Home প্রতিবেদন চলো এগিয়ে যাই!

চলো এগিয়ে যাই!

SHARE

সৈয়দ ইকবাল

তারুণ্য হলো বিজয়ের প্রতিচ্ছবি। তারুণ্য স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। তারুণ্য স্বপ্ন দেখায় আবার তারুণ্য স্বপ্নকে রূপদানও করে। তাই পরিবর্তনের কথা তরুণরাই বলে। আজকের যে তরুণ সে আগামীরই ভরসা। কিন্তু গুটি কয়েক বিপদগামী তরুণের জন্য আজ সমাজে নানান ধরনের নেতিবাচক কথা শোনা যায়। তারুণ্য উচ্ছ্বন্যে গেছে, তারুণ্য ভিন্নপথে চলে গেছে, তারুণ্য সমাজকে শেষ করে দিয়েছে। কিন্তু আসলেই কী তাই? বোধকরি না। আজকে যদি দেশের প্রত্যনৱ অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের অভিজাত কোনো এলাকার ইতিবাচক ঘটনার কথা বলা হয়, তাহলে তারুণ্যের অবদান সেখান থাকবেই। গুটি কয়েক ঘটনা কখনো বড় উদাহরণ হতে পারে না। আমাদের শোবিজে রয়েছে একঝাঁক তরুণ মডেল-অভিনয়শিল্পীর পদচারণা। বলা যায় এখনকার সময়ে শোবিজে তারা দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন। নাচ, গান, অভিনয়, মডেলিংসহ নির্মাণের বিভিন্ন শাখায় তারা দক্ষতার প্রমাণ রাখছেন। শুধু তাই নয় সংস্কৃতি চর্চায় নিজেকে তৈরি করার পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনে অনেক ভূমিকাও রাখছেন তারা। এমনি ক’জন তরুণের সঙ্গে আনন্দ আলো আড্ডায় মেতে ওঠে। আড্ডায় সেদিন এসেছিল ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম তারকা এ কে আজাদ আদর, অবাক রায়হান রিয়াদ, যাহের আলভী, লাক্স-চ্যানেল আই তারকা নীলাঞ্জনা নীলা, ভিট-চ্যানেল আই তারকা মুন, মডেল ও অভিনয়শিল্পী হিমি, নৃত্যশিল্পী ও মডেল নুসরাত জান্নাত রুহী ও অভিনয়শিল্পী উম্মে আদিবা। এই আট তরুণ তুর্কি বর্তমানে টিভি নাটকে অভিনয়, বিজ্ঞাপনে কাজ করাসহ বিভিন্ন স্টেজ শোতে পারফর্ম করছেন বেশ দাপটের সাথে।

 

আড্ডার শুরুতে এই আট তরুণকে নিয়ে আনন্দ আলো স্টুডিওতে চলে ফটোশেসন। প্রথমে জানতে চাওয়া হয় দেশ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা। প্রথমেই একে আজাদ আদর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মুখ খুললেন। বললেন, ‘আমি এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি মানুষ সুখে থাকবে এবং তার অধিকারটুকু সমানভাবে পাবে।’ যাহের আলভী একটু ভিন্নভাবে নিজের দেশ নিয়ে ভাবনার কথা জানান। বলেন, ‘সবার আগে দেশ। দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগত স্বার্থ বিসর্জন দিতেও আপত্তি নেই। দেশকে ভালোবাসি এবং আজীবন ভালোবাসবো।’ রুহী বলেন, ‘দেশকে যাবতীয় সন্ত্রাস এবং অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত দেখতে চাই। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যেনো কোনো বাঁধা না আসে।’ রুহীর সাথে একমত পোষন করে অবাক বলেন, ‘সন্ত্রাসমুক্ত একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শানিৱপ্রিয় দেশ হবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়- পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষের স্বপ্ন থাকবে এই দেশের মতো হবার- আমি এমনিভাবে দেখি আমার এই সোনার বাংলাকে।’ নীলা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ যেনো এই দেশকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে এবং প্রতিটি মানুষ দেশকে ভালোবাসে সেটাই আমার প্রত্যাশা।’ হিমি বলেন, ‘আমি চাই সত্যিকারের সোনার বাংলা হোক এই দেশটি। সেজন্য দেশের প্রতিটি মানুষ একদিন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হবে সেটাই প্রত্যাশা করি।’ উম্মে আদিবা অবশ্য দেশ নিয়ে একটু ভিন্নভাবে নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন। তিনি বললেন, ‘দেশ নিয়ে আমি সবসময় ইতিবাচক স্বপ্ন দেখি।

