Home প্রতিবেদন কর্পোরেট অর্থনীতি কর্পোরেট অর্থনীতি

কর্পোরেট অর্থনীতি

SHARE
Corporate

দেশের অর্থনীতি ব্যবসা বাণিজ্য উন্নয়ন উদ্যোগের অন্যতম চারজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব- মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেট্টোসেম গ্রæপ, গোলাম রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দেশবন্ধু গ্রæপ, লিয়াকত আলী ভুঁইয়া, সহ সভাপতি, রিহ্যাব এবং তৌহিদা সুলতানা ম্যানেজিং ডিরেক্টর, অ্যাডভান্সড হোমস প্রাইভেট লিমিটেড। তারা সম্প্রতি আনন্দ আলোর সাথে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজু আলীম।

 

আমাদের সিমেন্ট ইস্পাত বিশ্বমানের

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেট্টোসেম গ্রæপ

আনন্দ আলো: মেট্টোসেম গ্রæপ এর বর্তমান কর্মকান্ড সম্পর্কে বলুন?

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: মেট্টোসেম গ্রæপ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল উৎপাদন করে থাকে। মেট্টোসেম বিশ্বমানের সিমেন্ট তৈরী করে। অবকাঠামো নির্মাণে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে আমরা এই সিমেন্ট বিপনণ করে থাকি।

আনন্দ আলো: ইস্পাত নিয়েও তো আপনাদের ব্যবসা আছে…?

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: হ্যা। আমরা মেট্টোসেম ব্র্যান্ডেরই ষ্টিল উৎপাদন করি। যেটা টিএমটি ৫০০ ডাবিøউ রড উন্নত মানের যেটা বিশ্বমানের রড। এর পাশাপাশি যেটা পরিবেশ বান্ধব মেশিন মেড অটো ব্রিকস আমরা উৎপাদন করি। অর্থাৎ একটা বিল্ডিং তৈরীর জন্যে বেসিক যে তিনটা প্রডাক্ট জরুরি যেমন সিমেন্ট, ষ্টিল এবং ব্রিকস সবই আমার উৎপাদন করছি।

আনন্দ আলো: আইটি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিজনেসের সাথে আপনারা জড়িত?

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: সমসাময়িক প্রয়োজনের তাগিদে আমাদের মেট্টোসেম টেকনোলজির একটা ইউনিট আছে- এর মাধ্যমে আমরা মোবাইল ফোনের বিজনেস করি। আপনারা জানেন, বিশ্বখ্যাত এলজি মোবাইল ফোনের বাংলাদেশে আমরা লোকাল পার্টনার। এলজি ফোন এই দেশে একটি আসলেও আমাদের কোম্পানীর মাধ্যমেই আসে এবং মেট্টোসেম নামে ফিচার ফোন অলরেডি মার্কেটে আছে। যা অলরেডি আমরা বিপণন শুরু করছি। চায়নার ১০টারও বেশি কোম্পানীর সাথে আমরা চুক্তিবদ্ধ। তাদের মাধ্যমে আমরা এই ফোনগুলো তৈরী করে নিয়ে আসছি। আর এলজি মোবাইল ফোন যেটি সাউথ কোরীয়ার তা সরাসরি সাউথ কোরীয়া থেকে আমাদের দেশে আসে।

নর্থ বেঙ্গলের উন্নয়নে আমরা অগ্রাধিকার দেয়ার চেষ্টা করছি

গোলাম রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দেশবন্ধু গ্রæপ

Golam-Rahmanআনন্দ আলো: আমরা জানি চায়নার সাথে আপনারা খুব বড় একটি চুক্তি করেছেন- এ সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।

গোলাম রহমান: আমরা চায়নার সাথে ১ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছি। এটি মূলত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যে। আর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এ আমাদের একটা প্রজেক্ট হচ্ছে পলিষ্টার ষ্টাপল ফাইবার। এটি মুলত গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রির যে পলিষ্টার ইয়ার্ন বা ফেব্রিক্স লাগে তার ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ। আমাদের দেশে চিপস থেকে যে পলিষ্টার তৈরী হয় তা পুরোটাই ইম্পোর্ট বেজড। এই প্রজেক্ট বাংলাদেশে নেই। এটিই আমরা করছি এখন। এর ফলে গার্মেন্টস সেক্টর অনেক এগিয়ে যাবে। তারা শুধু সিভিল ষ্ট্রাকচার করে দেবে। মেশিনারিজ এবং এক্সপার্টিজ জার্মান থেকে আসবে। এই প্রজেক্ট এর তিনটি পার্ট- অবকাঠামো, ষ্ট্রাকচার এবং মেশিনারীজ। সুতরাং যার যা কাজ তাই তারা করবে।

আনন্দ আলো: আপনারা সিরাজগঞ্জে যে প্রজেক্ট করছেন তা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কতোটা প্রভাব ফেলবে?

