Home প্রতিবেদন গ্রামে গেলে বিজয় আর স্বাধীনতার সুফল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়

গ্রামে গেলে বিজয় আর স্বাধীনতার সুফল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়

SHARE
Monowar-Mizbah-Moin

 -মুনাওয়ার মিজবাহ্‌ মঈন, গ্রুপ ডিরেক্টর, রহিম আফরোজ

রাজু আলীম

সম্প্রতি দেশের শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক প্রবৃদ্ধি অর্জনের অগ্রযাত্রা বিষয়ক এক আলোচনায় অংশ নেন রহিম আফরোজ-এর গ্রুপ ডিরেক্টর মুনাওয়ার মিজবাহ্‌ মঈন। বিজয়ের ৪৫ বছরে বাংলাদেশ। বিজয় এবং মহান স্বাধীনতার মূল স্পিরিট ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি ও বিনিয়োগের স্বাধীনতা বিজয়ের এই ৪৫ বছরে  এসে কতটা এগিয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে মুনাওয়ার মিজবাহ্‌ মঈন বলেন, ‘বিজয়ের ৪৫ বছরে দেশ কতটা এগিয়েছে স্বাধীনতার সুফল কতটা পেলাম তা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় গ্রামে গেলে। বাংলাদেশের উন্নতি অগ্রগতি ও উন্নয়নের রিফ্লেকশন পাওয়া যায় মূলত: গ্রামেই। সোলার এনার্জি নিয়ে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে কাজ হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোলার হোম সিস্টেম আছে বাংলাদেশের গ্রামে। ৪৫ লাখ বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম আছে। এটাকে বলা হয় এক্সেস টু এনার্জি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে ঠিকমতো পড়েছে এই ব্যাপারটি। তিনি সত্যিকারভাবে উপলব্ধি করেছেন, প্রয়োজনমত  অ্যানার্জি দিলে দেশটার কাঙিক্ষত উন্নয়ন হবে। একটা হলো- সেন্ট্রালাইজড জেনারেশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন। আরেকটা হলো- ভিলেজ বটম এরিয়ায় এক্সেস টু এনার্জি- কিভাবে ডিষ্ট্রিবিউটেড পাওয়ারটা দিয়ে তাদের লাইফ স্টাইল, প্রডাকটিভিটি সবকিছু যাতে এনহ্যান্স করতে পারি। সেখানে গত ৫০ বছরে সোলার এনার্জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শহরের অনেকেই হয়তো বিশ্বাস করবেন না, বাংলাদেশের গ্রামে গেলে দেখবেন এখন মোস্ট এফিশিয়েন্ট এনার্জি জেনারেশন সিস্টেম আছে। সেই সঙ্গে মোস্ট এফিশিয়েন্ট অ্যাপ্লায়েন্স ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, মোবাইল চার্জিং সবই মাল্টিপল ব্যবহার হচ্ছে। গত দুই বছরে যা হয়েছে- ইরিগেশনে সোলার পাম্পের বিরাট ব্যবহার শুরু হয়েছে। অ্যান্ড ইন দ্যা নেক্সট থ্রি টু ফাইভ ইয়ার্স আমাদের বিশ্বাস বাংলাদেশে যেমন সোলার হোম সিস্টেম-এর রেভিল্যুশন হয়েছে তেমনি  ইরিগেশনে  সোলার পাম্প ব্যবহারে গ্লোবাল স্কেলের একটা রেভিল্যুশন হবে। আমাদের সরকারেরও গোল আছে ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান ইলেক্ট্রিসিটি ফর অল এবং এসডিজি’র যে গোলটা আছে টুয়েন্টি থার্টি ইউনিভার্সেল অ্যাক্সেস টু এনার্জি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ সেদিকে একেবারে লিডিং পজিশনে ইনশাল্লাহ এক নম্বরে থাকবে। এই এনার্জিটাই আমাদের পুরো দেশকে কিন্তু বদলে দেবে। যেমন বলা হয়, গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।  ফ্রম দ্যা বিজনেস আসপেক্ট আমি মনে করি, গ্রামকে যত বেশি বিজনেস সলিউশন দিয়ে ডেভলপ করাতে পারব, এক্সেস টু এনার্জি, অ্যাক্সেস টু ফাইন্যান্স এবং এসএমই ডেভলপমেন্ট- আমাদের দেশের প্রসপারিটি সামনে আরও এগিয়ে যাবে।’