আড্ডার এক পর্যায়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এই তরুণ তুর্কিরা মতামত প্রকাশ করেন। ঠিক কোন সংকটের জন্য তরুণদের এমন অবনতি বলে মনে করেন এই তরুণরা তা নিয়ে চলে আলোচনা। অবাক প্রথমেই বলেন, ‘বর্তমান তরুণ সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক শিক্ষাটা কম আছে বলে আমি মনে করি। অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিকভাবে তারা এই শিক্ষাটা পাচ্ছে না। ফলে কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ অনেক ছেলে-মেয়েই সেটা বুঝে না।’ আজাদ অবশ্য এক্ষেত্রে একটু ভিন্ন কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মুসৱাফিজের মতো বিশ্বমানের ক্রিকেটার আছে তেমনি নির্বাসের মতো কিছু বিপদগামী তরুণ আছে যারা বিশ্বে আমাদের দেশের সম্মান ক্ষুন্ন করছে। তবুও আমি এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। আর প্রত্যেকটি মানুষকে সুশিক্ষত হওয়ার পাশাপাশি স্বশিক্ষিতও হতে হবে। আর সেজন্যই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে একটি প্রজন্মকে এগিয়ে নেয়া প্রয়োজন সকল প্রকার আলোচনায় আসার পেছনে ভালো এবং খারাপ দু’ধরনের কারন রয়েছে বলে মনে করেন যাহের আলভী। তবে একটি ছেলে এবং মেয়ে বেড়ে ওঠার সময় পারিবারিক শিক্ষাটা আগে প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। মানসিকতার পরিবর্তনকে জোর দিয়ে নৃত্যশিল্পী রুহী বলেন, ‘সারাবিশ্বেই বর্তমানে এ ধরনের সন্ত্রীসী কর্মকান্ড হচ্ছে। তাই আমাদের উদ্বিগ্ন না হয়ে মোকাবেলা করার শক্তিটা সঞ্চয় করতে হবে।’ পাশাপাশি দেশের তরুণ সমাজকে নিয়ে সরকার থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারকদেরকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। আর একজন মানুষের চিনৱা-ভাবনা এবং লক্ষ্য ঠিক রাখলে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তরুণ সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে বলে মনে করেন উম্মে আদিবা। আর হিমি মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যে গড়ে তোলা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে দেশে ইতিবাচক সব ঘটনা ঘটবে। মুনেরও একই বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে আমরা তরুণ প্রজন্ম শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বেশি ব্যসৱ থাকি। অথচ নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে ছেলেমেয়েরা নিজেদের আলাদা একটা জগতে বড় হচ্ছে। তাই সামাজিক কর্মকান্ড বাড়াতে হবে।’ নীলাও মুনের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

