তবুও ক্রিকেটই আনন্দ ক্রিকেটই বিনোদন

তবুও ক্রিকেটই আনন্দ ক্রিকেটই বিনোদন

157
SHARE
cRICKET

রেজানুর রহমান

একটা ছোট্ট ঘটনা বলি। আমার এক বন্ধু একটি নাট্য সংগঠনের সভাপতি। দলে সাধারণত তারই লেখা নাটক মঞ্চস্থ হয়। সে মনে মনে চাইছিল দলের নতুন কেউ নাটক লিখুক তাহলে একই নাট্যকারের নাটক আর মঞ্চস্থ করতে হবে না। প্রায়শই দলের মিটিং অথবা আড্ডায় সদস্যদের তাড়া দেয়, প্রেরণা যোগায় নাটক লেখার জন্য। একদিন দলের একজন নতুন সদস্য তার হাতে একটা নাটকের পান্ডুলিপি দিয়ে বলে, ভাই নাটকটি আমিই লিখেছি। পড়ে দেখবেন। আমার সেই নাট্যবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকে। রাতে নাটকটি সে পড়ে ফেলে। হাসির নাটক। অহেতুক সুড়সুড়ি আছে। তবে নাটকটিতে অনেক সম্ভাবনা দেখতে পায় সে। পরের দিন নাট্যকারকে কাছে ডেকে নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, ভালোই লিখেছ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন প্রয়োজন। তুমি যদি চাও এ ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারি। সেই অনুযায়ী নাটকটা তোমাকে আবার নতুন করে লিখতে হবে।

নাট্যকার যারপর নাই গদগদ। তবে নাটকটি সে নতুন করে লিখতে চায় না। গুরু ভক্তির চরম আবেগ প্রকাশ করে আমার সেই নাট্যবন্ধুকে বলে, ভাই আপনি আমার গুরু। নাটকটির সংশোধন প্রয়োজন হলে আপনিই করবেন। আপনার কথা আমার আজীবন মনে থাকবে…। এই জাতীয় আবেগ মোথিত অনেক কথা বলে নাটকটি সে দলের সভাপতির হাতে তুলে দেয়। নাওয়া খাওয়া ভুলে নাটকটির পিছনে লেগে যায় দলের সভাপতি। যদিও দলের অনেকেরই নতুন নাট্যকারের এই নাটক নিয়ে আপত্তি ছিল। অনেকে বিরোধীতাও করেছে। কিন্তু সভাপতি অনঢ়। দলে একটা পরিবর্তন আনতেই হবে। নাটকটি সংশোধন করে দলে একাধিকবার পড়া হলো। এবার সকলে বেশ খুশি। নাটকটির মহড়া চলল প্রায় তিন মাস। মহিলা সমিতি মঞ্চে উদ্বোধনী শোতে হাউসফুল। প্রশংসার পর প্রশংসা।

এরপর যথারীতি প্রায় প্রতি মাসেই নাটকটির মঞ্চায়ন হতে থাকলো। তখনকার দিনে বেইলী রোডের মহিলা সমিতি আর গাইড হাউস মঞ্চই ছিল মঞ্চ নাটকের মূল জায়গা। হল বরাদ্দ পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। হল বরাদ্দ পেলেই দলের নতুন এই নাটকটিই মঞ্চস্থ করতো তারা। নাটক মঞ্চায়নের পরের দিন সাধারণত গ্রæপ কল থাকে। গ্রæপ কলে সবাই আগের দিনের শোয়ের ওপর ভালোমন্দ মন্তব্য করে। প্রতি গ্রæপ কলে গ্রæপের সদস্যরা যতনা নাটকের প্রশংসা করে তার চেযে বেশি প্রশংসা করতে থাকে নির্দেশকের অর্থাৎ আমার সেই বন্ধুর। নাট্যকার আগের চেয়ে আরো বিনীত। প্রতি গ্রæপ কলে তার মন্তব্য থাকে এরকমÑ ভাই আমি আজীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। আপনার কল্যাণে আমাকে সবাই নাট্যকার হিসেবে বাহŸা দিচ্ছে। নাটকটি আপনার হাতের ছোঁয়ায় যথার্থ নাটক হয়ে উঠেছে। ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

