Home সাক্ষাৎকার গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতার বাতিঘর

গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতার বাতিঘর

SHARE

রেজানুর রহমান

তাঁর হাসিতে যেন মুক্তো ঝরে। আবার যখন তখন রেগে ওঠারও অভ্যেস আছে। যারা তাকে ভালো করে চিনেন তারা জানেন তিনি রাগলেও এই রাগের মধ্যেও আদর আছে, ¯েœহ আছে। অহেতুক কারও ভুল তিনি সহ্য করতে পারেন না। মেধাবীদের অসম্ভব রকমের পছন্দ করেন। মেধা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার কারণে তাঁকে অনেকেই সাংবাদিকতার শিক্ষক বলে মানেন। তিনি তো যথার্থ অর্থেই এদেশে সাংবাদিক শিক্ষক হয়ে উঠেছেন। তাঁর হাতে গড়া অন্যুন পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক এখন দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন মাধ্যমে নিজ নিজ দক্ষতার স্বাক্ষর রেছে চলেছেন।

তাঁর না গোলাম সারওয়ার। এদেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীল মূল্যবোধ আর মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার এ মানুষটি দেশের সাংবাদিকতা জগতের প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তিত্ব। ষাটের দশকে সাংবাদিকতায় পেশায় যুক্ত হন। সেই থেকে টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় তিনি এই পেশায় মেধা, যুক্তিবোধ, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার নিরবচ্ছিন্ন চর্চায় নিজেকে এবং বাংলাদেশের সংবাদপত্রকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংবাদপত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বার্তা বিভাগে তাঁর সৃজনশীলতা সংবাদবোধ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এদেশের সংবাদপত্র মাধ্যম জগতে উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকে দীর্ঘ ২৭ বছর বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধারে সৃজনশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতার অতুলনীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। কৃতিত্বের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে সম্পাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন যুগান্তর। ছয় বছর পর ২০০৫ সালে আরেকটি নতুন দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতায় জীবনব্যাপি অনন্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে একুশে পদকে ভ‚ষিত হন।

১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল বরিশালের বানারীপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে গোলাম সারওয়ার জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মরহুম গোলাম কুদ্দুস মোল্লা ও মা মরহুমা সিতারা বেগমের জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা পেশার সূচনা। যুগান্তর ও সমকালের আগে তিনি সংবাদ ও ইত্তেফাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ১ এপ্রিল এই গুণী সাংবাদিকের ৭৫তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে আগারগাঁওস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সুবর্ণ রেখায় বাতিঘর’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, খেলোয়াড়সহ সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গোলাম সারওয়ার বলেছেন, আমাকে দেশের মানুষ এত ভালোবাসে সত্যি আগে বুঝিনি। সকলের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন আজীবন দেশের উন্নয়নধারায় আমার সাংবাদিকতা পেশাকে আরও বিকশিত করতে পারি।

