এখন থেকে চ্যানেল আইতে প্রতিমাসের তৃতীয় শুক্রবার সাহিত্য আড্ডা

এখন থেকে চ্যানেল আইতে প্রতিমাসের তৃতীয় শুক্রবার সাহিত্য আড্ডা

978
SHARE

সাহিত্যের মিলনমেলা বসেছিল সেদিন

চ্যানেল আই এর ছাদঘরে কবি সাহিত্যিকদের আনন্দ মেলা বসেছিল সেদিন।  আনন্দ আলোর আহবানে ১৬ অক্টোবর এক সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়েছিল।  আড্ডাটি এক পর্যায়ে কবি সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।  নগর জীবনের সীমাহীন ব্যস্ততায় অনেকদিন হয়তো একজনের সাথে অন্যজনের দেখা হয় না অথবা মোবাইল ফোনে হাই, হ্যালোর… মাধ্যমে ছিল যোগাযোগ।  কিংবা শুধুই ফেসবুক বন্ধু।  সেদিন সাহিত্য আড্ডায় সরাসরি দেখা।  আহ! কী যে খুশির মুহূর্ত! এক পর্যায়ে সাহিত্যের এই আড্ডাটি অভূতপূর্ব আনন্দ ছড়িয়ে দেয় চারপাশে।

09_1একবার ভাবুন তো, ঠিক কতদিন আগে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক আর বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক রাহাত খান মুখোমুখি হয়েছিলেন? বোধকরি তারা নিজেরাও জানেন না।  এক সময়ের তুখোর আড্ডাবাজ তরুণ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার, উপস্হাপক ইমদাদুল হক মিলন কবে, কতদিন আগে তার বন্ধুদের সামনে নিরেট সাহিত্য নিয়ে কথা বলেছেন একথা বোধকরি তিনি নিজেও স্মরণে আনতে পারবেন না।  বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, কথা সাহিত্যিক আমজাদ হোসেন, অভিনেতা হাসান ইমাম, কবি আসাদ চৌধুরী এর আগে কবে, কোনদিন সাহিত্যের এমন আলোচনায় উপস্হিত ছিলেন সে কথা বোধকরি তাদেরও মনে নেই।  আর তাই আনন্দ আলোর আড্ডায় সাহিত্যের বন্ধু, সহকর্মী, সহযাত্রীদের অনেকদিন পর কাছাকাছি পেয়ে সকলে অভিভূত হয়ে ওঠেন।  আর এজন্য সকলেই কৃতজ্ঞতা জানান আনন্দ আলোর সম্পাদকম লীর সভাপতি, চ্যানেল আই এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক, বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরকে।  মূলত তারই আন্তরকিতায় আনন্দ আলোর উদ্যোগে সাহিত্য আড্ডার এই আয়োজন।  নেপথ্যে সূত্রধরের ভূমিকায় ছিলেন শিশু সাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম।  শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনন্দ আলোর সম্পাদক, কথা সাহিত্যিক রেজানুর রহমান।  সাহিত্য কী এবং কেন এই বিষয়ে বক্তব্য দেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।  আড্ডার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।  সন্ধ্যায় শুরু হয়ে অধিক রাত পর্যন্ত এই সাহিত্য আড্ডা চলে।  শেষে নৈশভোজে সকলকে আপ্যায়িত করা হয়।  আড্ডার উপস্হাপক ছিলেন দিলরুবা সাথী।

উপস্হিত সকলের সম্মিলিত প্রস্তাবের আলোকে এখন থেকে প্রতিমাসের তৃতীয় শুক্রবার চ্যানেল আই-এর ছাদঘরে আনন্দ আলোর উদ্যোগে নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন আনন্দ আলোর সম্পাদকম লীর সভাপতি বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর।  তার এই ঘোষণায় কবি সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

আড্ডায় যাঁরা উপস্হিত ছিলেন

Adda-1Adda-2সৈয়দ শামসুল হক, আবুল্লাহ আবু সায়ীদ, ইমদাদুল হক মিলন, ফরিদুর রেজা সাগর, রাহাত খান, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আমজাদ হোসেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, ড. এনামুল হক, রফিকুল হক দাদু ভাই, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, খায়রুল আলম সবুজ, আলী ইমাম, কাজী রোজী, নাসির আহমেদ,. সুব্রত বড়ুয়া, ফজল-এ খোদা, রবীন্দ্র গোপ, মুহম্মদ সামাদ, খালেক বিন জয়েনউদদীন, সৈয়দ আল ফারুক, রেজাউদ্দিন স্টালিন, সুজন বড়ুয়া, ভাস্কর রাসা, আহসান হাবীব, মহসিন আহমেদ, আফরোজা বানু, নাসির আলী মামুন, আলমগীর রহমান, শাহাবুদ্দীন নাগরী, ইফতে খারুল ইসলাম, গীতালী হাসান, শিমুল মুস্তাফা, এনামুল করিম নির্ঝর, নাহার ফরিদ খান, তাহমিনা কোরাইশী, লিলি ইসলাম, হাসান হাফিজ, ওয়াসিফ-এ খোদা, আব্দুর নূর তুষার, ফরিদ আহমেদ, ইরাজ আহমেদ, মনিরুল হক, ফারুক হোসেন, ফারুক মাহমুদ, সুফিয়া ইসলাম, বোরহান মাসুদ, গোলাম রব্বানী বিপ্লব, মালেক মাহমুদ, নাসের মাহমুদ, রাশেদ রউফ, কাজী মোহিনী ইসলাম, কাজী রহিম শাহরিয়ার, মিলন নাথ, নওশেবা সবিহ কবিতা, জসিম উদ্দিন, খান শামিমা হক, আয়েশা জেবিন আশা, শাকিরা পারভীন, মৃত্তিকা গুন, রাজু আলীম, মাশরুর শাকিল, এহসান মাহমুদ, আনজীর লিটন, যাযাবর মিন্টু, বিদ্যুৎ কুমার দাস, মঈন মাহমুদ, সিরাজুল ফরিদ, নরুদ্দীন শেখ, জাকির আবু জাফর, সুলতানা শাহরিয়ার পিউ, শাকিল চৌধুরী, মারুফ রায়হান, সোহেল মল্লিক, পলাশ মাহবুব, আফরোজা কনা।

সাহিত্য আড্ডা নিয়ে আনন্দ আলোর বিশেষ সংখ্যা

মাসের তৃতীয় শুক্রবার আনন্দ আলোর উদ্যোগে চ্যানেল আই এর ছাদঘরে নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হবে।  কাজেই পরবতর্ী সাহিত্য আড্ডার তারিখ হচ্ছে ২০ নভেম্বর ২০১৫।  সন্ধ্যা ৬টায় এই আড্ডায় সাহিত্যপ্রেমী সকল বন্ধু, শুভাকাঙখীর আমন্ত্রণ রইলো।  আড্ডা শেষে নৈশভোজের আয়োজন থাকবে।  ও হ্যাঁ, ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম সাহিত্য আড্ডার ওপর আনন্দ আলোর একটি সাহিত্য সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  ২০ নভেম্বর দ্বিতীয় সাহিত্য আড্ডায় উপস্হিত সকলের হাতে সংখ্যাটি তুলে দেয়া হবে।