এটা দৃষ্টি কটু পদক্ষেপ-গাজী রাকায়েত

এটা দৃষ্টি কটু পদক্ষেপ-গাজী রাকায়েত

57
0
SHARE
Gazi-Rakayet

খুব বেশি অভিনয় না করলেও ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রগুলোতে দেখা যায় অভিনেতা-নির্মাতা গাজী রাকায়েতকে। সংগঠন ও থিয়েটার নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দর্শকদের সামনে তিনি ঠিকই হাজির হোন ভিন্ন সব চরিত্র নিয়ে। ঈদের অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলেছেন গাজী রাকায়েত।

আনন্দ আলো: এবারের ঈদের অনুষ্ঠান নিয়ে আপনার মন্তব্য শুনতে চাই-

গাজী রাকায়েত: ঈদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান নিয়ে চারদিক থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, তা আমার নির্মিত নাটকের জন্য যেমন প্রযোজ্য, তেমনি সমগ্র টেলিভিশন শিল্পের জন্যও জরুরি। হিসাব করে দেখলাম, এবার ঈদে বিভিন্ন টেলিভিশনে ৫শ’র মতো নাটক প্রচার হয়েছে। এর মধ্যে ভালো নাটকের সংখ্যা শ’খানেক তো হবেই। তবে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সূচি সাজানোর বিশৃঙ্খলায় অনেক সময় ভালো কাজ হলেও তা দর্শকের নজরে পড়ে না। যে কারণে টেলিভিশনের প্রতি দর্শকের আস্থা কমে যাচ্ছে। তবে এটা ঠিক, গত ঈদের চেয়ে এবারের ঈদে নাটকের মান ভালো হয়েছে।

আনন্দ আলো: কার কাজ বেশি ভালো লেগেছে?

গাজী রাকায়েত: তরুণ অনেক নির্মাতাই ভালো কাজ করছেন এখন। এবার ঈদে অমিতাভ রেজা ও অনিমেষ আইচের একাধিক নাটক ভালো লাগার মতো ছিল। এর বাইরে নতুন নির্মাতাদের কাজ দেখেও ভালো লেগেছে। আয়নাবাজি ও ছবিয়াল সিরিজের নাটকগুলোর গল্পে স্বাতন্ত্র ছিল। নির্মাণেও এক ধরনের যতœ ছিল। তবে একসঙ্গে একাধিক চ্যানেলে একই নাটক প্রচার করার সংস্কৃতি আমার কাছে দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। আমার কাছে মনে হয়, নাটকের গল্প ভালো লাগলে দর্শক নিজেই চ্যানেল খুঁজে নাটক দেখবে; একাধিক চ্যানেলে তা প্রচার করা অর্থহীন। বরং এতে নতুন অনেক নাটকের সম্ভাবনা কমে গেছে।

আনন্দ আলো: অনেক চ্যানেলেই ধারাবাহিক নাটক প্রচার করেছে-

গাজী রাকায়েত: হ্যাঁ। ঈদের ধারাবাহিকগুলো নাটকের মানহীনতার জন্য অনেকাংশে দায়ী। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের উচিত এ নাটকগুলো বন্ধ করে দেয়া। কারণ ঈদের সময়ে সবাই নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে ধারাবাহিক নাটক দেখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর কেউ যদি নাটকের দু-এক পর্ব না দেখতে পারেন, তার পক্ষে সে নাটকের গল্প বোঝা সম্ভব নয়। একসঙ্গে একাধিক ধারাবাহিক প্রচার হলে সেটি আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়ে।

আনন্দ আলো: আর কোনো সমস্যা চোখে পড়েছে?

গাজী রাকায়েত: ঈদ নাটকের আরেকটি বড় সমস্যা হলো, ঘুরেফিরে একই মুখ বারবার দেখা। অনেক সময় দর্শক এতে বিরক্ত হয়ে যান। শুধু নাটক নয়, অন্যান্য অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এটি সমান প্রযোজ্য। তরুণ অনেক অভিনয়শিল্পীর অভিনয়ও বেশ ভালোলাগার মতো ছিল। তবে নন-ফিকশন অনুষ্ঠানে ভিন্নতা বরাবরই কম। আড্ডা, গল্প ও কিছু সংগীতানুষ্ঠান ছাড়া গৎ বাঁধা অনুষ্ঠান থেকে কেউ বের হতে পারেনি। অনেক সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একই তারকার উপস্থিতি দর্শকদের বিরক্ত করেছে।

ঈদের পর চঞ্চল!

ঈদের ছুটি কাটিয়ে আবারও দুই পর্দায় ব্যস্ত হয়ে পরেছেন ‘আয়নাবাজি’খ্যাত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ঈদের পর থেকে মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এনটিভিতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটক পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের শুটিং শুরু করেন তিনি। এ নাটকে তার সঙ্গে দৃশ্যায়নে অংশ নেন সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক। এ ছাড়া অচিরেই চঞ্চল বৃন্দাবন দাসের রচনায় সাইদুর রহমান রাসেলের নির্দেশনায় ‘অষ্টধাতু’ ধারাবাহিক নাটকের কাজ শুরু করবেন। এদিকে আগামী মাসে চঞ্চল চৌধুরী অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের ডাবিংয়ের কাজ শেষ করবেন। এতে তিনি মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে, গেল ঈদে চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত বেশকিছু খন্ড নাটক, টেলিছবি এবং ছয় পর্বের ধারাবাহিক নাটক প্রচার হয়েছে। চঞ্চল জানান, এবারের ঈদে প্রচারিত নাটক টেলিছবির মধ্যে দীপু হাজরার টেলিছবি ‘উসিলা’ এবং তাইফুজ্জামান আশিকও জসিম মনের ‘বিবেক মজিদ’, ‘হপাই’ নাটক দুটি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

এনটিভিতে রঙিন পাতা

বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভিতে প্রতি রোববার রাত ৯টা ৫ মিনিটে প্রচার হচ্ছে বিনোদনমূলক ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘রঙিন পাতা’। যেখানে একজন তারকা, বিনোদন সাংবাদিক ও বিভিন্ন অঙ্গনের একজন তারকা শিল্পী অতিথি হয়ে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করছেন শ্রাবণ্য তৌহিদা। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা ও গবেষণা করেছেন সাংবাদিক নাইস নূর। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে উপস্থিত ছিলেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান ও সাংবাদিক আদর রহমান, সহ-সম্পাদক, ফিচার বিভাগ, দৈনিক প্রথম আলো। কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের দেশের খবরের কাগজগুলোতে একটি পাতা বরাদ্দ থাকে বিনোদন জগতের খবরাখবরের জন্য। এই পাতাটিকে বিনোদন পাতা বলা হয়ে থাকে। বিনোদন পাতাটিকে ঘিরে বিনোদন জগতের বাইরেও সাধারণ পাঠকের রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। পত্রিকার সেই বিনোদন পাতাকে নিয়েই অনুষ্ঠানটি মূলত সাজানো হয়েছে। কাজ ও কাজের বাইরে সাংবাদিকের সঙ্গে শিল্পীদের সম্পর্ক কেমন, সেই বিষয়গুলো অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে সাংবাদিক ও তারকা শিল্পীদের আড্ডার মধ্য দিয়ে মিডিয়া জগতের অনেক জানা ও অজানার গল্প জানতে পারবেন দর্শক।’