গোলাম সারওয়ারের ৭৫তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে ‘সুবর্ণ রেখায় বাতিঘর’ শীর্ষ একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই গ্রন্থে শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান লিখেছেনÑ অনেক কাল আগে আমি তাকে পেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররূপে। সেই থেকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার প্রবেশ এবং উন্নতি লাভের ধারাটি আমি আগ্রহে ও সানন্দে দেখে আসছিলাম। নিজ মেধা ও শ্রমের বদলে সে দেশের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদক পদে সগৌরবে অধিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিক মহলে সে সমাদৃত শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে। এই অর্জন সামান্য নয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত লিখেছেন, ‘গোলাম সারওয়ারকে আমি সফল সম্পাদক হিসেবে মনে করি। ৭৫ তম জন্মবার্ষিকীর বার্তা হলো, যেভাবে সাংবাদিকতায় নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, ভবিষ্যতেও তা ধরে রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান লিখেছেন, গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে আমার পরিচয়ের সূচনাটি বোধহয় তার মনে নেই; কিন্তু আমার মনে আছে। মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে যখন ইত্তেফাকের চাকরিতে আবার যুক্ত হই তখন ইত্তেফাকের অবস্থা খুবই সঙ্গীন। ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক তখন ছিলেন মুহম্মদ আসাফুদ্দৌলা রেজা। বাহাত্তর সালের গোড়ার দিকে তিনি বললেন, ইত্তেফাকের জন্য কিছু ভালো সাংবাদিক আনার জন্য। আমি তখন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলাম সে কারণে রেজা ভাই বোধকরি আমাকে একথা বলেছিলেন। যাই হোক ভালো সাংবাদিকের খোঁজে আমি নেমে পড়লাম। সেই সূত্রে গোলাম সারওয়ারকে খুঁজে পাওয়া গেল। কে সেদিন আমাকে গোলাম সারওয়ারের নাম বলেছিলেন একথা মনে নেই। তবে তিনি যে সংবাদপত্র জগৎ এবং পেশার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের লিখেছেন, গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে আমার পরিচয় আশির দশকের শুরুতে। সারওয়ার ভাই অত্যন্ত বন্ধুবাৎসল। বিভিন্ন সময় তাঁর আন্তরিকতা ও বন্ধুবাৎসল্যের পরিচয় পেয়েছি। তার সম্পাদিত সব কাগজের সঙ্গেই তিনি আমাকে শুরু থেকেই সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি আমার হিতার্থীদের একজন। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের সংবাদপত্রের বিকাশ ও উত্তরণের ইতিহাসে তাঁর নাম অতি গুরুত্বের সঙ্গে বারবার উচ্চারিত হবে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর লিখেছেন, সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের কথা কিছু বলি। আমাদের সাংবাদপত্রের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তফাজ্জল হোসেন, মানিক মিয়া, সিরাজুদ্দীন হোসেন, জহুর আহমেদ চৌধুরী, বজলুর রহমান, ফয়েজ আহমেদ, কেজি মুস্তাফার মতো উজ্জ্বল মানুষেরা। তারই ধারাবাহিকতায় গোলাম সারওয়ারও আমাদের একজন পথিকৃৎ সাংবাদিক। যার হাত ধরে আমাদের সংবাদ মাধ্যম বহুদূর পাড়ি দিয়েছে এবং সামনে আরও দিবে। নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান লিখেছেন, সাংবাদিক হিসেবে সারওয়ার অনন্য এবং সব সময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় তিনি বিশ্বাস করেছেন। এরকম দক্ষ সাংবাদিক আমাদের দেশে বিরল।

নাট্যকার অভিনেতা চিত্রশিল্পী ও পরিচালক আফজাল হোসেন লিখেছেন, তাকে আমি চিনি না। আবার তাকে চিনি। কি খেতে ভালোবাসেন তিনি, কোন রং পছন্দ? এমন মাত্রায় নিশ্চয়ই চিনি না। সবাইকে তেমনভাবে চিনতে হবে প্রয়োজনীয় নয়। তিনি একজন সাংবাদিক। সে পরিচয়ে বহুকালের চেনা। তিনি গুণী সম্পাদক, শ্রেষ্ঠদের একজনÑ তাও অজানা নয়। গোলাম সারওয়ার নামের সাধারণ বলা ও চলার অসাধারণ মানুষটাকে চিনি অনেককাল… সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে সারওয়ার ভাই ডাকি আর তিনি আমাকে ডাকেন নাম ধরে। তুমি করে বলেন। এর চেয়ে নিকটের সম্পর্ক, আরও বেশি করে তাকে চেনার কি দরকার আছে?

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংবাদিক, দৈনিক অবজারভার এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী লিখেছেন, সাংবাদিক, সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে জানতে হলে তার স্বপ্ন, লক্ষ্য ও অর্জনকে জানা দরকার। একজন রাজনীতিবিদ স্বপ্ন দেখেন সাংসদ হবেন, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি হবেন। একজন অধ্যাপক চেষ্টা করেন কখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবেন। সেনা কর্মকর্তার স্বপ্ন কখন তিনি জেনারেল হবেন। তেমনি একজন সাংবাদিক স্বপ্ন দেখেন কখন তিনি সম্পাদক হবেন এবং আলোচিত ব্যক্তি হবেন। এই মূল্যায়নে গোলাম সারওয়ার একজন সফল সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সম্পাদক। তিনি দীর্ঘায়ু হোন এবং সাংবাদিকতা তার অবদানে আরও সমৃদ্ধ হোক এই প্রত্যাশা করি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী লিখেছেন, গোলাম সারওয়ার শুধু পত্রিকা প্রকাশনা এবং সাংবাদিকতাই করেননি, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগৎকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, কীভাবে আধুনিক করা যায়। কীভাবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কাগজ করা যায়, সেদিকেও নজর দিয়েছেন। সংবাদপত্রের মধ্যে যোগ করেছেন নতুন নতুন বিষয়। পাঠকের চাহিদা আর সংবাদপত্রের মান দুটোতেই তিনি খেয়াল রেখেছেন। খেয়াল রেখেছেন এক মলাটে কীভাবে পরিবারের সবার চাহিদা মেটানো যায়। আর শুধু খেয়াল রেখে দিন পার করেননি, সফলও হয়েছেন।

চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর লিখেছেন, পর্বত সমান বার্তা সম্পাদক-সাংবাদিকের তুলনা তিনি শুধু নিজে। গোলাম সারওয়ার। ছিলেন ইত্তেফাকে। শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিলেন সেই কাগজকে। প্রেস্টিজের জায়গায় নিয়ে গেছেন এ মানুষটি। পরবর্তী সময়ে তার সম্পাদনায় দেশের সেরা দুটি দৈনিক যুগান্তর ও সমকাল প্রকাশিত হয়, দুটি দৈনিকই তার নেতৃত্বে শীর্ষে পৌঁছে। পত্রিকার পাশাপাশি রাজনীতি, সংস্কৃতি, খেলাধুলা অঙ্গন সবখানেই তার খ্যাতনামা পদচারণা। আশাকরি তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা দিয়ে সবার প্রিয়জন ও সুহৃদ সারওয়ার ভাই সুখি ও সমৃদ্ধ জীবন যাপন করবেন।

বিশিষ্ট চিত্রনায়িকা ববিতা লিখেছেন, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি একজন গোলাম সারওয়ারের মতো মানুষ যুগে যুগে আসে না। তিনি সত্যিকার অর্থে আমাদের সম্পদ। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গুণী মানুষটির ৭৫তম জন্মবার্ষিকীতে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী লিখেছেন, গোলাম সারওয়ারের বড় গুণ তিনি অনেক শক্ত কথাও পরিশীলিত ভাবে বলতে পারেন। তাতে যাকে বা যাদের উদ্দেশে বলেন, সেখানে লক্ষ্যভেদ হয় ঠিকই কিন্তু প্রতিপক্ষের সঙ্গে তিক্ততার সৃষ্টি হয় না।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম লিখেছেন, পেশাদার সাংবাদিক ও সৃজনশীল লেখক সারওয়ার ভাই ব্যক্তিজীবনে একজন নিরীহ সজ্জন সাদা মনের মানুষ। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে আমাকে বিভিন্ন সময়ে নানা শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়। সাংবাদিক হিসেবে গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে পরিচয়ের পর পেয়ে গেলাম সারওয়ার ভাইকে। তার মিশুক সত্তা, তার বন্ধু বাৎসল্য যে কোনো মানুষকে সহজে তার কাছে ভিড়তে সাহস যুগিয়ে দেয়।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখেছেন, বন্ধুবর গোলাম সারওয়ারকে চিনি আজ প্রায় ৪৬ বছর। তিনি শুধু বন্ধু নয়, অনেকটা ভাইয়ের মতো। আমি ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে আসার পর প্রথম তার সঙ্গে পরিচয় ঘটে ১৯৬৮ সালে, যখন বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়। তিনি তখন দৈনিক সংবাদের সিনিয়র সহ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন… একজন সজ্জন, পেশাদার, দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে গোলাম সারওয়ার দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সংবাদপত্র জগতে গোলাম সারওয়ার একজন পথিকৃৎ হিসেবে চিরস্মরণীয় থাকবেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা জগতে গোলাম সারওয়ার আলোর দিশারী। ষাটের দশক থেকে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সংবাদপত্র শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখে আসছেন তিনি।

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী লিখেছেন, গোলাম সারওয়ার এক অর্থে খবরের কবি। তিনি সব বিষয়েই পারদর্শী। তিনি সফল সাংবাদিকের পাশাপাশি সফল সম্পাদকও বটে।

একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল লিখেছেন, সারওয়ার ভাই বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক ঘটনার সাক্ষী। তিনি সম্পাদক। কিন্তু মূলত তিনি একজন বার্তা সম্পাদক। তিনি সংবাদের পিছনের ঘটনা জানেন, রিপোর্টার যা জানেন তার চেয়ে বেশি জানেন। রিপোর্টার ঠিক লিখল কিনা, তিনি সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রস বেক করতে পারেন। তাঁর কাছে রিপোর্টারদের ফাঁকি দেয়া বেশ কষ্টকর। পত্রিকায় অসাধারণ হেড লাইন এবং মেকআপ তো তার হাতের তালুতে…

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু লিখেছেন, মুক্তিযোদ্ধা, দৈনিক সমকালের সম্পাদক, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, সেন্সর বোর্ডের আপীল বিভাগের সদস্য এবং সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভ‚ষিত গোলাম সারওয়ার বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের এক অনন্য প্রাণ। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ব্যাপি তার বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের নিবেদিত কর্মযজ্ঞতাকে সর্বজনশ্রদ্ধেয় এক মাত্রায় নিয়ে গেছে। তার জন্মদিনে জানাই অনেক শুভ কামনা।