জমকালো আয়োজনে ইস্পাহানি মির্জাপুর-চ্যানেল আই বাংলাবিদ সবার সেরা নুসরাত

জমকালো আয়োজনে ইস্পাহানি মির্জাপুর-চ্যানেল আই বাংলাবিদ সবার সেরা নুসরাত

204
SHARE
Khude-Gaanraj

ভদ্রলোক রাজশাহীতে থাকেন। পেশায় শিক্ষক। বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই। খুব একটা কাজ না থাকলে কখনোই বাড়ি থেকে বের হন না। কিন্তু গত ১৫ সেপ্টেম্বর তার জীবনে একেবারেই অন্যরকম একটি ঘটনা ঘটলো। বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে শুধু মাতৃভাষা বাংলার প্রতি টান থেকেই তিনি ঢাকায় চলে আসেন। নগরীর গাবতলীতে বাস থেকে নেমে লোক মারফত জানতে চান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ঠিকানা। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি উপস্থিত হয়ে যান সেখানে। উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা নিয়ে প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানটি দেখা। অনুষ্ঠানের প্রবেশমুখে বাধার সম্মুখীন হলেও শেষমেশ আয়োজকদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে পেরেছেন। প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি জানান, এই প্রতিযোগিতাটির প্রতিটি পর্ব তিনি চ্যানেল আই-এর পর্দায় দেখেছেন এবং ছোট ছোট ছেলে মেয়ের বাংলা ভাষার ওপর দক্ষতা দেখে অবাক হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বাংলা ভাষা আজ যেখানে নতুন প্রজন্মদের কাছে প্রায় হারাতে বসেছে এবং প্রায় পরিবারের প্রতিটি মানুষ এই বিষয়ে উদাসীন, সেখানে চ্যানেল আই এবং ইস্পাহানি মির্জাপুর এমন একটি উদ্যোগ নেয়ায় সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এবং বাংলা ভাষার প্রতি এই যে মমত্ববোধ এটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

Khude-Gaanraj-4আসলেই তাই! আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে নিয়ে এত বড় প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান দেশে এটাই প্রথম। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭। নগরীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ইস্পাহানি মির্জাপুর চ্যানেল আই বাংলাবিদ প্রতিযোগিতার মহোৎসব। ‘বাংলায় জাগো ভরপুর’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ইস্পাহানি মির্জাপুর ও চ্যানেল আই আয়োজন করেছিল বাংলাভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ, বানান ও ব্যাকরণের সঠিক ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে বাংলা ভাষা বিষয়ক মেধাভিত্তিক টিভি রিয়েলিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ-২০১৭’। এমন একটি আয়োজনের অপেক্ষায় ছিল সারা বাংলাদেশ। আজকে যখন বাংলা ভাষার যাচ্ছে তাই অবস্থা, নতুন প্রজন্ম যখন বাংলা আর ইংশিল মিলিয়ে বাংলিশ ভাষায় কথা বলছে সেখানে চ্যানেল আই ও ইস্পাহানি মির্জাপুর চা এর এমন আয়োজন সত্যিই গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠেছে। সবুজ চা বাগান থেকে নীল সমুদ্র, সুন্দরবন, উত্তরের বরেন্দ্রভূমি- সবখানে রক্তি আভা ছড়িয়ে জেগে উঠেছিল একদল তরুণ বাংলা ভাষাকে বুকে লালন করে। নতুন প্রজন্ম এই ভাষাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিল এমন আয়োজনে। তাই তো সব অপেক্ষা এবং জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশ পেল একজন ক্ষুদে বাংলাবিদকে। নতুন প্রজন্মের কান্ডারি। যে কি না বাংলা ভাষার জন্য প্রতিযোগিতার সব কঠিন অধ্যায় পার করে বিজয়ীর মুকুটটি ছিনিয়ে নেয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ হাজার প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেখান থেকে প্রতিযোগিতার নানান ধাপ পেরিয়ে সেরা ছয়জনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মহোৎসব আয়োজন।

