উনিশের উচ্ছাসে চ্যানেল আই

উনিশের উচ্ছাসে চ্যানেল আই

153
SHARE
Ferdous

মমতাজউদদীন আহমদ

আমন্ত্রণ পেলাম চ্যানেল আই-এর। জন্মদিন। উনিশের উচ্ছ¡াসে চ্যানেল আই আনন্দে ডগমগ। হবেই তো। জন্মদিন বলে কথা। উৎ+শ্বস+অ দিয়ে উচ্ছাস, উৎকৃষ্ট আনন্দে মাতোয়ারা।

অষ্টাদশ পার করে উনিশে এলো প্রিয় আই। অষ্টাদশ পার না হলে বাংলাতে বিয়ে হয় না। দেহবিদরা বলেন অষ্টাদশ না হলে মা হতে নেই। উনিশ এলে বালিকা রমণী, বালক যুবা। তবেই পিতামাতা হওয়ার অনুমোদন। তখনই দেহমন মজবুত, কত যে আনন্দ আর উল্লাস।

চ্যানেল আই নিয়ে আমার কিছু স্মৃতি আছে। সুখদুখের কথা। আই মানে তো আমি, আর আই মানে দৃষ্টি। আমার দৃষ্টির উন্মোচন ঘটেছে চ্যানেল আই ছিল বলে। বসেছিলাম ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাগরের ঘরে। সাগর খেতে খাওয়াতে ভালোবাসেন। হঠাৎ দেখি নিউইয়র্কের যমজ টাওয়ারে উড়োজাহাজ ছুটে এসে ধামাকা দিল। হায় হায় একী কাÐ। আবার উনিশ মিনিট পর আর একটা উড়ে এসে আর এক যমজকে ধাক্কা। ধুলোতে ধোঁয়াতে আকাশ বাতাস আচ্ছন্ন। কত যে আহাজারি।

সেদিনই মনে হলো, মস্তবড় ওলোট পালট হবে। তাই হলো। বুশ আর বেøয়ার মিলে মধ্যপ্রাচ্যে ধমাধম বোমাবাজি ছড়ালো। ইরাক ছারখার। সাদ্দাম হোসেনের গলায় ফাঁস। উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে। ছিল কার কেরামতি, গেল কার জীবন।

এই আইতে বসে খবর পেয়েছিলাম বাংলার সেরা কবি শামসুর রাহমান নাই। চোখে মুখে হায় হায়, ব্যথিয়ে উঠল মন। চ্যানেল আই মহা সমারোহে কবিকে বিদায় দিয়েছিলÑ ভালো কাজ করেছিল।

নায়করাজ রাজ্জাক ছিলেন সহযাত্রী। চ্যানেল আই-এর সৌজন্যে গেলাম মধ্যপ্রাচ্যে। মরুভ‚মির তপ্ত বালু আর রাতের শীত। নতুন অভিজ্ঞতা। নায়করাজ বলেছিলেন সুখদুখের সাতকাহন কথা। সংগ্রাম সাধনা আর সংযম। অনেক কথা। বড় হতে হলে ছোট থেকে শুরু করতে হয়। মেলা কাঠখড় পুড়িয়ে সামান্য থেকে অসামান্য। লখীন্দর থেকে রাজকুমার। পঞ্চাশ বছর রাজত্ব।

দেখেছি বাংলার ঘামে সিক্ত শ্রমিককে। উষ্ণতায় দগ্ধ, শীতে কম্পমান শ্রমিকের মুদ্রায় আমরা মহাসুখে উল্লাসে খাচ্ছি দাচ্ছি গাইছি আর হাসছি। আমাদের কত সুখ। কত আনন্দ, কত উচ্ছ¡াস। সিদ্ধেশ্বরীর চ্যানেল আই আর তেজগাঁর আইÑ আঠার বছরের শ্রমে গড়া প্রতিষ্ঠান। হাজার রজনীর তৃতীয় মাত্রার চ্যানেল আই। এতো মধুমতীর ¯্রােত নয়, আর এক জীবন গড়ার ভরসা। যারা জানে, তারাই জানে।

লাল সবুজ পতাকা পাবার জন্য ত্রিশ লাখ মানুষের জীবন গেল। মা বোন কাঁদলো- বড় কষ্টে পাওয়া বাংলার পতাকা লাল সবুজ পতাকা। চ্যানেল আই সে পতাকা উঁচিয়ে শয়ে শয়ে মিলেজুলে অনেক বড় পতাকা রচনা করলো। বিশ্বজুড়ে বৃহত্তম পতাকা, মাঠ জুড়ে বাংলার পতাকা। দেখে দেখে মন আমার উতালা। হৃদয় জুড়ে নৃত্য। বাংলাকে, বাঙালিকে বাংলার মাঠঘাট, শস্যশ্যামলকে নিয়ে আই দিবারাত্রি প্রাণের মেলা বসিয়েছে। দর্শককে শ্রোতাকে দোদুল দোলায় দুলিয়ে নাচিয়ে গাইয়ে ছাড়ছে। রবীন্দ্র, নজরুল জীবনানন্দ সবারই সম্ভাষণ আইতে। প্রাণের বিস্তর আয়োজন দেখি আর আলুরদম গরম গরম লুচি খেয়ে উদ্বেল উচ্ছ¡াসে জেগে থাকি।

খাঁচার পায়রা উড়িয়ে আই পাখির ডানায় মুক্তি নিয়ে আসেÑ দর্শক ভালোবাসা জানায়।

এবার উনিশে যদি বন্দী ময়না আর টিয়াকে মুক্ত করে উড়িয়ে দেয় তবে উনিশ সংখ্যায় উননব্বুই নিরানব্বুই হবে। জয় হোক প্রিয় আই-এর। জয় হোক আনন্দ উচ্ছ¡াসের।

আমরা হাসব, বাংলার মাঠে বাংলার কৃষক হাসবে আর ঐযে প্রতি সংবাদের আগে এক থুত্থুড়ে বুড়িকে দেখি, সে বুড়িও হাসবে। বড় মজা হবে, খুব মজা। শীতের খেজুর গুড় যেমন, তেমন। শাইখ সিরাজের খেজুর রসের গরম তাপের কাহিনী, সে আর এক চ্যানেল আই। উনিশের আই। বাংলার আই বাঙালির আই।