এ যুগের পথের পাঁচালি

এ যুগের পথের পাঁচালি

159
SHARE
Sottojit

রেজানুর রহমান

এফডিসির ছোট্ট ক্যান্টিনে ঢুকে একটু যেন ফাঁপরের মধ্যে পড়ে গেলেন সত্যজিৎ রায়। যেকোনো বাড়ির মানুষজনের আদব কায়দা, সৌন্দর্যবোধ আর আধুনিকতা প্রকাশ পায় বাড়ির ড্রয়িংরুমের ওপর। পরিবারে কেউ বেড়াতে এলে সাধারণত ড্রয়িংরুমেই বসতে দেয়া হয়। আর তখন ড্রয়িংরুমে বসেই নতুন অতিথি আন্দাজ করতে থাকে পরিবারটি আসলে কেমন? আর তাই একটি পরিবারে স্ট্যাটাস, রুচিবোধ অনেকটাই নির্ভর করে পরিবারটির ড্রয়িংরুমের ওপর। শুধু বাসাবাড়ির ক্ষেত্রেই নয়, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। নতুন কোনো অফিসে বেড়াতে গেছেন, আপনাকে বসতে দেয়া হলো গেস্টরুমে। গেস্টরুমের পরিবেশ দেখেই আপনি বুঝে নিতে পারবেন প্রতিষ্ঠানটি আসলে কেমন। গেস্টরুমের মতো খাবারের ক্যান্টিনও একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি তুলে ধরে। ক্যান্টিনে বসলেও প্রতিষ্ঠানটির স্ট্যাটাস সম্পর্কে একটি ধারণাপত্র তৈরি করা যায়।

এফডিসির ক্যান্টিন দেখে সত্যি সত্যি মনটা খারাপ হয়ে গেল সত্যজিৎ রায়ের। ছোট্ট খুপরি ঘরের মতো। সস্তামানের চেয়ার টেবিল সাজানো। থালাবাসন, গøাসও সস্তা দামের। সত্যজিৎ রায় নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলেনÑ এত সস্তা পরিবেশে এরা ভালো ছবি বানাবে কি করে.

ক্যান্টিনে এখন তেমন ভিড় নেই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে কয়েকজন। ওদেরই একজনের সামনে চেয়ার টেনে নিয়ে বসলেন সত্যজিৎ রায়। তার সামনে বসা লোকটির বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। গায়ের রং কালো। বয়সের তুলনায় মুখের চামড়া একটু বেশি ঝুলে গেছে। পাশের টেবিলে বসা এক তরুণের সঙ্গে সে কথা বলছে। তরুণটি আলু ভাজির সঙ্গে ডাল মিশিয়ে পরটা খাচ্ছে আর হাই, দুই হ্যাঁ বলে কথার জবাব দিচ্ছে। হঠাৎ তরুণটি প্রশ্ন করলোÑ সালাম ভাই তাহলে আজকে আপনাদের ছবির শুটিং হবে না?

