Home প্রতিবেদন শাহ সিমেন্ট সুইট হোম চার বন্ধুর কিউব ইনসাইড ডিজাইন লিমিটেড

চার বন্ধুর কিউব ইনসাইড ডিজাইন লিমিটেড

SHARE
Shahcement

বন্ধুত্ব আসলে কী? কেউ বলেন বন্ধুত্ব মানে আস্থা আর নির্ভরতা। কেউ বলেন বিপদে-আপদে যে মানুষটি সব সময় পাশে এসে দাঁড়ায় সেই হলো প্রকৃত বন্ধু। আবার কেউ বলেন বন্ধুত্বই সবকিছু। যার কোনো ভালো বন্ধু নেই তার চেয়ে অভাগাও কেউ নেই। তাহলে বন্ধুত্বের সঙ্গে যুক্ত হলো ‘ভালো’ শব্দটি। এই ভালো মানে কী? এই ভালো মানে আস্থা আর নির্ভরতা। প্রতিটি মানুষের জীবনে বন্ধুর ভ‚মিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্য একটা কথা প্রচলিত হয়ে গেছে- যার বন্ধু ভাগ্য ভালো সেই জগতে সবচেয়ে সুখী। হ্যাঁ, জীবন গড়ার ক্ষেত্রে একজন ভালো বন্ধুর ভ‚মিকা অনেক। এই বাস্তবতায় ওরা চারজন স্থপতি খন্দকার আশিফুজ্জামান রাজন, মো: শরিফুজ্জামান সজল, আহমেদ ফিরোজউল হক রবিন ও মো: শাখাওয়াত হোসেন রকি অনেক ভালো বন্ধু। দেশের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখা, সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রকৃতিকে ভালোবেসে স্থাপত্য শিল্পে কাজ করে চলেছেন চারজনই। সকলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ থেকে পাস করেছেন। চার বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন ‘কিউব ইনসাইড ডিজাইন লিমিটেড’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। যা এখন এ দেশের প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেক্ট প্রতিষ্ঠান। কিউব ইনসাইড ডিজাইন লিমিটেডকে একটা আস্থার জায়গায় আনার পেছনে রয়েছে এই চার বন্ধুর নিরলস সংগ্রাম ও পরিশ্রম। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার ডিজাইন তৈরি করে অনেকের নজর কেড়েছে। এবার শাহ্ সিমেন্ট সুইট হোমে চার বন্ধুকে নিয়েই প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক।

দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আর্কিটেক্ট খন্দকার আশিফুজ্জামান রাজন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। কিন্তু তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। রাজনের বাবার নাম খন্দকার শহীদুজ্জামান। তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা। মা আলেয়া জামান গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ছিল তার প্রচÐ নেশা। বই পড়া, গান গাওয়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। নাখাল পাড়া হোসেন আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ২০০০ সালে। ২০০২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। স্ত্রীর নাম তাবাসসুম জেরীন। তিনিও একজন স্থপতি।

স্থপতি আহমেদ ফিরোজউল হক রবিন-এর গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। কিন্তু তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। তার বাবা মো: জিয়াউল হক ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা। মা মিসেস শামসুন নাহার গৃহিণী। দুই ভাই বোনের মধ্যে রবিন বড়। ইস্পাহনী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ২০০০ সালে। ২০০২ সালে একই কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। স্ত্রীর নাম ফারহানা শারমীন। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট।

মো: শরিফুজ্জামান সজলের। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতে। সজলের বাবা মো: শাহজাহান সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। মা উম্মে সালমা গৃহিণী। কে কে গভর্মেন্ট ইন্সটিটিশন মুন্সীগঞ্জ স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ২০০০ সালে। ২০০২ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। সজলের স্ত্রীর নাম আজকা ঈশিতা। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট স্থপতি মো: শাখাওয়াত হোসেন রকি। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। রকির বাবা মো: মোক্তার হোসেন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। মা শামসুন নাহার গৃহিণী। মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ২০০২ সালে। ২০০৪ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। স্ত্রীর নাম সাদিয়া আলম। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট।

