এটাই যুগের দাবি-ইমরান

এটাই যুগের দাবি-ইমরান

481
SHARE
imran-music-video

এ সময়ের আলোচিত সংগীত শিল্পী ও কম্পোজার ইমরান মাহমুদুল। গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক ভাবে শ্রোতাপিয়তা গান উপহার দিয়ে আসছেন তিনি। তার সুর ও সংগীতায়োজনে অন্য শিল্পীদের কণ্ঠে শ্রোতাপ্রিয় গানের সংখাও কম নয়। এরই মধ্যে তার তিনটি গান প্রায় এক কোটি দর্শক উপভোগ করেছেন। বৃষ্টি ভেজা একসন্ধ্যায় ইমরান বলেছেন তার বর্তমান ব্যস্ততা ও সংগীত জীবন নিয়ে নানা কথা। লিখেছেন মোহাম্মাদ তারেক।

আনন্দ আলো: দুই বাংলায় একমাত্র শিল্পী হিসেবে আপনার তিনটি গানই এরই মধ্যে ইউটিউবে কোটি দর্শক উপভোগ করেছেন। আপনার অনুভ‚তির কথা জানতে চাই?

ইমরান: অনুভ‚তি খুবই ভালো। আমার গাওয়া বলতে বলতে চলতে চলতে’, ‘দিল দিল দিল’ ও ‘ফিরে এসো না’ এই তিনটি গানেরই প্রায় এককোটি ভিউয়ার্স অর্জন করেছে। এ গানগুলোর মাধ্যমে যে ভালোবাসা পেয়েছি সেটা খুব কম মানুষের ভাগ্যে জোটে। নিঃসন্দেহে এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের ও অনুপ্রেরণার বিষয়। সব মিলিয়ে শ্রোতা, ভক্ত, শুভানুধ্যায়ীদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আনন্দ আলো: আপনার ‘ধোয়া’ গানটিও বেশ সাড়া ফেলছে?

ইমরান: ধ্রæব মিউজিক স্টেশন থেকে প্রকাশিত হয় ‘ধোয়া’ গানটি। আবদার রহমানের কথায় গানটির সুর আমারই করা। আর সংগীতায়োজন করেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির ভাই। এর মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন চন্দন রায় চৌধুরী। গানটিতে আমার সঙ্গে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন লিয়ানা লিয়া। প্রকাশ হওয়া মাত্র একদিনে সর্বোচ্চ ৫ লাখ দর্শক এ গানটি ইউটিউবে উপভোগ করেছেন। এর আগে দেশীয় কোনো গান ইউটিউবে এমন অল্প সময়ে এত সংখ্যক দর্শক উপভোগ করেননি। আমি অবাকই হয়েছি। সত্যি বলতে কি এর সাড়ায় আমি আপ্লুত। আর এরকম সাড়া আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ প্রদান করবে। এরই মধ্যে গানটি ইউটিউবে ১৫ লাখেরও বেশি দর্শক উপভোগ করেছেন। আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যে এ গানটিও কোটি ভিউ ছাড়াবে। ‘ধোয়া’ গানটি এতটা পছন্দ করার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা শ্রোতাদের প্রতি।

আনন্দ আলো: ধারাবাহিক ভাবে আপনি একের পর এক হিট গান শ্রোতাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। এ সফলতার রহস্য কী?

ইমরান: সফলতার রহস্য কী সেটা জানি না। তবে চেষ্টা করছি ভালো মানের কাজ করতে। সময়ের সঙ্গে চলতে।

আনন্দ আলো: আপনার মিউজিক ভিডিওর কি খবর?

ইমরান: সম্প্রতি সাউন্ডটেকের ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে আমার নতুন গানের মিউজিক ভিডিও ‘আমার ইচ্ছে কথায়’। এর কথা লিখেছেন জুলফিকার রাসেল। আর সুর ও সংগীতায়োজন আমারই করা। গানটির অডিও যারা শুনেছেন তারাই পছন্দ করেছেন। সে কারণেই ভিডিওটি করার সিদ্ধান্ত। গানের কথার সঙ্গে মিল রেখে বেশ বড় আয়োজনের মিউজিক ভিডিও করা হয়েছে। ভিডিওটি পরিচালনা করেন চন্দন রায়। ভিডিওতে আমার সঙ্গে মডেল হিসেবে কলকাতার মৌমিতা হারি খুব ভালো করেছে।

আনন্দ আলো: আপনার গাওয়া ‘দিল দিল দিল’ গানটির জন্য এবার মেরিল প্রথম আলো পারফারমেন্স অ্যাওয়ার্ডে সেরা গায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অনুভ‚তি কেমন ছিল।