গোলাম রহমান: আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ। আমাদের চিন্তা হলো- বাংলাদেশ যদি একটি স্বল্পোন্নত দেশ হয় আর উত্তরবঙ্গ হলো এই দেশের অবহেলিত জায়গা। আমরা যেহেতু নর্থ বেঙ্গলকে প্রতিনিধিত্ব করি- তাই নর্থ বেঙ্গলের উন্নয়নে আমরা অগ্রাধিকার দেয়ার চেষ্টা করছি। সেই সূত্র ধরে আমরা সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে আমাদের সিমেন্ট মিল আছে। সেখানে লক্ষ্য করবেন নর্থ বেঙ্গলে কোন বড় সিমেন্ট মিল নেই। অথচ নর্থ বেঙ্গলে প্রায় ১৬টি জেলা আছে। কিন্তু আমাদের মিল ছাড়া অন্য কোন সিমেন্ট মিল নাই। এখান থেকে সিমেন্ট উৎপাদন করি এই মিলের ক্যাপাসিটি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সামনের বছরে আমরা এক্সপানশন করবো এই মিলের। এই মিল থেকে প্রতিদিন ২৫০০ মেট্টিক টন সিমেন্ট আমরা সরবরাহ করতে সক্ষম হবো। পলিষ্টার ষ্টপাল ফাইভ ষ্টারের যে প্রজেক্ট এর কথা আমরা বললাম, এখানে প্রায় ১৫ শত কোটি টাকা মোট ইনভেষ্টমেন্ট আমাদের। এই ইনভেষ্টমেন্টে ডাইরেক্ট ইনডাইরেক্ট প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। বাংলাদেশের যত চিপস এবং ফাইবার প্রয়োজন হয় পলিষ্টার ক্লোথ এর ৪০ শতাংশ আমরা উৎপাদন করতে পারবো। এখন পর্যন্ত এই দেশে এধরনের ফ্যাক্টরি নাই। আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।

আনন্দ আলো: এতে করে আমদানী করতে যেই টাকা চলে যেত বিদেশে সেই টাকা দেশেই থেকে যাবে?

গোলাম রহমান: ঠিক তাই। এই সূত্রে দেশের অর্থনীতিতে আমরা ভাল ভুমিকা রাখতে পারব।

বর্তমানে রিহ্যাব অনেক অর্গানাইজড

লিয়াকত আলী ভুঁইয়া, সহ সভাপতি, রিহ্যাব

Liakot-aliআনন্দ আলো: দেশে বিদেশে রিহ্যাবের নানা ধরণের মেলা অনুষ্ঠিত হয় নিয়মিত। এসব মেলা রিয়েল এষ্টেট ব্যবসায় কতোটা প্রভাব ফেলে?

লিয়াকত আলী ভুঁইয়া: যে কোন ব্যবসার কিন্তু প্রচারই প্রসার। মেলা তাই প্রচারের একটা ভাল জায়গা। এটি একটা সাইড। দ্বিতীয়ত হলো- একটা ছাঁদের নিচে আমাদের শুধু ষ্টলগুলো না- এখানে কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড ফরোয়ার্ড লিংকেজ এর প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়। সিমেন্ট রড সহ সব ধরণের ইন্ডাষ্ট্রি অংশ নেয় এমনকি ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনগুলো অংশ নেয়। এবারে ঢাকার মেলায় হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশন এর একটি ষ্টল ছিল। এতে হয় কি একটি ছাঁদের নীচে সব পাওয়া যায়। এতে করে ক্রেতার প্রডাক্ট সিলেকশন করতে সুবিধা হয়। প্রথমে সে কি ধরণের ফ্ল্যাট নেবে সে তুলনা করতে পারে। দ্বিতীয়ত হলো, ফ্ল্যাট নেওয়ার পরে বিভিন্ন ধরণের মনে করে একটি সেনিট্যারী আইটেম নেবেন- মেলায় কিন্তু এই ধরণের অনেক আইটেম থাকে। তারপরে সে মনে করেন লোন নেবেন ব্যাংক থেকে। এই ফ্যাসিলিটিও কিন্তু মেলাতে পাবেন তিনি। একই ছাঁদের নীচে ক্রেতা সব কিছু পাচ্ছেন। অপরদিকে যারা মেলায় ষ্টল দিচ্ছেন বিক্রেতারা মেলায় প্রদর্শনের ফলে এর অ্যাফেক্ট কিন্তু পুরো বছর থেকে যায়। ক্যাটালগগুলো নিয়ে যায় ক্রেতারা, তারা ভাবে আবার বিদেশে পাঠিয়ে দেয় ক্যাটালগ। তার রি-অ্যাকশন হয়তো তিন মাস পরে পায়। তাই মেলা সব দিক দিয়ে সবার জন্যেই লাভবান হয়।

আনন্দ আলো: রিহ্যাব আগের মত তার ভুমিকা রাখতে পারছে না- মানুষ এমনটা বলে এটি কি সত্য? গ্যাস বিদ্যুত পানির ঝামেলা আছে- এই সব বিষয়ে কি বলবেন?

