চ্যানেল আই  আঠারোয় জয়ধ্বনি

চ্যানেল আই  আঠারোয় জয়ধ্বনি

603
SHARE

আদিত্য শাহীন

বিশ্বময় বাংলা ভাষাভাষীর স্বপ্ন আঁকা আর জীবনধারার প্রিয় সারথী চ্যানেল আই পথচলার সতের বছর পার করে এবার পা রাখছে আঠারো বছরে। শতভাগ পেশাদারিত্ব, নতুনত্ব, সৃজনশীলতা ও তারুণ্যের জয়গান গেয়ে দেড় যুগে পৌঁছানোর এই অধ্যায়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ, খাদ্য নিরাপত্তায় শতভাগ স্বনির্ভরতা অর্জন তথা বাংলাদেশের গণমূলক পরিবর্তনের সরব সঙ্গী চ্যানেল আই। মানুষ যা দেখতে চায়, যা শুনতে চায়, যা উপলব্ধি করতে চায় তা নিয়েই চ্যানেল আই-এর পথচলা। এর সঙ্গে জীবনকে এগিয়ে নেয়া, রুদ্ধ দুয়ারকে খুলে দেয়া, সত্যকে শানিত করার পথেও থাকতে হয়েছে অবিচল। টেলিভিশন কিংবা গণমাধ্যম নিয়ে মানুষের তৃষ্ণা ও প্রত্যাশাগুলো পূরণ করে এগিয়ে চলেছে চ্যানেল আই। তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও আকাশ সংস্কৃতির নতুন নতুন অগ্রযাত্রার ভেতর চ্যানেল আই-এর পথচলা নতুন নতুন উদ্ভাবনের ভেতর দিয়ে। লাল সবুজের প্রেরণায় প্রথম দিন যে নতুনত্বের মালা গেঁথেছিল, আজও তা গেঁথে চলেছে চ্যানেল আই।

বাংলাদেশে টেলিভিশনের ইতিহাস তখন পঁয়ত্রিশ বছরের। ১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর পথচলা শুরু হয় চ্যানেল আই-এর। সেদিন বুকভরা স্বপ্ন আর দেশ ও জনগণের কল্যাণে শতভাগ দায়বদ্ধতার এক নতুন প্রত্যয় ছিল চ্যানেল আই-এর পরিচালনা পর্ষদের। একটি আধুনিক টেলিভিশন, যা মানুষের তথ্যের তৃষ্ণা মেটাবে, মানুষের মূল্যবোধ জাগ্রত করবে, তার বন্ধ চোখ খুলে দেবে, তার জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে মিশে যাবে- এই ছিল স্বপ্ন। তা পূরণ করা গেছে অল্পদিনেই। পথচলার শুরু থেকে চ্যানেল আই দেশের শিল্প সংস্কৃতির সব গুণী মানুষদেরকে যুক্ত করেছে তার পথচলার বিশাল কাফেলায়। দিনে দিনে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল বিশাল ইভেন্ট নিয়ে। পৃথিবীর ছয়টি মহাদেশের বাংলা ভাষাভাষীরা সব দিনে দিনে যুক্ত হয়েছেন চ্যানেল আই-এর লাল সবুজ রঙে। যুক্ত হয়েছেন হৃদয়ে বাংলাদেশ চেতনায়।

আজ দেশের সঙ্গীত প্রতিভার কথা উঠলেই চলে আসে সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের কথা, আসে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের কথা, শিশু-শিল্পীর গান মানেই চ্যানেল আই-এর মেরিডিয়ান ক্ষুদে গানরাজ অনুষ্ঠান, অভিনয় প্রতিভা আর নতুন মুখ অনুসন্ধান মানেই লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টারসহ চ্যানেল আই-এর বিভিন্ন ইভেন্ট। সত্যিকারেই এক কারিগরের ভূমিকায় থেকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুনের জয়গান ধরে রাখছে চ্যানেল আই।

