Home আরোও বিভাগ টিভি গাইড চার এককে চার!

চার এককে চার!

SHARE
Apurba-Mom

অপূর্ব-মম

অপূর্ব তখন ল্যাবএইডের বিজ্ঞাপন করে আলোচনায়। টিভি নাটকও করছেন। মম সবে ‘লাক্স সুপারস্টার’ হয়েছেন, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবির নায়িকা। একসঙ্গে প্রথম অভিনয়ের আগে দুজনের অবস্থা ছিল এমন। মম বলেন, ‘অপূর্বকে প্রথম দেখেছি টিভিতে। বেশ হ্যান্ডসাম ছেলে। ওই সময়টায় ল্যাবএইডের বিজ্ঞাপনটি প্রচার হচ্ছিল বলে ওর একটা পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিনয় করার আগে ভাবলাম, সে তো স্টার। নিয়মিত টিভিতে দেখা যায়। আমি কি তার সঙ্গে সাবলীল অভিনয় করতে পারব! অপূর্ব তখন বেশ মুডি ছিল। ঈশিতা আপু সাহায্য করেছিলেন বেশ। এরপর আরো কিছু নাটকে অভিনয় করলেও জুটিটা তেমন জমেনি তখন। মাঝখানে লম্বা বিরতি। চার বছর পর এই জুটি ফিরল ‘ভালোবাসার চতুষ্কোণ’ দিয়ে। ধারাবাহিক নাটকটি বেশ জনপ্রিয় হয়। নাটকের সূচনা সংগীতে কণ্ঠও দিয়েছেন তাঁরা। এরপর একসঙ্গে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তাঁরা। সহশিল্পী হিসেবে মম কেমন? এমন প্রশ্নে অপূর্ব বলেন, ‘এককথায় চমৎকার। অভিনয়ের প্রতি ডেডিকেটেড।’ একই প্রশ্ন ছিল মম’র কাছে। তিনি বলেন, ‘ও অনেক বেশি দায়িত্ববান। শুটিংয়ে সবকিছু নিজ দায়িত্বে করে। কারো অপেক্ষায় থাকে না। মজার ব্যাপার হলো, শুটিংয়ে প্রায়ই গিটার নিয়ে আসে। অবসর পেলেই আমাদের গান শোনায়। ও অনেক বেশি হেল্পফুল। নতুন কোনো পরিচালক তাকে নিয়ে কাজ করতে চাইলে তাঁকে অনেকভাবে সাহায্য করে।’ দুজনে একসঙ্গে কাজ করার সময় একটা কমন ঘটনা ঘটে। দুজনই তাঁদের ছেলেদের নিয়ে গল্প করতে থাকেন। অপূর্ব দেখায় তাঁর ছেলে আরাশের নতুন ছবি আর মম দেখায় তাঁর ছেলে উদ্ভাসের ছবি। পর্দার বাইরেও তাঁরা ভালো বন্ধু। একজনের শরীর বা মন খারাপ হলে আরেকজন খবর নেন। সাজু খাদেম, ইরেশ যাকের, শিহাব শাহিন তাঁদের কমন বন্ধু। সময় পেলেই আড্ডায় মজে যান।

নিশো-মেহজাবিন

Nisho-Mehjabinমডেলিং-অভিনয়ে নিশো তখন বেশ জনপ্রিয়। মেহজাবিনও লাক্স সুপারস্টার। তবে বয়সটা মেহজাবিনের কম। অনেক কিছুই বুঝতেন না। নিশো ধরে ধরে বুঝাচ্ছিলেন, এটা করো ওটা করো। এভাবে দাঁড়াও, একটু বেশি ভালো লাগবে। সেই গল্প ভোলেননি মেহজাবিন- ‘আগে থেকেই আমি নিশো ভাইয়ের ফ্যান। তাঁর সঙ্গে প্রথম যখন অভিনয় করি, তখন আমি একেবারেই নতুন। অনেক ভুল করতাম। তিনি বিরক্ত হতেন না। তারপর তো একে একে অনেক নাটক করেছি। কিন্তু গেল দুই-আড়াই বছরে আমরা একসঙ্গে বেশ কিছু ভালো নাটক করেছি। আমি অনেক লাকি, নাটকগুলো করতে পেরেছি আর নিশো ভাইকে সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছি।’ নিশো বলেন, ‘মেয়ে হিসেবে মেহজাবিন অনেক ভালো, সহশিল্পী হিসেবেও। নতুন-পুরাণ অনেকের সঙ্গেই তো অভিনয় করি। সেখান থেকে বিচার করলে মেহজাবিনকে ভালোই বলব। বিশেষ করে রোমান্টিক আর ইমোশনাল জায়গায় ও অনেক ভালো অভিনয় করে।’ পর্দার বাইরে এ জুটির সম্পর্কও বেশ ভালো। বয়সের পার্থক্যের কারণে নিশোকে ভাইয়া বলেন মেহজাবিন। নিশোকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ট্যালেন্টেড অভিনেতা মনে করেন মেহজাবিন।

জুটি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পেছনে রহস্যটা কী? উত্তরে দুজনের প্রায় একই কথা- ‘নাটক যদি জনপ্রিয় হয় তখনই দর্শক একটা জুটিকে বারবার দেখতে চায়। অনলাইনের যুগে এখন পরিচালকরা সহজেই দর্শকের চাওয়াটা বুঝতে পারেন। ঈদের নাটক ‘ও রাধা ও কৃষ্ণ’, ‘তুমি না থাকলে’ থেকে ভালো রেসপন্স পাই। মনে হচ্ছে এর পর  থেকেই পরিচালকরা আমাদের নিয়ে একটু বেশিই ভাবেন। বিশেষ করে রোমান্টিক নাটকের জন্য।’

শবনম ফারিয়া তৌসিফ মাহবুব

Towsif-Fariaদুজনের শুরুটা একই টেলিফিল্ম দিয়ে- ‘অ্যাট এইটিন: অলটাইম দৌঁড়ের ওপর’। প্রথমবারেই হিট জুটি। ফারিয়ার পরের দুটি নাটকেও তৌসিফকে জুটি হিসেবে পেয়েছেন। তৌসিফ বলেন, ‘নতুনদের মধ্যে আমাদের জুটিটা বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করে দর্শক। তাই একসঙ্গে বেশ কিছু নাটক করেছি। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে যে বন্ডিংটা দরকার, সেটা আছে আমাদের মধ্যে।’ জুটি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? এই প্রশ্নে ফারিয়া বলেন, ‘সত্যি খুব মজার। আলাদা করে কিছু বলা যাবে না। তবে শুটিংয়ে থাকলে অনেক মজা হয়। ও যত ভালো অভিনেতা তার চেয়ে হাজার গুণ ভালো মানুষ। আমার একটা খারাপ দিক হলো হুটহাট প্রচÐ রেগে যাই। ও সব সময় আমাকে বুঝিয়ে মাথা ঠাÐা রাখে। আমাদের বন্ডিংটা অনেক মজবুত।’ তৌসিফের একটা মজার ব্যাপার আবিষ্কার করেছেন ফারিয়া। তৌসিফের ১৭টা ঘুমের ছবি আছে ফারিয়ার কাছে। ‘ওর মতো ঘুমকাতুরে ছেলে জীবনে দেখিনি। যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে পড়তে পারে। এই তো সেদিন থাইল্যান্ডে শুটিংয়ের সময়ও একটা পাথরের ওপরে ঘুমিয়ে পড়েছে!’ জুটি হিসেবে পর্দায় বেশ সাবলীল হলেও পর্দার বাইরে তাদের দেখা-সাক্ষাতের সময় হয় না। একটাই কারণ, তৌসিফের ঘুম। সময় দেয়ার কথা বলে তৌসিফ ঘুমিয়ে পড়ে। তৌসিফ বলেন, ‘আমাদের বন্ডিংটা আসলেই ভালো। অনেকে অনেক কিছু মনে করেন কিন্তু না, আমরা ভালো বন্ধু।’

জোভান-সাবিলা নূর

Jovan-Sabilaদুজনের ক্যারিয়ারই এখন তুঙ্গে। দুজনে বেশ কিছু নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বিশেষ করে বয়সে তরুণ দর্শকের কাছে। জোভান বলেন, ‘বাখরখানি’তে প্রশংসিত হওয়ার পর ক্লোজআপের নাটক ‘শত ডানার প্রজাপতি’ দিয়ে জুটি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেলেন। বিষয়টা এমন দাঁড়িয়ে গেছে যে- নাটকটি প্রচারের পর অনেক পরিচালকই ফোন করে বলেছেন, তোমাদের নিয়ে গল্প ভাবছি। সেই থেকে আমাদের বেশকিছু নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করা হয়েছে এবং সেগুলো দর্শকপ্রিয়তাও পায়।’

জোভান সম্পর্কে সাবিলা বলেন, ‘খুবই পরিশ্রমী ছেলে। অভিনয়ে ডেডিকেটেড। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিয়মিত লড়ে যাচ্ছে, এটা ভালো লাগে। একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে অনেকটাই ভালো সম্পর্ক হয়েছে। সাবলীলভাবে ওর সঙ্গে অভিনয় করতে পারি। যেটা অনেকের সঙ্গেই পারি না।’ আর সাবিলাকে নিয়ে জোভান বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো গুণ ও অনেক ভালো অভিনেত্রী। আমাদের নিয়ে অনেক পরিচালক ভাবতে শুরু করেছিলেন একটা সময়।