এই শীতে ফ্যাশনেবল পোশাক

এই শীতে ফ্যাশনেবল পোশাক

935
SHARE
Fashion-Corner-1

শীতের মৌসুমটাই বেশ উপভোগের। আর শীতেই সবচেয়ে বেশি ফ্যাশননেবল পোশাক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ট্রেন্ডের পোশাকও এই শীতে আসে বাজারে। তাই তো এই মৌসুম শীত ফ্যাশনের জন্য দারুণ উপযোগী। চমৎকার সব স্টাইলিশ পোশাক হতে পারে আপনার এ সময়ের সঙ্গী।

এবার শীতে বাজার ঘুরে দেখা গেছে ফ্যাশনেবল সব বাহারি শীতের পোশাক-এর সরব উপস্থিতি। হালকা জিন্স বা গ্যাবাডিনে তৈরি জ্যাকেট এরই মধ্যে চলে এসেছে। শীতে এগুলো দেখাবে দারুণ স্টাইলিশ। পাতলা উলের সোয়েটার কিংবা ফুল  িভ টি-শার্টও চলে এসেছে বাজারে। এগুলো একইসঙ্গে আপনাকে দেবে উষ্ণতা ও মন পছন্দের স্টাইল। শীতের সময় জ্যাকেট কিংবা সোয়েটারের সঙ্গে নানা স্টাইলের জিন্সের চলটাই এখন বেশ জনপ্রিয়। ফুল শার্টের ভেতরে একটি টি-শার্ট পরে নিলেও খারাপ দেখাবে না। শীতের পোশাকে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদেরকে হাল ফ্যাশনের পোশাকই বেশি দেখা যায়। সালোয়ার কামিজ পরা মেয়েদের জন্য আছে লং জ্যাকেট, পঞ্চ। ফুলহাতা উজ্জ্বল রংয়ের লম্বা পাঞ্জাবিও আছে। যা চুড়িদার পায়জামার সঙ্গে পরে তার ওপর একটা শাল জড়িয়ে নিলে ফ্যাশনও হবে আরামও পাবেন।

তরুণীদের জন্য আরো রয়েছে মোটা কাপড়ের টপস, লেগিংস আর বাহারি ডিজাইনের কার্ডিগান। শাড়ির ক্ষেত্রে ফুল  িভ ব্লাউজ আর শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে শাল জড়িয়ে হয়ে উঠতে পারেন অনন্য। টি শার্ট বা শার্ট- এর সঙ্গে উপরে পরতে পারেন হাতা কাটা সোয়েটার। অথবা একটু ঢিলেঢালা পুলওভার। এবারে শীতে আঁটসাঁট নয় বরং ঢিলেঢালা পোশাকই পরতে আগ্রহী কিশোরী আর তরুণীরা। সোজা কাটের পোশাকের সঙ্গে বেছে নিতে পারেন হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ব্লেজার। জ্যাকেট আর ব্লেজারের সংমিশ্রণে তৈরি নতুন ধরনের শীতের পোশাক উঠে আসছে তরুণদের পছন্দের তালিকায়। অফিসের প্রয়োজনে ব্লেজার পরতে পারেন। তবে আগের মতো আর সাদা, কালো বা ছাই রংয়ের ব্লেজারে বন্দী থাকবেন না। এবার বেছে নিতে পারেন গাঢ়, মেরুন, কালো হলুদের মিশ্রণ, বেগুনি, পার্পেল রংয়ের ব্লেজার। এছাড়া হুডি জ্যাকেটও ধরে রাখছে হাল ফ্যাশনের আবেদন। আর মাফলার তো আছেই। ছেলে-মেয়ে সবার পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে রঙিন মাফলার।

শীতকাল হলো আঁটসাঁট চাপা জিন্স পরার উপযুক্ত সময়। এক্ষেত্রে গাঢ় রংয়ের প্রাধান্যই বেশি। বিভিন্ন রংয়ের শার্টের সঙ্গে অল্প কিছু গয়না কিংবা গয়না না পরে কেবলমাত্র স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন। স্কার্ফ এমন একটা ফ্যাশন অনুষঙ্গ, যা কি না শীত বা গ্রীষ্ম যে কোনো ঋতুতে যে কোনো পোশাককেই দারুণ আকর্ষণীয় করে তোলে। সাদা টপ আর প্লেইন জিন্সের সঙ্গে একটা স্কার্ফ জড়িয়ে নিলেই ভীষণ মার্জিত আর স্টাইলিশ দেখাবে। এটাই স্কার্ফ ব্যবহারের সুবিধা।

Fashion-Cornerএই শীতে লেগিংসের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। ঢিলেঢালা সোয়েটারের সঙ্গে লেগিংস আর পা ঢাকা জুতোয় দারুণ মানাবে যে কোনো তরুণীকেই। ভি আকৃতির টি শার্টের সঙ্গে সোয়েটার আর একটা স্কার্ফ জড়িয়ে নিলে দেখতে ভালো লাগবে। অনেকে শীত ফ্যাশনে বিদেশি ট্রেন্ডটাকে ফলো করেন। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো

ফ্যাশনে হুবহু বিদেশি ফ্যাশন পত্রিকা বা ফ্যাশন সাইটগুলো অন্ধের মতো ফলো না করাই ভালো। কারণ আমাদের দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে তাঁরা পোশাক তৈরি করে না। ধরুন খুব একটা ঠান্ডা পড়েনি, অথচ আপনি নি-লেংথ বুটস পরে রাসৱায় বেরিয়ে পড়লেন! এটা দেখতে হাস্যকর লাগবেই।

শীতের একটি জনপ্রিয় পোশাক জ্যাকেট। যা ছেলে-মেয়ে উভয়ই পরতে পারেন। তবে বিদেশি নয়, এখন দেশের বাজারেই ভালো জ্যাকেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ডেনিম, ফ্লানেল, কর্ড, উল, মোটা ক্যানভাসের কাপড়, প্যারাসুটের কাপড় এবং চামড়ার তৈরি জ্যাকেট। এর মধ্যে এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ডেনিম ও চামড়ার জ্যাকেট। চামড়ার স্থায়িত্ব, আরাম, রং ও টেক্সচারের জন্য গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। চামড়ার জ্যাকেটের জনপ্রিয় কিছু স্টাইল হচ্ছে বেসিক ওয়েস্টলেস জিপ ফ্রন্ট জ্যাকেট, ক্লাসিক লেন্থ জিপ ফ্রন্ট কিংবা টু বাটন, ফোর বাটন জ্যাকেট, ভেলেন্ট লেদার রাইডিং জ্যাকেট, ইলাস্টিকসহ বোম্বার স্টাইল জ্যাকেট, মোটরবাইক, মিলিটারি, এভিয়েটর, রকস্টার, পাঙ্ক, পুলিশ জ্যাকেট ইত্যাদি। আর্টিস্টি, ওটু, একস্ট্যাসি, আরবান ট্রুথ, ফ্রিল্যান্ড, স্মার্টেক্স, তানজিম স্ট্রিট, ওয়েস্টেকস, ক্যাটস আই, প্লাস পয়েন্ট, ইনফিনিটিসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস, বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট ও তার আশেপাশে, উত্তরা, ধানমন্ডির বিভিন্ন শপিং মল, মিরপুর ছাড়াও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি মার্কেটেই পাবেন শীতের পোশাক।

অন্যদিকে শীতের সকালে শাল ছাড়া যেন শরীরে উষ্ণতা আসে না। তবে শুধু শীতের পোশাক হিসেবেই নয়, ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে আজকের প্রজন্মের কাছে শালের রয়েছে আলাদা কদর। শালের বুননে কিংবা বিভিন্নরকম উপাদানের কারুকাজে ফুটে উঠছে বিভিন্ন রকম নকশা। শালের জমিনে ফুল, লতা-পাতার নকশা তো রয়েছেই, গাছ, নদী, সূর্য কিংবা কবিতার ছন্দের মাধ্যমে ফুটে ওঠে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ! এই শীতে শাল কেনার জন্য যেতে পারেন নগরীর দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে। আরো পাবেন নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে।

ডিজাইনের পাশাপাশি দামের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে শীত পোশাকে। বিভিন্ন ধরনের চামড়ার নকশা করা জ্যাকেট কেনা যাবে ২০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে। ক্যাজুয়াল ব্লেজার মিলবে ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকায়। হুডি জ্যাকেট বা সোয়েটার দোকান ভেদে কেনা যাবে ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। তা ছাড়া উলের সোয়েটারের দাম পড়বে ৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত। অপেক্ষাকৃত নতুন ব্র্যান্ড যেমন: রেলুসে, নয়ের, সিকোসোর সংগ্রহও বেশ আকর্ষণীয়। ঢাকার বনানী ১১ নম্বর সড়ক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে, যমুনা ফিউচার পার্ক, আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট, বদরুদ্দোজা সুপার মার্কেট ও বঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটে পাবেন শীতের পছন্দের পোশাক। এছাড়াও দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতেও পাবেন শীতের পোশাকের বিশাল সমারোহ। আড়ং, অঞ্জন’স, বিশ্বরঙ, রং বাংলাদেশ, অন্যমেলা, প্রবর্তনা, নাগরদোলা, সাদাকালো, বিবিআনাসহ বিভিন্ন দেশীয় হাউজে পাবেন শীতের চাদর ও কটিসহ আরো নানান ধরনের শীতের ফ্যাশনেবল পোশাক।

মডেল: শানু, নওরীন ও অরণ

পোশাক: মেন্‌স ওয়ার্ল্ড