চ্যানেল আই বরাবরই তার পথচলার ভেতর দিয়েই শিক্ষা গ্রহণ করে। তাই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে টেলিভিশন মানে শুধু বিনোদন নয়। টেলিভিশন মানে জনকল্যাণ, টেলিভিশন মানে মানব সেবা, টেলিভিশন মানে জাতির উন্নয়ন ও ক্রমবিকাশের অনন্য বাহন। চ্যানেল আই এদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বহু সংখ্যক গুণী শিল্পীকে আজীবন সম্মাননা দিয়েছে। একইসঙ্গে তাদেরকে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতাও অব্যাহত রেখেছে। একটি টেলিভিশন নিতে পারে সমাজের অনেক ভালো ও নতুন নতুন কিছু কর্মসূচি ও অনুষ্ঠান। যেগুলো এক ধরনের সামাজিক আন্দোলন। চ্যানেল আই তার পথচলার সতের বছরে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমুখি কার্যক্রমে আগের চেয়ে আরো প্রসারিত করেছে কর্মপরিধি।

বাঙালি ঐতিহ্য ও মেলা

পরিবর্তিত সময়ে আবহমান বাংলার অনেক ঐতিহ্যই যখন হারাতে বসেছে তখন চ্যানেল আই নিজস্ব প্রাঙ্গণে বাঙালি জীবনের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে মেলার আয়োজন করে আসছে। বৈশাখী মেলা, রবীন্দ্র মেলা, নজরুল মেলা, পৌষ মেলা, বিজয় মেলা, বাংলা বর্ষবরণ এগুলোর অন্যতম। আমীরুল ইসলাম ও শহিদুল আলম সাচ্চুর পরিচালনা ও তত্বাবধানে দিনে দিনে ব্যাপকসাড়া জাগাচ্ছে এসব মেলা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চ্যানেল আই প্রকৃতি মেলা। প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র রক্ষার তাগিদ থেকেই প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প  থেকে থেকে  সব, বসন্ত উৎসব-এর আয়োজন সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে সারাবিশ্বের বাঙালি দর্শক এতে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার কণ্ঠশিল্পীর গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন বর্ষ বরণ। বাংলা বর্ষের সূচনায় এ এক বিশাল আয়োজন।

তৃতীয় মাত্রা

চ্যানেল আই-ই দেশে প্রথম গণমাধ্যমে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা চর্চার উদ্যোগ হিসেবে শুরু করে টক শো তৃতীয় মাত্রা। এটিই দেশের প্রথম অনুষ্ঠান যা পরস্পরবিরোধী দুটি রাজনৈতিক দলের নেতার মুখোমুখি সংলাপের আয়োজন। যা খ্যাতি পায় মিনি পার্লামেন্ট হিসেবে। জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি পার করেছে পথচলার এগারো বছর। এ অনুষ্ঠানগুলো শুধু গণমানুষেরই চোখ খুলে দেয়নি, দেশের সকল গণমাধ্যমেও অনুসৃত হয়েছে এই তৎপরতা।

ফিউচার লিডার্স প্রোগ্রাম ইন বিজনেস

বহির্বিশ্বের ব্যবসা বাণিজ্যের ধরন ও ধারণা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মাঝে সহজভাবে তুলে ধরে ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চ্যানেল আই শুরু করে ব্যবসায় প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ফিউচার লিডার্স প্রোগ্রাম ইন বিজনেস। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে তৃতীয় বছরের কার্যক্রম শেষে বেশকিছু ফিউচার লিডার পৃথিবীর স্বনামখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য বৃত্তি পেয়েছেন।

প্রকৃতি ও জীবন

চ্যানেল আই-এর ব্যাপক সমাদৃত কয়েকটি অনুষ্ঠানের একটি হচ্ছে প্রকৃতি ও জীবন। মুকিত মজুমদার বাবু উপস্থাপিত ও পরিচালিত বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রথম ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রকৃতি ও জীবন। বাংলাদেশকে বলা হয় প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক সম্ভার। এখানে যেমন রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা, একইভাবে প্রাকৃতিক ও মানুষসৃষ্ট নানা কারণেই জীববৈচিত্র্যের অনেক কিছুই আজ বিপর্যস্ত। যা অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র এবং সংলাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে এ অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের নিয়মিত অনুষ্ঠান হিসেবে এটি প্রথম উদ্যোগ। ইতোমধ্যে এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। পরিবেশ বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান হিসেবে প্রকৃতি ও জীবন পেয়েছে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার, জাতীয় পরিবেশ পদক। এ অনুষ্ঠানের পক্ষ  থেকেও বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে প্রথমবার বিশিষ্ট পরিবেশবিদ দ্বিজেন শর্মা, দ্বিতীয়বার পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আলী রেজা খান, তৃতীয় বছর পাখি প্রেমী ইনাম আল হককে।