সালাম নামের লোকটি বিরক্তি মেশানো কণ্ঠে জবাব দিলÑ পসিবিলিটি কম। নায়ক আসার কথা সকাল ১০টায়। পরিচালক সাড়ে ৯টায় আইস্যা বইস্যা আছেন। বেলা ১২টা বাজে নায়কের দেখা নাই। মোবাইল বন্ধ কখন আসবেন তাও বলা যাচ্ছে না। কথা বলতে বলতে তরুণের দিকে তাকালো সালাম মিয়া। ‘সায়ফুল আমারে একটা কথার জবাব দাও তো এই ভাবে কি ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবো? আইজ থাইক্যা ৩০ বছর আগে যখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকছিলাম তখন দেখতাম ছবির পরিচালককে নায়ক, নায়িকারা যমের মতো ভয় করতো। ভয়ের সঙ্গে সম্মানও ছিল। রাজ্জাক সাহেবরে কোনো দিন কলটাইম মিস করতে দেখি নাই। পরিচালককে সামনে দেখলেই চেয়ার ছাইড়্যা উইঠা দাঁড়াইতেন। আর এখন পরিচালকরে তো কেউ তেমন সম্মান করে না। পরিচালক হয়তো খাড়ায়া আছেন, বসার জন্য চেয়ার খুঁজতেছেন, নায়ক হয়তো তার সামনে চেয়ারে বইস্যাই পা নাচাইতে নাচাইতে মোবাইলে কথা বলতেছে… নাহ। এইভাবে ইন্ডাস্ট্রি চলবে না। ক্ষেদোক্তি প্রকাশ করে হঠাৎ সত্যজিৎ রায়ের দিকে তাকালো সালাম মিয়া। চেনা চেনা লাগে এমন ভঙ্গি করে বললÑ আপনি কে ভাই? আপনার চেহারার সঙ্গে কার চেহারার জানি মিল খুঁইজা পাইতেছি… অয় সায়ফুল দেখতো ভাইয়ের চেহারার সঙ্গে কার চেহারার জানি মিল আছে… ফিল্মের বড় ডাইরেক্টর। আরে ব্যাটা আমগো ববিতা ম্যাডাম যার ছবিতে অভিনয় করছেন… হ্যাঁ মনে পড়ছে সত্যজিৎ রায়। ছবির নাম ‘অশনি সংকেত’। বলতে বলতে সত্যজিৎ রায়ের চোখমুখ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল সালাম মিয়া। সায়ফুলও নিশ্চিত হয়েছে তার পাশের চেয়ারে বসা লোকটি দেখতে সত্যজিৎ রায়ের মতো। পরটা খাওয়া শেষ। এক গøাস পানি পেটের মধ্যে চালান করে দিয়ে সত্যজিৎ রায়ের প্রতি মনোযোগী হলো সে।

সালাম মিয়া সত্যজিৎ রায়কে প্রশ্ন করলোÑ ভাই আপনার পরিচয়?

সত্যজিৎ একটু যেন দোদুল্যমান হয়ে উঠলেন। নিজের আসল নাম বলবেন নাকি ছদ্ম নাম? ভাবতে গিয়ে মুখ থেকে আসল নামটাই বেড়িয়ে গেল।

আমি সত্যজিৎ… সত্যজিৎ রায়…

সালাম মিয়া উৎসুখ দৃষ্টি নিয়ে বললÑ নামের সঙ্গে তো দেখি হুবহু মিলে যাচ্ছে। চেহারাও মিল আছে। এফডিসিতে কি জন্য আসছেন?

সত্যজিৎ রায় এবার নিজেকে একটু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে বললেনÑ আমি একটা কাগজের রিপোর্টার। এফডিসির ওপর রিপোর্ট করার জন্য এসেছি।

সালাম মিয়া একটু যেন হতাশ হয়ে বললÑ ও… আপনি কাগজের রিপোর্টার। ডেইলি নাকি উইকলি…?

উইকলি।

নতুন বোধহয় এই লাইনে?

জি, নতুন…

এফডিসির ওপর রিপোর্ট করবেন?

হ্যাঁ।

কি রিপোর্ট?

এই… যেমন ধরেন শুটিং, ডাবিং এডিটিং…

Sottojit-1সালাম মিয়া এবার তার ময়লা দাঁত বের করে হেসে ফেললÑ এফডিসিতে এখন এসবের কিছুই হয় না। শুটিং এর কথা বলতেছেন? এই যে দেখেন আমরা শুটিং-এর জন্য সকাল ৮টায় আসছি এফডিসিতে। পরিচালক আসছেন সাড়ে ৯টায়। নায়ক আসার কথা ১০টায়। বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে। নায়কের দেখা নাই। সিচুয়েশন কি বুঝতে পারতেছেন?

সিডিউল টাইমে নায়ক আসে নাই একথা শুনে সত্যজিৎ রায় প্রথম থেকেই অবাক হয়েছেন। তার ছবিতে উত্তম কুমারের মতো ব্যস্ত নায়কও সিডিউল মেনে চলতো। ‘নায়ক’ ছবির শুটিং চলার সময় উত্তম কুমার একদিন ৫ মিনিট দেরি করেছিলেন। সত্যজিৎ রায় সেদিন শুটিং করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু উত্তম কুমার ভুল স্বীকার করে অনুরোধ করার পর সেদিনের শুটিং শুরু হয়। স্মৃতির আয়নায় নিজেকে একবার দেখলেন সত্যজিৎ রায়। পরক্ষণেই বাস্তবে ফিরে এলেন। সালাম মিয়াকে প্রশ্ন করলেনÑ এই যে নায়ক দেরি করে আসছেন এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলেন না? পরিচালক তো ছবির ক্যাপ্টেন। তিনি কিছু বলেন না?

