন্ট জনি ট্রাটোরিযা়, অভিনেত্রী সুসান সারানডনের রেস্টুরেন্টের নাম স্পিন, বিশ্বখ্যাত হিলটন হোটেলের অংশীদার অভিনেত্রী প্যারিস হিলটন। রেস্টুরেন্ট করে লোকসান গুনেছেন এমন তারকাও কম নেই। রকস্টার ব্রিটনি স্পিযা়র্স শখ করে নায়লা নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলেন। পপস্টার ব্রিটনি বলে কথা! ধারণা ছিল লোকজন গিজগিজ করবে কিন্তু ঘটনা তেমন ঘটেনি। লোকসানের কারণে মাত্র কযে়ক মাস পরই তিনি রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করে দেন। অভিনেত্রী নিমা রহমান ক্যাটেলিনা আইল্যান্ড নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলেন। বেশ কযে়ক বছর চালানোর পরে তিনিও রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করে WHY-NOTদেন। প্রিয় অভিনেতা হিলে­ালেরও ছিল ‘গ্রীন চিলি’ নামের রেস্টুরেন্ট কিন্তু বন্ধ করে দেন, কারণ ঐ একই-লোকসান ! মডেল ফয়সাল স্টিকি ফিঙ্গার নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলেন। প্রথম প্রথম চলেছিলও বেশ কিন্তু ক্রমাগত লোকসান গুনতে কার ভাল লাগে। শেষমেষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। চলো যাই খাবার দাবারে খাবার দাবার- এই নামটার মধ্যেই জিভে জল আসা একটা ব্যাপার আছে। একথা বোধকরি সকলেই স্বীকার করবেন ‘খাবার দাবার এর খিচুড়ি, জিলেপি আর হরেক রকমের পিঠা ভোজন রসিকদের বিপুল আগ্রহের। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউযে় স্টেডিযা়মের পাশেই রাস্তার ধার ঘেষে ঐতিহ্যবাহী এই রেস্টুরেন্টটির অবস্থান। আজ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় খাবারের দোকানের এই যে এতো বিস্তৃতি তার উৎসাহ অনুপ্রেরণা কিন্তু খাবার দাবারকে ঘিরেই। ৮০,৯০ এর দশকে ‘আমাদের শোবিজে উলে­খযোগ্য সংখ্যক মেধাবি তারকার আবির্ভার ঘটে। যাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্টের আড্ডাস্থল ছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এর খাবার দাবার। সেখান থেকেই তারকারা ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেছেন। নিজেকে বদলে ফেলেছেন। যুগের সাথে তাল মিলিযে় খাবার দাবারও নিজেকে বদলে ফেলেছে। ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ি, পিঠা আর জিলেপির পাশাপাশি খাবারের স্বাস্থ্য সম্মত নুতন নতুন আইটেম এখন পাওযা় যাচ্ছে খাবার দাবার-এ। এখানে জন্মদিন, বিযে় বার্ষিকী উদযাপণ, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান, অফিস প্যাকেজ লাঞ্চসহ বিবিধ অনুষ্ঠানের খাবার অর্ডার নেযা় হয় এবং সরবরাহ করা হয়। খাবার দাবার পিঠাঘর ও রেস্টুরেন্টের স্পেশাল খাবারগুলোর মধ্যে আছে কাচ্চি বিরিযা়নি, ভূনা খিঁচুরি, ফিস খিঁচুরি, ইলিশ পোলাও, মোরগ পোলাও ও ফিস বিরিযা়নি। এছাডা় আছে নিয়মিত খাবার। যেমন; সকালের নাস্তার মেন্যুতে পাবেন তন্দুর রুটি/রুমালিরুটি, পরোটা, ডাল, সবজি, মুগডাল, স্যুপ, মুরগীর গিলা কলিজা, খাসির পাযা়, খাসির ভূনা, গলদা চিংড়ি, চা, কফি ইত্যাদি। ডেজার্ট আইটেমের মধ্যে পাবেন ফিরনি, পুডিং, ফ্রুট সালাদ, লাচ্চি, ফালুদা। দুপুরের খাবারে পাবেন- কাচ্চি বিরিযা়নি, ভূনা খিঁচুরি, ফিস খিঁচুরি, ইলিশ পোলাও, মোরগ পোলাও ও ফিস বিরিযা়নি, সাদা ভাত, নান, স্পেশাল