Home এক্সক্লুসিভ তরুণদের নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী-মুহম্মদ জাফর ইকবাল

তরুণদের নিয়ে আমি অনেক আশাবাদী-মুহম্মদ জাফর ইকবাল

SHARE
Jafor Iqbal

একজন জনপ্রিয় লেখক, প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষাবিদ। জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম লেখক। দেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বইয়ের জনপ্রিয়তার পথিকৃৎও তিনি। প্রতিবছর বইমেলায় এই গুণী লেখকের একাধিক বই প্রকাশিত হয়ে থাকে। বইমেলায় এই লেখককে পেলে তার ভক্তরা বেশ আগ্রহ নিয়েই ঘিরে ধরেন। অটোগ্রাফ, ছবি তোলা, তাঁকে একটু ছুঁয়ে দেখা- সবই করে তার ভক্তরা। তিনি কথা বলেছেন আনন্দ আলোর সঙ্গে। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল।

আনন্দ আলো: এবারের বইমেলা কেমন দেখছেন?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: বইমেলা- মানেই আমার কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি জায়গা। এখানে এলেই মনে হয় নিজের জায়গায় এসেছি। তাই বইমেলার কোনো ভুল-ত্রæটি আমার চোখে পড়ে না। সবকিছু ছাপিয়ে বইমেলার আমেজ আর ইতিহাস ঐতিহ্যকেই দেখি। আমাদের সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ এই বইমেলা। তাই আমার কাছে এটা একটি উৎসবও বটে। সারাবছর আমরা সবাই সেই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করি। এ্ই মেলার একটি বড় বিষয় হলো- যারা বই পড়ে না তারাও কোনো এক টানে বইমেলায় চলে আসে। বই নেড়ে চেড়ে দেখে। মাঝে মধ্যে কেনেও। বাসায় নিয়ে সাজিয়ে রাখে। এটা অবশ্যই বইয়ের জন্য, আমাদের সাহিত্যের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।

আনন্দ আলো: একজন লেখক হিসেবে আপনি কেমন বইমেলা আশা করেন?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: দেখুন, আমি খুব পজিটিভ মানুষ। আমি সব কিছুতে নেগেটিভ বিষয় কম দেখি। আমি অবশ্যই একটি সুন্দর এবং পরিছন্ন বইমেলা আশাকরি। যেখানে সব শ্রেণির মানুষ বইমেলায় আসবে। আর অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিয়ে আসবেন, বই কিনে দেবেন। সবার হাতে বই থাকবে। সবাই বই পড়বে। আবার কেউ কেউ তাদের দেখে বই পড়তে উৎসাহিত হবেন। যারাই মেলায় আসবেন সবাই একটি করে হলেও বই কিনবেন। আরেকটি বিষয় না বললেই নয় তা হলো- পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেলা হলো বইমেলা। তাই অবশ্যই বইমেলার পরিবেশ সুন্দর হওয়া উচিত।

আনন্দ আলো: অভিযোগ উঠেছে তরুণ প্রজন্ম বইবিমুখ- এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

Jafor-Iqbalমুহম্মদ জাফর ইকবাল: বইমেলায় এলে কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি তা মনে হয় না। তারুণ্যের এত জোয়ার বইমেলা ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না। তবে হ্যাঁ, সবাই বই কিনে না। এটা দুঃখজনক। আমি চাই আমাদের তরুণ প্রজন্ম বই পড়ুক। একটা বই পড়ার আগে তারা যে মানুষ থাকে, একটা ভালো বই পড়ার পর তারা আর সেই মানুষটি থাকে না। তারা অন্য একজন মানুষ হয়ে যায়! নিজেকে ভালো মানুষে পাল্টে দেয়ার এত সহজ সুযোগটি তারা কেন ছেড়ে দেবে। বই হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে আসল বন্ধু।

আনন্দ আলো: শিশুদের বই কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ সে দেশের শিশু। কারণ পৃথিবীতে একমাত্র শিশুর মধ্যেই সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। ছোটদের বই নিয়ে বলার আগে আমি বলবো ছোটদের নিয়ে লেখার কথা। আমি মনে করি ছোটদের জন্য লেখা গুলো অবশ্যই ছোটদের কল্পনার সাথে মিলতে হবে। তাহলেই তারা সেই লেখা পড়বে। আর তাদের বই অবশ্যই কালারফুল হওয়া উচিৎ। আঁকাগুলো হবে চমৎকার। তাহলে ছোটরা সেই বই হাতে ধরবে। সবকিছুর আগে মনে রাখতে হবেÑ যে বইটি শিশুর হাতে দিচ্ছি- সেটি যেন তার চিন্তার জায়গা, মানসিক বিকাশের জায়গা উম্মেষ ঘটায়।

