এহসান খানের স্থাপত্য ভুবন

এহসান খানের স্থাপত্য ভুবন

486
SHARE
Ahsan-Khan

এহসান খান। বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য স্থপতি। বর্তমানে তিনি ‘এহসান খান আর্কিটেক্টস’ নামে স্থাপত্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর দুইজন সহপাঠী নিয়ে ‘ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার ডিজাইন তৈরি করেছেন। ২০১০ সালে এই স্থপতির টেকনাফে নির্মিত ‘নিসর্গ ভিজিটর সেন্টার’ স্থাপনাটি আগাখান স্থাপত্য পুরস্কারের জন্য চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিল। এবার শাহ্ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক

স্থপতি এহসান খানের জন্য ময়মনসিংহের নাটকঘর লেনে। সেখানেই তার বেড়ে ওঠ। বাবার নাম ইউসুফ খান। তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মা সোবেহ আখতার গৃহিণী। চার ভাই বোনদের মধ্যে এহসান খান দ্বিতীয়। স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকে ছবি আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁকটা ছিল অনেক বেশি। নিজের ইচ্ছা থেকেই আর্কিটেক্ট হওয়া তার। ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৮০ সালে। ১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে। স্থাপত্য নিয়ে পড়াশোনা কালীন তার সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে আছেন স্থপতি ইকবাল হাবিব ও ইসতিয়াক জহির তিতাস। এরা সবাই স্বনামধন্য আর্কিটেক্ট। এহসান খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৯১ সালে। পাস করে বের হওয়ার পরই দুইজন সহপাঠী নিয়ে ‘ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা শুরু করেন। তারপর ২০১০ সালে তিনি নিজেই ‘এহসান খান আর্কিটেক্টস’ নামের স্থাপত্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। গুলশানে তিনি খুব সুন্দর একটি অফিস সাজিয়েছেন।

Shah-Cement‘ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ’ প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন টিম লিডার হিসেবে টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ, ধানমন্ডি লেক উন্নয়ন, টেকনাফের নিসর্গ ভিজিটর সেন্টার, হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্প, ডা: মিলন স্মৃতি সৌধ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল সমাধি সৌধ, গুলশান বনানী লেক ব্রিজ ইত্যাদি প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে গুলশান-১ এ সান্তাগøাস হাউস, বনানী ক্যান্টনমেন্টের ঢাকা গার্ডেন ও বীরসপ্তক, বেইলী রোডের মহিলা কমপ্লেক্স, গুলশান-২ সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট আমারী ঢাকা, গুলশানের লেকসের অ্যাপার্টমেন্ট, নান্দুস রেস্টুরেন্ট, চিটাগাং-এর এপোলো হসপিটাল, উত্তরার ডিপিএস স্কুল সিনিয়র সেকশন ইত্যাদি। বর্তমানে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নগর পরিকল্পনা, আধুনিক পরিবেশ উপযোগী অফিস ও হাউজিং কমপ্লেক্স পরিকল্পনায়। এহসান খান তার সব ধরনের কাজ, স্থাপত্য নীতিও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন।

Shah-Cement-1তিনি ১৯৯৫ সালে বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম নুসরাত জাহান। তিনিও একজন আর্কিটেক্ট। এই দম্পতি দুই কন্যা সন্তানের জনক জননী। এহসান খান বলেন, আমি মনে করি স্থপতির দায়িত্ব হচ্ছে সমাজের জন্য ভৌত অবকাঠামোগত পরিবেশ তৈরি করা। এটা হতে পারে শহর বা গ্রাম দুই জায়গায়ই। একটি ভালো স্থাপত্য যেমন- একটি সুন্দর শহর তৈরিতে সাহায্য করে, তেমনি একটি প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন সাধন করে। তাই আমার সব সময়ই আকাক্সক্ষা তাকে কোনো স্থান, তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সামাজিক ও আবহাওয়া বিষয়ক জ্ঞান, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত হওয়া। অপরদিকে টেকনোলজি ও শিল্প চেতনার সম্মক জ্ঞান যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে। সুস্থ স্থাপত্য ও শহর একজন মানুষকে জীবন যাপনের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। সমাজকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। একটি শহর যেমন- একটি শিশুকে অনুপ্রেরণা দেয় তার বেড়ে ওঠার জন্য, তেমনি একজন পরিণত মানুষকে তার জীবনের সার্থকতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি একজন পেশাজীবী হিসেবে আমার সার্থকতা হবে যদি শুধু একটি বাড়ি নয় বরং সমগ্র পরিবেশ, পারিপার্শ্বিক অবস্থার উন্নতি হয়। একটি শহর বা শহরের অংশ সার্থকভাবে তৈরি করতে পারব যা নাগরিকদের পজেটিভ মানসিকতা তৈরিতে সাহায্য করবে এবং তার জীবনের সার্থকতা খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।