হঠাৎ একদিন নাটকটির একটি শোয়ের ব্যর্থতার পর পুরো চিত্রই পাল্টে গেল। শোটিতে অভিনয়, মিউজিক, লাইট প্রক্ষেপন সবক্ষেত্রেই ব্যর্থতা ছিল। দর্শক তৃপ্ত হতে পারেনি। অনেকে বিরূপ মন্তব্যও করেছে। পরের দিন যথারীতি সবাইকে গ্রæপ কলে ডাকা হলো। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারনে পরের দিন গ্রæপ কলে উপস্থিত থাকতে পারেননি নির্দেশক। এই সুযোগে ঘটে গেল বিস্ময়কর এক ঘটনা। গ্রæপ কলে অনেকে নাটকটির নির্দেশকের কঠোর সমালোচনা করল। তুলোধুনা যাকে বলে। যার অর্থ নির্দেশকের কারনেই নাটকটি ডুবতে বসেছে। নাট্যকার আরো বেশি উচ্চকিত। তার প্রতিবাদী মন্তব্য, নির্দেশক আমার নাটকটি যাচ্ছেতাই ভাবে সংশোধন করেছেন। আমি যা লিখেছি তার অনেক কিছুই নাটকে নাই। সে কারনে নাটকটির এই দূর অবস্থা। আগের দিন পর্যন্ত নাটকের নির্দেশক ছিলেন সবার কাছে মহানায়ক। একদিনের ব্যর্থতায় তিনিই হয়ে গেলেন খলনায়ক। বলাবাহুল্য, এই ঘটনার পর নাটকের সেই গ্রæপটি ভেঙে যায়।

প্রিয় পাঠক এই গল্পের মাজেজা কী বুঝতে পেরেছেন? হ্যা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহীমের বর্তমান অবস্থা বোঝানোর জন্যই এই গল্পের অবতারণা। গল্পটি কিন্তু সত্যি। বালাইষাট, আমাদের ক্রিকেটে যেন এর সামান্যতম প্রভাব না পড়ে। কারন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ক্রিকেট একমাত্র ক্রিকেটই আনন্দ বেদনার মহাকাব্য। ক্রিকেট হাসলে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষ একসাথে হাসে আর আনন্দ করে। ক্রিকেটের ব্যর্থতায় একসাথেই কষ্ট পায়। ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধুমাত্র একটি খেলা নয়, ক্রিকেট দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রেরণাদায়ী শক্তি, ক্রিকেট বাংলাদেশের অহংকার। ক্রিকেট বাংলাদেশের ঐতিহ্যের আলোকিত ঠিকানা। সে কারণে দেশ বিদেশে যেদিনই বাংলাদেশের খেলা থাকে সেদিন দেশের মানুষের দিনলিপিও বদলে যায়। যে যেখানেই থাকুক চোখ থাকে টিভি পর্দায় অথবা মোবাইল ফোনে খেলার আপডেট জানতে তৎপর থাকে সবাই।

Cricketগত পরশু রিকশা খুঁজছিলাম। মোবাইল ফোনে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার সরাসরি দৃশ্য দেখছিল এক রিকশাওয়ালা। তাকে বললাম, ভাই যাবেন? রিকশাওয়ালার মন খারাপ। বিরক্ত কণ্ঠে বলল, না যাবো না। কেন যাবেন না? আপনার কি মন খারাপ? প্রশ্ন করতেই চোখেমুখে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে বলল, খেলার অবস্থা দেখছেন? আচ্ছা বলেন তো স্যার, বাংলাদেশ কি এতোই খারাপ টিম? সকলে মুশফিকের ওপর দোষ চাপাইতেছে। দোষ কি তার একলার? অন্য কারো দোষ নাই? দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের অনেক বড় দল। আপনেরা তাদের সাথে খেলতে যাইবেন, আটঘাট বাইন্ধা যাইবেন না? সাকিব নাই, তামিম নাই… আরো অনেকে নাই। লড়াইটা করবে কে? হুদাই ক্যাপ্টেনের দোষ দিয়া লাভ আছে?

অবাক হয়ে রিকশাওয়ালার কথা শুনছিলাম। সে তো আমার মনের কথাই বলেছে। কয়েক মাস আগে বাংলা ট্রিবিউনেই আমি একটা লেখায় প্রশ্ন ছুড়েছিলাম, বাংলাদেশ কি এখনো হোয়াইট ওয়াশ পর্যায়ের ক্রিকেট টিম? দক্ষিণ আফ্রিকার ঘটনার পর আবারও একই প্রশ্ন মনের ভেতর উকিঝুকি মারছে। কিন্তু এবার আমি এই প্রশ্ন করতে রাজি নই। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম মোটেই হোয়াইট ওয়াশ হবার মতো টিম নয়। যে ক্রিকেট টিম অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলংকার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে সেই টিমই কেন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এভাবে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবে? এখানে হোম কন্ডিশনের কথা উঠতে পারে। খেলাটা কোথায় হচ্ছে সে প্রশ্নও আলোচিত হতে পারে। তবুও বলবো যতই হোম কন্ডিশনের প্রসঙ্গ তুলি না কেন সেটাই বড় কথা নয়। বড় কথা হলো আমাদের ক্রিকেট কী যথার্থ পরিচর্যা পাচ্ছে? আমাদের ক্রিকেট নিয়ে আছে কী আদৌ কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আছে? সাকিব না খেললে তার জায়গায় কে দাঁড়াবে? তামিম না থাকলে কে হবে তার বিকল্প? এই ভাবনাগুলো আদৌ কি গুরুত্ব পাচ্ছে? সবিনয়ে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই। এই যে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে পাঠানো হলো যথার্থ পরিকল্পনা মাফিক কি পাঠানো হয়েছে?

ধরা যাক ক্রিকেট বোর্ডের সাথে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড অথবা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডের একদল কর্মকর্তা একটা যৌথ মিটিং করতে বাংলাদেশে আসবেন অথবা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কথা বলার জন্য অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড অথবা দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবে। এক্ষেত্রে নেতৃত্বে থাকার কথা কার? বোর্ডের সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভূমিকাইতো এখানে অতি জরুরি। কিন্তু হঠাৎ করে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক কর্মকর্তা জানলেন তারা থাকতে পারবেন না। তাদের ছুটি চাই। বাধ্য হয়ে বোর্ড সভাপতি অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করতে গিয়ে পড়লেন বিপাকে। কারন তরুণ কর্মকর্তাদের অনেকে কিছুটা নার্ভাস। কী বলতে গিয়ে কী বলে ফেলেন…। পাছে না ভুল হয়ে যায়।

আমার ধারনা দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের ক্রিকেট টিমের ভেতরে এমনই একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। যে যাই বলুক এটাই সত্য বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে সাকিব দাঁড়ালেই টিমের সদস্যদের মধ্যে বাড়তি একটা প্রেরণার সৃষ্টি হয়। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা যাবার আগেই জানা গেল সাকিব টিমে থাকছেন না। সঙ্গত কারনেই গোটা টিম প্রথম ধাক্কাটা খেলো। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ক্যাপ্টেন তো বলেই দিলেন, সাকিব আসছে না। এই সংবাদে আমরা খুব খুশি। কারন কোনো দলে সাকিব আল হাসানের মতো খেলোয়াড় থাকা মানেই ভয়ংকর ব্যাপার। আমরা সেই চাপ থেকে মুক্ত। সাকিবের পরে আসে তামিমের প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের দুর্ভাগ্য, তামিম দলে থেকেও নেই। ইনজুরির কারনে তিনি দর্শক গ্যালারীর বাসিন্দা হলেন। তাহলে খেলবে কে? একাই মুশফিক? একথাতো সত্য একটা দলের সকলে সমান পারফরমেন্স দেখায় না। কিন্তু দলে কে থাকলো না থাকলো তার ওপর অন্যদের সাহসের ব্যাপারটা নির্ভর করে।

একথা নিশ্চিত করে বলা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে যদি সাকিব থাকতেন, তামিম যদি ইনজুরিতে না পড়তেন তাহলে বাংলাদেশ এতোটা খারাপ করতো না। আমরা কেন বুঝতে চাচ্ছি না দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক শক্তিধর ক্রিকেট প্রতিপক্ষ। তাদের সাথে লড়াই করার জন্য আমরা যে দলটি পাঠিয়েছি তাদেরকে কি সে ভাবে মানসিক শক্তি যোগাতে পেরেছি? এখানে এককভাবে দলের ক্যাপ্টেনের কী করার আছে?

