উনিশ বছরে চ্যানেল আই

উনিশ বছরে চ্যানেল আই

264
SHARE
Channel-i-Dish

উনিশ বছরে পা দিল চ্যানেল আই। সময় কতো দ্রæত চলে যায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন সিদ্ধেশ্বরীর একটি বাড়িতে ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল টিভি মাধ্যম চ্যানেল আই। দেখতে দেখতে আঠারো বছর পার করলো। বয়সটা তারুণ্যের। কিন্তু তারুণ্যকে ছাপিয়ে মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে পৃথিবী ব্যাপি দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে চ্যানেল আই। বাংলাদেশের অন্যতম এই টিভি চ্যানেলটির মূল প্রেরণা ও শক্তি হলো দেশ-বিদেশের কোটি কোটি দর্শক। হৃদয়ে বাংলাদেশ চ্যানেল আই-এর এই মূল শ্লোগান সত্যি হৃদয়ে নাড়া দেয় সারাক্ষণ। আর তাইতো চ্যানেল আই মাত্র আঠারো বছরে হয়ে উঠেছে প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশের আয়না। চ্যানেল আই-এর সঙ্গে থাকলেই দেশ মাতৃকাকে অন্তর দিয়ে অনুভব করা যায়। সময়কে ধারণ করে নির্বিঘেœ পথ চলা যায়। সর্বোপরি আধুনিক দুনিয়ার সঙ্গেও সহজে যোগসূত্র রক্ষা করা যায়। আর তাই দেশ-বিদেশের কোটি কোটি বাংলা ভাষাভাষি মানুষের একমাত্র প্রিয় টিভি চ্যানেল হয়ে উঠেছে চ্যানেল আই।

Channel-i-Directorপ্রশ্ন উঠতেই পারে চ্যানেল আই কেন এত জনপ্রিয়? চ্যানেল আই দেশের অন্যান্য টিভি চ্যানেলের থেকে কেন আলাদা? উত্তরটা খুবই সহজ। চ্যানেল আই-ই বাংলাদেশের একমাত্র টিভি চ্যানেল যার সঙ্গে থাকলে, যার সঙ্গে হাঁটলে সহজেই প্রিয় মাতৃভ‚মির স্পর্শ ও মায়া অনুভব করা যায়। এ কারণেই এই টিভি চ্যানেলটি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র। কেন স্বতন্ত্র তারও একটা ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ বলে একটি কথা আছে। চ্যানেল আই-এর সঙ্গে থাকলেই সেটা বোঝা যায়। চ্যানেল আই-ই বাংলাদেশের একমাত্র টিভি চ্যানেল যেখানে গত আঠারো বছর ধরে শুধু বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়েছে। চ্যানেলটির প্রতিটি অনুষ্ঠানে দেশও মাতৃভাষাকে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা থাকে। চ্যানেল আইতে দিন শুরুর দৃশ্যটাই একবার ভাবুন তো। ‘গানে গানে সকাল শুরুÑ মঞ্চের পিছনে গ্রাম বাংলার অপরূপ দৃশ্য। নবীন-প্রবীণ শিল্পীর কণ্ঠে মায়ায় জড়ানো সমধুর বাংলা গান। সত্যি অপূর্ব আয়োজন। দেশের অধিকাংশ অগ্রসরমান পরিবারে সকালটা শুরু হয় চ্যানেল আই-এর এই নান্দনিক আয়োজন দেখে। নওগাঁর একজন কলেজ শিক্ষক বললেনÑ সকালে ঘুম থেকে উঠেই টিভিতে চ্যানেল আই চালু করে দেই। গান চলছে। আমাদের পারিবারিক নানা কর্মকাÐও চলতে থাকে। চ্যানেল আই-এর সঙ্গেই আমাদের দিনটা শুরু হয়।

Shyk-Sirajরাত দিন ২৪ ঘণ্টা নানা মুখি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে চ্যানেল আই। প্রতিটি অনুষ্ঠানই দর্শক নন্দিত। চ্যানেল আই-এর সংবাদ দর্শকের অন্যতম আগ্রহের বিষয়। শুধুই কি সংবাদ? না তা নয়। বিভিন্ন রিয়েলিটি শো, বিনোদন মূলক নানা অনুষ্ঠান, সিনেমা, নাটক, টেলিফিল্ম প্রচারের ক্ষেত্রেও চ্যানেল আই স্বতন্ত্র। একটা কথা বোধকরি জোর দিয়েই বলা যায়। তাহলোÑ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন বিশেষ করে নাটক, সিনেমা ও সংগীতের অঙ্গনে এখন যারা মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে চলেছেন তাদের অধিকাংশই চ্যানেল আই-এর বিভিন্ন রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসা তারকা। বলা যায় চ্যানেল আই-ই নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে।

