Home বইমেলা প্রতিদিন এবছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা

এবছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা

SHARE

এবছর বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কবিতায় আলতাফ হোসেন, কথাসাহিত্যে শাহীন আখতার, প্রবন্ধে যৌথভাবে আবুল মোমেন ও আতিউর রহমান, গবেষণায় মনিরুজ্জামান, অনুবাদে আবদুস সেলিম, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে তাজুল মোহাম্মদ, আত্মজীবনী/ স্মৃতিকথা/ ভ্রমণ শাখায় ফারুক চৌধুরী, নাটকে মাসুম রেজা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশে শরীফ খান এবং শিশুসাহিত্যে সুজন বড়ুয়া। আজ  অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন।   পঁয়ত্রশি বছর আগে প্রথম কবিতার বই ‘সজল ভৈরবী’র প্রকাশের পরপরই দেশের কবিতা প্রেমিদের কাছে আলোচনায় আসেন আলতাফ হোসেন। একে একে তার লেখা ‘পাখি বলে’ ও ‘কী ফুল ঝরিল বিপুল অন্ধকারে’সহ বেশ কয়েকটি কাব্যগ্রস্থ প্রকাশিত হয়েছে গত তিন দশকে। আলতাফ হোসেন লেখাপড়া করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি লিখেছেন গল্প ও প্রবন্ধ। ‘লাজুক অক্টোপাস’, ‘ভূমধ্যসাগরে অন্ধ ঘূর্ণি যা বলুক’, ‘সঙ্গে নিয়ে চলে যাই পাহাড় চূড়োয়’, ‘বলি যে তারানা হচ্ছে’, ‘তারপর হঠাৎ একদিন মৌমাছি’ আলতাফ হোসেনের উলে­থযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।   নব্বইয়ের দশক থেকে নিয়মিত সাহিত্যকর্মে লেগে থাকা শাহীন আখতার অর্থনীতি নিয়ে লেখাপড়া করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘তালাশ’ ২০১১ সালে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। এছাড়াও লেখকের ‘পালাবার পথ নেই’, ‘ময়ূর সিংহাসন’ও অনেকের প্রশংসা পায়। ‘বোনের সঙ্গে অমর লোকে’, ‘শ্রীমতির জীবনদর্শন’সহ কয়েকটি গল্পের সঙ্কলন বেরিয়েছে শাহীন আখতারের। তার সম্পাদনায় তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ‘সতী ও স্বতন্ত্ররা- বাংলাসাহিত্যে নারী’।  আবুল মোমেন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেন। প্রবন্ধের বাইরে তিনি লিখেছেন কবিতা, গল্প, কিশোরসাহিত্য। সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজলের ছেলে আবুল মোমেন শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরু করলেও পরে যোগ দেন সাংবাদিকতায়। শিক্ষা ও শিল্পকলা বিষয়ে তার একাধিক বই রয়েছে। রবীন্দ্র ভ্রমণ সাহিত্য সমগ্র (দুই খণ্ড), বাংলা ও বাঙালির কথা, কাগজের কুশীলব এবং বিজ্ঞানী মামা ও অপারেশন ফিউচার তার উলে­খযোগ্য বই।   অর্থনীতি নিয়ে কাজের জন্য গত কয়েক বছরে দেশে বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরড.আতিউর রহমান এই প্রথম কোনো সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। গুণী এই অর্থনীতিবিদ-গবেষক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। ‘রবীন্দ্র চিন্তায় দারিদ্র ও প্রগতি’ তাঁর লেখা বইটি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।  ভাষাবিজ্ঞানী ড. মনিরুজ্জামান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন দীর্ঘদিন। ভাষা, সাহিত্য ও ফোকলোর বিষয়ে ২৭টি বই ও শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। কর্মজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি এবং কলা অনুষদের ডীনের দায়িত্ব ছাড়াও নজরুল ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন ড. মনিরুজ্জামান। মনিরুজ্জামান গত শতকের ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে পড়ার পর ভারতের মাইশুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। ‘লিঙ্গুইস্টিক সোসাইটি অব ইন্ডিয়া’,‘ দ্রাবিড়িয়ান লিঙ্গুইস্টিক অ্যাসোসিয়েশান’, ‘ফিলোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশান অব গ্রেট ব্রিটেন’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘের আজীবন সদস্য তিনি।  