গানে গানে সকাল শুরু

দিনের শুরু মানেই চ্যানেল আই-এর গানের আয়োজন। ‘গানে গানে সকাল শুরু’ নামের সরাসরি অনুষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা অংশ নেন সরাসরি সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে। ২০১২ সালের ২৯ মে যাত্রা শুরু করে এই অনুষ্ঠানটি। পাঁচজন যন্ত্রশিল্পীর সঙ্গে এক অথবা একাধিক শিল্পীর গানের এই অনুষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশের সকল দর্শকশ্রোতার কাছে টেলিভিশনে অন্যতম প্রিয় একটি গানের অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে অসংখ্য খ্যাতনামা ও নবিন শিল্পী অংশ নিয়েছেন। শুধু চ্যানেল আই-এর নিজস্ব স্টুডিও থেকে নয়, ঢাকার বাইরে থেকেও মাঝে মাঝে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।  দেশীয় সংগীতের বিকাশ এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে চালু রয়েছে চ্যানেল আই-এর বেশ কিছু গানের অনুষ্ঠান। এছাড়া চলচ্চিত্রের গান নিয়ে ‘এবং সিনেমার গান’।

স্বর্ণকিশোরী

বাংলাদেশের ২ কোটি কিশোরীর মাঝে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে চ্যানেল আই। স্বর্ণকিশোরী নামের এই অভিযানের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই কার্যক্রমের আওতায় বাল্যবিবাহ রোধ থেকে শুরু করে মেয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে ওঠা, সামাজিক বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠতে দেশব্যাপী চলছে উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানমালা। এর আওতায় দেশের ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদেরকে প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফারজানা ব্রাউনিয়ার নেতৃত্বে এ কার্যক্রমটি তৃতীয় বর্ষে এসে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

হৃদয়ে মাটি ও মানুষ

শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় নিয়মিত অনুষ্ঠান হৃদয়ে মাটি ও মানুষ দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাখছে নানামুখি ভূমিকা। পথচলার এক যুগ অতিক্রম করেছে এ অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশে সাফল্য ও প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বহু সংখ্যক সফল কৃষক ও খামারি। কৃষক তথা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও সরকারের মধ্যে গড়ে উঠেছে একটি সেতুবন্ধন। প্রতি বছরের জাতীয় বাজেটের আগে তৃণমূল কৃষকদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনা ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ এ অনুষ্ঠানে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। ওই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিবছর চ্যানেল আই-এর মাধ্যমে কৃষকচাহিদার আলোকে প্রস্তুত করা সুপারিশমালা প্রদান করা হয় সরকারের কাছে। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে এই সুপারিশমালার অনেকাংশ বাস্তবায়িত হচ্ছে। চ্যানেল আই-এর তুমুল দর্শকপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে শাইখ সিরাজের উপস্থাপনা ও পরিচালনায় প্রতি বছরের ঈদ আয়োজন ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেশের কৃতী ও সফল কৃষকদেরকে চ্যানেল আই কৃষি পুরস্কারে ভূষিত করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের ৮ জন সফল কৃষক পেয়েছেন চ্যানেল আই কৃষি পদক। এছাড়া ২০১০ সাল থেকে চলছে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে নাগরিক শিক্ষার্থীদের কৃষি উৎপাদন থেকে বাণিজ্য পর্যন্ত ব্যবহারিক শিক্ষার কার্যক্রম ‘ফিরে চল মাটির টানে’। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

কেকা ফেরদৌসীর রান্না

এদেশে টেলিভিশনে প্রতিদিন রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান চালু করে চ্যানেল আই। রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসীর পরিকল্পনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনায় রান্না বিষয়ক নিয়মিত অনুষ্ঠানের বাইরেও ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন ইভেন্ট। দেশি-বিদেশি বৈচিত্র্যময় খাদ্য-সামগ্রী ও পাক প্রণালি নিয়ে কেকা ফেরদৌসীর নিয়মিত রান্নাবান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘দেশ বিদেশের রান্না’। প্রতিবছর ইফতারি আয়োজন নিয়ে কেকা ফেরদৌসী’র মনোহর ইফতারি অনুষ্ঠান ব্যাপক সাড়া জাগায়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নতুন নতুন খাদ্য ও রেসিপির সঙ্গে পরিচিত হতে পারছেন দর্শক।