নান, মিক্সড সবজি, শাক( লাল শাক, পালং শাক, পুঁই শাক), ভর্তা( সবজি ভর্তা, কলা ভর্তা, বেগুন ভর্তা, শিম ভর্তা, কচু ভর্তা, টাকি ভর্তা, চিংড়ি ভর্তা, রুই ভর্তা, ইলিশ ভর্তা, শুটকি ভর্তা), ডাল গ্রেভি এবং মজাদার সব মাছের কারি যেমন; সরিষা ইলিশ, রুপচান্দা দো-পেযা়জা, রুপচান্দা ফ্রাই, রুই মাছ ফ্রাই, গলদা চিংড়ি, ছোট মাছ ভূনা, শৈল মাছ ভূনা, মাটন গ্লাসি, মাটন ভূনা, মাটন লেগরোস্ট, মাটন স্পেশাল, চিকেন মোসাল্লাম, চিকেন, চিকেন রোস্ট, হাঁসের ঝাল কারি, চিকেন ঝাল ফ্রাই, কবুতর মাংস। রাতের খাবার তালিকায় পাবেন চিকেন শর্মা, চিকেন গ্রিল, গার্লিক নান, স্পেশাল নান, ফালুদা, ফ্রুট সালাদ, লাচ্চি, খাসির হালিম ও ড্রিঙ্কস। খাবার দাবার পিঠাঘর এন্ড রেস্টুরেন্ট। ৩২ বঙ্গবন্ধু এভিনিউযে় অবস্থিত। ফোন: ০২-৯৫৫৫৬৪৯, ০১৬৭৮৭১১৬৬৫, ০১৭১২০৫৮৮৩৮। স্পেশালিটি অব রেস্টুরেন্ট হোযা়ই নট: রুমানা রশীদ ঈশিতার হোযা়ই নট রেস্টুরেন্টে কম্বিনেশন ফুড পাবেন। হোযা়ই নটের অন্যতম বিশেষত্ব হল ইযং় জেনারেশন যে সমস্ত খাবার পছন্দ করে যেমন; বার্গার, স্যান্ডউইচ, স্প্যাগেটিসহ আরো অনেক খাবার এখানে পাবেন অনন্য স্বাদে। সাকিবস্ ডাইন: সাকিবস্ ডাইনের দুটো ফ্লোরের প্রথমটার স্পেশালিটি হল সাব-স্যান্ডউইচ। এখানকার সাব-স্যান্ডউইচ বাংলাদেশের সেরা। দ্বিতীয় ফ্লোরে ইন্ডিযা়ন, চাইনিজ ও থাই কম্বিনেশন ফুড থাকছে। গ্রাহক নিজের পছন্দ অনুযাযী় ক্যুইজিন বেছে নিতে পারবেন। চেন্নাই এক্সপ্রেস: শাহরিযা়র নাজিম জযে়র চেন্নাই এক্সপ্রেস রেস্টুরেন্টে ভারতীয় খাবার পাওযা় যায়। তবে এই রেস্টুরেন্টের প্রধান বিশেষত্ব হল সুস্বাদু চেলো কাবাব। একবার খেলে বারবার খেতেই ইচ্ছে করবে। ফাযা়র অন আইস: এস. আই টুটুলের ফাযা়র অন আইস রেস্টুরেন্টে কনিন্টোল, গ্রিল, ফাস্ট ফুড সব খাবারই পাওযা় যায়। তবে রেস্টুরেন্ট ফাযা়র অন আইসের স্পেশালিটি হল এটি পুরো মাত্রার একটি মিউজিক ক্যাফে। বাংলা রেঁস্তোরা: সঙ্গীত শিল্পী আসিফের বাংলা রেঁচ্চোরার স্পেশালিটি হল এটি পরিবারকেন্দ্রিক একটি অভিজাত রেঁচ্চোরা। কুমিল্লার মত একটি জেলা শহরে পরিবারের সদস্যরা তাদের ছুটির অবসরে বাংলা রেঁস্তোরাকে বেছে নেয় নিশ্চিন্তে। ভর্তা ভাত: সঙ্গীত শিল্পী পারভেজের ভর্তা ভাত রেস্টুরেন্টের স্পেশালিটি নানা রকম ভর্তার আযো়জন। নানা ধরণের সুস্বাদু বাংলা রেসিপির সাথে এখানে পাওযা় যাবে অসংখ্য পদের ভর্তা। দমফুঁক রেস্টুরেন্ট: ক্রিকেটার নাফিস ইকবালের এই রেস্টুরেন্টের স্পেশালিটি হল দাদী নানীদের সময়কার মত চুলায় ফুঁ দিযে় আগুন জ্বালানোর ঐতিহ্য পুনঃরুদ্ধার করা। হেঁশেল: শর্মীমালা ও জযি়তা মহলানবীসের রেস্টুরেন্ট হেঁশেল বিকালের নাস্তার জন্য প্রসিদ্ধ। ভোজন রসিকরা বিকালের নাস্তায় মুখরোচক যে খাবারগুলো পছন্দ করে তার সবই এখানে পাওযা় যায়। আমাদের শোবিজ তারকারা ইদানিং নানা পেশায় জড়িত হচ্ছেন। এর মধ্যে রেস্টুরেন্টের মালিক হযে়ছেন অনেকে। সে সব রেস্টুরেন্টের প্রতি মানুষের আগ্রহও বেশী। আর তাই আনন্দ আলোর এক্সক্লুসিভ বিভাগে দেশ সেরা কযে়কজন তারকা যথাক্রমে- জেমস, সাকিব আল হাসান, আসিফ আকবর, এস আই টুটুল, শাহরিযা়র নাজীম জয়, ঈশিতা, পারভেজ, নাফিজ ইকবাল, শর্মীমালা ও জযী়তা মহলা নবীশের গডা় রেস্টুরেন্টের আদ্যোপান্থ প্রকাশ করা হলো।