সায়ফুল এবার মুখ খুললোÑ কে কাকে কি বলবে রে ভাই। শুনছি আগের জমানায় নায়ক নাকি পরিচালকের বাসায় গিয়ে ধরনা দিত। এখন পরিচালক নায়কের বাসায় গিয়া সিডিউলের জন্য ধরনা দেয়। তাইলে কে কার কথা শুনবে? শোনেন আপনি তো সাম্বাদিক। আপনারে আসল কথাডা খুইল্যা কই। আমাগো ফিল্ম লাইন আর আগের জায়গায় নাই। থাকবো কি কইর‌্যা? কেউ তো কাউরে মানে না। শিল্পী পরিচালকদের মান্যগণ্য করে না। সেই রকমের পরিচালকও নাই। যারা আছেন তারা মান সম্মানের ভয়ে এফডিসিতে আসেনই না। নায়ক রাজ রাজ্জাকরে তো চিনেন? এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য তিনি অনেক কিছু করছেন। অথচ তারেই কিনা আমরা অপমান করতে ছাড়ি না। এই যখন অবস্থা তখন আপনি এই ইন্ডাস্ট্রি থাইক্যা কি আশা করেন? বলেন কি আশা করেন?

একনাগাড়ে কথাগুলো বলে সায়ফুল থামলো। সত্যজিৎ রায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললÑ ভাই আপনি অভিনয় করবেন?

সত্যজিৎ রায় অবাক হয়ে বললেনÑ অভিনয়? আমি…

হ্যাঁ আপনি? আপনার চেহারা মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর। হুবহু সত্যজিৎ রায়ের মতো। তার একটা ছবি দেখছিলাম। কি যেন নাম? হ্যাঁ মনে পড়ছে ‘পথের পাঁচালি’। কি যে সোন্দর একটা ছবি। অপু আর দুর্গা দুই ভাইবইন যখন ট্রেনের পিছনে দৌড়ায়… ফাসক্লাস হইছে ঐ দৃশ্যটা। ছবিতে একজন বুড়ি অভিনয় করেছেন। ও মাই গড… তার মতো অভিনেত্রী আমি জীবনে আর একজনকেও পাই নাই…

সায়ফুলের কথা শুনে খুব ভালো লাগল সত্যজিৎ রায়ের। পথের পাঁচালি তাকে আন্তর্জাতিক অনেক স্বীকৃতি দিয়েছিল। অথচ এই ছবির পিছনে জীবনের অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। অতীত দিনের কথা মনে পড়ে গেল। একটা ছবি বানাবেন সত্যজিৎ। অর্থকড়ি নাই। পূর্ব অভিজ্ঞতা নাই এমন কিছু অভিনেতা অভিনেত্রীকে একত্র করলেন। ১৯৫২ সালের শেষ দিকে নিজের জমানো টাকা দিয়ে পথের পাঁচালির শুটিং শুরু করেন। প্রত্যাশা ছিল ছবিটি অর্থলগ্নি করার জন্য পাশে কেউ না কেউ এসে দাঁড়াবেন। কিন্তু কেউই এগিয়ে এলেন না। ফলে থেমে থেমে পথের পাঁচালির শুটিং হতে থাকলো। হয় সত্যজিৎ রায় না হয় ছবির নির্মাণ ব্যবস্থাপক অনিল চৌধুরী যখনই টাকার সংস্থান করতে পারতেন তখনই শুটিং হতো। এভাবে একটানা ৩ বছর থেমে থেমে ছবির শুটিং করতে করতে ১৯৫৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে ছবিটি নির্মাণের জন্য অনুদান পান সত্যজিৎ রায়। তারপর এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

সায়ফুলের কথায় চমক ভাঙলো সত্যজিৎ রায়ের। সামনের চেয়ারে সালাম মিয়া নেই। চেয়ারটায় বসে আছে সায়ফুল। সত্যজিৎ রায়কে প্রশ্ন করলোÑ ভাই আমার কথার জবাব পাইলাম না।

কোন কথা?

ঐ যে বললাম আপনি ছবিতে অভিনয় করবেন কি না?

সত্যজিৎ ইতস্তত করে বললেনÑ আমি অভিনয় করবো? এ ব্যাপারে আমার তো কোনো অভিজ্ঞতা নাই। না ভাই আমি পারবো না। বলেই উঠে যাচ্ছিল সত্যজিৎ রায়। সায়ফুল তাকে থামাল। বলল, ভাই আমার ধারণা আপনিই আমাদের সিনেমার একটা পরিবর্তন ঘটাইতে পারবেন। একটা নতুন ছেলে সিনেমা বানাইতে চায়। নাম ইরফান কবির। তারে দেখলে হয়তো আপনার পছন্দ হইব না। তবে ভাই জিনিয়াস একটা। নতুন নায়ক খুঁজতেছে। চলেন তার সঙ্গে আপনার পরিচয় কইর‌্যা দেই। আসেন…

সত্যজিৎ রায় ভাবলেন সায়ফুল যেখানে নিয়ে যেতে চায় সেখানে তিনি যাবেন। দেখাই যাক না সে কোথায় কার কাছে নেয়। এই ফাকে ববিতা ম্যাডামের সঙ্গে একবার দেখা করতে পারলে মন্দ হয় না। অশনি সংকেতের নায়িকা ববিতা। মেয়েটি ভালো অভিনয় করে। মিষ্টি মেয়ে। হাসিটাও তার মিষ্টি। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে যেতে পারলে ভালো হতো। পৈত্রিক ভিটা দেখার ইচ্ছে হচ্ছে।

সায়ফুল বলল, ভাই চলেন।

সত্যজিৎ রায় মাথা নেড়ে বললেন, ও হ্যাঁ… চলেন…

 

এফডিসির সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে সেমিনার হচ্ছে। সত্যজিৎ রায়কে সঙ্গে নিয়ে সেমিনার কক্ষে ঢুকে পেছনের দিকে চেয়ারে বসতে বসতে সায়ফুল বলল, ঐ যে দ্যাখেন স্টেজে যিনি বক্তৃতা করতেছেন তার না আজিজুল ইসলাম। তার সঙ্গেই আপনার পরিচয় করিয়ে দিব। তার আগে বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে কে কি বলে আগে শোনেন, একটা ধারণা হবে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে এই ধারণা কাজে দিবে।

মঞ্চে আজিজুল বক্তৃতা দিচ্ছেন। তিনি বেশ ক্ষুব্ধ। আমি মনে করি এত আলোচনা ফালোচনার কোনো দরকার নাই। দরকার অ্যাকশনে যাওয়া। আমরা হইলাম ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার। একটু আগে কোনো এক বক্তা পাশের দেশের একটা সিনেমার কথা বললেনÑ সিনেমার নাম ‘বাহুবলী’। আমরা তো এই ধরনের সিনেমা বানাইতে পারব না। এত টাকা কোথায় আমাদের। বাহুবলীর নায়কের ব্যায়াম করার জন্য সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি রুপি। নায়ককে এই টাকা দিয়ে বলা হয়েছে আপনি শরীর ফিট করেন। অথচ আমাদের এখানে পুরা ছবির ব্যয়ও ৫০ লাখের বেশি না। তাইলে ভাই কীভাবে ভালো ছবি হবে? অনেক বক্তা উপমহাদেশের বিশিষ্ট চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালি ছবির উল্লেখ করেছেন। আমি আপনাদেরকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি এই সময়ে পথের পাঁচালি মার্কা ছবি চলবে না। সত্যজিৎ রায় বেঁচে থাকলে তিনিও একথা স্বীকার করতেন। তাহলে আমাদের করণীয় কি? আমরা কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবো। আমরা কি ছবি বানাব না? অনেকে বলেন, ফেসবুক, ইউটিউব আর টিভি চ্যানেলের দৌরাত্ম্যে সিনেমা হলে সিনেমার দর্শক কমে গেছে। আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। সিনেমা হলে দর্শক কমে নাই। আয়নাবাজি নামে একটি নতুন ছবি এর প্রমাণ। আয়নাবাজিতে কি ছিল? ভালো কাহিনী ছিল, ভালো অভিনয় ছিল, আর ছিল তথ্য প্রযুক্তির সম্মিলন। সবকিছু মিলে ছবিটা ভালো হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ সিনেমা হলেই ছবিটি দেখেছে। তার মানে সিনেমা হলে গিয়ে মানুষ সিনেমা দেখতে চায়। সেজন্য যুগোপযোগী ভালো সিনেমা বানাতে হবে। এক্ষেত্রে আমার ৫টি প্রস্তাব আছে। এক. আমাদের চলচ্চিত্রে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা আর ছোটদের প্রতি ¯েœহ, ভালোবাসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। দুই. যে যত প্রতিভাধরই হোক না কেন তাকে শ্যুটিং-এর কলটাইম অনুসরণ করতে বাধ্য করুন। তিন. সিনেমা নির্মাণে কারিগরি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার দিকে নজর দিন। চার. মৌলিক কাহিনী নিয়ে ছবি নির্মাণে উৎসাহী হোন। পাঁচ. নতুন প্রতিভাকে উৎসাহিত করুন।

