Home শীর্ষ কাহিনি এখন মনের ভাগ দূর করাই আসল কাজ -গৌতম ঘোষ

এখন মনের ভাগ দূর করাই আসল কাজ -গৌতম ঘোষ

SHARE

আনন্দ আলো: ‘মনের মানুষ’-এর পরে বাংলাদেশের জন্য এটি আপনার নতুন ছবি। এ ব্যাপারে জানতে চাই।

গৌতম ঘোষ: বাংলাদেশে ছবি নির্মাণের অভিজ্ঞতা অনেক দিনের। এর কারণ একটাই দেশের প্রতি টান। আমরা ফরিদপুরের লোক। এক সময় বাংলাদেশেই ছিলাম। আমি আজ থেকে ২২ বছর আগে প্রথম যখন ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ করার কথা ভাবি তখন আমার বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন। বলেছিলেন, তুমি তোমার দেশের জন্য ছবি বানাচ্ছো ভালো কথা। এতদিনে একটা কাজের কাজ করছো। তখন থেকেই হাবিবুর রহমান খানের সাথে আমার পরিচয়। আমরা দু’জন দু’জনকে ‘মিয়া ভাই’ বলে ডাকি। বলা যায় হাবিব ভাইয়ের উৎসাহেই আমরা দুই বাংলা মিলে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবিটি বানালাম। দারুণ উৎসাহের ব্যাপার ছিল এটি। দুই বাংলার সিনেমাপ্রেমী মানুষের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। একটা উৎসবে পরিণত হয়েছিল। ‘পদ্মা নদীর মাঝির’ স্যুটিং করার জন্য আমরা বছরের বিভিন্ন সময় অর্থাৎ বিভিন্ন ঋতুকে ব্যবহার করেছিলাম। অর্থাৎ বর্ষার স্যুটিং হয়েছিল বর্ষাকালেই। গরমকালের স্যুটিং গরমকালে। শিল্পীরা দারুণ সহযোগিতা করেছেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবসহ দেশ-বিদেশে নানা উৎসবে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ পুরস্কৃত হয়েছে। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ আমাদেরকে অনেক আনন্দ দিয়েছে।

‘পদ্মা নদীর মাঝি’ নির্মাণের পর হাবিব দেখা হলেই বলতো- মিয়া ভাই আবার কবে নতুন ছবি শুরু করবা… নতুন ছবি শুরু করব করব করতেই অনেকটা সময় পার হয়ে গেল। এক পর্যায়ে ‘মনের মানুষ’ নির্মাণ করলাম। লালনের কাহিনী নিয়ে এই ছবিটির জন্য তো আমরা সবাই বাউল হয়ে গিয়েছিলাম। বাউল ফকিরের মতো সবার হাবভাব। সেটাতেও দারুণ আনন্দ হয়েছিল সবার। দুই দেশেরই শিল্পী- কুশলী ছিলেন। সত্যি এ আনন্দ ঠিক বলে বোঝানো যাবে না। অসাধারণ! ছবি দুটো করতে করতে আমার একটা উপলব্ধি হলো ঐতিহাসিকভাবে আমরা ভাগ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাঙালি জাতিতো ভাগ হতে পারে না। বাঙালি তো একটাই জাতি। তার ভাষা বাংলা। এই উপলব্ধিটাই আমাকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আমি মনে করি দুই বাংলা মিলে ছবি করলে তার বাজারও বড় হয়। দুই বাংলার শিল্পী-কলাকুশলীরা কাজ করতে পারে এক সাথে। সারাবিশ্বে কোটি কোটি বাঙালি ছড়িয়ে আছে। অথচ আমরা আমাদের ছবির বাজার তৈরি করতে পারিনি। অথচ সীমিত জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ভারত বর্ষের তামিল-তেলেগু ভাষার ছবি বিশ্বের বাজার দখল করে নিয়েছে। এর কারণ বোধকরি আমরা ব্যবসায়ী হিসেবে অতটা এক্সপার্ট না। একথায় এগ্রেসিভ নই। আমাদের কোনো ভিশন নেই। তবে আমি বিশ্বাস করি পরিস্থিতি পাল্টাবে। অতীতে যা হয়নি ভবিষ্যতে তাই হবে। এবং সেজন্য আমাদের প্রজন্মকে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো অবস্থাটা এমন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাবে তখন বাংলা ছবি সেটা যেখানকারই হোক, ভারত অথবা বাংলাদেশের হোক মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