ড. আবদুস সেলিম ইংরেজি ভাষা ও ভাষাতত্তে¡র এই অধ্যাপক দায়িত্ব পালন করছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বের্টোল্ড ব্রেখটের নাটক ‘গ্যালিলিও’, ‘হিম্মতী মা’, ‘গোলমাথা চোখামাথা’ এবং তিন খণ্ডে সমাপ্ত ‘অনুবাদ নাটক সমগ্র’ আব্দুস সেলিমের উলে­খযোগ্য অনুবাদগ্রন্থ। বাংলা একাডেমি থেকে ড. সেলিমের একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের নিয়ে লেখা ‘ভায়োলেটেড ইন সেভেনটি ওয়ান’ (গবেষণামূলক) এবং ইংলিশ টু বেঙ্গলি ডিকশনারি  দুটি বই প্রকাশিত হয়। ইংরেজি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি- দু’ভাবেই অসংখ্য কবিতা, প্রবন্ধ ও ছোটগল্প অনুবাদ করেছেন তিনি।  কৃষি বিভাগে চাকরির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখেন তাজুল মোহাম্মদ। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার সন্তান তাজুল মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বই লিখেছেন। ১৯৮০ সালে সিলেটের বালাগঞ্জের বুরুঙ্গা গ্রামে ৮১ জনকে গণহত্যার একটি ঘটনা সংগ্রহ করে পাঠান স্থানীয় একটি পত্রিকায়। সেটাই ছিলো তার লেখা প্রথম মুক্তিযুদ্ধের উপর বিশদ আর্টিকেল। বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনাগুলো নিয়ে ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয় তাজুল মোহাম্মদের প্রথম বই ‘সিলেটে গণহত্যা’। এরপর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘সিলেটের যুদ্ধকথা’, ‘একাত্তরে সিলেট: স্মৃতিকথা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের খোঁজে’, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সন্ধানে’ এবং ‘কুরুক্ষেত্রী সেনা ১৯৭১’। সাবেক কূটনীতিবিদ ফারুক চৌধুরীর লেখায় বার বার উঠে এসেছে দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন দেশ আর সময়ের নানা ঘটনার বিশ্লেষণ। স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবিষয়ক বই ছাড়াও তাঁর হাত দিয়ে বেরিয়েছে এ দেশের ইতিহাস ও অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু লেখা। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তরে পড়ার সময়ই তিনি পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। তিনি পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।  কুষ্টিয়া শহরে নাটকের দল বোধনের মাধ্যমে কৈশোরেই নাটকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় মাসুম রেজার এরপর পরিচয় ঘটে নাট্যকার সেলিম আল দীনের লেখার সঙ্গে? সেলিম আল দীনকে অনুসরণীয় মেনেই নাট্যকার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাসুম। মাসুম রেজার লেখা ঊলে­খযোগ্য মঞ্চ নাটকের মধ্যে রয়েছে বিরসা কাব্য, নিত্যপূরাণ, আরজ চরিতামৃত, জল বালিকা, শামুকবাস? ইমপ্রেস টেলিফিল্মের চলচ্চিত্র ‘মোল­া বাড়ির বউ’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও মাসুম রেজার লেখা। তার লেখা রঙের মানুষ ও ভবের হাটের নাট্যরূপ টেলিভিশন নাটকে বেশ জনপ্রিয়তা পায়।  পাখি ও বন্যপ্রাণী বিশেষঞ্জ শরীফ খানের দীর্ঘ গবেষণার ফল ‘হালতি পাখির বাসা’ ও ‘বড় হালতির ছানা’ শীর্ষক দুটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। পরিবেশ ও বণ্যপ্রাণী বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইইউসিএন প্রকাশিত পাখি ও বন্য প্রাণী বিষয়ক ‘রেড ডাটা বুক’ এর প্রকাশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে শরীফ খানের। তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রকাশিত আট খণ্ডের শিশু বিশ্বকোষের অন্যতম প্রদায়ক।  সুজন বড়ুয়ার জন্ম ১৯৫৯ সালে চট্টগ্রামের ফটকছড়িতে। শিশু একাডেমি থেকে পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত ‘শিশু-বিশ্বকোষ’ ও ‘ছোটদের বিজ্ঞানকোষ’-এর ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় সহযোগীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশু-গ্রন্থমালা’ কর্মসূচিরও সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। ছোটদের জন্য তিনি লিখেছেন ‘আকাশ আমার আয়না’, ‘আকাশ আমার সাগর আমার’, ‘কিশোর প্রবন্ধসমগ্র’, ‘দেবতার রাজ্যে ছেলেটি’সহ অর্ধশতাধিক বই।