মহোৎসব শুরু যেভাবে

Khude-Gaanraj-1ঘড়ির কাটা তখন ঠিক সন্ধ্যা ৭.৩৫ মিনিট। হলঘরে পিনপতন নিরবতা। কেউ একজন ঘোষণা দিলেন- ‘আর মাত্র এক মিনিট বাকি। এক মিনিট পর লাইভে যাব আমরা…।’ চ্যানেল আইতে শুরু হলো সরাসরি অনুষ্ঠান। বাংলাবিদ অনুষ্ঠানের থিম সং নিয়ে মঞ্চে এলো একদল নৃত্যশিল্পী। তানজিল-এর কোরিওগ্রাফিতে ‘বাংলা আমার এক ঠিকানা বাংলা আমার শেষ/ এই বাংলা তোমার আমার এই বাংলাই বাংলাদেশ’ শিরোনামের গানটিতে মনোমুগ্ধকর পারফরমেন্স উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে। পারফরমেন্সটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে আসেন উপস্থাপক খায়রুল বাশার। একে একে প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক ড. সৌমিত্র শেখর, গুণী অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা ও অতিথি বিচারক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজকে মঞ্চে ডাকা হয়। সংক্ষিপ্ত অনুভূতি প্রকাশের পর বিচারকের আসন গ্রহণ করেন তারা। এর পর পরই মঞ্চে ডাকা হয় সেরা ছয় প্রতিযোগীকে। সোয়েব আনিয়াদ খান ত‚র্য (পাবনা), সিরাজুল আরিফিন (খুলনা), রাইসা সালসাবিল (ল²ীপুর), নুসরাত সায়েম (ঢাকা), প্রতীক পনতীর্থ (সিলেট) ও সমর্পণ বিশ্বাস (খুলনা) এই ছয়জন মহোৎসবের বিভিন্ন পর্বে অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ

Khude-Gaanraj-5চলতি বছরের শুরুতে সারাদেশে তিনটি মাধ্যমে প্রতিযোগীরা বাংলাবিদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বাংলাবিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট, দেশের সেরা সব স্কুলে স্কুলে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তারা। সারাদেশ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও ময়মনসিংহ- থেকে বাছাই করা মোট ৮০ জনকে নিয়ে ঢাকায় চ্যানেল আই-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় মেগা অডিশন। যেখান থেকে বাছাই করা হয় ২০ জনকে। যাদের নিয়ে চলে ক্যাম্প রাউন্ড। এই ক্যাম্প রাউন্ডে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সেরা ১০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। বাংলা ভাষার বিভিন্ন দিক নিয়ে নানা আয়োজনে ভরপুর ক্যাম্পরাউন্ড চ্যানেল আই-এর পর্দায় নিয়মিত প্রচার করা হয়। বাংলা ভাষার ওপর নির্মিত প্রতিটি পর্ব দর্শকদের মাঝেও বেশ সাড়া ফেলে। সেরা ১০ জনকে নিয়ে চলে নানান রাউন্ড। সবশেষে ৬ জনকে বাছাই করা হয়। যাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় মহোৎসব।

জমকালো যত আয়োজন

Khude-Gaanraj-2ইস্পাহানি মির্জাপুর- চ্যানেল আই বাংলাবিদের মহোৎসব অনুষ্ঠানে একের পর এক পারফরমেন্স উপস্থিত দর্শকসহ চ্যানেল আইতে প্রচার হওয়া ছয়টি মহাদেশের দর্শকরা বেশ উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে থিম সং এর পারফরমেন্সের পর প্রখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের দেশাত্মবোধক গান ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার…’ এর পরিবেশনা ছিল সত্যিই অতুলনীয়। এই গানটি মঞ্চের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছয় প্রতিযোগীদের মনোযোগ দিয়ে শুনতেও বলা হয়েছিল। কারণ এই গান থেকেই তাদেরকে পরবর্তীতে প্রশ্ন করা হয়। এরপরই মঞ্চে আসেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তিনি ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি দর্শকদের গেয়ে শোনান। গানটির সঙ্গেও ছিল মনোমুগ্ধকর নৃত্য। যা পরিবেশন করেন চ্যানেল আই-এর সেরা নাচিয়ে তুষার ও তার দল। অনুষ্ঠানে একদল নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’ কবিতার আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম। তার কবিতা আবৃত্তির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনাও ছিল চমৎকার। পুরো অনুষ্ঠানে একের পর এক পারফরমেন্স সত্যিই দর্শকদের মন ভরিয়েছে। বিশেষ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি উপস্থিত সকলকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তার কণ্ঠে ‘নূরুলদীন-এর সারাজীবন’ কবিতাটি শুনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা আবেগে আপ্লুত হয়ে যান।

একদিকে পারফরমেন্স অন্যদিকে প্রতিযোগিতা

Khude-Gaanraj-3ইস্পাহানি মির্জাপুর-চ্যানেল আই বাংলাবিদের অনুষ্ঠানটি অন্যান্য প্রতিযোগিতা থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। নাচ গানে ভরপুর অনুষ্ঠান না হলেও একটা শৈল্পিক মাধুর্যতা পুরো আয়োজনেই ছিল। যে ধরনের নাচ-গান আর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে তার মধ্যে ছিল শিক্ষণীয় নানান দিক। আর পুরো অনুষ্ঠানটি প্রতিযোগীদের মজার মজার শিক্ষণীয় খেলার রাউন্ডের মধ্যে সম্পন্ন হয়। যার ধারাবাহিকতায় ছিল বাংলা ভাষা নিয়ে বিশেষ গেম শো রাউন্ড। গেম শোগুলোর মধ্যে ছিল- আমার পছন্দ, গানে গানে খেলা, হিজিবিজি, প্রতিদিনের ভুলগুলি, আমার কথা বুঝতে পারা এবং মূকাভিনেতা রাজের অভিনয় পর্ব। এক-একটা পারফরমেন্সের পরই খেলার রাউন্ড শুরু হয়। যা উপস্থিত দর্শকদের বেশ আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে মূকাভিনেতা রাজের অভিনয় দেখে প্রতিযোগীদের সেই বিষয়ে উত্তর দেয়ার পর্বটা বেশ উপভোগ্য ছিল। প্রতিযোগীরাও এই পর্বটি বেশ আনন্দ নিয়ে খেলেছেন।

এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ

top-4অনুষ্ঠানের একেবারেই শেষভাগ তখন। প্রতিযোগীদের চোখেমুখে তখন চিন্তার বলিরেখা। কে হবে সেরা বাংলাবিদ? দর্শকসারিতে তখন নানান ধরনের গুনগুন শব্দ। একেজন একেকজনের নাম বলাবলি করছে। এরইমধ্যে ফলাফল চলে আসে উপস্থাপক খায়রুল বাশারের হাতে। মহোৎসবে বিভিন্ন রাউন্ডে খেলার পর নাম্বার যোগ বিয়োগ করে এই ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। এক সময় ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকার মেয়ে নুসরাত সায়েম। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নুসরাত যেন মুহূর্তেই আনন্দে হারিয়ে যায়। আনন্দে চিৎকার দিয়ে উঠে সে। আর দ্বিতীয় হয়েছে খুলনার সিরাজুল আরেফিন এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ল²ীপুরের রাইসা সালসাবিল ও পাবনার সোয়েব আনিয়াদ খান তুর্য। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ মহোৎসবের অতিথি বিচারক এবং চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, এম এম ইস্পাহানি লি. এর উপদেষ্টা জাহিদা ইস্পাহানি ও ইস্পাহানি ফুড লি. এর পরিচালক আলী ইস্পাহানি, প্রতিযোগিতার বিচারক ড. সৌমিত্র শেখর, সুবর্ণা মুস্তাফা প্রমুখ। প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক আনিসুল হক বিশেষ কারণে উপস্থিত না থাকতে পারলেও ভিডিও বার্তায় বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানান।

যত পুরস্কার

ইস্পাহানি মির্জাপুর-চ্যানেল আই বাংলাবিদ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নুসরাত সায়েম পেয়েছে ১০ লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে দেয়া হয়েছে যথাক্রমে ৩ লাখ টাকা ও ২ লাখ টাকার মেধাবৃত্তি। এক থেকে দশম স্থান অধিকারী প্রত্যেকে পেয়েছে ৫০ হাজার টাকার সমমূল্যের ১টি করে ল্যাপটপ এবং ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে তোলার জন্য বাংলা বই ও একটি করে বই রাখার আলমারি।

‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন খায়রুল বাশার এবং পরিচালনা করেছেন তাহের শিপন। ‘মহোৎসব’ অনুষ্ঠানটি ঐদিন সন্ধ্যা ৭.৩৫ মিনিট থেকে সরাসরি স¤প্রচার করেছে চ্যানেল আই।

 

আমি অভিভূত

আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতিমন্ত্রী

এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে যে ভাবে ছেলে-মেয়েরা পারদর্শিতা দেখালো এটা সতিই বিস্ময়কর। আমি তো অভিভ‚ত। আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের বাংলা বানান, বাংলা উচ্চারণ দুটো নিয়েই কিন্তু আমরা সংকটের মধ্যেই আছি। আমার একটা অনুরোধ আছেÑ আজকাল টেলিভিশনে যে নাটক পরিবেশিত হয়, তাতে মাঝে মধ্যে যে বাংলা উচ্চারণে অভিনয় হয় সেটি যেন দয়া করে বর্জন করা হয়। এটা আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করে। ভুল উচ্চারণ দেখে সেটাই সঠিক বলে ধরে নিতে পারে নতুন প্রজন্মের ছেলেÑমেয়েরা এমন  আশঙ্কা জানিয়ে বলেন, প্রমিত বাংলা বলে একটা বিষয় আছে। আমরা যখন বাড়িতে নিজেরা খাবার খাই তখন টেবিল তত গোছানো থাকে না। কিন্তু যখন আমরা অতিথিকে অ্যাপায়ন করি, তখন কিন্তু টেবিলটা খুব গুছিয়ে সবাইকে খাবার পরিবেশন করি। আমাদের শিল্পটাও সে রকম সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন করার একটা ব্যাপার। সুতরাং শিল্প সম্মত ব্যাপারটা খুব জরুরি। সে ক্ষেত্রে বাংলা বানান ও উচ্চারণ দুটিই খুব গুরুত্বপূূর্ণ বলে আমি মনে করি। এরকম একটি আয়োজনের জন্য চ্যানেল আই এবং ইস্পাহানি মির্জাপুরকে ধন্যবাদ জানাই।

আমরা আনন্দিত গর্বিত

ওমর হান্নান, মহা ব্যবস্থাপক এম এম ইস্পাহানি গ্রæপ

ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ প্রতিযোগিতার প্রথম আসরকে সার্থক করে তোলার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দেশের শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ প্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে গভীর ভাবে ভালোবাসেন। সেই ভাষার জন্য এমন একটি আয়োজন করে, নেতৃত্ব দিতে পেরে ইস্পাহানি আজ আনন্দিত ও গর্বিত। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে তরুণদের কাছে, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য ইস্পাহানি বদ্ধপরিকর। আমরা যদি মেধা ও মননের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ মানুষ নিয়ে জাতি গঠন করতে চাই তাহলে আমাদের মাতৃভাষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাই সবার সহযোগিতা দরকার। আমি চ্যানেল আই, বাংলা একাডেমি, সমকাল, এডকম, মিডিয়াকম, বিশ্বরঙসহ সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রি, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

অভিনন্দন শুভেচ্ছা

ফরিদুর রেজা সাগর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই

আমি খুব গর্বের সঙ্গে, অহংকারের সঙ্গে বলতে চাই, চ্যানেল আই ১৯ বছর ধরে শুধু মাত্র বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করে আসছে। বাংলা ভাষা ছাড়া আর কোনো ভাষায় ১৯ বছর চ্যানেল আইয়ের পর্দায় কোনো অনুষ্ঠান প্রচার হয়নি। বাংলা ভাষা নিয়ে গর্ব করার, অহংকার করার অনেক কিছুই আমাদের রয়েছে। ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আমরা নতুন করে আবিষ্কার করলাম হ্যারিপটারের সেই গল্পের মতো সাত-আট নম্বর প্লাটফর্মের মাঝ খানে একটা সাড়ে সাত নম্বর প্লাটফর্ম। সেই প্লাটফর্মে কি রয়েছে? এই প্লাটফর্মে আমরা ছয়জনকে পেয়ে গেছি। এই ছয়জনের কথা আপনারা শুনেছেন। কিন্তু আমরা শুনেছি ৩৫ হাজার ছেলে মেয়েদের কথা। আমরা অবাক হয়েছি যে বাংলা ভাষায় প্রচুর বই রয়েছে সবার ঘরে। তারা বাংলা ভাষার বই দিয়ে তাদের লাইব্রেরি তৈরি করেছে। তারা বাংলা ভাষা নিয়ে চর্চা করছে। তারা বাংলা ভাষাকে ভালোবাসে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমরা অনেকেই সেইভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমরা নতুন প্রজন্মকে বলার চেষ্টা করেছি এ দেশটা আমার। এ দেশটা মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া একটা দেশ। বাংলা ভাষাকে ভালোবাসলে, বাংলাদেশকে ভালোবাসবে। বাংলাদেশকে ভালোবাসলে আমরা এগিয়ে যাব পৃথিবীর বুকে অনেক খানি। ইস্পাহানি মির্জাপুর, মিডিয়াকম, এডকমকে ধন্যবাদ জানাই। সেরা ছয়জনকে অনেক অভিনন্দন।

উদ্যোগটি যেন অব্যাহত থাকে

শাইখ সিরাজ, পরিচালক, বার্তা প্রধান চ্যানেল আই

অসম্ভব ভালো লাগার মতো একটি অনুষ্ঠান ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ। এর কয়েকটি পর্ব আমি দেখতে পেরেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে আগামীর বাংলার হাল বোধহয় এরাই ধরবে। সত্যিকার অর্থে আমাদের বাংলা ভাষার যে অবস্থা হচ্ছিল দিনকে দিন। এ সময়ে ইস্পহানি মির্জাপুর এই হালটি ধরেছে। এ কারণে ইস্পাহানি মির্জাপুরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সত্যিকার অর্থে আমরা ছোটবেলায় যখন বাংলা শিখেছি তখন বাংলাই শিখেছি। যখন ইংরেজি শিখতে হয়েছে তখন ইংরেজি শেখা হয়েছে। মিশ্রণ ঘটেনি। এখন বাংলা, ইংরেজি, বাংলিশ সবমিলিয়ে এমন একটা ভাষা তৈরি হয়ে যাচ্ছে, এ সময়ে যদি বাংলাকে ঠিক মতো ধরে রাখতে না পারি তাহলে সত্যি সত্যি এ বাংলা কোথায় গিয়ে ঠেকবে এটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সেই হিসেবে সময়ের এই উদ্যোগটিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।

আগামীতেও এ আয়োজন চলবে

এস, এম দিদারুল হাসান, সিনিয়র ম্যানেজার মার্কেটিং, এম এম ইস্পাহানি লিমিটেড

জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষামূলক বিষয়ের উপর একটি টিভি অনুষ্ঠান সফল ভাবে করতে পেরে আমরা অনেক অনেক গর্বিত ও আনন্দিত। চ্যানেল আই আমাদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নতুন প্রজন্ম মেধা ও মননে যদি শ্রেষ্ঠ হতে চায় বা সমৃদ্ধ হতে চায় তাহলে মাতৃভাষার চর্চা খুব জরুরি। আবার আমাদের ব্যবসায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মনেকরি ইস্পাহানি গ্রæপের এই প্রজন্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়া খুবই দরকার। সেদিক বিবেচনা করেই ইস্পাহানি বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। বাংলা ভাষাই নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে এবং এই উদ্যোগ ইস্পাহানির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটাবে- এই ভাবনা থেকেই বাংলাবিদের সৃষ্টি। ইস্পাহানি এমন এক প্রতিষ্ঠান যারা সমাজের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতাকে সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং শুধু কথা নয় বরং কাজেও তা প্রমাণ করতে উৎসাহী। দেশের সমাজের ও শিক্ষার প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব বোধ থেকে ইস্পাহানি কখনো পিছ পা হয় না। আর এই ধারাবাহিকতায় মির্জাপুর বাংলাবিদ শুধু ফেব্রæয়ারি ভিত্তিক একটি গতানুগতিক অনুষ্ঠান নয় বরং বিস্তৃত পরিসীমায় এক আয়োজন। প্রথমবারের মতো এই আয়োজনটি করে আমরা বেশ সাড়া পেয়েছি। তাই আগামীতেও আমরা এই ধরনের আয়োজন করে যাব।

এ আয়োজন সহজ ছিলনা

সূর্বণা মুস্তাফা, বিচারক

ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ ২০১৭ এর প্রথম আসরটি মোটেও সহজ ছিল না। যে ছয়জন প্রতিযোগীকে গ্র্যান্ড ফিনালেতে পেয়েছি তারা সত্যিই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। আমি বলি যে তারা আমাদের কান্ডারি। তারা আসলেই আমাদেরকে সুন্দর একটা বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। ইস্পাহানি মির্জাপুর ও চ্যানেল আইকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাভাষা নিয়ে এমন একটি চমৎকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য।

এরাই বিশ্বজয় করবে

আনিসুল হক, বিচারক

ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। বাংলাদেশের তরুণদের সম্পর্কে ভুল ধারণা ছিল। অনেকের ধারনা ওরা তো শুধু টিক মার্ক দিয়ে পরীক্ষা দেয়। কিন্তু বাস্তব ওরা অনেক মেধাবী। আমরা বাংলাবিদে গিয়ে দেখলাম অপূর্ব সব ছেলে- মেয়ে অংশ গ্রহণ করেছে সারা দেশ থেকে। তারা এত সুন্দর জানে। ব্যাকরণ, সাহিত্য সব পড়েছে। ব্যাকরণের অনেক কিছু তাদের জানা। আমি এদের দেখে আশাবাদী হয়েছি। দেশের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তারা প্রস্তুতি নিয়ে বড় হচ্ছে। এরাই একদিন বিশ্বজয় করবে।

আয়োজনটি শুধু বড় নয় বহুমাত্রিকও বটে

ড. সৌমিত্র শেখর, বিচারক

ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের দিক থেকে শুধু বড় তাই নয়, এটি বহু মাত্রিক একটি আয়োজন। এখানে বাংলা সাহিত্য, ব্যাকরণ এমন কি বাংলাবিদ্যা, সাধারণ জ্ঞান এ সমস্ত বিষয়ই তুলে আনা হয়েছে। আমাদের প্রতিযোগিতীরা শুধু একমুখী বিদ্যা নিয়ে বা জ্ঞান নিয়ে অনুষ্ঠানে তারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হতে হয়নি। তাদেরকে চৌকষ হতে হয়েছে। গ্র্যান্ড ফিনালে তে আমরা দেশসেরা ছয়জন বাংলাবিদকে খুঁজে পেয়েছিলাম। আমি মনে করি তারা সবাই প্রথম হওয়ার যোগ্য। বিজয়ী সবাইকে আমার অভিনন্দন। আয়োজনটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

বাংলা ভাষার প্রসার ঘটাতে চাই

নুসরাত সায়েম, চ্যাম্পিয়ন, ইস্পহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ

ঢাকার মেয়ে নুসরাত ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ ২০১৭ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের পরের দিন নুসরাত এসেছিল আনন্দ আলোর কার্যালয়ে। সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নুসরাত তার প্রতিক্রিয়া জানায় এভাবেÑ মঞ্চে যখন ঘোষণা করা হলো ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ ২০১৭ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমার নাম তখন আনন্দে আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। আমার ভেতরে আত্মবিশ্বাস ছিল প্রথম আসরে একটা স্থান করে নিতে পারব। ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে অনেক ভালো আগছে। সবারই একটা স্বপ্ন থাকে তেমন আমারও স্বপ্ন ছিল এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই স্বপ্নটা পূরণ হলো, আমি বিজয়ী হওয়াতে আমার মা-বাবা, বন্ধুরা, স্কুলের শিক্ষকরা খুশি হয়েছেন। এর চেয়ে আনন্দ আর কী আছে। নুসরাতের পুরো নাম নুসরাত সায়েম। সে ভিকারুন্নেসা গালর্স স্কুল এন্ড কলেজে ১০ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তার বাবার নাম খন্দকার গোলাম সায়েম। মায়ের নাম সামসাদ নাসরীন। বড় হয়ে নুসরাত পড়াশোনার পাশাপাশি শুদ্ধ বাংলার প্রসার ঘটাতে চান সমাজে।

তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দিতে চাই

সিরাজুল আরিফিন, প্রথম রানার আপ

সবার মতো আমারও স্বপ্ন ছিল ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি প্রথম রানার আপ হয়েছি। খুবই ভালো লাগছে। নিজেকে তারকা মনে হচ্ছে হঠাৎ করেই। শীর্ষ ছুঁতে পারিনি, তাই বলে অপ্রাপ্তির আক্ষেপ খুব বেশি নেই। চমৎকার প্রাণবন্ত উচ্ছ¡ল ৬টি ভাই তিনটি বোন পেয়েছি। বাংলাবিদ তকমা পেয়েছি সেটাই অনেক বেশি আনন্দের। বাংলাবিদ হয়ে এখন যে বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারছি। তা হলোÑ রাতারাতি প্রচুর দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে। অশুদ্ধ বা বিকৃত বাংলা বলা আমাদের মানায় না। সেই দায়িত্ববোধ থেকে চেষ্টা করবো বাংলার অপব্যবহার বন্ধে এবং ভাষার শুদ্ধতা রক্ষায় কিছু করে যাবার। তার পাশাপাশি আমি চাই তথ্য প্রযুক্তিখাতে বিশ্বব্যাপী বাংলাকে ছড়িয়ে দিতে। সিরাজুলের পুরো নাম সিরাজুল আরিফিন। সে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে পড়ালেখা করছে। তার বাবার নাম মোস্তফা খাইরুল আবরার এবং মায়ের নাম মোসাম্মৎ শামীমা খাতুন। তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে।

প্রিয় বর্ণমালার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টিই আমার লক্ষ্য

তুর্য, দ্বিতীয় রানার আপ(যৌথ)

আসলে অনুভ‚তি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ ছিল আমার কাছে একটি স্বপ্নের মতো। ৩৫ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। রাইসার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় রানার আপ হতে পারাটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন। আমার প্রাপ্তিকে হৃদয়ে ধারণ করে আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলাকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মাঝে প্রিয় বর্ণমালাগুলোর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করাই আমার লক্ষ্য। কেবলই বিদেশি সংস্কৃতির চর্চা না করে দেশীয় সংস্কৃতি ও শুদ্ধ বাংলা চর্চায় তাদের আগ্রহী করে তুলবো এটাই আমার প্রত্যয়। ত‚র্যর পুরো নাম সোয়েব সানিয়াদ খান ত‚র্য। সে নটরডেম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করছে। তার পিতার নাম সরওয়ার বিন করিম খান। মাতার নাম নাসরীন বানু।

বিজ্ঞান শিক্ষায় বাংলাকে জনপ্রিয় করতে চাই

রাইসা সালসাবিল, দ্বিতীয় রানার আপ

আত্মবিশ্বাস ছিল ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ ২০১৭ প্রতিযোগিতায় একটা স্থান করে নিতে পারব। যুগ্মভাবে দ্বিতীয় রানার আপ হতে পেরেও আমি সত্যিই অনেক আনন্দ বোধ করছি। তবে আশা করেছিলাম চ্যাম্পিয়ন হব। কিন্তু হতে পারলাম না বলে আমার কোনো  আপসোস নেই। অনেক আশা ছিল বাংলায় নিজের যোগ্যতা যাচাই করার। কিন্তু সেই যাচাই করার প্রক্রিয়াটি যে আমাকে এতদূর নিয়ে আসবে তা কখনোই ভাবতে পারিনি। আমি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, কিন্তু মাতৃভাষা বাংলার প্রতি আমার ছোটবেলা থেকেই অনেক ভালোবাসা। এই স্থানে আসতে পেরে আমি আজ এই ভালোবাসাকে সারাবিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করতে পেরেছি। আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান। বিজ্ঞান শিক্ষায় বাংলাকে জনপ্রিয় করতে চাই। রাইসা সালসাবিল সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছে। তার বাবার নাম ড: মো: তাদের বিল্লাল খলিফা। মায়ের নাম কাউছার আরা বেগম। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলায়।

এটাই সত্যি এটাই বাস্তব তাহের শিপন

পরিচালক, ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ

বাংলা এমন একটা শব্দ যার অনেক বড় গৌরবের ইতিহাস আছে। সেই বাংলা নিয়ে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান করা এবং দর্শকদের সেই অনুষ্ঠান দেখতে আকৃষ্ট করা, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো। বোধকরি আমরা সেই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছি। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই আমাদের এই অনুষ্ঠানটি দেখেছেন। আমি ব্যাক্তিগতভাবে এই বাংলাবিদ নির্মাণের সময়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাবার সময়ে অনুধাবণ করেছি যে, আমাদের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আমাদের যে হতাশা ছিলো তা ভুল। তারা বই পড়ে, তারা খেলাধূলা করে তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং তারা বাংলাদেশকে অন্তরে লালন করে এটাই সত্যি, এটাই বাস্তব।