চ্যানেল আই-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলোÑ চ্যানেলটি যে কোনো অনুষ্ঠান প্রচারের আগে দেশের কথা ভাবে। একটি অনুষ্ঠান শুরুর আগে দীর্ঘ সময় ধরে নানামুখি গবেষণা চলে। একটা ঘটনার কথা বলি। মাতৃ স্বাস্থ্যের ওপর চ্যানেল আই-এর একটি অনুষ্ঠান প্রচার হবে। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পক ও উপস্থাপক ফারজানা ব্রাউনিয়া তখন ছিলেন প্রেগন্যান্ট। অর্থাৎ তিনি মা হতে চলেছেন। এই অবস্থায় তিনি টিভি পর্দায় উপস্থাপকের ভ‚মিকা পালন করতে পারেন কি না এই নিয়ে জোর তর্ক চলে চ্যানেলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে। শেষমেশ প্রেগন্যান্ট অবস্থায়ই ব্রাউনিয়া অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন। দর্শক নন্দিত হয়েছিল অনুষ্ঠানটি।

বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কেউ কি কোনোদিন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের নিয়ে অনুষ্ঠান করার কথা ভেবেছিল? না ভাবেনি। কারণ সাধারন ভাবনাটাই এমন ছিল দেশের কৃষি ও কৃষক পর্যায়ের কথাবার্তা হতে পারে সরকার নিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেলে। কৃষক মানেই ‘চাষাভ‚ষার দল’। কাজেই বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তাদের কথা কেউ শুনতে চাইবেন না।

Shyk-Siraj-1কিন্তু এই ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়েছে চ্যানেল আই। দেশের কৃষি ও কৃষকের জাগরণের মূল রূপকার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেন। বিটিভিতে ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে একটা জাগরণের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় চ্যানেল আইতে শুরু করেন ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ নামের নতুন অনুষ্ঠান। অনেকেরই ধারণা ছিল বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কৃষি ও কৃষককে নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান চালানো মুশকিল হবে। দর্শক গ্রহণ করবে না। কিন্তু মেধার গুণে চ্যানেল আইতে শাইখ সিরাজের হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটি অতি অল্প সময়েই শুধু দেশে নয় বিদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চ্যানেল আই-এর হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের প্রভাবে দেশের কৃষি ও কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এই একটি মাত্র অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক জাগরণ চলছে। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকও এখন তার ন্যায্য দাবির কথা সহজেই বলতে পারছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অথবা দপ্তরে! ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়া, কৃষকের জীবন মানের উন্নয়নসহ কৃষি ক্ষেত্রে নানা মুখি পরিবর্তন শুরু হয়েছে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের প্রভাবে। গর্বের সঙ্গেই একথা বলা যায় যেÑ চ্যানেল আইতে শাইখ সিরাজের ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান-এর নানামুখি প্রভাবে ‘চাষাভ‚ষা’ থেকে কৃষকেরাও এখন তারকা হিসেবে খ্যাতি পাচ্ছেন। এই একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও পৃথক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়েছে। সবচেয়ে আনন্দের কথা এই একটি মাত্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাইখ সিরাজ দেশের কৃষি ও কৃষককে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। উৎসব পার্বণে কৃষি ও কৃষককে নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানের কথা কেউ কি ভেবেছিল কোনো দিন? কৃষককে নিয়ে বানানো কোনো টিভি অনুষ্ঠান উচ্চবিত্তের ঝলমলে ড্রয়িংরুমে রাখা টিভি পর্দায়ও ব্যাপক আগ্রহ ছড়াবে কেউ কি ধারণা করেছিল? হ্যাঁ, এই ক্ষেত্রেও একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন শাইখ সিরাজ। প্রতি ঈদে কৃষকের ঈদ অনুষ্ঠান প্রচার হয় চ্যানেল আইতে। প্রতিবারের মতো গত ঈদেও অনুষ্ঠানটি দর্শক প্রিয়তায় ছিল সবার শীর্ষে। মজার ব্যাপার হলো চ্যানেল আইতে শাইখ সিরাজের হৃদয়ে মাটি ও মানুষ এবং কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানের অনুকরণে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে নানামুখি অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