ইমরান: অনুভ‚তি একদমই অন্যরকম। কারণ শ্রোতাদের ভালোবাসা অনেক আগেই পেয়েছি। এবার মেরিল প্রথম আলো অ্যাওয়ার্ডটি পেলাম। আমি আনন্দ ধরে রাখতে পারছিলাম না। এ অনুভ‚তি আসলে বলে প্রকাশ করা যাবে না।

আনন্দ আলো: যখন আপনি ‘দিল দিল দিল’ গানটি গেয়েছিলেন তখন কী ভেবেছিলেন এই গানটি কোটি ভিউয়ার্স হবে।

ইমরান: প্রথমে এটা ভাবেনি। বসগিরি ফিল্মে আমি প্রথমে একটা রোমান্টিক গান করেছিলাম। গানের কথা ছিল ‘ ‘কোনো মানে নেই’। এই গানটির মাস্টার যখন প্রডিউসারকে দেই তখন আরেকটা গান আমাকে শোনায়। আমাকে বলে এই গানটা দেখ কেমন হয়। কাকে দিয়ে গাওয়ালে ভালো হয়। পরে উনাকে বললাম গানটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। উনি বললেন, গানটা তুমিই গাও। তারপর আমি ইমন ভাইয়ের স্টুডিওতে গেলাম। সেখানে বকুল ভাইও ছিলেন। গানটি গাওয়ায় সবাই ভালো বললো। কনা আপুও খুব ভালো গেয়েছে। এই গানটি যে কোটি ভিউয়ার্স হবে, এই গানটির জন্য আমি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পাবো এটা আমি কখনোই ভাবেনি। এটা আমার জন্য সারপ্রাইজ।

আনন্দ আলো: এখন আপনার লক্ষ্য কী?

ইমরান: এ পুরস্কারের ফলে উৎসাহ যেমন বাড়লো, তেমনি দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। সামনে আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে চাই। মনের সঙ্গে কখনো আপস করতে চাই না।

আনন্দ আলো: চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে আপনাকে আমরা পেয়েছি। এই অবস্থানে আসার পেছনে কতটা সংগ্রাম করতে হয়েছে আপনাকে?

ইমরান: চেষ্টা এবং সংগ্রামের আসলে কোনো শেষ নেই। সেরাকণ্ঠ থেকে বের হওয়ার পর আমি সব সময় চেষ্টা করতাম আমার নিজের একটা মৌলিকতা ক্রিয়েট করার টেনডেনন্সি সব সময় ছিল। সবার চেষ্টাটা সৎ থাকতে হয়। আমিও অনেক চেষ্টা করেছি, সংগ্রাম করেছি। স্ট্রাগল করেছি। নিজে স্টুডিও দিয়েছি। সেখানে কাজ করেছি, গান শিখেছি। আমি অন্যাদের বেলায় যে সাজেশনটা দেব সেটা হচ্ছে চেষ্টা অনেক বেশি থাকতে হবে। তাহলে আমার মনে হয় একজন মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।

আনন্দ আলো: গান এখন ভিডিও নির্ভর হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

imranইমরান: ভালো গান শ্রোতারা সব সময়ই শোনে। এখন গানের ধারার পরিবর্তন হয়েছে। শ্রোতারা গানের সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। খুব সহজে মানুষের কাছে গান পৌঁছানো আর জনপ্রিয়তা পাওয়ার একমাত্র উপায় ভিডিও। তাই গান তৈরির সময়ই ভিডিওর কথা মাথায় রাখতে হয়। গানের কথার সঙ্গে মিল রেখে গল্প আর গ্ল্যামারকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি এসব গানের ভিডিও জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। এটাই যুগের দাবি।

আনন্দ আলো: আপনার পছন্দের মিউজিক ভিডিও কোনটি?

ইমরান: এ পর্যন্ত আমার যতগুলো মিউজিক ভিডিও বের হয়েছে সবগুলোই আমার পছন্দের। একেকটা ভিডিও একেক রকমের। তার মধ্যে শফিক তুহিন ভাইয়ের লেখা ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানটি একটা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বলতে পারেন এটা আমার খুবই পছন্দের প্রিয় একটি গান। ‘ফিরে এসো না’, ‘দিল দিল দিল’ গান দুটিও আমার পছন্দের গান। ‘সবাই তো চলে যাবে’ ভিডিওটি অ্যাকটিং বেইজড। সবার প্রশংসা পেয়েছি। এই গানটির মিউজিক ভিডিও আমার অনেক ভালো লেগেছে। ধোয়া গানটিও আমার পছন্দের একটি গান। এরই মধ্যে এ গানটি বেশ সাড়া ফেলেছে। তাছাড়া আমার সর্বশেষ যে মিউজিক ভিডিওটি বের হয়েছে সেটা হচ্ছে ‘আমার ইচ্ছে কথায়’। গানটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই গানটির মিউজিক ভিডিও ভালো লেগেছে।