আনন্দ আলো: আপনার কী মনে হয়- বর্তমানে প্রযুক্তি আর ই-বুক- এর যুগে ছাপা বইয়ের আবেদন কমে যাচ্ছে?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: আমার কাছে তা মনে হয় না। তবে হ্যাঁ, এটা সত্যি যে, ই-বুক এ রিডার বেড়েছে। তবে প্রিন্ট বইয়ের যে আবেদন সেটা আসলে অন্যরকম একটা বিষয়। গত কয়েক বছর ধরেই কিন্তু বেশকিছু ই-বুক মেলায় অংশ নিচ্ছে। তাদের রিডার এবং  গ্রাহক দিনকে দিন বাড়ছে। তাই একসময় দেখবেন- ই- বইমেলা হবে। তবে আমাদের এই মেলার আবেদন সবসময়ই থাকবে। কারণ আমাদের এই প্রাণের মেলার চেতনা ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ। তাই বইমেলা সময়ের সাথে যেদিকেই যাক- প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে আবেদন একই থাকবে।

আনন্দ আলো: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। আপনি উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনেও প্রবেশ করলেন সেখানেই। কিন্তু ১৯৯৪ সালে দেশে ফিরে এসে শুরু করলেন নতুন জীবন। এ বিষয়ে বলবেন-

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: অনেকেই আমাকে এই প্রশ্নটি করেন এবং আমার মনে হয় আমি কাউকেই বিষয়টি বোঝাতে পারি না। আমি কোনো বিশেষ স্বপ্নবোধ দ্বারা তাড়িত হয়ে কিংবা বিশেষ কিছু মাথায় নিয়ে ফিরে আসিনি। আমি দেশে ফিরে এসেছি কারণ এটা আমার নিজের দেশ। একটা উদাহরণ দেই। একজন মানুষের মা যদি সাদাসিধে অশিক্ষিতা বৃদ্ধা একজন মহিলাও হয়, তখন কি মানুষটি ফিটফাট সুন্দরী কমবয়সী একজন মহিলা খুঁজে বের করবেন মা ডাকার জন্য? অবশ্যই না। এখানেও তাই, যুক্তরাষ্ট্রের হাইফাই পরিবেশে যত ভালো ভালো বিষয়ই থাকুক সেটা তো আমার দেশ নয়। আমার যদি আকাশ কালো করে আসা মেঘ, ঝমঝম বৃষ্টি, ব্যাঙের ডাক আর কালো শ্যামলা মানুষ দেখার ইচ্ছা করে তখন আমি কী করব? আমার দেশ ছাড়া তো কোনো উপায় নেই।

আনন্দ আলো: আপনার ভেতরে থাকা স্বপ্ন কতটুকু পূরণ হয়েছে?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: দেশে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে করতে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। দিন চলতে চলতে নতুন নতুন পরিকল্পনা মাথায় এসেছে, কিছু কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু হয়নি! সবাইকে নিয়ে এখন নতুন নতুন স্বপ্ন দেখি কিছু পূরণ হবে, কিছু হবে না। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলে দেয়া দরকার, স্বপ্ন পূরণ হতেই হবে সেটা কিন্তু সত্যি নয়। স্বপ্ন দেখতে হয় আর সেটার জন্য কাজ করতে হয় সেটা হচ্ছে সত্যি।

আনন্দ আলো: স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আমাদের অর্জন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, হতাশাও কম নেই।