আনন্দ আলো: ‘শঙ্খচিল’-এর কথা কিছু বলুন।

1গৌতম ঘোষ: হ্যাঁ, সে কথায় আসছি। ‘মনের মানুষ’ করার পরও একটা বড় গ্যাপ হয়ে যাচ্ছিলো। হাবিব দেখা হলেই বলে, মিয়া ভাই। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ করার পর নতুন ছবির জন্য অনেক সময় নিয়েছ। এবার সময়টা কমাও। বেশি গ্যাপ দিও না। আমি তার কথা শুনি আর বলি, দেখা যাক…

মাঝখানে আমি ‘শূন্য অংক’ নামে একটি ছবি করেছি। কিন্তু সারাক্ষণ হাবিবের কথাই কানে বাজে। মিয়া ভাই ভাবো… ভাবো… বেশি গ্যাপ দিও না।

হঠাৎ বর্ডারের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমার ডাক পরলো। ইন্ডিয়ান বর্ডার গার্ড এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং অর্থাৎ একটি অনুষ্ঠান ছিল বেনাপোল বর্ডারে। আমাকে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। ঐ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমি তাদের সাথে দু’দিন ছিলাম। দু’দেশের বর্ডার গার্ডদের কাছ থেকে দুই দেশের সীমানত্ম, দুই দেশের মানুষ নিয়ে নানা বাসত্মব গল্প শুনি। সীমানেত্মর জীবন আমার কাছে নতুন ভাবে ধরা দেয়। আর এরকম একটা সীমানত্ম যার দুই দিকের চেহারা একই রকম। মানুষের চেহারাও এক। ভাষা এক। খাদ্যাভাষ, নদীনালা, খালবিল, বাড়িঘর সবই একই রকম। অথচ মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। পৃথিবীর আর কোথাও এমন সীমানত্ম আর দ্বিতীয়টি নেই।

দুই দেশের বর্ডার গার্ডদের সাথে ভাববিনিময় করতে করতে কিছু সত্য ঘটনা আমার মাথার ভেতর ঢুকে গেল। দেশ ভাগ নিয়ে অনেক ছবি হয়েছে। ঋত্বিকদার ছবিতে সেই যন্ত্রণার ছাপ আমরা পেয়েছি। হাবিব আমাকে নতুন ছবি বানানোর কথা বলেই চলেছে। অথচ দেশ ভাগ নিয়ে ছবি বানানোর কথা বলেনি। একটানা দুইদিন সীমানেত্ম থাকার পর আমার হঠাৎ মনে জাগল আচ্ছা- দুই দেশ ভাগ হয়ে গেল কেন? বাঙালি জাতি কেন ভাগ হয়ে গেল? বর্ডার গার্ডদের কাছ থেকে কতগুলো ঘটনা শুনে মনে হলো এইসব কাহিনী নিয়ে একটা ছবি বানানো উচিত। এই মুহূর্তে সারা পৃথিবীতে ‘সীমানত্ম’ একটি সব চাইতে বড় ইস্যু। বড় আলোচনার বিষয়। এই বিষয়টা নিয়েই ছবি হতে পারে। সীমানত্ম থেকেই আমি হাবিবকে ফোন করি। মিয়া ভাই সীমানত্ম অর্থাৎ বর্ডার নিয়ে আমার মাথায় একটা গল্প ঢুকে গেছে… আমার কথা শুনে হাবিব বললেন, হ্যাঁ তুমি তো আমার মনের কথা বলেছ। আমি কিন্তু তোমাকে কখনো বলিনি দেশভাগ নিয়ে ছবি কর। অথচ মনে মনে চাইতাম। আমি খুব খুশি হয়েছি। তুমি এই ছবিটা শুরু কর। এই হলো ‘শঙ্খচিল’-এর সূত্রপাত। ব্যস, ‘শঙ্খচিল’ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।

আনন্দ আলো: এবারও তো দুই বাংলার শিল্পীরাই আপনার ছবিতে অভিনয় করেছেন?

গৌতম ঘোষ: হ্যাঁ। দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনা। শিল্পীরাও দুই বাংলার। ওপারের আছেন প্রসেনজিৎ, দীপঙ্কর দে সহ অনেকে। এপারের আছেন, নতুন মেয়ে সাঝবাতি, কুসুম শিকদার মামুনুর রশীদসহ অনেকে। মামুন আমার অনেক পুরনো বন্ধু। অসাধারণ এক গুণী অভিনেতা। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

আনন্দ আলো: ‘শঙ্খচিল’-এর স্যুটিং নিয়ে কিছু বলুন। কোথায় কোথায় স্যুটিং হয়েছে?

গৌতম ঘোষ: ছবির গল্প, চিত্রনাট্য লেখা হল। এবার খোঁজা শুরু হলো ছবির লোকেশন। খুঁজতে খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গের ডাকি বলে একটা জায়গা আমাদের পছন্দ হলো। ডাকির অপর প্রানেত্ম দেবহাটা। মাঝখানে ইছামতি নদী। ইছামতির মধ্যখান দিয়ে দুই দেশের বর্ডার…

আনন্দ আলো: নদীর মাঝখানে দুই দেশের বর্ডার?

গৌতম ঘোষ: হ্যাঁ নদী ভাগ…

আনন্দ আলো: নদীর মাঝখানে বর্ডার? এটা কি করে হয়?

গৌতম ঘোষ: হ্যাঁ এটাই হয়েছে। একসময় হয়তো ঐখানে নদী ছিল না। সমতল ছিল। নদীর এপার ভাঙ্গে ওপার গড়ে। নদীর গতি পাল্টায়। এই কারণে হয়তো সমতলের জায়গাকে নদী গ্রাস করেছে। কিন্তু সীমানেত্মর ভাগাভাগিটা থেকেই গেছে…

আমরা এক পর্যায়ে সিদ্ধানত্ম নিলাম নদীর এপার-ওপার মিলিয়ে স্যুটিং করবো। বাংলাদেশ অংশে সাতক্ষীরা জেলার একটি এলাকা, পশ্চিমবঙ্গের দেবহাটাসহ কিছু এলাকায় লোকেশন ঠিক করা হলো। ‘শঙ্খচিল’ একটি ছোট সুখি পরিবারের গল্প। মানবিক গল্প। ছবির প্রয়োজনে এক স্কুল মাস্টারের জন্য সত্যিকারের একটি বাড়ি বানান হলো। এইভাবেই শুরু করেছিলাম বাংলাদেশে আমার তৃতীয় ছবি নির্মাণের যাত্রা।

আনন্দ আলো: এই যে তিনটা ছবি। একটার নাম ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। অন্যটা ‘মনের মানুষ’। তৃতীয় ছবি ‘শঙ্খচীল’। ৩টি ছবি নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ কী?

গৌতম ঘোষ: তিনটা ছবির মধ্যে… ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ একটি ক্ল্যাসিক লেখা। সেখানে নদী পদ্মাই নায়ক বা নায়িকা। নদীর সাথেই মানুষের জীবনের ভাঙাগড়া চলে। সব মিলিয়ে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ একটা জার্নি…

আনন্দ আলো: আর মনের মানুষ?

গৌতম ঘোষ: ‘মনের মানুষ’ নির্মাণের আগে কিছু ঘটনা আমাকে বেশ তাড়িত করে। বিশেষ করে বাবরী মসজিদকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটে তা আমাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আসলে মানবধর্ম বলতে আমরা কী বুঝি? প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মবোধ রয়েছে। তারপরও একটা মানবধর্ম আছে। জাতি ধর্ম আছে। কিন্তু আমরা কী তা মানছি? মানছি না বলেই কী গোটা পৃথিবী আজ অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে? রাজনৈতিক অস্থিরতা, ধর্মীয় অস্থিরতা, সাংস্কৃতিক অস্থিরতার এই সময়ে আমার মনে হয়েছিল লালনকে নিয়ে ছবি বানানো এটাই গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমার চিনত্মা হাবিবের সঙ্গে শেয়ার করি। সে রাজি হয়ে যায়। ইমপ্রেসকে সাথে পাই। ‘মনের মানুষ’ শুরু হয়ে যায়। আমার ধারণা সময় একজন ফিল্ম মেকারকে চালায়। ফিল্ম মেকারের মন সময়ের বাসত্মবতায় কিছু চেয়ে বসে। আমার মন তখন লালনকে চেয়েছিল। মনে হয়েছিল মানুষ মানুষে হানাহানি বন্ধ করতে হলে লালনের মানবপ্রেম ছড়িয়ে দিতে হবে। তাই ‘লালন’ নির্মাণেই নিজেকে ব্যসত্ম করে তুলি।

আনন্দ আলো: শঙ্খিিচল-এর ব্যাপারটা…?

গৌতম ঘোষ: ছোটবেলা থেকে ভাগাভাগির অনেক গল্প শুনেছি। ইতিহাসে পড়েছি। যা হয়ে গেছে তা তো আর ফেরানো যাবে না। কিন্তু যা আছে তাতো রক্ষা করা যেতে পারে। বাঙালি আমরা একটা জাতি। আমরা ভাগ হয়ে গেছি। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা যেন মানবিক হই, আরো বেশি আনত্মরিক হই… এই ভাবনাটাই শঙ্খচিল-এর মূল উপজীব্য। এখানে ‘শঙ্খচিল’ নামটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কবিরা শঙ্খচিলকে নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আমরা শঙ্খচিলকে পাই। ‘শঙ্খচিল’ নামটা দেবার কারণ হচ্ছে আকাশে শঙ্খচিল-এর কোন সীমানা নাই। সে এই দেশ থেকে সেই দেশে উড়ে যেতে পারে। তার রয়েছে সীমাহীন সীমানত্ম। সে উড়ে বেড়ায় আপন গতিতে… সে যেনো এক প্রতীকী চরিত্র। ছবিতে রূপসা নামে একটা চরিত্র আছে। তারও মনও এমন। সেও শঙ্খচিল-এর মতো মুক্তভাবে উড়তে চায়। পাশের দেশে যেতে চায়। তার কাছে অদ্ভুত মনে হয় কাঁটাতারের বেড়া। ছবিতে শঙ্খচিল নামটা প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করেছি।

আনন্দ আলো: আপনি বলছিলেন শঙ্খচিল-এ একজন নতুন মেয়ে অভিনয় করেছে। তার নাম সাঝবাতি। একজন কিশোরী। তার সম্পর্কে কিছু বলুন।

গৌতম ঘোষ: (মৃদু হেসে) আমার তো মনে হয় শঙ্খচিল-এ সাঝবাতি যে চরিত্রে অভিনয় করেছে তার জন্যই ওর জন্ম হয়েছে। চরিত্রটির জন্য সাঝবাতিই পারফেক্ট। আমি ওর অভিনয়ে অভিভূত। আমি চরিত্রটি লেখার সময় যা ভেবেছি ছবি বানানোর সময় তাই পেয়েছি। এই চরিত্রটির জন্য আমি যখন হাবিবের সাথে আলোচনা করি তখন ও বলেছিল আরে… এই অভিনেত্রী তো আমার ঘরেই আছে। আমার নাতনী সাঝবাতি। ওকে দিয়েই তো চরিত্রটি করানো যায়। আমি সাঝবাতির একটা পরীক্ষা নিলাম। পরীক্ষায় শুধু পাস নয় বিস্ময়ের সৃষ্টি করলো সাঝবাতি। ছবিতেও তাই করেছে। ওর অভিনয় দেখে সবাই মুগ্ধ হবেন।

আনন্দ আলো: কুসুম শিকদার কেমন করেছেন?