সোলার এনার্জি ও সম্ভাবনার কথা আপনি বললেন। বিশেষ করে রহিম আফরোজ গ্রুপ-এর নিজস্ব সোলার প্রজেক্ট নিয়ে ভাবনা কি? এই প্রশ্নের উত্তরে মুনাওয়ার মিজবাহ্‌ মঈন বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের সোলারের এক্সপেরিয়েন্স ২৫ বছর হয়ে গেল। এখন যে নেক্সট লেভেল অব গ্রোথ যেটা আমরা বলছি সেটা হলো- ভিলেজ পাওয়ার ফর অল। গ্রাম ভিত্তিক ব্যাপক পরিকল্পনা আছে আমাদের সো ফর লাইফ স্টাইল ইউজ এন্ড প্রডাকটিভ ইউজ সব মিলিয়ে যেখানে এনার্জি দরকার হবে সেখানেই সরকারের সঙ্গে তা এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব। প্রাইভেট লেভেল থেকে ডিস্ট্রিবিউটেড পাওয়ার জেনারেশন সেটা আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আগে যেমন গ্রামে গিয়ে একটা হোম সিস্টেম সলিউশন দিয়ে আমরা ফেরত আসতাম। হয়তো একটা ছোট মিরিগ্রেট করে, হয়তো একটা ছোট ইরিগেশন পাম্প সলিউশন দিয়ে আমরা ফেরত আসতাম কিন্তু এখন আমরা এই জিনিসগুলোকে ইন্টিগ্রেটেড করতে শুরু করেছি। ইন্টিগ্রেট করে আমাদেরকে ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে যে, এই এনার্জি কীভাবে তাদের প্রডাকটিভিটি, তাদের ইনকাম- তাদের লাইফ স্টাইলকে ফ্লারিশ করতে পারে। এই সকল মানুষের জীবনযাত্রার মান ইমপ্রুভ করলে কিন্তু এনার্জি ডিমান্ড আরও বেড়ে যাবে। এনার্জি ডিমান্ড যত বাড়বে তার মানে আমাদের ইকোনমি আরও বেশি এক্সপান্ড করবে। বলা হয় পাবলিক সেক্টরে আগামী ৫ বছরে অলমোষ্ট ১০-১৫ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট লাগবে এনার্জি ডেলিভারিতে। একসেস টু এনার্জি লেভেল গ্রামের লেভেলে যেটা বলে থাকি নট অন লি ইলেক্ট্রিসিটি ইট অল সো ইনক্লুড ইন টু কুকিং। কুকিংয়ের জন্য গ্রামে বিরাট অ্যামাউন্ট ফুয়েল দরকার হয়। বায়োমাস, বায়োগ্যাস, এলপিজি অল অপরচুনিটি আমাদের এসেসমেন্ট এখানেও ১০-১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের অপরচুনিটি আছে। সো এখানে দেখা হবে, কারা ঠিকমতো স্কিল, টেকনোলজি, বিজনেস মডেল আর সেই সঙ্গে ক্যাপিটাল নিয়ে যারা রুরাল এরিয়ায় ডেলিভারি করবে তারা এগিয়ে থাকবে এই সেক্টরে।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে এটা সভা সেমিনারে বলা হয়। বিজয়ের ৪৫ বছরে দেশে বিনিয়োগের স্বাধীনতা বিজনেস কমিউনিটি কতটা ভোগ করছে? এই প্রশ্নের জবারে মুনওয়ার মিজবাহ্‌ মঈন বলেন, ‘ইনটার্ম অব আপনি যেটা বললেন অপরচুনিটি ইজ সিগনিফিকেন্ট এবং ব্যারিয়ারটা হলো- প্ল্যানিংটা সিনকোনাইজেশন যদি আরও একটু ভালো মতো করি ফর এক্সামপল ডেভলপমেন্টের জন্যে জোনিং ইজ ভেরি ভেরি ইম্পট্যান্ট। আমি আমার দেশের কোন জায়গায় কি কি কাজ করবো? সব জায়গায় কিন্তু সবকিছু করতে পারব না। আমরা যদি ওই রকম প্ল্যানিং নিয়ে কাজটা জোনিং ভিত্তিতে ডিসিপ্লিনলি করি তাহলে ডেভলপমেন্ট ও ইনভেস্টমেন্টের যে জোয়ার বাংলাদেশে বইছে তার একটা কোয়ান্টাম লিভ হবে নেক্সট ফাইভ ইয়ারসে। সো অপরচুনিটি ইজ সিগনিফিকেন্ট। আমার জানা মতে ইনফ্যাসট্রাকচার ইজ ব্যারিয়ার, নট ক্যাপিটাল, নট আইডিয়াস, নট ইনোভেশন, নট পলিসিস। কিছু পলিসিস অবশ্য ইমপ্রুভ করা যায় ডেফিনেটলি নো টু ওয়ার্ডস। এই সবকিছুকে একটা সিষ্টেমেটিক প্রায়োরিটি বেসিসে করাই হলো- সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জোনিং এন্ড সিস্টেমেটিক প্ল্যানের সিনকোনাইজেশন করাটাই আমাদের অপিনিয়ন। ইনফ্যাসট্রাকচারের ইফেক্টিভনেসটা তখনই ভালো হয় যখন সারাদেশে জোনিংটা ঠিকমতো হয়। জোনিং মানে ধরেন চায়না, ইন্দোনেশিয়া থাইল্যান্ড… ফর এ এক্সামপল- দে হ্যাভ জোনড আউট অব দ্যা কান্ট্রি। কোথায় হাইটেক পার্ক, কোথায় ইলেক্ট্রনিক্স, কোথায় টেক্সটাইল, কোথায় ট্যুরিজম হবে- তখন কিন্তু ইনফ্রাসট্রাকচারের রোড ম্যাপ কিন্তু ক্লিয়ার হয়ে যায়।’