আনন্দ আলো: এখন আর কেউ ১০/১২টি গান দিয়ে অ্যালবাম প্রকাশ করছে না। একটি দুটি সিঙ্গেল করে প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

ইমরান: এখন ১০/১২টি গান দিয়ে অ্যালবাম করে লাভ নেই। কারণ একক অ্যালবামের সব গান ঠিকভাবে প্রচার হয় না। যে কারণে অনেকেই মিনি অ্যালবাম আকারে গান প্রকাশ করছে। এখন গান বিভিন্ন অ্যাপস এ বের হচ্ছে। এর সুবিধাটা হচ্ছে নতুন একটা আয়ের উৎস সৃষ্টি হলো। আগে যেমন সিডি বিক্রি হয়ে আয় হতো। তারপরে রিংটোন, ওয়েলকাম টিউনের মাধ্যমে একটা আয় হতো। এখন ইউটিউবের মাধ্যমেও আয় হচ্ছে। আবার নতুন করে মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোডের মাধ্যমে গান শুনছে মানুষ। সেখান থেকেও আয়ের একটা উৎস চলে আসছে। আয়ের উৎস যে কোনো মাধ্যমেই হোক সেটাকে আমরা স্বাগত জানাব।

আনন্দ আলো: গানের ক্ষেত্রে কথা, সুর ও কণ্ঠ কোনটাকে প্রাধান্য দেন?

ইমরান: আমার নিজের কথা বললে বলব গানের কথা, সুর ও মিউজিক আমার কাছে জরুরি। একটা গানের ভেতর সব সময় সিগনেচার মিউজিক রাখার চেষ্টা করি। গানটির আইডেনটিটি ওই মিউজিকটাই। মিউজিকটা যেন একটা গানে বারবার রিপিট হয় সেটা মাথায় রাখি। মিউজিকের কারণে শ্রোতারা গানটি মনে রাখে। রাইট টিউন, রাইট গায়ক সবকিছু ভালো হলে গান অবশ্যই ভালো হবে।

আনন্দ আলো: বর্তমানে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন যাচ্ছে বলে মনে হয় আপনার।

ইমরান: এখন অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভালোর দিকে যাচ্ছে। কারণ গান থেকে আয়ের অনেক মাধ্যম তৈরি হয়েছে। ইউটিউব থেকে আয় আসছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসেছে যারা ভালো কাজ করছে। সেলফোন কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসছে। ভালো মানের গান হচ্ছে, ভিডিও হচ্ছে।

আনন্দ আলো: আপনার মতে কোনটা জরুরি অডিও নাকি ভিডিও?

ইমরান: অবশ্যই অডিও। কারণ গান শুনতে ভালো না লাগলে তা কখনোই গ্রহণ যোগ্যতা পাবে না। সেটার যত ভালো ভিডিও করা হোক না কেন অডিওকে আগে  প্রাধান্য দেয়া উচিত। আর ভিডিওটা হলো গান প্রচারণার একটা মাধ্যম।

আনন্দ আলো: আপনার কাছে প্রেম কী?

ইমরান: আমার কাছে প্রেম মানে বিশ্বাসে, প্রেম মানে সেক্রিফাইস, প্রেম মানে একটা সম্পর্কের মধ্যে সৎ থাকা।

আনন্দ আলো: আপনার প্রথম প্রেমের কথা জানতে চাই?

ইমরান: প্রথম প্রেম হয়েছিল ক্লাস টেনএ থাকতে। আমি তো বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেছি, তাই সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমের কোনো সুযোগ ছিল না। মজার বিষয় হলোÑ গানই আমাকে প্রথম প্রেমের সুযোগ করে দিয়েছিল। সেই মেয়েটির স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গেয়েছিলাম। সেখানেই পরিচয়, তারপর প্রেম। ছোটবেলার প্রেমগুলো যেমন হয় আর কী? কিছুদিন আগে মনে হয়, আমার সেই সাবেক প্রেমিকার অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে গেছে। হা হা হা।

আনন্দ আলো: আপনি গান গেয়ে মানুষকে বিনোদিত করেন। আপনার বিনোদন কী?

ইমরান: বিনোদন আসলে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আমি বিনোদিত হই যখন মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আমার গান শোনে। মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় বিনোদন আমার কাছে নেই।

আনন্দ আলো: গান নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ইমরান: গান নিয়ে আমার মাত্র পথচলা শুরু।  ভালো মানের গান নিয়ে আমি অনেক দূর যেতে চাই। দিন শেষে অবশ্যই সফল কম্পোজার এবং সফল সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই।