Home আরোও বিভাগ ইভেন্ট এসিআই পিওর সরিষার তেল ও আনন্দ আলো জাতীয় ভর্তা প্রতিযোগিতা-২০১৮ বাছাই পর্বেই...

এসিআই পিওর সরিষার তেল ও আনন্দ আলো জাতীয় ভর্তা প্রতিযোগিতা-২০১৮ বাছাই পর্বেই জমলো মেলা

SHARE
Aci-Vorta-2018

মোহাম্মদ তারেক
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য সংস্কৃতির এক বিরাট জায়গা আলোকিত করে রাখে মা-বোন ও গৃহিণীদের বানানো হরেক রকমের ভর্তা। দেশে এমন কোনো পরিবার হয়তো পাওয়া যাবে না যে পরিবারে প্রতিবেলায় খাবারের সঙ্গে ভর্তা থাকে না। ভাতের সঙ্গে কোনো না কোনো ভর্তা চাই-ই চাই। আর তাই ভর্তা ছাড়া খাবারের টেবিলের সৌন্দর্য পরিপূর্ণ হয় না। আহারে তৃপ্তিও আসে না। ভর্তা হলো বাঙালি খাবারের অনুপম এক অনুষঙ্গ। পাশাপাশি খাবারের রুচিও বাড়িয়ে তোলে ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে যদি থাকে নানান রকমের ভর্তার আয়োজন, তাহলেতো খাবারের আকর্ষণটাই অনেক গুণ বেড়ে যায়। আর তাই খাবারের সঙ্গে ভর্তাকে আরো জনপ্রিয়, উপাদেয় ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলার লক্ষ্যেই এসিআই পিওর সরিষার তেল এবং আনন্দ আলো যৌথভাবে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ভর্তা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল ২০১৭ সালে মার্চ মার্সে।
তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ভর্তা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এসিআই পিওর সরিষার তেল আনন্দ আলো জাতীয় ভর্তা প্রতিযোগিতা ব্যাপক আলোচিত এখন সারাদেশে। এবারের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২৩ এপ্রিল চ্যানেল আই-এর ছাদ বারান্দায়। সারাদেশ থেকে কয়েকশ রন্ধনশিল্পী, গৃহিণী ফেসবুক এবং ডাকযোগে চিঠি মারফত আবেদন করে। নানা প্রক্রিয়া শেষে ৩৯ জন প্রতিযোগীকে সেদিন বিকেলে চ্যানেল আই-এর ছাদ বারান্দায় বাছাইপর্বে আহŸান জানানো হয়। সারাদেশ থেকে প্রতিযোগীরা বাছাই পর্বে অংশ নেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। রংবেরংয়ের পোশাক পরা মায়েরা, বোনেরা ও ভাইয়েরা ভর্তা প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বের পরিবেশকে আনন্দ মুখর করে তোলেন। সেদিন প্রতিযোগীদেরকে ভর্তা বানিয়ে আনার জন্য বলা হয়েছিল। বিরাট দুটি টেবিলের ওপর ৩৫ জন প্রতিযোগীর নানান রকমের ভর্তা সাজানো হয়। টেবিল দুটিকে মাঝখানে রেখে দুপাশে চেয়ারে বসেন প্রতিযোগীরা। বিচারকবৃন্দ ঘুরে ঘুরে টেবিলে রাখা ভর্তার স্বাদ গ্রহণ করেন।
বাছাইপর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দেশের বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী, বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম, রন্ধনশিল্পী মেহেরুন নিসা, শুভব্রত মিত্র, কানিজ ফাতেমা রিপা, জেবুন্নেসা বেগম ও অভিনেত্রী মাহবুবা রেজানুর। বিচারকদের রায়ে ৩৯ জন প্রতিযোগী থেকে ৫ জন প্রতিযোগীকে নির্বাচিত করা হয় গালা রাউন্ডের জন্য। নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে: ফাতেমা জাহান, মাহমুদা নাজনিন, রেহেনা সিদ্দিকি লিজা, লুতফুন নাহার ও রাবেয়া সুলতানা লিজা। ফাতেমা বানিয়েছিলেন ইলিশ মাছ দিয়ে সিমের বিচি ভর্তা, মাহমুদা নাজনিন বানিয়েছিলেন রুই মাছ মাশরুমের ভর্তা, রেহেনা সিদ্দিকি বানিয়েছিলেন ফলি মাছের ভর্তা, লুতফুন নাহার বানিয়েছিলেন চুই ঝালে চাপা ভর্তা আর রাবেয়া সুলতানা লিজা বানিয়েছিলেন লাউ পাতার চিংড়ি ভর্তা।
আনন্দ মুখর পবিবেশে বাছাইপর্বের অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা, এসিআই ফুডস লি. এর বিজনেস ডিরেক্টর ফারিয়া ইয়াসমিন, আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান, গ্রæপ প্রডাক্ট ম্যানেজার, কাস্টমার ব্র্যান্ড, এ সি আই, সাইদুর রহমান সহ অন্যান্য অতিথিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় পর্বের বাছাই প্রতিযোগিতার নির্বাচিত ৫জন প্রতিযোগিনীকে নিয়ে ১৪ মে কক্সবাজারে প্রতিযোগিতার চ‚ড়ান্ত পর্ব অর্থাৎ গালা রাউÐ অনুষ্ঠিত হবে।

সেরা ২০
বাছাই পর্বে গালারাউন্ডের জন্য নির্বাচিত ৫জন প্রতিযোগিনী ছাড়াও আরও ২০জনকে সেরার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের ভর্তা নিয়ে আনন্দ আলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। সেরা ২০ জন হলেনÑ তুরিন আফরোজ (লইট্টা শুঁটকি ভর্তা), সঞ্জয়শীল (বাদাম বড়ি ভর্তা), রোকসানা পারভীন (আম টমেটো ভর্তা), শাহানা আনাম খান (মাংশের আচারি ভর্তা), শোহানা ইসলাম (মাশালা বেগুন ভর্তা), ফাতেমা জাহান (ইলিশ মাছ দিয়ে সিমের বিচি ভর্তা), মাকসুদা এস নেছা (সরিষার ইলিশ ভর্তা), মেহবুবা ইসলাম (রসুন শুঁটকির আচারি ভর্তা), মশিউর (মাছ গাজরের ভর্তা), মাহমুদা নাজনিন (রুই মাছ মাশরুমের ভর্তা), রাবেয়া সুলতানা লিজা (লাউ পাতার চিংড়ি ভর্তা), আয়শা জেসমিন (চিকেন ভর্তা), রেহেনা সিদ্দিকি লিজা (ফলি মাছের ভর্তা), কানিজ আসমা কিফায়েত (নারকেল চিংড়ি বরবটি ভর্তা), জান্নাত আরা তুশা (তিল দিয়ে লেবু পাতায় দু মাছের ভর্তা), লুতফুন নাহার (চুই ঝালে চাপা ভর্তা), শ্রাবণী ইবনাদ রুনা (চ্যাপা শুঁটকি কাঁঠালের বিচি ভর্তা), মরিয়ম আক্তার সোমা (বেগুন ইলিশ ভর্তা), এস এম বায়োজিদ (চিংড়ি মাশরুমের ভর্তা), রাজিয়া কাশেম (ইলিশ-মোচার সরিষা-নারিকেল ভর্তা)।