Taronno-1আড্ডা ক্রমেই জমে উঠেছে। আনন্দ আলোর স্টুডিও তখন তরুণ এই তুর্কিদের আলোচনায় মুখরিত। চায়ের কাপে তাদের কথার ফুলঝুরি ফুটছে। আলোচনায় এবার উঠে আসে বর্তমানে টিভি নাটক ও সিনেমা নিয়ে তাদের ভাবনার কথা এবং দেশের সংকটময় এই সময়ে নাটক-সিনেমা কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথমেই এই বিষয়ে হিমি বলেন, ‘আমাদের টিভি নাটক এবং সিনেমায় অনেক ধরনের ম্যাসেজ থাকে। সবগুলো কাজে লাগে তা বলবো না। তবে কিছু কিছু কাজে লাগে। তাই তরুণদের উচিৎ টিভি নাটক ও সিনেমা দেখা। আর বর্তমানের বিষয়গুলো বিশেষ করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে ফিকশন বানানো উচিৎ। যা দেখে তরুণ সমাজ জাগ্রত হবে।’ হিমির কথায় সুর মিলিয়ে আজাদও একই কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নাটক-সিনেমায় বেশিরভাগ কাজের মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় থাকে। যা আমাদেরকে সঠিক পথ অনুসরণ করতে সহায়তা করে। আর এখনকার সময়ে জনগনকে বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সচেতন করে তোলার জন্য বিশেষ বিশেষ ফিকশন হতে পারে।’

নৃত্যশিল্পী রুহী, হিমি ও আজাদের কথায় একাত্মতা প্রকাশ করলেন। অবাক অবশ্য একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব নাটক-সিনেমায় তথ্যমূলক কাজ দেখা যায় না। গতানুগতিক প্রেমের গল্পই বেশি। কিন্তু সেটাতেও ম্যাসেজ দেয়া যায়। বাইরের দেশের নাটক-সিনেমায় একটি প্রেমের গল্প হলেও দূর্দানৱ সব তথ্য থাকে। যা সামাজকে পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ নাটক-সিনেমায় তা পাওয়া যায় না। তাই বর্তমান পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ইনফরমেশন ও ম্যাসেজ ভিত্তিক ফিকশন হতে পারে। যা তরুণ সমাজ জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সঠিক পথও বেছে নিতে পারবেন। আমরাও উৎসাহ পাবো।’

আলভী নাটক-সিনেমার অস্থিতিশীল পরিস্থিরি কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বর্তমানে নাটকে গল্প প্রায় একই ধরনের। তিনি বর্তমানে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ফিকশন তৈরির প্রতি জোর দেন। একই কথা বলেন মুনও। তিনি বলেন, ‘অনেক নাটকেই স্কুল-কলেজের প্রেমের বিষয়কে এমনভাবে দেখানো হয় যা দেখলে মনে হয় ঠিক আছে। এ বয়সে প্রেমটাকে ইতিবাচক মনে করা হয়। এতে করে একজন তরুণ নিজেকে ঐ জায়গায় খুব সহজেই চিনৱা করেন। এটা ঠিক না বলে আমি মনেকরি।’ উম্মে আদিবাও মুনের কথার সাথে মিল রেখে বলেন, ‘বিনোদনের মাধ্যমে সুন্দর ম্যাসেজ দেয়ার ফিকশন তৈরি করতে হবে। যাতে তরুণরা তা দেখার জন্য আগ্রহ পায়।’ নীলা বলেন, ‘যেকোনো মোটিফকে কাজে লাগানোর জন্য নাটক-সিনেমা হচ্ছে একটি শক্তিশালি মাধ্যম। তাই এই মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে এবং শক্তিশালি সব ফিকশন তৈরি করতে হবে। যাতে তরুণরা উদ্বুদ্ধ হয়, জাগ্রতও হয়। এজন্য টিভি মিডিয়া বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।’

আড্ডার প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আরো নানান আলোচনা। বর্তমানের তরুণদের উদ্দেশ্যে শোবিজ জগতের এই তরুণ তুর্কিরা ইতিবাচক কিছু মনৱব্য তুলে ধরেন। যেমন- প্রতিটি ছেলে-মেয়ের স্কুলে পড়ার সময় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়া উচিৎ বলে তারা মনে করেন। আর তরুণদের স্বপ্ন দেখার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাসৱবায়ন করার জন্য কাজ করার কথাও বলেন তারা।