Home এক্সক্লুসিভ জীবনগল্পে সাহসী ফ্যাশন

জীবনগল্পে সাহসী ফ্যাশন

SHARE
Shahnaj-cacoly

আজকাল প্রচার মাধ্যমে তারকাদের সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। জীবনের খোলামেলা কথা বলতেই পছন্দ করছেন অনেকে। যেন এটাও এক ধরনের নতুন ফ্যাশন। বিশিষ্ট অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়-এর আলোচিত টিভি অনুষ্ঠান সেন্স অব হিউমারে শিল্পীদের অনেকেই বেশ খোলামেলা কথা বলছেন। ফলে তারকাদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে একটা নতুন ট্রেন্ড অথবা ফ্যাশন চালু হয়েছে। ‘আমার প্রথম’ শিরোনামে একটি অনলাইন পোর্টালে জনপ্রিয় চিত্র পরিচালক ফারজানা কাকলীর ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনটি মোটামুটি এরকমÑ
আমি যখন সেভেন/এইটে পড়ি তখন আমার হাড়ের উপর চামড়া ছাড়া শরীরে কিছুই ছিল না। অপরিপক্ব স্তন থাকায় ছেলেরা আমাকে খুব বেশি পছন্দ করত না। সারামুখে বড় বড় দুটো চোখ আর সুন্দর সিল্কি চুল বাদে বেশি কিছু সৌন্দর্য ছিল না। আমি গর্ব করে বলতে পারি ভেতরের সব সৌন্দর্য নিয়েই আমার জন্ম হয়েছে, যা আমাকে বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না।
মানুষের পছন্দ বা ভালোলাগার শেষ নেই, এ এক রহস্যময় অনুভূতি।
আমি খুব শুকনা পাতলা ছিলাম বলে কৈশোরে আমাকে খুব বেশি ছেলেদের উদ্ধত আচরণের সম্মুখীন হতে হয়নি। তবে পূর্ব গুপ্তপাড়ার ছেলেরা আমাকে ‘টিকটিকি”বলে টিজ করতো। জানি না কেন। অনেকে বলেছে, তুই শুকনা পাতলা, সারামুখে চোখছাড়া কিছুই দেখা যায় না, হয়তো সেজন্য। আবার কেউ বলতো তুই সারাপাড়া টিকটিকির মতো ঘুরে বেড়াস, সেটাই মূল কারণ। যে কারণেই হোক আমি টিকটিকি শুনলেই খুব রেগে যেতাম। রেগে গিয়ে ওই বড় বড় ছেলেদের কাছে গিয়ে মাস্তানি করে আসতাম। আমার পাড়ায় মাস্তানি করার অনেক গল্প আছে। যাই হোক ফিরে আসার সময় পিছন থেকে আরো হাসাহাসি করে আবারো চিৎকার করে ‘টিকটিকি’বলে ডাকতো।
উত্তরবঙ্গের মধ্যে রংপুর মনে হতো টিজ করার জন্য বিশেষ পরিচিত। আবার অদ্ভুত একটা সাইকোলজি কাজ করে মেয়েদের মধ্যেও যে, টিজ করলে মেয়েরা নিজেদের গুরুত্ব সম্পর্কে অভিহিত হন। নারী সৌন্দর্যের আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায়। পুরোটাই ভীষণ সিনেমাটিক।
আমাদের শহরে দুটো গুপ্তপাড়া- পূর্বগুপ্তপাড়া ও দক্ষিণ গুপ্তপাড়া। মারামারির জন্য এই দুই গুপ্তপাড়ার ছেলেরা বিখ্যাত ছিল। কাজেই কোনো মেয়েকে যদি এই দুই পাড়ার ছেলেরা পছন্দ করে ফেলত তো আর তাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় থাকতো না বরং সারাজীবনের জন্য নিন্দিতজীবন বহন করতে হতো। বেচারা গুপ্তপাড়ার ছেলেরা! এত প্রেমিক হয়েও তাঁরা অভিভাবকের কাছে জামাই হিসেবে ছিল অযোগ্য। সেকারণে প্রেমে বা টিজে রেসপন্স করা কখনো হয়ে তো ওঠেইনি বরং তাদের এড়িয়ে চলা ছিল মঙ্গল।
আমি যে স্কুলে পড়তাম সে স্কুলটি ছিল দক্ষিণ গুপ্তপাড়ায় অবস্থিত। আমাদের স্কুল যাওয়া আসার পথটা খুব মনে পড়ে। ছুটির পর পুরো রাস্তা নীল হয়ে যেতো। দলে দলে নীল পোশাকের মেয়েরা হাসাহাসি আনন্দ করে বা ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরত। আর অতটুকু সময়ের মধ্যেই প্রেমিক ছেলেরা সাইকেল নিয়ে দ্রæত পাশ কেটে যেত কিংবা চক্কর দিত ঘন ঘন; এরই মাঝে কখন যেন প্রেমিকাদের হাতে চিঠি দেয়ার কাজটা সেরে ফেলতো। এগুলো আবার অন্য মেয়েরা দেখলেই দারুণ আনন্দ পেত বা সমালোচনার ভঙ্গিতে বলাবলি হাসাহাসি করত।
এসব থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতাম বটে কিন্তু মনের মধ্যে একটা দুটো চিঠি পাওয়ার ব্যাকুলতা যে কাজ করেনি, তা নয়। মাত্র বয়ঃসন্ধি ঘটছে, শরীরে সিনেমার মতো প্রেম জাগে। বিয়ে ব্যাপারটা তো কিছুটা বুঝি, তাই না! একজন পুরুষের সান্নিধ্য লাভ মানেই বিবাহ। বউ সাজবো, শাড়ি বøাউজ পড়বো। স্বামীর সাথে বেড়াতে যাব, বাসা থেকে কোনো নিষেধ থাকবে না। শ্বশুর শাশুড়ির মন জয় করবো আমিই, টুকটাক রান্না শেখার আগ্রহ মানে স্বামীকে খাওয়াবো, কত কত চিন্তা মাথায় ওফফ! আর কতদিন ভালো লাগে এই নীল রঙের স্কুল পোশাক। কেন যে দ্রæত বড় হচ্ছি না! আমি তো ভেতরে ভেতরে অনেক বুঝি, বড় হচ্ছি আপনালয়ে কিন্তু আমার শীর্ন শরীর বাহ্যিক রূপ বুঝাতে ব্যর্থ। তৎকালীন সময় সুস্বাস্থ্যের বড় বড় স্তনের মেয়েদের ভীষণ চাহিদা ছিল প্রেমবাজারে। এক্ষেত্রে আমি বিষয় বহিভর্‚তে পড়ি।
আমার সুস্বাস্থ্যের সহপাঠীরা তখন অনেকেই সেমিজের নিচে বক্ষবন্ধনী পড়া শুরু করে। তাদের বাসা থেকেই নাকি এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমি তো এই কথা বাসায় বলার জন্যই ভাবতে পারি না, ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরের কথা!
আর আমার শরীর এমন কোনো দৃষ্টিকটু না যে, আমাকে বক্ষবন্ধনী গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় বাজারে আমার সাইজের কিছুই মিলবে না। বডি ত্রিশ থেকেই শুরু, তারও উপযোগী নই আমি।
KAKOLIজুম্মাপাড়ার নাজনীন ছিল আমার প্রিয় বান্ধবী। ও দেখতে ভারতীয় নায়িকা পদ্মিনীর মতো ছিল বলে ওকে পদ্মিনী বলেও ডাকতাম। ওরা বিহারী ছিল। ওর সাথে আমার সখ্যতা সালেমা উচ্চ বালিকা বিদ্যলয়ের ষষ্ঠ শ্রেনি থেকেই গড়ে উঠে। আমাকে ও খুব পড়াশোনায় সাহায্য করতো। বাড়ির কাজ না করে আসলে ক্লাসের ফাঁকে ওর খাতা দেখে লিখে ফেলতাম। আমাদের সময় লেখাপড়া নিয়ে এক ধরনের গোপনীতা ছিল। কেউ কারো খাতা দেখাতাম না। এখন আছে কিনা জানি না। নাজনীন জ্যামিতি, অঙ্ক, গ্রামার সব আমাকে দেখাতো। ওর সাথে আমার মনের অনেক মিল ছিল। আমি ওদের বাসায় ছিলাম দারুণ প্রিয়ভাজন একজন মানুষ। আমি খুব কমিকস করতাম বলে তারা আমার দারুণ ভক্ত ছিল। ওর ভাইবোনেরা আমাকে অনেক আদর করতো। সব বড় বড় বোন ছিল আর ছোট দুটো ভাই। ওদের বাসাটা বেশ সাজানো গুছানো ছিল আর সারাবাড়ির দেয়ালজুড়ে পাকিস্তানি খেলোয়াড় ইমরান খানের ছোট বড় অনেক পোস্টার।
নাজনীনের সাথে আমার একটা বিষয়ে অমিল ছিল। আমি মোটেও ইমরান খানকে পছন্দ করতাম না। আমি ছিলাম ওয়াসিম আকরামের ভক্ত। ও বলতো খেলার কথা। আমি বলতাম, চেহারার কথা। ওই বয়সে যার মধ্যে হিরোইজম আছে আমরা তারই প্রেমে পড়তাম। ওকে অনেক পচাতে পচাতে তখনই রাগাতে পারতাম। ওর একটা ভাঙা ভাঙা বাংলা টোনে “চিটিরবাল” বলে গালি শুনতে খুব মজা পেতাম।
আমাদের বয়ঃসন্ধির অনেক গোপন গল্প বেঞ্চের পিছনে বা বইয়ের উপর মাথা রেখে ফিসফিস করে আলাপ করতাম। আমাদের দুজনের কেউ প্রেম নিয়ে মাথা ঘামতাম না বরং অন্য যে বান্ধবীরা এসব চিঠিপত্র নিয়ে ফিসফাস করতো আমরা দুজন একদম দুই চক্ষে দেখতে পারতাম না। আমরা খুব ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান আর সিনেমার গল্প করতাম। ভিসিআর এ ছবি দেখার একটা বিশাল স্ট্যাটাস তখন ছিল। ওরা উর্দু পারতো বলে খুব ভালো হিন্দি বুঝতো। ছবির গল্প ও পড়া মুখস্থের মতো বলতে পারত। বেশি মজা পাইতাম পরিবারের সবাই একসাথে ছবি দেখার সময় “চুমুর দৃশ্যে” কে কখন ঘর ছেড়ে বাইরে যেত এটা শুনতে। কেউ পানি খেতে, কেউ টয়লেটে নিজের কাজে যেত। ভূতের ছবিগুলো একটু বেশি এডাল্ট ছিল কিন্তু খুব মজা পেতাম। কে আগে নতুন মুভি দেখে ক্লাসে পার্ট নিতে পারে এটাও ফ্যাশন ছিল।
একদিন নাজনীন এসে বলল, ‘আমি ব্রেসিয়ার পরেছি’।
আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। দেখি দেখি বলে বিপুল উৎসাহ নিয়ে জামার ঘাড়ের কাপড় সরিয়ে সত্যি ফিতার অস্তিত্ব টের পেলাম।
আমি বললাম,‘তোকে বাসায় জানলে মারবে না’! আমি শুনেই অবাক, ওর বড় বোনেরা নাকি পরতে দিয়েছে। ইসস! আমার বোনেরা তো শুনলেই মারবে।
তখন ক্লাস এইটে পড়ি। একদিন নাজনীন এসে বলল, ওদের বাসায় বোনদের ছোট কাপড়ের মাঝে একটা ছোট খুঁজে পাওয়া গেছে। আমার জন্য নাকি একটা ‘ব্রেসিয়ার’ আনবে কাল। আমি যখন আমার শীর্ণ শরীরের অক্ষমতা বর্ণনা করি তখন সে নিশ্চিত করে সাইজের কথা বলে যে, ওটাই নাকি আমার জন্য সঠিক।
কী এক উত্তেজনা বুকে, মনে প্রাণে! কালদিনটা যখন এলো, তখন আমরা টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের নোংরা টয়লেট গিয়ে ব্রা পড়ার রিহার্সেল করি। আমাদের টয়লেটের দেয়ালে খুব পচা পচা কথা লেখা থাকত। শুনতাম এগুলো স্কুল ছুটির পর ছেলেরা বল খেলতে যখন আমাদের ইস্কুলে আসত তখন লিখে রেখে যেত। আমরা সেসব লেখার দিকে লজ্জায় তাকাতাম না। মেয়েরা ভীষণ বলাবলি করত, ভয়ে সেসব টয়লেটে যেতাম না। সিনিয়র আপাদের সামনে যেন চোখে না পড়ে তাই অন্যদিকে তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু বললেই কি চোখ এড়ানো যায়? ঠিক চোখ পড়ে যায় দেয়ালে। সেদিন দেয়ালের দিকে তাকাতে যেন আরও লজ্জায় শরীর অবশ হয়ে আসছে।
চোখ ফিরিয়ে একে একে ভাঁজ করা ওড়না খুলে নাজনীনের হাতে দিলাম, দিলাম বেল্ট ও স্ক্রাপ। এবার জামা খুলে হাঁটুতে রেখে পরে ফেললাম ছোট সুতির ঘিয়া রঙের ব্রা। মা বোনেরা যেভাবে পরে তা আমার জানা ছিল। নাজনীন বলেছিল তার সাহায্য লাগবে কিনা! আমি নিজস্ব পারদর্শীতয় কার্য সম্পূর্ণ করে টয়লেট থেকে বেড়িয়ে এলাম।
জীবনের অদ্ভুত এক অনুভূতি আমার সারাশরীরে। এক অজানা সত্য আমার দেহের ভেতর নতুন রক্ত সঞ্চালন শুরু করেছে। লজ্জা, ভয় আর শরীর নব দিগন্তে হাতছানি দেয়। ক্ষণে ক্ষণে যেন দম বন্ধ হয়ে আসে কী এক ভাবনায়।
টিফিন ক্লাসের পরে আমরা দু’জন সেকেন্ড কিংবা থার্ড বেঞ্চে বসে ক্লাস করছি। ও আমাকে বারবার নানান জিজ্ঞাসায় সান্ত¦না দেবার চেষ্টা করছিল। আমি এক পর্যায় আর সইতে না পেরে বললাম, আমি এইটা খুলে ফেলব এখনি, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।
ও বলল, প্রথমদিন একটু খারাপ লাগবে। পরে অভ্যাস হয়ে যাবে। আমি ওকে বললাম, চল টয়লেটে যাই। ও বলল দুজনকে একসাথে যেতে দেবে না, ক্লাস শেষ হোক।
তাহলে এক এক করে চল।
বলল, অন্য মেয়েরা টের পেয়ে যাবে দুজন এক সাথে গেলে।
আমার তখন দম যায় যায়। আমার প্রকাÐ ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে মনে, কীসের জন্য এমন মন খারাপ লাগছে আমি জানি না! বুকের ভেতর ধুক ধুক শব্দ আমাকে গ্রাস করছে। ইতিহাস ক্লাসের প্রতি অমনোযোগী ছাত্রী। মনে হচ্ছে আমি হঠাৎ এক সেকেন্ডে বড় হয়ে গেলাম। পরিবারের সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি। আমার বিয়ে হয়ে যাবে। আমি কেন বড় হচ্ছি?
আমি বড় হব না। ছোট থাকব। খুলে দে নাজনীন!
কী মুশকিল! আমি ওকে অস্থির করে তুলি। আমার অস্থিরতা দেখে নাজনীন এ পর্যায় আমাকে বেল্ট খুলে ফেলতে বলে। তারপর জামার পিছন দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ব্রা’র বেল্ট খুলে দেয়। আমি কিছুটা স্বস্তিবোধ করি বটে তবে গা থেকে ঐ বস্তুটা পুরোপুরি সরিয়ে না ফেললে আমি অজানা দেশ থেকে ফিরে আসতে পারছি না।
ক্লাস চলছে। আমরা অন্য মেয়েদের আড়ালে বেঞ্চে বসেই শুরু করি। আমার উসখুস দেখে সে অন্য মেয়েদের উপর নজর রাখছে গোয়েন্দা চোখে যাতে কেউ টের না পায় যে আমি আজ স্বর্গীয় পোশাকে নিজেকে আবদ্ধ করেছিলাম।
এবার ওরই পরিচালনায় আমি আমার হাত দিয়ে বেল্ট টেনে টেনে খুলে ফেলি।
আহ! শান্তি। জামার তলা থেকে দ্রæত ওটা বের করে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখি। ভাগ্যিস ক্লাসে আপা সেদিন আমার এই বক্ষবন্ধনী পরার ইতিহাস জানতে পারেননি। তাহলে হয়তো ক্লাসে নতুন ইতিহাস পড়ানো ঘটে যেত ব্রা পরহিতা এই নারী যোদ্ধার শরীর, দেহ ও অবকাঠামো নিয়ে। টিপু সুলতানের ধার তলোয়ারের বদলে দ্য ব্রা অফ শাহনেওয়াজ কাকলী।
এবার ওটা বাড়ি নিয়ে কোথায় রাখবো? যদি বোনেরা টের পেয়ে যায় তো কানের মধ্যে একটা জোরে লাগিয়ে দিয়ে বলবে, বেশি পাকনা হইছিস নাহ!
অনেকদিন সেটা গোপনে গোপনে রেখেছিলাম। এরপর সময়ের প্রয়োজনে কবে থেকে ব্রা পরা শুরু করি মনে নেই।
এই গল্পটা হঠাৎ যেদিন আমার বরকে বলি। ও হাসতে হাসতে বলল, লিখে ফেল। জীবনের এমন মজার স্মৃতি তো রোজ মনে পড়বে না।
গল্প যাই হোক না কেন, সেটা মনে করে সুন্দর করে লিখতে পারাটাই আসল। প্রাণের (আমার বন্ধু) উৎসাহে সত্যি আমার এই স্মৃতিলেখা।
গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ
গত ৫ জানুয়ারি শনিবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ও নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে অনিয়ম, অসঙ্গতি ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন পরিচালনা পরিষদ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন সভাপতিমÐলীর চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ঝুনা চৌধুরীসহ নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্তত নয়জন প্রার্থী।
লিখিত ওই অভিযোগপত্রে নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে বলা হয়, নির্বাচনে বাংলাদেশ গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভোটার ২৩২ জন। অথচ ভোট গণনায় দেখা যায় মোট ব্যালট পেপার ২৩৪টি। এই অতিরিক্ত দুই ব্যালট পেপারেই প্রমাণিত হয় নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপি হয়েছে।
এছাড়া, ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা মহানগর) পদের ভোট গণনায় তপন হাফিজ পেয়েছেন ৩২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী জিয়াউল হাসান জিয়া পেয়েছেন ২৯ ভোট। উভয় প্রার্থীর ভোটের যোগফল হয় ৬১। অথচ ঢাকা মহানগরীতে ভোটার সংখ্যা ৬০টি। সুতরাং এখানেও প্রমাণিত হয় নিশ্চিতভাবে ভোট জালিয়াতি হয়েছে।
ওই অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, শুধুমাত্র নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে কমিশন এই নির্বাচন সম্পন্ন করবেন, এটাই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু নির্বাচনের দিন আমরা বিস্ময়ের সাথে প্রত্যক্ষ করেছি- ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার সকল পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমির বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নির্বাচনী কক্ষে উপস্থিতি ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ কোনোভাবেই নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয় না। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বাংলাদেশ গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জেনেও নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
ওই পত্রে আরো বলা হয়, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য উপরোক্ত বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন প্রদান করবেন। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।