চ্যানেল আই সংবাদের ষোল বছর

Channel-i-Dishএবার ষোল বছরে পদার্পণ করছে চ্যানেল আই সংবাদ। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর চ্যানেল আই’র তৃতীয় বর্ষে পদার্পণের শুভ মুহূর্তে যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই সংবাদ। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, বহু ঘটনা, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ বিভিন্ন প্রতিকৃল ও সংকটময় পরিস্থিতি এসেছে। সবক্ষেত্রেই সঠিক ও তাৎক্ষণিক তথ্যের জন্য দর্শকদের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকেছে চ্যানেল আই। সবচেয়ে দ্রুত পূরণ করেছে দর্শকদের প্রতিমুহূর্তের তথ্যের ক্ষুধা। এক্ষেত্রে প্রতিদিন লাইভ সম্প্রচার এবং এ সংক্রান্ত পেশাদারিত্ব ও কারিগরি উৎকর্ষে চ্যানেল আই সংবাদ বস্তুনিষ্ঠতায় এক স্বতন্ত্র অবস্থান গড়েছে। সংবাদ পরিবেশনে চ্যানেল আই বরাবরই থেকেছে গণমুখি অবস্থানে। প্রতিদিন চ্যানেল আই সংবাদে ১০টি পূর্ণাঙ্গ সরাসরি বুলেটিন ছাড়াও প্রতি ঘণ্টায় শীর্ষ সংবাদ প্রচারিত হয়। পথচলার শুরু থেকেই চ্যানেল আই কৃষি ও গ্রামীণ জনপদকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আসছে। সংবাদ চালুর দেড় বছরের মধ্যে চ্যানেল আই বাংলাদেশে প্রথম ‘জনপদের খবর’ চালু করে। গণমাধ্যমগুলোতে অনুসৃত হতে থাকে কৃষি ও গ্রামীন জনপদকে গুরুত্ব দেয়ার এই রেওয়াজ। এর ধারাবাহিকতায় চ্যানেল আই ২০০৭ সাল থেকে  রু করে প্রতিদিনের জাতীয় সংবাদের সঙ্গে যুক্ত করে কৃষি সংবাদ। যা পরবর্তীতে সব টেলিভিশনেই চালু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ কৃষি সংবাদ প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করে চ্যানেল আই। ২০১০ সালের প্রথম দিন থেকে  ংবাদপত্রের খবর নিয়ে ‘সংবাদপত্রে বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে। প্রতিদিনের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত বারোটায় মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় শুরু হয় গ্রামীণফোন আজকের সংবাদপত্র। এ অনুষ্ঠানটি।

যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে

যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে- চ্যানেল আই-এর এই আলোচিত অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন রূপ বিশেষজ্ঞ সোনালী ফেরদৌসী মজুমদার। ডেকো-এর সৌজন্যে সপ্তাহে একদিন চ্যানেল আইতে অনুষ্ঠানটি প্রচার হয়। অনুষ্ঠানটিতে রান্নার পাশাপাশি রূপচর্চার ওপরও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ক্রাইম স্টোরি

অপরাধ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য চ্যানেল আইতে চলছে ‘ক্রাইম স্টোরি’ নামে ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠান। রাজধানীসহ সারাদেশে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনাগুলোর রহস্য বের করে তা পুনর্চত্রিত করা হয় অনুষ্ঠানে। এ বছর চলছে অনুষ্ঠানটির তৃতীয় বছর।

হ্যান্ডসাম দ্য আলটিমেট ম্যান

দেশের প্রথম সুন্দর পুরুষ অনুসন্ধানমূলক রিয়েলিটি শো এর আয়োজন করে চ্যানেল আই। অনুষ্ঠানটির নাম ইমামী ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম দ্য আলটিমেট ম্যান। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারাদেশ থেকে খুঁজে বের করে আনা হয় সত্যিকারের হ্যান্ডসামদের। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দফায় ইতোমধ্যে ১৪ জন নতুন নায়ক বের হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা অংশ নিচ্ছেন টেলিভিশনের বিভিন্ন ইভেন্ট ও নাটকে। শুরু হয়েছে ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম আলটিমেট ম্যানের নতুন সিজন।

