এবার অপেক্ষা সেই সঙ্গীত উৎসবের

এবার অপেক্ষা সেই সঙ্গীত উৎসবের

593
SHARE

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় সঙ্গীত উৎসবের নাম ‘সিম্ফনি চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস’। এবার এর ১১তম আসর বসতে যাচ্ছে শীঘ্রই। ইতিমধ্যে এই উৎসবকে ঘিরে বিচারকার্যসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড প্রায় চূড়ানত্ম করা হয়েছে। এবার শুধু অপেক্ষা মূল অনুষ্ঠানের জন্য। যে অনুষ্ঠানে আবার মিলিত হবেন সঙ্গীত অঙ্গনের দেশী-বিদেশী তারকারা। আবার জমবে মেলা- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় সঙ্গীত উৎসব।

বরাবরের মতো এবারও এই সঙ্গীত উৎসবে সঙ্গীতের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদানের জন্য বিচারকার্যের দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিচারকার্যে অংশ নিয়েছেন দেশবরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান, আব্দুল জব্বার, খুরশিদ আলম, আজাদ রহমান, আলম খান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, রফিকুজ্জামান, তপন মাহমুদ, লিলি ইসলাম, সাজেদ আকবর, ফুয়াদ নাসের বাবু, বাপ্পা মজুমদার, মাকসুদ জামিল মিন্টু, মানাম আহমেদ, বীরেন সোম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, মনিরুজ্জামান, আব্দুর রহমান ও রেজানুর রহমান।

দেশীয় সঙ্গীতের বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সঙ্গীত উৎসবের শীর্ষ সহযোগী হিসেবে আছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও শীর্ষ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড সিম্ফনি।

সিম্ফনি মূলত এডিশন গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি এক বিকেলে এডিশন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিএফও জাকারিয়া শহীদ ও ডিরেক্টর মার্কেটিং আশরাফুল হকের সাথে এই সঙ্গীত উৎসব নিয়ে কথা বলেছে আনন্দ আলো। দু’জনই এবারের আয়োজন নিয়ে আনত্মরিক উচ্ছাস প্রকাশ করলেন।

এডিশন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শহীদ এক প্রশ্নের জবাবে বললেন, চ্যানেল আই শুধুমাত্র সঙ্গীত নিয়ে যে আয়োজনটা করে সেটা সত্যি খুব সুন্দর এবং দেশীয় সঙ্গীতের বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই আয়োজনের গুণগত মান প্রশংসার দাবিদার। সে কারণে আমরা এর সাথে যুক্ত হয়েছি। তাছাড়া আরো একটি বিষয় আছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা। শুধুমাত্র ব্যবসা নয়। সমাজের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থেকে আমরা এই আয়োজনের সাথে যুক্ত থাকাটা জরুরি বলে মনে করেছি। সঙ্গীত সংস্কৃতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। আমরা যেন সঙ্গীতের বিকাশে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারি- এই বিশ্বাস নিয়েই চ্যানেল আই-এর সাথে একসাথে হাঁটছি। একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন ‘সিম্ফনি’ নামের মাঝেই সঙ্গীতের একটা ছোঁয়া পাবেন। দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে আমরা মমতার সাথে এই ছোঁয়া দিতে চাই।

এবারের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই জাকারিয়া শহীদ বলেন, দুই একটি বিষয়ে পরিবর্তন ছাড়া সবকিছু আগের মতোই থাকছে। তবে সময়ের বাসত্মবতায় আমাদের প্রোডাক্টের সাথে মিল রেখে এবার দুই একটি ক্যাটাগরি হয়তো বাড়তে পারে।

কথায় কথায় আমাদের সঙ্গীতঅঙ্গন ও সঙ্গীতের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই জাকারিয়া শহীদ বলেন, যে যাই বলুক আমি কিন্তু আমাদের সঙ্গীতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেক আশাবাদী। আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের বাংলা গান নিয়ে আমি অনেক অহংকার করি। তবে আমার একটা অবজারভেশন আছে। ইদানিং গানের ক্ষেত্রে আধুনিকতার নামে অনেক কিছু করা হচ্ছে। যেমন- বরীন্দ্রসঙ্গীতের ধারা পরিবর্তন করছেন কেউ কেউ এবং তা ফিউশন বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। আমি এই ধরনের উদ্যোগের বিরোধীতা করছি। জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও ফিউশন করা হচ্ছে। এটাকে আমি চরমভাবে বিরোধীতা করছি। আমরা আমাদের শেকড়কে ভুলে যাবো কেন?

প্রতিভা থাকলে নতুন কিছু করেন। কিন্তু ঐতিহ্য নষ্ট করবেন না। ঐতিহ্য থেকে সরে যাওয়া উচিৎ নয়। কখনো কখনো মনে প্রশ্ন জাগে গানের বাণী আগে নাকি মিউজিক আগে? একটা সময় ছিল আমাদের দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সুর শুনলে অজানেত্ম বিমোহিত হতাম। ইদানিং দেশীয় অনেক বাদ্যযন্ত্র আর ব্যবহার করা হচ্ছে না। আধুনিকতার নামে কিছু বাদ্যযন্ত্রের উচ্চস্বর গানের প্রকৃত বাণীকে আড়াল করে দিচ্ছে। সঙ্গীতের উৎকর্ষ সাধনে এই প্রক্রিয়াগুলো কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা জরুরি।

এডিশন গ্রুপের ডিরেক্টর মার্কেটিং আশরাফুল হক বললেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় সঙ্গীত উৎসবের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সিম্ফনি দেশের নাম্বার ওয়ান ব্র্যান্ড। আর তাই তার একটা সামাজিক দায়বদ্ধতাও আছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে দেশীয় গানের প্রতি আগ্রহী করা, উদ্বুদ্ধ করা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করছি। সে কারণে দক্ষিণ পূর্ব এশীয়ার এই শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত উৎসবের সাথে আমরা যুক্ত হয়েছি।