এই বিষয়ে কিছু বলবেন-

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: আমি খুবই আশাবাদী একজন মানুষ। ১৯৭১ সালে তাড়া খাওয়া পশুর মতো ছুটে বেড়িয়েছি, একটি দিন শেষ হওয়ার পর অন্য একটা দিন শুরু হবে কি-না জানতাম না! যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়িয়েছি, রাস্তায় রাত কাটিয়েছি, পরের বেলা কোথা থেকে খাবার আসবে জানতাম না, এমন দিন গিয়েছে যে, বাসায় একটা শার্ট, সেটা পরে কখনও বড় ভাই (নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ) বাইরে গেছে, সে ফিরে এলে সেই শার্ট পরে আমি বাইরে গেছি। আমাদের খুব সৌভাগ্য যে, আমাদের একজন অসাধারণ মা ছিল। যিনি আমাদের পুরো পরিবারটাকে ধরে রেখেছিলেন এবং আমরা টিকে গেছি। এই দেশে সেই দুঃসময়ে অসংখ্য পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই ভয়ঙ্কর পরিবেশে আমি কিংবা আমরা যারা বেঁচে এসেছি তাদের কে ভয় দেখাবে? কে হতাশ করবে? এই সমাজ এগুচ্ছে, দেশ এগুচ্ছে। আমি সেভাবেই দেখি। আমি বিশ্বাস করি, সবার ভেতরেই একজন ভালো মানুষ থাকে, তাকে ঠিকভাবে স্পর্শ করলেই সে বের হয়ে আসে। আমার ‘পদচারণা’ বা কর্মকাÐ সব সময় তারুণ্যকে কেন্দ্র করে, কারণ আমার সেটাই ভালো লাগে।

আনন্দ আলো: তরুণদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে অনেকের বিরুদ্ধেই আপনাকে দাঁড়াতে হয়েছিল।  দাঁড়িয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতেও- হুমকি-ধমকিও শুনতে হয়েছে, নিজেকে কখনও বিপন্ন মনে হয়েছে কি?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: না, নিজেকে কখনই বিপন্ন মনে হয়নি। যখনই দুঃসময় এসেছে তখন চারপাশে আরও বেশি মানুষ এসে আরও নতুনভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আজকাল ইন্টারনেটে তরুণরা অনেক বেশি সময় কাটায়- আমি শুনেছি সেখানে কেউ যখন আমার বিরুদ্ধে [কিংবা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে] একটা কুৎসিত কথা বলে তখন অসংখ্য তরুণ সেটাকে তাদের মতো করে প্রতিবাদ করে। মানুষের ভালোবাসা একটি অসাধারণ বিষয়, আমি সেই ভালোবাসাটুকু অনুভব করতে পারি।

আনন্দ আলো: যতদূর জানি- আপনি মাত্র ৭ বছর বয়েসে সায়েন্স ফিকশন লেখা দিয়ে শুরু করে ছিলেন লেখালেখি?

Jafor-Iqbal-1মুহম্মদ জাফর ইকবাল: মনে হয় এটা জেনেটিক। বাবা লিখতেন, মা লিখেছেন, ভাইয়েরা লিখছে, বোনেরাও লেখে, এখন তাদের ছেলেমেয়েরাও লেখে! আমরা বইয়ের মাঝে বড় হয়েছি, কাজেই বই পড়তে পড়তে লেখার ইচ্ছে হবে সেটাই স্বাভাবিক। পরিবারে সেটা নিয়ে উৎসাহ দেয়া হয়েছে তাই লেখালেখি করছি। সত্যি কথা বলতে কী, লেখালেখি না করাটাই হয়তো অস্বাভাবিক হতো। তবে লেখালেখি করে লেখক হিসেবে পরিচিতি হবে সেটা কখনোই মাথায় ছিল না, লেখালেখি করেছি মনের আনন্দে, এখনো সেই আনন্দেই হেঁটে চলেছি।

আনন্দ আলো: আপনার লেখা ‘দীপু নাম্বার টু’র দীপু বা কাজলের দিনরাত্রির কাজল কিংবা ‘আমি তপু’র তপুর মধ্যে মুহম্মদ জাফর ইকবালের কৈশোরকে দেখার সুযোগ কতটুকু আছে?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: কিশোর উপন্যাসের প্রায় সবগুলোতেই আমার কিংবা আমার প্রজন্মের ছাপ পাওয়া যেতে পারে। তবে ‘কাজলের দিনরাত্রি’ বা ‘আমি তপু’’ একটু ব্যতিক্রম- এই বই দুটির চরিত্রগুলোর যে জটিলতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, আমার জীবনে কখনোই সেই জটিলতা ছিল না! একজন লেখকের সব লেখাই যে তার জীবনের আবার সব লেখাই যে কল্পনা তা বলা যায় না। লেখকের বাস্তব আর কল্পনার সংমিশ্রণেই একটি গল্প-উপন্যাস তৈরি হয়।

আনন্দ আলো: আমরা অনেক কিছুতেই প্রভাবিত হই। আপনার জীবনে তেমন কিছু আছে কি?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: অবশ্যই আছে, অনেক কিছুই আছে। সেই ঘটনাগুলো আমি আমার লেখালেখিতে উল্লেখও করেছি। তখন আমি নিউইয়র্ক- এ থাকি। জাহানারা ইমাম নিউইয়র্কে গেছেন, তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছে জাগে। আমি তাই খুব কুণ্ঠিতভাবে তার কাছে গিয়ে বললাম, ‘আপনি আমাকে চিনবেন না, আমার বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের খুব বড় লেখক, আমি তার ছোটভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল। জাহানারা ইমাম আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আমি তোমাকেও চিনি। আমি তোমার সায়েন্স ফিকশন কপোট্রনিক এর সুখ দুঃখ পড়েছি’- তারপর আমার লেখালেখি নিয়ে খুব দারুণ কিছু কথা বললেন। শুনে আমি একেবারে হকচকিয়ে গেলাম। আমি তখন আমেরিকায় থাকি। দুই-চারটা বই দেশে ছাপা হয়েছে, সেগুলো আমার হাত পর্যন্ত পৌঁছায় না, দেখতে কেমন, পড়তে কেমন জানি না। কেউ পড়ছে কি-না তাও জানি না। জাহানারা ইমামের কথা শুনে আমার ভেতরে ম্যাজিকের মতো কিছু একটা ঘটে গেল, আমার মনে হলো তার মতো একজন মানুষ যদি আগ্রহ নিয়ে আমার বই পড়ে থাকেন তাহলে এখন থেকে আমি নিয়মিতভাবে লিখব। সেই থেকে আমি নিয়মিতভাবে লিখে আসছি। তাই আমার লেখালেখির সব দায় দায়িত্ব শহীদ জননী জাহানারা ইমামের।

আনন্দ আলো: আপনার নিজের লেখার মধ্যে কোনগুলো আপনার প্রিয়?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: আমি ঠিক জানি না এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব কি-না! আমার স্মৃতি খুব দুর্বল, তাই আগে কী লিখেছি মনে থাকে না। [খুব আশঙ্কা আছে, আগে লেখা কোনো একটা কাহিনী আবার লিখে ফেলব!] কিছুদিন আগে হঠাৎ করে আমার পুরনো একটা বই পড়তে পড়তে মনে হলো, ‘আরে, ভালোই তো লিখেছিলাম!’ কাজেই বলা যেতে পারে, যে লেখালেখিগুলো আমি ভুলে গেছি সেগুলো যথেষ্ট প্রিয়।

আনন্দ আলো: আপনার প্রিয় লেখক কারা?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: এই প্রশ্নেরও মনে হয় উত্তর নেই। লেখকদের নাম বলে শেষ করা যাবে না। কোনো কোনো লেখক হয়তো শৈশবে বা কৈশোরে খুব প্রিয় ছিলেন, এখন বড় হয়ে গেছি বলে তার লেখা পড়ি না, কিন্তু আমার প্রিয় লেখকের তালিকায় অবশ্যই তার নাম থাকতে হবে। আবার এই মুহূর্তে যে লেখকের লেখা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছি তার নামটিও থাকতে হবে, কাজেই তালিকাটি শেষ করতে পারব না। তবে প্রিয় কবির বেলায় কাজটি খুব সহজ। আমার প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ। আগে সবসময় আমার ব্যাকপ্যাকে তার একটা বই থাকত, এখন আমি আমার ই-বুক রিডারে তার বই রাখি!

আনন্দ আলো: আপনি সাধারণত লিখেন কখন?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: আমি নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে লিখতে বসি। তবে কখনো কোথাও বেড়াতে গেলে কিংবা কোনো কাজে গেলে সুযোগ পেলে সেখানেও লিখি। আমি মনেকরি একজন লেখকের সবসময় লেখার মুড থাকা চাই। অনেক সময় অনেক বিষয় মাথায় চলে এলে তাও আমি যেকোনো জায়গায় লিখে রাখি।