Shahcement-proরাজন, রবিন ও সজল তিন বন্ধু ২০০৯ সালে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। অপর বন্ধু রকি পাস করেন ২০১০ সালে। ২০০৯ সালে প্রথমে তিন বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন ‘কিউব ইনসাইড ডিজাইন লিমিটেড’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। পরবর্তীতে রকি পার্টনার হিসেবে যোগ দেন। বনানীতে তারা খুব সুন্দর একটি অফিস সাজিয়েছেন। একই রুমে চার বন্ধু পাশাপাশি বসে অফিস করেন। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের নামকরা অফিস কমপ্লেক্স, কমার্শিয়াল টাওয়ার, যাদুঘর, গ্রন্থগার, ফ্যাক্টরী, শোরুম, রেস্টুরেন্টসহ অসংখ্য রেসিডেন্স বিল্ডিংয়ের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন তাদের প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÑ কাকরাইলের আঞ্জুমান জেআর টাওয়ার, শাহবাগের ঢাকা পাবলিক লাইব্রেরি ও জাতীয় জাদুঘর, নিকুঞ্জের ডেসকো হেড অফিস বিল্ডিংয়ের ফার্স্ট ফেস, মতিঝিলের অগ্রণী ব্যাংক ভবন-২, টঙ্গি স্টেশন রোডের ব্রাভো অ্যাপারেল গ্রীণ ইন্ডাস্ট্রি বিল্ডিং, তেজগাঁও-এর সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস, ভালুকায় রিদিশা ফুডস লিমিটেড, গাজীপুর মাওনার রিদিশা নিটেক্স এন্ড স্পিনিং, গুলশানের নাভানার রেসিডেন্টশিয়াল অ্যাপার্টমেন্ট, বারাইল-এর বিকন ফার্মাসিটিক্যালের এমডির ভ্যাকেশন হাউজ, মিড ল্যান্ড ব্যাংক হেড অফিসসহ ১১টি ব্রাঞ্চের ইন্টেরিয়র, গুলশান, উত্তরা, ধানমন্ডি, নারায়ণগঞ্জের আইপিডিসি ব্র্যাঞ্চ অফিসের ইন্টেরিয়র, বনানীর সাকিবস ডাইং রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র, গুলশান, স্কলপচার হাউজ, ইরেন্টি-এর ইন্টেরিয়র, তেজগাঁও-এর হক গ্রæপের হেড অফিসের ইন্টেরিয়র, বনানী, উত্তরার বার্গার কিং-এর ইন্টেরিয়র, ইস্পাহানী এগ্রো লিমিটেড হেড অফিসের ইন্টেরিয়র, ইসলামপুরের আমেরিকা এন্ড এফার্ড ফ্যাক্টরী অফিসের ইন্টেরিয়র, ধানমন্ডি, বনানী, গুলশান, যমুনা ফিউচার পার্ক, উত্তরার আর্টিসাম শোরুমের ইন্টেরিয়র, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘জল সবুজে ঢাকা’ এর টিম লীডার শাশ্বত ও জেপি জেড-এর সঙ্গে তিনটি পার্ক ও খেলার মাঠসহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন।

এ ছাড়া বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন তারা। স্থাপনার কাজে কিউব ইন সাইড ডিজাইন লিমিটেডের রয়েছে অসম্ভব সাফল্য। প্রতিযোগিতামূলক কাজে অংশ নিয়ে তারা পুরস্কৃত হয়েছেন। যার ফলশ্রæতিতে তাদের সাফল্যের ঝুড়িতে জমা হয়েছে সেরা কর্মের স্বীকৃতি। অ্যাওয়ার্ডগুলো হচ্ছে আইএবি এবং সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ডিজাইন প্রতিযোগিতায় ডিকন ডিজাইন স্টুডিওর সঙ্গে জয়েন্ট ব্রাঞ্চারে প্রথম হয় পাবলিক লাইব্রেরি এবং জাতীয় জাদুঘর প্রজেক্টটি, আইএবি এবং আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম-এর উদ্যোগে ডিজাইন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় আঞ্জুমান জে আর টাওয়ার, আইএবি এবং ডেসকোর উদ্যোগে ডিজাইন প্রতিযোগিতায় শাশ্বত এর সঙ্গে জয়েন্ট ব্যাঞ্চারে প্রথম পর্যায়ে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয় ডিসকো হেড অফিস বিল্ডিং ফার্স্ট ফেস। এছাড়া বার্নাকুলার-এর সঙ্গে জয়েন্ট ব্যাঞ্চারে অগ্রণী ব্যাংক ভবন-২ ডিজাইনটি পুরস্কৃত হয়। কিউব ইন সাইড ডিজাইন লিমিটেডের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আশিফুজ্জামান রাজন বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের স্থাপনা শিল্পে নতুন ধারণা, দৃষ্টিনন্দন, বহিঃপ্রকাশ এবং একই সঙ্গে যৌক্তিক উপায়ে ডিজাইন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে কিউব ইন সাইড ডিজাইন লিমিটেড। আমাদের চিন্তা প্রসূত এই প্রতিষ্ঠানটি জন্মের পর থেকে চেষ্টা করেছে বাংলাদেশি স্থাপনার সুবৃহৎ পরিসরে ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করার। যা দেশের স্থাপত্য শিল্প, সমাজ, ক্লায়েন্ট এবং স্থপতি সবার জন্যই কল্যাণকর। তিনি আরো বলেন, সম্মিলিত চিন্তার সন্নিবেশ ও সম্মনা লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করার যে প্রচেষ্টা তাই আমাদের কাজ করার কষ্টের আত্মবিশ্বাস ও আস্থার রসদ যোগায়। শুধু স্থাপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যই নয়, একটি স্থাপনার সফল প্রয়োজনীয়তা সুষ্টুভাবে মিটিয়ে সৌন্দর্য ও কর্মদক্ষতার সঠিক সন্নিবেশ ঘটিয়ে একটি টেকসই স্থাপনা তৈরি করাটাই কিউব ইন সাইড ডিজাইন লিমিটেডের মূলমন্ত্র।