সেনিমার শেষ। সত্যজিৎ রায়কে সঙ্গে নিয়ে সেমিনার কক্ষের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে সায়ফুল। নিজেই প্রসঙ্গ তুললÑ ইরফান কবিরের বক্তব্য শুনে কি মনে হলো?

ভালোই তো… তবে পথের পাঁচালির ব্যাপারটার সঙ্গে আমি একমত হতে পারছি না… তার কথা টেনে নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াল ইরফান সাজ্জাদ। মৃদু হেসে বলল, ভাববেন না আমি সত্যজিৎ রায়কে অসম্মান করার জন্য কথাগুলো বলেছি। পথের পাঁচালি দুর্ভিক্ষ পিড়ীত জনপথের ছবি। বর্তমানের বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। এখন আর আমরা দুর্ভিক্ষের ছবি বানাতে চাই না। উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ছবি বানাতে চাই। বলতে বলতে সত্যজিতের মুখোমুখি হলো সাজ্জাদ। বিস্ময় ভরা কণ্ঠে বললÑ একি আপনিতো দেখি সত্যি সত্যি সত্যজিৎ রায়। এত মিল কি করে হয়?

সত্যজিৎ রায় মৃদু হেসে বললেনÑ চেহারার মিল হয়তো আছে। কিন্তু মেধা…

ইরফান সাজ্জাদ কোনো প্রকার ভূমিকা না করেই বললÑ আপনি আমার সঙ্গে থাকবেন? সায়ফুল একটু আগে আপনার কথা বলেছে। আপনি হবেন আমার ছবির নায়ক। আপনাকে আমাদের প্লানিংটা আগে বলি। আমরা একটা ছবি বানাব। যার কাহিনী লিখেছেন দেশের একজন তরুণ লেখক। অভিনয় করবেন একঝাঁক নতুন মুখ। ক্যামেরায় থাকবেন তরুণ একজন ক্যামেরাম্যান। তথ্য প্রযুক্তিগত সহায়তায় থাকবে একদল তরুণ প্রযুক্তিকর্মী। ঘড়ি ধরে সময় মেনে চলবে ছবির শ্যুটিং। কী নায়ক, কী নায়িকা সবাইকে সময় মেনে চলতে হবে। আপনি থাকবেন আমাদের সঙ্গে?

প্রথম জীবনের কথা ভাবলেন সত্যজিৎ রায়। ‘পথের পাঁচালি’ নির্মাণের সময় এভাবে তিনিও অনেকের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তিনি সহযোগিতা পাননি বলে কি এই তরুণ পরিচালকও সহযোগিতা পাবে না। ইরফানকে সহযোগিতা করার জন্য কেউ কি আছেন… থাকলে হাত তুলুন, প্লিজ…