ট্রাফিক সিগন্যাল

ইবনে হাসান খানের পরিকল্পনায় দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনা সৃষ্টির জন্যে চ্যানেল আইতে চলছে নিয়মিত অনুষ্ঠান ট্রাফিক সিগন্যাল। এ অনুষ্ঠানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ম-অনিয়ম অনুসন্ধান করা হয়। সারাদেশের শহরগুলোতে ক্রমবর্ধমান যানজটের কারণে অনুষ্ঠানটি সময়োপযোগী হয়ে উঠেছে।

আরো দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠান

চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান ভান্ডার সবসময়ের জন্যই পূর্ণ। গত সতের বছরের অবিরাম পথচলায় প্রচারিত হয়েছে অগণিত নতুন নতুন অনুষ্ঠান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রমজান মাসের নিয়মিত ও তুমুল জনপ্রিয় অনুষ্ঠান কাফেলা, সপ্তাহের আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে প্রতি সপ্তাহে ফোন ইন লাইভ অনুষ্ঠান গ্রামীণফোন টেলিসময়, প্রতিদিনের সংবাদপত্রের গণপ্রতিক্রিয়াধর্মী অনুষ্ঠান পাবলিক রি-অ্যাকশন, নিয়মিতভিত্তিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দুটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে। একটি আপনার সুস্বাস্থ্য ও অন্যটি সরাসরি অনুষ্ঠান টেলি প্রেসক্রিপশন, আলোকিত মানুষদের নিয়ে সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান আলী যাকের-এর ‘আলোয় ভুবন ভরা’, আবদুর রহমানের উপস্থাপনায় বিনোদন বিষয়ক নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘সাময়িকী’, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠান চ্যানেল আই এক্সক্লুসিভ, নিয়মিত খেলাধুলা বিষয়ক অনুষ্ঠান স্পোর্টস টাইম, নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান কামরুজ্জামান সোহেলের পরিচালনায় ‘সত্যের সন্ধানে’সহ দর্শকদের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। দেশের যেকোন জরুরি অবস্থায় চ্যানেল আই তাৎক্ষণিক দর্শক চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ আয়োজন করে থাকে।

গুণীজনের পাশে চ্যানেল আই

চ্যানেল আই তার বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনকে নানাভাবে সম্মান প্রদর্শণ করে আসছে। সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আজীবন সম্মাননা প্রদানের রেওয়াজ। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই দেশবরেণ্য শিল্পী কলিম শরাফী, অজিত রায়, সুধীন দাশ, সোহরাব হোসেন, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফিরোজা বেগম, চিত্রনায়িকা আনোয়ারা, ফেরদৌস আরা, ফাহমিদা খাতুন, নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, মুসৱাফা জামান আব্বাসী, আব্দুর রহমান বয়াতী, শাহ আব্দুল করীম, সাবিনা ইয়াসমিন, সানজিদা খাতুন, চাঁদ প্রবাসী, মরহুম অভিনেতা আনোয়ার হোসেন, কবিতাসহ অনেকেই পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।

ছোটকাকু ও ছোটকাকু ক্লাব

Choto-kakuগণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের রচনা ও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন-এর পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘ছোটকাকু’ এ বছরেও সাড়া জাগিয়েছে দেশব্যাপী। বিশেষ করে দেশের শিশু-কিশোরদের মাঝে অল্পদিনেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে ছোটকাকু। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ছোটকাকু ফ্যান ক্লাব। ওই ফ্যান ক্লাবের সঙ্গে শিশু কিশোরসহ সকল বয়সী ব্যক্তিদেরকে যুক্ত করা হচ্ছে। যারা সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখবে। এই ছোটকাকু ক্লাবের মধ্য দিয়েই চ্যানেল আই স্বপ্ন দেখছে শান্ত-সুশৃংখল এক সুন্দর সমাজের।