বছর শেষ হয়ে গেল আরও একটি সম্ভাবনাময় নতুন বছর আমাদের জন্যে শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রত্যেকেরই প্ল্যান থাকে। নতুন বছরে রহিম আফরোজ এর প্ল্যান কি? এই প্রশ্নের উত্তরে মিজবাহ্‌ মঈন নতুন বছরের প্ল্যান সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের তো গ্রুপ লেভেল-এর একটা প্ল্যানিং আছে। উই কল ইট ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান। দ্যাটস এ ভেরি ষ্কিম অফ থিংকস। সোলার নিয়ে ফোকাস করতে চাই। আমাদের গোল যেটা আছে- বাংলাদেশের ৮৫ হাজার প্লাস ভিলেজ। আমাদের গোল হলো, হাউ টু এনশিওর একসেস টু এনার্জি অ্যালাইনমেন্ট উইথ দ্যা গভর্মেন্ট পলিসি ফর দিস এইট্টি থাউজেন্ট ভিলেজেস, জেনারেটিং টুয়েন্টি ফাইভ থাউজেন্ট প্লাস এমপ্লয়মেন্ট ইন দ্যাট প্রসেস। এছাড়া খুব হাই ডিগ্রি প্রডাকটিভিটি এন্ড ইন দ্যা সেম টাইম এনশিওরিং এডুকেশনাল এনভায়রনমেন্ট। এটার ইমপ্যাক্টটা ইভেনচুয়ালি ভিলেজ এরিয়াতেও এডুকেশন, এনভায়রনমেন্ট এন্ড হেলথ- এই তিনটি এরিয়াতে যেন সিগনিফিকেন্ট একটা চেঞ্জ আসে উইথ আওয়ার এক্সেস অব এনার্জি। দ্যাটস আওয়ার গোল।