4-film--Shongkhachil-(10)গৌতম ঘোষ: খুবই ভালো করেছে। চমৎকার করেছে। ওদের পরিবারটাও চমৎকার হয়েছে। কুসুম এবং প্রসেনজিতকে মানিয়েছে বেশ। ওদের পরিবারে একমাত্র সনত্মান সাঝবাতি। একটি সুখি পরিবারের প্রতিচ্ছবি। পরিবারটাকে দেখে সবার ভালো লাগবে। মন ভরে যাবে। যেভাবে চিত্রনাট্য লিখেছি, পরিবারটিকে যেভাবে সাজিয়েছি পর্দায় ওদের তিনজনকে সেভাবেই পেয়েছি। মনে হচ্ছিলো সত্যিকারের একটা ফ্যামিলি। হ্যাপি ফ্যামিলি…. অনবদ্য অভিনয় করেছে সবাই। সিনেমায় সবচেয়ে বড় হলো দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা। যা দেখানো হচ্ছে তা যেন দর্শক বিশ্বাস করে। শঙ্খচীল-এ প্রসেনজিৎ, কুসুম সিকদার ও সাঝবাতিকে দেখে দর্শকের মনে হবে এরা সত্যিকারেরই একটা পরিবার। আসলে ছবিতে বিশ্বাসযোগ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে কোন ছবি হিট হয় না। দর্শকের মনে দাগ কাটে না। আমি অনেক বড় বড় তারকাকে নিয়ে কাজ করি। ছবি শুরুর আগে তাদেরকে বলি, তুমি তোমার স্টারডোমকে আগে ভুলে যাও। তারপর অভিনয় করো। তুমি যদি নিজেকে তারকা ভেবেই কোন ছবিতে অভিনয় করো তাহলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। আগে নিজেকে অভিনেতা বা অভিনেত্রী ভাব। যোগ্যতা থাকলে দর্শক তোমাকে স্টার বলবে। নিজে সেটা জাহির করতে যেও না। তাহলেই নিজের ক্ষতি করবে। মিঠুন, রেখা, শত্রুগ্ন সিনহা সবাইকে আমি একই কথা বলি। নিজেকে স্টার ভেবে অভিনয় করো না। তাহলে ডুবে যাবে। আর উঠতে পারবে না।

আনন্দ আলো: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসতে চাই। বাংলা ছবির বাজার নিয়ে অঠেক অস্থিরতা রয়েছে। এ ব্যাপারে কিছু বলবেন?

গৌতম ঘোষ: আমরা বাঙালিরা আসলে কুয়োর ব্যাঙ। সত্যি কথা। আমাদের এত বড় একটা জনসংখ্যা… অথচ কিছুই করতে পারছি না। প্রথমত মন থেকে ভাগটা সরিয়ে দিতে হবে। আমি ভারতীয় বাঙালি, আমি বাংলাদেশের বাঙালি, আমি এখানকার, আপনি ওখানকার এই ভাবনা দূর করতে হবে। ভাগটা সরিয়ে দিতে হবে মন থেকে। ঐতিহাসিক কারঈে আমরা ভাগ হয়ে গেছি। কিন্তু মনের ভাগটা সরাতে পারি। ভাবতে হবে আমার বাংলা ছবির একটা বাজার সৃষ্টি করতে হবে। ওয়ান উইন্ডো… একটা জানালা চাই। আমরা এখন জনসংখ্যা অনুযায়ী পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানে আছি। সারা পৃথিবীতে বাঙালি ছড়িয়ে রয়েছে। আমাদের থেকে কম জনসংখ্যার তামিল ছবি, তেলেগু ছদি এখন শুরু হয়েছে মারাঠি ছবি… সারাবিশ্বে বাজার মাত করছে। এর কারণ তারা মার্কেটিংঞ এর ক্ষেত্রে বেশ এগ্রেসিভ। কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে বেশ উদাসীন। বাংলা ছবির বাজার বড় করার জন্য সবার আনত্মরিকতা জরুরি। মনের ভাগটা সরাতে পারলেই এ ব্যাপারে অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। আমার বিশ্বাস তরুণেরা আগামীতে মনের ভাগ কাটিয়ে সারা বিশ্বে বাংলা ছবির বাজার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আনন্দ আলো: শঙ্খচীল নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?

গৌতম ঘোষ: সারাবিশ্বে হিন্দী ছবির বাজার যেভাবে বিসত্মৃত করা হয়েছে আমরা শঙ্খচীল-এর ব্যাপারে তেমনটিই ভাবছি। বোম্বের একটি বড় কোম্পানী এস এল ভিশন যারা জি নেটওয়ার্কের মালিক। তারা এই ছবিটির ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। ড্ডশঙ্খচীল’ দেখে এস এল ভিশন বেশি খুশি। ওদের ইচ্ছে ছবিটিকে বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করা। সবচেয়ে বড় কথা এই ছবির সাথে সাগর আছে অর্থাৎ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম, চ্যানেল আই আছে। ওদিকে জি আছে। এতবড় নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের কোন ছবির জন্য বোধহয় এর আগে তৈরি হয়নি। দেখা যাক এবার ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড় করায়।