তারকাকথন

চ্যানেল আই-এর প্রতিদিনের সরাসরি অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে অনন্যা রুমা প্রযোজিত ‘তারকাকথন’। বিভিন্ন মাধ্যমের খ্যাতিমান তারকাদের সঙ্গে সরাসরি ফোন আলাপে অংশ নিতে পারেন এই অনুষ্ঠানে। দেশের খ্যাতিমান তারকাদের জন্মদিনে বিশেষ  শুভেচ্ছা জানানো হয় এই অনুষ্ঠানে এনে। উল্লেখ্য, যে দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও গুণী ব্যক্তিত্বদের জন্মদিনে বিশেষ  ভেচ্ছা জ্ঞাপন ও সংবাদে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তা প্রচার করার ক্ষেত্রে চ্যানেল আই-তে পথচলার  শুরু থেকেই একটি রেওয়াজ চালু রয়েছে।

আড়ং ডেইরি বাংলার গান

গত বছর চ্যানেল আইতে শুরু হয় নতুন আরেকটি ম্যাগা ইভেন্ট ‘আড়ং ডেইরি বাংলার গান।’ চ্যানেল আই এ যাবৎকালে আধুনিক, রবীন্দ্র, নজরুলসঙ্গীত নিয়ে বহু অনুষ্ঠান ও ইভেন্ট করেছে। এই প্রথমবারের মতো বাংলা গানের শেকড় তুলে আনার অংশ হিসেবেই পল্লীর সব ধরনের গান তুলে আনার এই আয়োজন ‘আড়ং ডেইরি বাংলার গান’। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে চ্যানেল আই পেয়েছে বাংলা লোকগানের তরুণ একাধিক শিল্পী। যারা লোকগানে আগামী দিনের প্রতিনিধিত্ব করবে।

সবাইকে শুভেচ্ছা

একে একে সতের বছর পেরিয়ে এসেছে চ্যানেল আই। এটি বহু মানুষের শ্রম, নিষ্ঠা, স্বপ্ন আর আন্তরিক তৎপরতার যোগফল। সেই সঙ্গে ছয়টি মহাদেশের বাঙালিরা তো আছেনই। যারা সবসময়ই শক্তি ও সাহস যুগিয়ে চলেছেন চ্যানেল আইকে, তার যুগোপযোগী প্রতিটি উদ্যোগকে। যে দায়বদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা, সেখান থেকে এক চুলও সরেননি চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ  থেকে শুরু করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষ্ঠাবান কর্মীরা। যাদের প্রতিদিনের চিনৱা-শ্রম ও নিষ্ঠায় সূচনা হয় একেকটি নতুন অধ্যায়ের, নতুন ধারার। দেড় দশকে পদার্পণের শুভলগ্নে চ্যানেল আই এর সকল দর্শক, কর্মকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, কেবল অপারেটরসহ সবাইকে উষ্ণ শুভেচ্ছা।

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড-এর চলচ্চিত্র

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড-এর প্রযোজনায় মুক্তিপ্রাপ্ত মোট চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৯৯টি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আরো ২২টি চলচ্চিত্র। এছাড়া ইমপ্রেস টেলিফিল্মের মালিকানা স্বত্বের আওতায় রয়েছে আরো ৬০টি চলচ্চিত্র। সুস্থধারার ও বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও দর্শকপ্রিয়তায় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম শুধু বাংলাদেশের দর্শকদেরই মনজয় করেনি, বিশ্ব চলচ্চিত্রেও অর্জন করেছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইমপ্রেসের ১০টিরও বেশি চলচ্চিত্র অস্কার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত ইমপ্রেস-এর চলচ্চিত্র ৪৮টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে ১৪০টি। যা বেসরকারি কোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক পুরস্কার। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের চলচ্চিত্র গৌতম ঘোষ পরিচালিত মনের মানুষ ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করে।

oggatonamaইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. নির্মিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হয়েছে। লন্ডন, ফ্রান্স ও জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র উৎসব। এছাড়া এমিরেটস ও ওমান এয়ারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান বহরে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্সসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. এর চলচ্চিত্র। ব্রিটেনের চ্যানেল ফোরসহ বিভিন্ন টেলিভিশন এবং জাপানের বিভিন্ন টেলিভিশন ইমপ্রেস টেলিফিল্মের চলচ্চিত্র সম্প্রচার করছে এবং তাদের চলচ্চিত্র আর্কাইভে সংরক্ষণ করেছে। দেশবিদেশে সাড়া জাগানোর পাশাপাশি দিনের পর দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড-এর চলচ্চিত্র আর্কাইভ।