Titiyo-Matraঅনেকে আদর করে বলেন ঝগড়ার  অনুষ্ঠান। অথচ সেই অনুষ্ঠানের প্রতিই সকলের আগ্রহ বেশি। পান থেকে চুন খসলেই হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। বলছি চ্যানেল আই-এর আরেকটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান তৃতীয় মাত্রার কথা। স্বগৌরবে ১৫ বছর অতিক্রম করেছে অনুষ্ঠানটি। জিল্লুর রহমানের পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় চ্যানেল আই-এর তৃতীয় মাত্রাই দেশের টেলিভিশন মাধ্যমে টকশো ভিত্তিক প্রথম অনুষ্ঠান। বিষয় বৈচিত্র্য এবং উপস্থাপনার গুণে চ্যানেল আই-এর এই অনুষ্ঠানটি শুরুতে যে রকম জনপ্রিয় ছিল আজও তেমনি আছে। গভীর রাতে কোনো টিভি অনুষ্ঠান এত জনপ্রিয় হবে এবং বছরের পর বছর তার জনপ্রিয়তার ধারা অব্যাহত রাখবেÑ এটা সত্যি দুঃসহ কাজ। চ্যানেল আই সেই কাজটিই অন্তর দিয়ে করে যাচ্ছে।

POJবিদেশি টিভি চ্যানেল বিশেষ করে ডিসকভারীতে প্রকৃতি বিষয়ক নানামুখি অনুষ্ঠান দেখে আমাদের একসময় ভাবনা হতোÑ দেশের কোনো টিভি চ্যানেলে এমন অনুষ্ঠান কি কেউ বানাবে না? হঠাৎ করে চ্যানেল আইতে বিস্ময় ছড়ালেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চ্যানেল আইতে শুরু হলো ‘প্রকৃতি ও জীবন’ শীর্ষক নতুন অনুষ্ঠান। চ্যানেল আইতে অনুষ্ঠানটির কয়েকটি পর্ব প্রচারের পর পরই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা দিল। অনুষ্ঠানটিতে দেশের প্রকৃতি বিষয়ক নানা ধরনের রুদ্ধর্শ্বাস পূর্ণ দৃশ্য দেখানো হয়। ঝুকিপূর্ণ অনেক দৃশ্য দেখে প্রথম দিকে অনেকে ভেবেছিলেন এসব দৃশ্য বোধকরি বিদেশি কোনো টিভি চ্যানেল অথবা মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা। আসলে বিষয়টি তা নয়। চ্যানেল আই-এর প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানে সম্প্রচার করা প্রতিটি দৃশ্যই প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানের শুটিং ইউনিট কর্তৃক ধারণ করা দৃশ্য। এজন্য প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানের একটি প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী নিয়মিত কাজ করে চলেছে। অনুষ্ঠানটি ছেলে বুড়ো সকল বয়সী মানুষের অনেক পছন্দ। অনুষ্ঠানের আওতায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিবছর প্রকৃতি মেলার আয়োজন ও গুণীজনের হাতে প্রকৃতি পদক তুলে দেয়া হয়। দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে অনুষ্ঠানের সিডি পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচিও অব্যাহত রেখেছে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।

চ্যানেল আই-এর এই অনুষ্ঠানটির প্রভাবে দেশের মানুষ প্রকৃতি রক্ষায় সচেতন হতে শুরু করেছে। এটা সত্যি দেশের জন্য শুভ লক্ষণ।

শুধু বিনোদন নয় সামাজিক নানা অচলায়তন ভাঙার ক্ষেত্রেও একটি টিভি চ্যানেল ব্যাপক ভ‚মিকা রাখতে পারে। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ চ্যানেল আই-এর স্বর্ণকিশোরী অনুষ্ঠান। একটা সময় ছিল যখন নারীর প্রজনন S-Kishoriস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতো না। এই অচলায়তন ভাঙলো চ্যানেল আই। কিশোরীর প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য এগিয়ে এলেন স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফারজানা ব্রাউনিয়া। চ্যানেল আইতে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি দেশের কিশোরীদের মধ্যে শুধু প্রজনন স্বাস্থ্য নয় তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতনতার মন্ত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। অনুষ্ঠানটির প্রভাবে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখন পারিবারিক পর্যায়েও খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে। শুধু দেশে নয় বিশ্বব্যাপী স্বর্ণকিশোরী এখন আলোচিত নাম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বর্ণকিশোরীর ভাবনাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটি একটি টিভি চ্যানেল হিসেবে চ্যানেল আই-এর অনন্য অর্জনও বলা যেতে পারে।

Keka-Apaদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে রান্নার অনুষ্ঠান এখন বেশ জনপ্রিয়। অথচ একটা সময় বিষয়টি ছিল বেশ উপেক্ষিত। এক্ষেত্রে অচলায়তন ভাঙেন বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী। তিনিই প্রথম চ্যানেল আইতে রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনার উদ্যোগ নেন। তারই অনুপ্রেরণায় বর্তমানে প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলে রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছে। এজন্য কেকা ফেরদৌসী ও চ্যানেল আই ধন্যবাদ পেতেই পারে।

ধন্যবাদের কথা যখন উঠলো তখন একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলতে চাই। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন দেশের টিভি মিডিয়াসহ সিনেমা সেক্টরে এখন যারা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন তাদের অনেকেই চ্যানেল আই-এর বিভিন্ন রিয়েলিটি শো থেকে আসা তারকা। চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ, চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ, ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম, সেরা নাচিয়ে, ভীট সুন্দরী, ওয়াই এলপি এবং লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারসহ বিভিন্ন রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে শতাধিক তারকা শিল্পী আমাদের সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন। অনেকে নেতৃত্বও দিচ্ছেন।

Luxঅভিনয়ের ক্ষেত্রে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার এর কথাই যদি ধরি তাহলে তো চিত্রটা বেশ পরিষ্কার। বর্তমান সময়ে টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে লাক্স চ্যানেল আই তারকারাই মূলত নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম, ভীট তারকাদের ভ‚মিকা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। নাচের জগতে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে তারকারা এখন বেশ উজ্জ্বল। ক্ষুদে গানরাজ ও সেরাকণ্ঠ এর বিভিন্ন সেশনের তারকা শিল্পীরা এখন মূলত: আমাদের গানের জগতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অবস্থা দৃষ্টে সহজ করে বলা যায়Ñ যে দিকেই তাকাই সেদিকেই চ্যানেল আই-এর জয়ধ্বনি!

বেলা সাড়ে বারোটা মানেই তারকা শিল্পীদের আনন্দ মুখর সময় কাটানোর সুযোগ চ্যানেল আই-এর পর্দায়। ‘তারকা কথন’ নামে চ্যানেল আই এই অনুষ্ঠানটিতে আসেন নাই দেশের বোধকরি এমন কোনো  তারকা নাই। তারকার জন্মদিনে ‘তারকা কথন’ বিশেষ আয়োজন করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এজন্য চ্যানেল আই ধন্যবাদ পেতেই পারে।

Robindra_nath_melaআগেই বলেছি বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। চ্যানেল আই-ই এই ব্যাপারে বেশ আন্তরিক। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে রবীন্দ্র মেলা, জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জন্মদিনে নজরুল মেলা, বাঙালির নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উম্মুক্ত চত্বরে হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণসহ নানা ধরনের মেলার আয়োজন করে চ্যানেল আই প্রতি নিয়ত দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে ভ‚মিকা রাখছে। এজন্য ধন্যবাদ জানাই চ্যানেল আইকে।

Gerilaআমাদের দেশের সিনেমা নিয়ে অনেক অসন্তোষ আছে। তবে চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম  না থাকলে এই অসন্তোষ বোধকরি আরও বাড়তো। দেশের চলচ্চিত্রের বিকাশে ইমপ্রেস ও চ্যানেল আই-এর অবদান অনেক। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক সিনেমা নির্মাণ করেছে। চলচ্চিত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কার অর্জনের ক্ষেত্রে ইমপ্রেসই আছে এগিয়ে। এজন্য চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আসলে চ্যানেল আই-এর প্রতিটি অনুষ্ঠানই ধন্যবাদ পেতে পারে। প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক একুশে বইমেলা চলাকালে বইয়ের ওপর ৫ মিনিটের একটা অনুষ্ঠানে কথা বলতেন। অনুষ্ঠান ৫ মিনিটের। অথচ তার গুরুত্ব ছিল অনেক। চ্যানেল আই-ই প্রথম একুশে বইমেলা বাংলা একাডেমি থেকে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করে। এখন তো গোটা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির নজর থাকে বাংলা একাডেমিতে একুশে বইমেলার ওপর। কাজেই চ্যানেল আই এক্ষেত্রে ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

জিল্লুর রহমান তৃতীয় মাত্রার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি প্রতি ঈদে রাজনীতিবিদদের নিয়ে ‘ভালোবাসার বাংলাদেশ’ নামে একটি নিয়মিত অনুষ্ঠান করেন। এটিও চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।

দেশের সংবাদ পত্র নিয়েও অনুষ্ঠান হতে পারে এই ধারণার পথিকৃত ও চ্যানেল আই। রাত ১২ টায় মতিউর রহমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় সংবাদপত্রের ওপর নতুন ধারার অনুষ্ঠান শুরু হয় চ্যানেল আইতে। বর্তমানে প্রতিটি টিভি চ্যানেলে সংবাদপত্রের ওপর অনুষ্ঠান প্রচার হয়। চ্যানেল আই এজন্য ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবস। আমাদের জাতীয়  জীবনে বড়ই আনন্দের দিন। চ্যানেল আইই একমাত্র টিভি চ্যানেল বিজয়ের এই দিনে ‘বিজয় মেলা ও রং তুলিতে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক নিয়মিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ব্যান্ড সংগীত আমাদের তরুণদের প্রিয় বিষয়। বিশিষ্ট ব্যান্ড সংগীত তারকা আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে চ্যানেল আই প্রতিবছর ১ লা ডিসেম্বর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে ব্যান্ড ফেস্ট এর আয়োজন করে আসছে। বাংলা ‘খেয়াল’ এর উপরেও চ্যানেলটির অনেক নজর। প্রতি বছর সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের নেতৃত্বে চ্যানেল আই বাংলা ‘খেয়াল’ এর ওপর অনুষ্ঠান করে আসছে। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় চ্যানেল আই-এর এই আয়োজন গুলো সত্যি প্রশংসার দাবিদার। ধন্যবাদ চ্যানেল আই।

গানের কথা যখন উঠলো এখন চ্যানেল আই-এর একটি অনন্য আয়োজনের কথা বলি। সিটিসেল এর সহায়তায় চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দেশে-বিদেশে চ্যানেল আই-এর এই উদ্যোগ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। উদ্যোগটি অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি সমাপ্ত হয়েছে এর শেষ আসর। শুদ্ধ সংগীতের বিকাশে চ্যানেল আই-এর এই উদ্যোগ সত্যি প্রশংসার দাবিদার। ধন্যবাদ চ্যানেল আই।

সবাই জানেন চ্যানেল আই নিয়মিত দেশের গুণীজনদের জন্মদিন পালন করে থাকে। তবে একথা অনেকেই জানেন না চ্যানেল আই দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্য দুস্থ শিল্পীকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এজন্য ধন্যবাদ চ্যানেল আইকে।

Joyer-Bhata১৮ বছরের শেষে এসে একটি অনন্য আয়োজন সম্পন্ন করেছে চ্যানেল আই। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা চর্চার ওপর একটি রিয়েলিটি শোয়ের প্রথম আসরের সফল সমাপ্তি ঘটিয়েছে। বাংলা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা। এই ভাষার জন্য লড়াই করতে করতে আমরা এক পর্যায়ে পেয়েছি প্রিয় মাতৃভ‚মি- বাংলাদেশকে। ইস্পাহানীর সহায়তায় বাংলাবিদ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চ্যানেল আই প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার প্রতি পরম মায়া মমতা ছড়িয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষের প্রতি এই মায়া ও মমতাই লাল সবুজের টিভি চ্যানেল হৃদয়ে বাংলাদেশ শ্লোগানে উচ্চকিত চ্যানেল আই-এর মূল শক্তি। ১৯ বছরের শুভক্ষণে আবারও ধন্যবাদ চ্যানেল আই।