লিয়াকত আলী ভুঁইয়া:  এটি অনেক আগের কথা। বর্তমানে রিহ্যাব খুব অর্গানাইজড। আমাদের তৈরী বিল্ডিং ঠিকমতো হ্যান্ডওভার করা হচ্ছে। কিন্তু এখানে একটি সমস্যা হলো- আমাদের মেম্বার হলো প্রায় ১২০০ এর মত। এদের বাইরে আরও  ১৩০০ ডেভলপার আছে। সাইনবোর্ড দেখলেই মানুষ মনে করে সবাই রিহ্যাব মেম্বার। ওই সব প্রতিষ্ঠানের দায় রিহ্যাবের ঘাড়ে এসে পড়ে। রিহ্যাবের কমপ্লেন সেল আছে। সেখানে ইচ্ছা করলে আপনি কমপ্লেন করতে পারবেন। ১০০ কমপ্লেন হলে ৯০টি কমপ্লেন আমরা জায়গায়ই মিটমাট করে দেই। হয়তো ১০ টা করতে পারছি না। তারা হয়তো আপনাদের কাছে আসে।

অ্যাডভান্সড হোমস এখন একটি ব্র্যান্ড হয়ে গিয়েছে

তৌহিদা সুলতানা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, অ্যাডভান্সড হোমস প্রাইভেট লিমিটেড

Towhidaআনন্দ আলো: একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে রিয়েল এষ্টেট সেক্টরে চ্যালেঞ্জ কেমন?

তৌহিদা সুলতানা: এই সময়ে এসে নারী বললে কেমন যেন মনে হয় যেহেতু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী। বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী। স্পিকার নারী। চ্যালেঞ্জটা আরো আগে থেকে ফেস করছি আমি যখন ১৭ বছর আগে শুরু করেছিলাম। তারচেয়ে বর্তমানে খুবই স্মুথ হয়েছে এই ব্যবসা। যেমন, জেন্ডারের বৈষম্য আগের তুলনায় অনেকটা কমে গিয়েছে। রিয়েল এষ্টেট এর ক্ষেত্রে একটু বেশি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার থাকে। এটি এমন একটি ব্যবসা এখানে ব্র্যান্ডিং এবং গুডউইল এর ব্যাপার আছে। সত্যিকার অর্থে আমাদের ক্লায়েন্ট মধ্য আয়ের যারা তারা কিন্তু প্রথমে একটি ইনভেষ্টিগেশন করে যে, এই কোম্পানীর ব্যাক গ্রাউন্ড কি? তারা প্রিভিয়াস ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে চান যে, টাইমলি হ্যান্ডওভার দিলো কিনা? আমার এই ষ্টেজ শেষ। এখন আমি মনে করি- অ্যাডভান্সড হোমস এখন একটি ব্র্যান্ড হয়ে গিয়েছে। এখন আমাদেরকে ল্যান্ড দেয়ার জন্যে প্রচুর ফোন আসে।

আনন্দ আলো: এই ব্যবসা ছাড়া আপনি আর কিসের সাথে যুক্ত আছেন?

তৌহিদা সুলতানা: এর বাইরে অনেক বড় আকারে গেলো ১৪ বছর ধরে কাজ করছি আমি অটিজম নিয়ে। আমাদের প্রায় ২৫০ টি বাচ্চা আছে ঢাকা, সৈয়দপুর, গোপালগঞ্জে। ইউনিক গিভ ফান্ডেশন এর চেয়ারম্যান আমি। আমাদের ইচ্ছা ৬৪ জেলায় আমার এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেব। এর বাইরে আমি টেলিকম এবং ডেনিম এর বিজনেসের সাথে জড়িত।

আনন্দ আলো: আপনি স্যাটেলাইট সিটি তৈরী করতে চান?

তৌহিদা সুলতানা: আমি রিয়েল এষ্টেট বিজনেসে আসার শুরুতেই ঢাকার বাইরে নিয়েই আমার চিন্তা ছিল। তাই আমি ঢাকার আশপাশে একটু দূরে গাজীপুর, ভালুকা, কেরাণীগঞ্জের পরে শ্রীনগর, গোলপালগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর এই সব জায়গায় প্রজেক্ট করার ইচ্ছা ছিল। ঢাকায় এখন গ্যাসের কানেকশন দেয়া হচ্ছে না। ঢাকার বাইরে কিন্তু এই সব সমস্যা নেই। তাই ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট সিটি করতে চাই আমি।