হ্যা দলের ক্যাপ্টেনেরও অনেক কিছুই করার আছে। যেহেতু তিনি ক্যাপ্টেন কাজেই তাকে হতে হবে বিচক্ষণ। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছানোই হলো যোগ্য ক্যাপ্টেনের কাজ। তবুও কথা থেকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন কী মানসিকভাবে নির্ভার ছিলেন? প্রথম টেস্টে টস জিতেও ফিল্ডিং নিয়েছেন। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার পরও দ্বিতীয় টেস্টেও একই ভুল করলেন? এটা কি তার ইচ্ছাকৃত? মুশফিকের মতো বিচক্ষণ ক্যাপ্টেন বার বার একই ভুল করবেন এটা কি বাস্তব সত্য? নাকি বিহাইন্ড দ্য সিন কোনো ব্যাপার আছে? এরকম আরো অনেক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর জরুরি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর আপত্তিকর নানা কথা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে দলের টেস্ট ক্যাপ্টেন ও প্রধান কোচের মধ্যে দ্ব›দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে। শোনা যাচ্ছে, মুশফিক বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপ্টেন থেকে বাদ পড়তে পারেন। এ ব্যাপারে মুশফিকুর রহীমের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ, প্রচার হয়েছে। মুশফিক বলেছেন, আমি কেন সরে যাবো? এটা তো ব্যক্তিগত কোনো খেলা নয় দলীয় খেলা। অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে সব ব্যর্থতার দায় আমার দিকেই আসবে। আমি সেটা নিচ্ছিও। কিন্তু আমি নিজে সরে দাঁড়াবো না। এক্ষেত্রে বোর্ড যা বলবে তাই হবে। বোর্ডের সিদ্ধান্তই মাথা পেতে নিব। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় টেস্টে বাউন্ডারী লাইনে মুশফিকের ফিল্ডিং করা নিয়েও নানা ধরনের নেতিবাচক কথা শোনা যাচ্ছে। মুশফিক বলেছেন, কোচরা চেয়েছেন আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। কারণ সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি রান হয়ে যায়। আমার হাতে ‘ক্যাচট্যাচ’ আসলে নাকি ধরার সুযোগ থাকে না। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা আপনাকে বলবে সেটাতো আপনাকে করতেই হবে।

মুশফিকের এই কথার মধ্যে অনেক ক্ষোভের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সোজাভাবে আমরা যদি তার এই ক্ষোভ বা আবেগকে গুরুত্ব দেই তাহলে জরুরি কয়েকটি বিষয় সামনে চলে আসে। মুশফিকুর রহীম কে? তিনি এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট ক্যাপ্টেন। ক্যাপ্টেন মানেই কিন্তু দলপতি। ভারতে যার চাওয়া অনুযায়ী প্রধান কোচেরও পরিবর্তন হয়েছে। তার মানে ক্যাপ্টেনের অনেক ক্ষমতা। বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেনের ক্ষমতা কেমন? কেন তাকে বাউন্ডারী লাইনের বাইরে বাইরে থাকতে হবে? ক্রিকেটে আমরা কি মুশফিকুর রহীমের অবদানের কথা এখনই ভুলে যেতে শুরু করলাম? তার মানে এই নয় মুশফিক সারা জীবন ক্রিকেট ক্যাপ্টেন হয়েই থাকবেন। সময়ের প্রয়োজনে নতুন নেতৃত্ব আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাতো স্বাভাবিক একটা পরিবেশে হতে পারে।

আবারও আমার সেই নাট্যবন্ধুর দূর দশার কথাটা ভুলতে চাই। দলের কাছে ছিলেন মহানায়ক। একদিনের ঘটনায় হয়ে গেলেন খলনায়ক। ফলাফল দলে বিভক্তি। যত দোষ নন্দ ঘোষের বলে একটা কথা আছে। সত্যি কি সব দোষ নন্দ ঘোষের? আশাকরি বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের আলোচনা, বিবেচনায় সবিশেষ গুরুত্ব পাবে? জয় হোক বাংলাদেশের ক্রিকেটের।

লেখক: সাংবাদিক, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক