ছায়াছবিতে চুম্বন বিতর্ক

ছায়াছবিতে চুম্বন বিতর্ক

SHARE

মমতাজউদদীন আহমদ

ভারতীয় ছায়াছবিতে মেলা কিছু আছে- মারধোর, লম্ফঝম্ফ, নাচগান, হাসিকান্নার বিসৱর আয়োজন- কিন্তু চুম্বন নাই। না নাই, কিন্তু আছে। কী আছে? সে বিষয়ে পরে আসছি, অন্য কথাগুলো পরিস্কার করে নেই।

ভারতীয় মানে কেবল ইন্ডিয়ান নয়। বাংলাদেশ, পাকিসৱান ইত্যাদি দেশের ছায়াছবিতে একই ব্যাপার। অন্যসব আছে, কিন্তু পশ্চিমা দেশের ছায়াছবির মতো অবাধ চুম্বন দৃশ্য নাই। কারণ হলো আমাদের কাছে চুম্বন জিনিসটা অশালীন, অন্যায় এবং অনৈতিক। ধরাধরি, জাবরাজাবরি, গড়াগড়ি, উড়াউড়ি, ডুবাডুবি সব থাকতে পারে- চুমাচুমি কিছুতে থাকবে না। তাতে উপমহাদেশীয় বহুকালের সুচিতা ও পবিত্রতাকে নাশ করা হবে, সে আশংকায় চুম্বন কার্যক্রম সিনেমাতে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। বেশ করা হয়েছে। এমন কঠোর অনুশাসনের বড় প্রয়োজন। কিন্তু বিবসন নৃত্যায়োজন, ইংগিতময় কটাক্ষ ইত্যাদি আচরণে কোনো বাধা নাই।

এ অঞ্চলের দর্শকের কাছে একমাত্র সুলভ আনন্দ ও বিনোদন উপাদান মাত্র ছায়াছবি। তাই দর্শকের প্রবল আগ্রহ ও আনন্দের জন্য নৃত্যগীতি, ভাঁড়ামো ছ্যাবলামি ও গড়াগড়ি লেপ্টালেপ্টির বিপুল আয়োজন নিয়ে এ অঞ্চলে ছায়াছবি নির্মিত হয়। তাছাড়া অভিনেতা অভিনেত্রীদেরও প্রবল বাধা আছে। তারা স্বল্পবস্ত্রের আবরণে মোহ বিসৱারী নৃত্যগীতে অংশ নিতে কুণ্ঠিত নয়, কিন্তু চুম্বন টুম্বনে তাদের ঘোরতর না আছে। আমিও শিল্পীদের না এর কাতারে আছি। তবে চুম্বন যদি কপালে কপোলে বা চোখেমুখে হয় তবে আপত্তি তারা করে না আমিও করি না। চুম্বন হলো আনন্দ ও শ্রদ্ধা ভক্তির প্রকাশ। চিত্তে স্নেহবোধ জাগলে চুম্বন, শ্রদ্ধা জাগলে চুম্বন, ভয় ও আনন্দে চুম্বন অস্বাভাবিক কোনো কার্যক্রম নয়। মা তার সনৱানকে স্নেহাবশে চুম্বন দেয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে সমসৱ ছাত্রছাত্রী প্রশ্নপত্র পাওয়া মাত্র তাতে চুম্বন দেয়, পরীক্ষার সাফল্য এলে পিতা পুত্রের মাথার ঘন কেশে চুম্বন দেয়। পশুপক্ষীকে আদরের কারণে চুম্বন দেয়ার চিত্র অতি পরিচিত। তবে কুকুরের মুখে মুখ দিয়ে চুমু খাওয়াটা সকলের কাছে গ্রহণীয় নয়। পায়রা বা বিড়ালকে চুম্বন দেয়া অতি প্রিয় চিত্র। স্বামী স্ত্রীতেও চুম্বন আছে, কিন্তু আড়ালে।

আমাদের জীবনে চুম্বন প্রায় অপরিহার্য একটি কার্যক্রম। ভালোবেসে রমণী তার প্রিয়জনকে চুম্বন দিয়ে আলিঙ্গন করবে এতো আইনী অনুমতি। তবে অবৈধভাবে রমণী ও পুরুষের চুম্বন একেবারে আইন বহির্ভূত কর্মকান্ড।

সেদিন সংবাদে দেখলাম এক মডেল কন্যা চুম্বন দৃশ্যে একাধিক শট দেয়ার জন্য কয়েক লক্ষ টাকা বেশি পারিশ্রমিক দাবি করেছে। চুক্তি ছিল মাত্র একটি চুম্বন থাকবে, কিন্তু শট নেয়া হলো কয়েকটি চুম্বনের, তাতেই এতো দাবি দাওয়া। পশ্চিমাদেশে চুম্বনের প্রতিযোগিতার খবর আছে। কোন জুটি কতখানি দীর্ঘ সময় চুম্বনে আবদ্ধ থাকতে পারে তারই প্রতিযোগিতা। এক জুটি চার ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘসময় চুম্বনে জমাট ছিল। তারা পুরস্কৃত হয়েছে।

একটি ভিন্ন দৃশ্যের কথা বলি, ‘বিন্দুর ছেলে’ সিনেমাতে সন্ধ্যারানী তার শিশুকে বুকে নিয়ে গায়গতরে চুম্বন দিল- সে দৃশ্যটি সেন্সর বোর্ড অনুমোদন দিল না। কেন না মা ছেলেতে চুম্বন থাকবে কিন্তু চুম্বনে শব্দ থাকবে না। এ আর এক সমস্যা। চুম্বন হলে তো (তা যদি আনৱরিক ও গাঢ় হয়) একপ্রকার শব্দ হবেই কিন্তু তা চলবে না। তার মানে আপনি হাসিঠাট্টা উপভোগ করতে পারবেন কিন্তু হাসতে পারবেন না।

এরকম বাধা নিষেধ দিলে তো কিছুই করা সম্ভব নয়। কাঁদতে পারবেন কিন্তু চোখে পানি আনতে পারবেন না। হাঁটতে পারবেন কিন্তু শব্দ করতে পারবেন না। বিয়ে করবেন কিন্তু নববধূর সঙ্গে বাসর ঘরে যেতে পারবেন না। এরকম একটার পর একটা দেয়াল তুলে দিলে সংসারে বা সমাজে চলাফেরা করা দুঃসহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। সহজ আনন্দে বলব, ঘুমোব স্বপ্ন দেখব তবেই না জীবন আনন্দময় ও হাস্যময় হয়ে উঠবে।

ছায়াছবিও জীবনের রূপকল্প। সহজ আনন্দের জীবন অতি নির্মল সুখে ছায়াছবিতে এলে পর্দায় সে জীবন দেখে যেমন সুখ দেখিয়েও সুখ। কিন্তু পদে পদে বাধা পদে পদে দেয়াল দিলে জীবন বিশ্বাস্যভাবে ফুটে উঠবে না।

ছায়াছবি শিল্পকর্ম। কিন্তু বাণিজ্যিক শিল্পকর্ম। ব্যয়বহুল নির্মাণ বলেই এ শিল্পকর্মে চাহিদা অনুসারে বিচিত্র বিনোদনী উপাদান আনা হয়।

উড়নখাটোলা চলচ্চিত্রে অপহৃত রাজকুমার ভারতের বাইরে অন্য এক রাজ্যের রাজকন্যার সম্মুখে নীত হলো। দীলিপ কুমার রাজকুমার চরিত্রে আর মীনা কুমারী রাজকন্যা চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। প্রেমে পাগলিনী প্রায় হয়ে রাজকন্যা তার সম্মুখে নীত রাজকুমারকে জিজ্ঞেস করলো তোমার দেশে প্রিয় জিনিস কী? নির্ভয়ে দীলিপ কুমার উত্তর দিলেন আমার দেশে দুটি জিনিস খুব প্রিয়। একটি মুহব্বত অন্যটি সঙ্গীত। রাজকুমারী মুগ্ধ বিস্ময়ে প্রেমময় সঙ্গীত শুনলেন অপহৃত রাজকুমারের কণ্ঠে। বলাবাহুল্য মীনা কুমারী দীলিপ কুমারের প্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগলেন।

সেজন্যই বলি আমাদের দেশে ছায়াছবিতে অবশ্যই গান এবং সংগিনৃত্য থাকবে। দর্শক সে সব গান অবিশ্রাম ঘরে বাইরে বার বার গাইতে পারে তেমনভাবে সুরারোপ করা হয়। নাগিনা নামের এক ছবিতে হেমনৱ কুমারের সুরারোপে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সঙ্গীত ছিল। বলাবাহুল্য এ ছবি সুপার ডুপার হিট হয়েছিল। একই দর্শক বার বার ত্রিশ চল্লিশবার নাগিনা ছবি দেখেছে। ছায়াছবিকে আকর্ষনীয় করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন উপাদান যুক্ত করা হয়। যেমন কুকুর বিড়াল, সিম্পাঞ্জী এনে চমৎকার সব কাজ করিয়ে নেয়া হয়। আবার কখনো সিনেমার মধ্যে সার্কাস এসে যায়। জেমিনীর বন্ডলেল সেকালে পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত। সে ছবিতে সার্কাস এক বিরাট আকর্ষন। নৃত্যের ঝংকারে দর্শককে প্রায় উন্মত্ত করে দেয়া এক ছবি আজাদ। ‘আবলাম চাপলাম’ নৃত্যের ঝংকারে দর্শক এমনি বিমোহিত হয়ে পড়ে যে, পকেট থেকে খুচরো টাকাকড়ি পর্দার দিকে ছুঁড়ে মারে। পরে শুনেছি, সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনায় তাদের লোকই প্রথমে খুচরো টাকাকড়ি ছুঁড়ে দিলে তার আকর্ষনে বিমুগ্ধ দর্শকও নিজের যা কিছু তাই ছুঁড়ে দেয়। এরকম একটি ভিন্নরকম ঘটনার কথা বলি। সাপের কামড়ে সনৱান মৃতপ্রায়। তাকে উদ্ধারের জন্য মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান ব্যক্তি উদাত্ত কণ্ঠে গান ধরেছে। আগরবাতি জ্বালানো হয়েছে। সে সময় হলের মধ্যে প্রকৃতই আগর বাতির সুরভি পাওয়া যায়। দর্শকতো বিমোহিত। একই দর্শক বারে বারে সে সিনেমা দেখতে আসে। আগরবাতির তীব্র গন্ধের ব্যবস্থা সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই অনৱরালে করে রাখে। এসব কর্মকান্ড সিনেমাকে জনপ্রিয় করার জন্য।

ভারতীয় তথা উপমহাদেশীয় ছায়াছবিতে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য নানা রকম উপাদানের সংযোগ থাকে। ভাড়ামো থাকে, উপদেশ থাকে, অজস্র কান্না থাকে, ফাইটিং থাকে। হিরো আর ভিলেনের পেটাপেটিতে এমন সব অবিশ্বাস্য ঘটনা থাকে, যা দেখলে শিহরিত হতে হয়। বেদম মারধোর হয় (দরবার হলে দুদফা মারামারির ব্যবস্থা করা হয়) ভিলেন আঘাতে জর্জরিত রক্তাক্ত হয় কিন্তু নায়ক তেমনি সজ্জিত সুশ্রী থেকে যায়, যেন আঁচড় পর্যনৱ লাগেনি।

পূর্ণচাঁদের আলোয় পথহারা যৌবনবতী একাকী নায়িকাকে সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করে নায়ক ঘোড়ায় চড়ে গান গাইতে গাইতে লোকালয়ে ফিরে যায়। মধ্যরাতে কাহিনীর নায়িকা কেন যে পথহারা হয়ে একাকী ছিলেন তার যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই। সিনেমা দেখে দর্শক। সবরকম বিশ্বাস্য অবিশ্বাস্য ঘটনা সহজেই গ্রহণ করে। বাণিজ্যিক শিল্পকর্মে সাধারণ দর্শক আনন্দ চায়, বিনোদন চায়। অকারণে যুক্তি সন্ধান করতে বসে বিচলিত হতে চায় না। কেবল ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবি কেন, পশ্চিমা বিশ্বে এরকম অবিশ্বাস্য রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা সৃষ্টির বিচিত্র উপাদান সংযোগে ছবি নির্মাণ হয় সেসব ছবির দর্শক সংখ্যা কম নয়। দর্শক না পেলে নির্মাতা ছবি নির্মাণ করবে কেন?

ফিরে আসি চুম্বন প্রসঙ্গে। আমাদের ছায়াছবিতে আর সব কিছু বলার অনুমতি আছে কিন্তু চুম্বন নাই। নরনারীর প্রেমময় জীবন সাধারণ জীবনেও চুম্বন একটি অপরিহার্য উপাদান। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে চুম্বন দিয়ে সে গ্রন্থ সযত্নে গুছিয়ে রাখা হয়। যদি কোনো নারী বা নর জলে ডুবে উদ্ধার পায় তার পেটের জল চুম্বন দিয়ে টেনে আনা হয়। প্রিয়জনকে বিদায় জানাবার সময় চুম্বন দিয়ে শুভ কামনা করা হয়। প্রেমিকাকে দূর থেকে উড়নৱ চুম্বন দিয়ে প্রেমের জয়বার্তা জানানো হয়। তাই বলছিলাম যতই সাবধানী, সংরক্ষণশীল প্রাচীন পন্থী হই না কেন জীবন থেকে চুম্বনকে বিতাড়িত করতে পারব না। যদি তাই হয়, তবে ছায়াছবিতে (আমাদের দেশের ছায়াছবিতে) চুম্বন দৃশ্য থাকবে না কেন?

এমন জীবন সম্পদকে অস্বীকার করে জীবনালেখ্য নির্মাণ করা কি সঙ্গত হয়।

মা স্নেহবশে চুম্বন দেয়, বাবা অহংকারে উদ্দীপ্ত হয়ে চুম্বন দেয়, ভাই বোনকে মমতা জানাতে চুম্বন দেয় তবে ছায়াছবিতে চুম্বন এলেই রক্ষণশীলরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কেন?

নায়ক গানের ছলে, আদরের কালে নায়িকার মুখে, নাকে, কপালে কপোলে চোখে হাতে শরীরে চুম্বন দিতে পারবে, কিন্তু কেবল ঠোঁটের সঙ্গে ঠোঁট মেলাতে পারবে না। ওষ্ঠতো মুখমণ্ডলের অন্যান্য অংশের মতই একটি অংশ। তাহলে ওষ্ঠ কেন চুম্বনের অনুরাগে রঞ্জিত হতে পাবে না।

না ওষ্ঠের সে স্বাধীনতা নাই। এটি দীর্ঘকালীন পালিত এক সংস্কার। নাক অথবা চোখ অথবা গন্ডের চেয়ে ওষ্ঠ অনেক নাজুক পবিত্র একটি স্থান। অতএব যতই যুক্তি থাক, তর্ক হোক এদেশে ওষ্ঠ চুম্বনের অনুমতি বা ছাড়পত্র পাবে না। শিল্পবাণিজ্য করার জন্য আর বিভিধ উপাদান ব্যবহার কর। কিন্তু ওষ্ঠকে টেনে এনো না।

Mogle-Azamতাছাড়া স্বাস্থ্যগত কারণ আছে। সুচিতা আছেই স্বাস্থ্য সংরক্ষণ কারণটাও সামান্য নয়। এক নর এক নারীর ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিয়ে চুম্বন দিল। তাতে আবেগ ও আনন্দ যত আছে, আরো বেশি শংকা আছে। একজনের মুখ থেকে দুষিত ব্যাকটেরিয়া অন্যের মুখে ঢুকে গেলে খুবই দুঃখময় পরিণতি হতে পারে। চুমা খেয়ে কি নর বা নারী জটিল রোগে আক্রানৱ হয়ে অকালে জীবন দান করবে। এদিকটা পশ্চিমাদেশের নরনারী মোটেও চিনৱা করে না। কিন্তু আমাদের সমাজ প্রভুরা খুবই সতর্ক। তারা কোনোভাবেই পান থেকে চুন খসতে দেবেন না। সিনেমাতে নায়ক নায়িকা চুমাচুমি করবে, তাই দেখে অল্প বয়সের বালক বালিকারা যখন তখন ডমাডম চুমা খাওয়াখাওয়ি করবে তার পরিনাম ভয়াবহ রোগবালাই। আমরা গরিব জনগোষ্ঠী, চিকিৎসার জন্য এতো এতো বেফজুল অর্থ কোথায় পাব। হ্যা এমন সব গভীর চিনৱা আছে বলেই এদেশের ছায়াছবিতে চুমাচুমি অর্থাৎ চুম্বনের অনুমতি নাই। আমিও এই নাই-এর পক্ষে আছি। যদি মনে মনে পশ্চিমাজগতের দিকে আমার কিছু আকর্ষন আছে।

এতোসব বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও কোনো কোনো সিনেমাতে নীরবে নিঃশব্দে আড়ালে আবডালে চুম্বন এসে যায়। সেন্সর বোর্ড তেমন সতর্ক নয় বলে সে দৃশ্যসহ সিনেমা হলে ছবি মুক্তি পায়। দেখা যাচ্ছে সেন্সরওয়ালারা খুব নির্মম নয়। যেমন থ্রী ইডিয়ট ছবিতে শেষের দিকে আমীর খান আর কারিনা কাপুরের বেশ দীর্ঘসময় ধরে একটি আবেগঘন চুম্বন দৃশ্য আছে। সে দৃশ্যটি দেখে দর্শক কামনায় ব্যাকুল হয়েছে এমন শুনিনি, কিম্বা পরবর্তীকালে আমীর বা কারিনা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রানৱ হয়ে হাসপাতালে গেছে তেমন খবরও আসেনি। তাহলে কী হলো? চুম্বনের কারণে কি ভারতীয় ছায়াছবিতে অভিশাপ নেমে এলো? না তেমন কিছু নয়।

যদি প্রেমকে ঘনীভূত জীবনকে স্পষ্ট ও সুন্দর করার জন্য দুএকবার চুম্বন এসে যায় তাহলে নির্মাণকে কুণ্ঠিত হতে বারণ করি। তাই বলে কথা নাই বার্তা নাই অকারণে ডমাডম চুমাচুমির আমি ঘোর বিরোধী। তাতে যেমন জীবন নষ্ট হয় তেমনি শিল্পের বারোটা বেজে যায়।

আমরা প্রয়োজনে শিল্পের স্নিগ্ধতার জন্য চুম্বনকে না বলি না। মুঘলে আজম ছায়াছবিতে যদি আনারকলি ও সেলিমের প্রেমময় দৃশ্যে স্নিগ্ধ চমৎকার চুম্বনের দৃশ্য আসে তাতে নিশ্চয় হিরোশিমা নাগাসাকি হয়ে যাবে না।

তবুও বলি, ছায়াছবিতে চুম্বনের পক্ষে আমি নই, বিপক্ষেও নই। আমি সুন্দরের পক্ষে।