Home আরোও বিভাগ ক্রীড়া বিনোদন তবুও খুঁজে ফিরি সেই আনন্দ উৎসব

তবুও খুঁজে ফিরি সেই আনন্দ উৎসব

SHARE

জাকীর হাসান: বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ আশাবাদী। একদিন ঠিকই আমরা এশিয়ার মান ছাড়িয়ে বিশ্বমানের ফুটবল খেলতে পারবো। হয়তো মাঝে মধ্যে সেই সম্ভাবনা উঁকিঝুঁকি মারে আবার নিরবে নিভৃতে মিলিয়ে যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশে হয়ে গেল এএফসি অনূর্ধ্ব ১৯-এর বাছাই পর্ব। উজবেকিস্থান, শ্রীলংকা, ভ‚টান ও বাংলাদেশ এই চারজাতিকে নিয়ে বাছাই পর্বে বাংলাদেশ প্রথম খেলায় শ্রীলংকার সাথে আশার আলো জানিয়ে ২-০ গোলে জিতেছিলো। দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্বল প্রতিপক্ষ ভ‚টানের সাথে ড্র করে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয় কিন্তু এর পরের ব্যর্থতা আরো হতাশার। উজবেকিস্থানের সঙ্গে দেশের মাটিতে ৪-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এই খবরটি বাংলাদেশ ফুটবলের সর্বশেষ সংবাদ।  এটা ফুটবলের ব্যর্থতা নয়। এগিয়ে চলার পথে সামান্য হোঁচট খাওয়া। যদি একটু পেছনের দিকে ফিরে তাকাই আমরা সেখানে দেখবো জ্বলজ্বল করছে কিছু সফলতা। নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব ১৬ চ্যাম্পিয়ন শীপে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলতে বাংলাদেশ দল গিয়েছিল মেলবোর্নে। যাওয়ার সময় মালয়েশিয়ার জাতীয় দলের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জাতীয় দল। পুরো সময় দাপটের সঙ্গে খেলে টাইগাররা গোল শূন্য ড্র করে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার সঙ্গে। এর দুইদিন পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের খেলা। সেই খেলায় সকারুদের শারীরিক সামর্থের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলে পরাজিত হয় টাইগাররা। ১৭ নভেম্বর ফিরতি খেলা হবে বাংলাদেশে। সেই খেলায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কেমন খেলে টাইগাররা সেটাই এখন দেখার বিষয়।  এএফসি অনূর্ধ্ব ১৯ বাছাই পর্বে যে দলটি খেলেছে সেই দলটি নেপালে অনুষ্ঠিত এবারের সাফ অনূর্ধ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ট্রাইব্রেকারের সাডেন ডেথ গোলে পরাজিত হয়। একই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে। ৮ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ কাপের ফাইনালে শেষ মিনিটের গোলে বাংলাদেশ পরাজিত হয় মালয়েশিয়া জাতীয় দলের সঙ্গে।  বাংলাদেশ ফুটবলের এই এক মহা সমস্যা। প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে বাংলাদেশ পুরো সময় ভালো খেলে শেষ মিনিটে গোল খেয়ে বসে। এই ঘটনা বেশি ঘটছে সাফ ফুটবলের আসরে। জাতীয় দল থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব ১৯, ১৬ দলেও রয়েছে শেষ সময়ের ব্যর্থতা। এই অচলায়ত ভাঙ্গার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের ইটালিয়ান কোচ ফ্যাবিত্ত লোপেজ।  আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভারতের কর্নাটকে বসছে নবম সাফ ফুটবলের আসর। এই আসরে বাংলাদেশ খেলবে বি গ্রæপে। বি গ্রæপে বাংলাদেশ ছাড়াও আছে মালদ্বীপ, ভ‚টান ও আফগানিস্তান। অনেকেই মনে করছেন বাংলাদেশের ফাইনালে উঠার জন্য সহজ গ্রæপ। আফগানিস্তান ছাড়া বাকী দু’টি দল শক্তি সামর্থ্যরে দিক দিয়ে বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে।  বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এতোদিন অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ। প্রতিযোগিতাটি ছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের বাইরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাদ নেয়ার জায়গা। এশিয়ার তৃতীয় সারির দেশগুলোর বিশ্বকাপ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এএফসি। তবে চ্যালেঞ্জ কাপ বন্ধ হলেও বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিধি বেড়ে যাচ্ছে অনেকটাই। তবে বাংলাদেশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম খেলা। কারণ সাফ ও এএফসি, বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব, ভারত, ভ‚টানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কিছু টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ ছাড়া অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে খেলার সুযোগ পায়না বাংলাদেশ। বর্তমান ফুটবল কোচ অবশ্য বলেছেন, আন্তর্জাতিক বেশি বেশি ম্যাচ খেলানোর ব্যাপারে কাজ করছি। এতে বাংলাদেশের ফুটবল সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। আগামীতে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়ন সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রæতি দিয়েছে ইংল্যান্ড ভিত্তিক সকার লীগ ইন্টারন্যাশনাল (এসএলআই)।  বাংলাদেশে ফুটবলের উন্নয়নে ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করবে তারা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়ার পর বাফুফে তা গ্রহণ করে। প্রথমে ভারতের প্রিমিয়ার ফুটবল লীগের মতো ফ্রাঞ্চাইজি লিগের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এসএলআই এখন মূলত ঘরোয়া ফুটবল প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে কাজ করবে। সম্প্রতি বাফুফে  এসএলআই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বিষয়টি সম্পর্ক বলেছেন, “প্রিমিয়ার লিগের পুরো ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে সকার লিগ ইন্টারন্যাশনাল। স্পন্সর খোঁজা থেকে শুরু করে ক্লাবগুলোর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করবে। তাদের প্রক্রিয়া যদি সফল হয় তাহলে আমরা পরবর্তীতে ফ্রাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে কাজ করবো।” বাফুফে সূত্রে জানা গেছে মাসখানেকের মধ্যে এসএলআইর কর্মকর্তারা বাফুফে ভবনে অফিস নিয়ে কাজ শুরু করবেন। কয়েকদিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বাফুফের কাছে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা হস্তান্তর করবে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ফুটবলের খোঁজখবর রাখছে এসএলআই। ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক ফুটবলের আগে প্রিমিয়ার লিগ ঢালাওভাবে আয়োজন করতে ইচ্ছুক যুক্তরাজ্যের এই ফুটবল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান।

bangladesh-team-gree#C8CA73একটি পোস্ট মর্টেম

আবাহনী-মোহামেডানের খেলা হলে সারা দেশে ফুটবলের কিছুও যারা জানে তারা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেত। খেলার সপ্তাহখানেক আগে থেকে চায়ের টেবিলে, দোকানের বেঞ্চে, স্টেডিয়াম পাড়ায় চলত ম্যাচ নিয়ে গবেষণা। আর ম্যাচের পর সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরে চলত ম্যাচের পোস্টমর্টেম। এখনকার প্রজন্মের খুব কম ছেলেমেয়েই আছে যারা বাংলাদেশের ফুটবল তথা ঘরোয়া ফুটবলের খোঁজখবর রাখে। এমন দিন আসবে যখন তরুণ ছেলেমেয়েরা আদৌ বিশ্বাস করবে না আমাদেরও একটা ফুটবল ঐতিহ্য ছিল এবং সালাহউদ্দিন, সালাম মুর্শেদী, আসলাম, কায়সার হামিদ, সাব্বিররা একেকজন এমন সেলিব্রেটি ফুটবলার ছিলেন যাদের খেলা দেখতে তো বটেই প্র্যাকটিস দেখার জন্য মাঠে ভীড় হতো। অথচ বর্তমানে আমাদের ফুটবল একটা গÐি থেকে কেন যেন বের হতে পারছে না। দশ বছর আগে যে অবস্থায় ছিল এখন তা থেকে উন্নতি হয়েছে খুব সামান্যই।  বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বর্তমান প্রেসিডেন্ট এককালের স্বনামধন্য ফুটবলার কাজী সালাহউদ্দিন। তিনি যখন ২০০৮ এ প্রথম বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব নেন তখনও ফুটবলের অবস্থা বিশেষ ভাল ছিল না। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশের ফুটবল অনেকদূর এগিয়েছে।  তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বলেছিলেন আমি মাঠে খেলেছি, টেকনিক্যাল লোক। খেলোয়াড় বা কেউ যদি নিজের শতভাগ না দেয় আমার চোখে ধরা পড়ে যাবে।  এতোকিছুর পরও কিন্তু দেশের মানুষ ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। এখনো মাঠে যদি আবাহনী-মোহামেডানের কোন শিরোপা নির্ধারণী খেলা হয়, স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে যায়। স্টেডিয়ামের বাইরে দশগুণ দামে কালোবাজারে টিকেট বিক্রি হয়। তাও কিন্তু মানুষ টিকেট কিনে খেলা দেখতে আসে। তিন বছর আগে সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ যখন সেমিফাইনালে ভারতের সাথে খেলে তখন পঞ্চাশ টাকার টিকেট চারশ টাকায় কিনে দর্শক মাঠে ঢুকেছে। দেশের প্রধান দুটি দল আবাহনী-মোহামেডান যদি ভালো দল গঠন না করে, পরস্পরের প্রতি›িদ্বতায় আসতে না পারে তাহলে কিন্তু দর্শক গ্যালারি ভরবে না।  দেশের ফুটবল উন্নয়নে বাফুফের যেমন উদ্যোগী হতে হবে, তেমনি ক্লাবগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।