উনিশের উচ্ছাসে চ্যানেল আই এই তো আমাদের বাংলাদেশ!

উনিশের উচ্ছাসে চ্যানেল আই এই তো আমাদের বাংলাদেশ!

77
SHARE
Channel-i

আনন্দ আলো প্রতিবেদন: প্রতি বছরই চ্যানেল আই-এর জন্মদিনে এমন অনিন্দ্য সুন্দর ঘটনা ঘটে। দল মত নির্বিশেষে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সমাজের সর্বস্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পাশাপাশি কাছাকাছি এক কাতারে দাঁড়িয়ে যান। দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় পরস্পরের হাত ধরে পরম মমতায় চ্যানেল আই-এর জন্মদিনের কেক কাটেন। পরস্পরকে কেক খাইয়ে দেন। পরিবেশ দেখে মনে হয় যেন এক মিনি বাংলাদেশে দল মত নির্বিশেষে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকে প্রত্যেকের তরে সুখি সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছেন। মাতৃভ‚মির মঙ্গল কামনায় যৌথবদ্ধ হাত তুলছেন সবাই। এবারও চ্যানেল আই-এর ১৯তম জন্মদিনে অনিন্দ্য সুন্দর সেই ঘটনাই ঘটেছিল। ১লা অক্টোবর সন্ধ্যায় বৃষ্টিস্নাত পরিবেশ উপেক্ষা করে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন সেক্টরের নেতৃস্থানীয় গুণীজন। প্রতি বছরের মতো এবারও সকলে মিলে চ্যানেল আই-এর জন্মদিনের বিশাল কেক কেটেছেন। সরকার ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ পরস্পরের মুখে কেক তুলে দিয়েছেন। চ্যানেল আই-এর কল্যাণে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের এই মিলন মেলার বর্ণিল আলো গোটা বিশ্বে কোটি কোটি বাংলা ভাষাভাষি মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। চ্যানেল আই-এর পর্দায় আলো ঝলমল হৃদয় স্পর্শী এই সব দৃশ্য দেখে দেশে তো বটেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙালিরা আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠেন। চ্যানেল আই অন লাইনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে চ্যানেল আই-এর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার এই মুহূর্তগুলোকে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের অপূর্ব দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছেন। অনেকে বলেছেনÑ এই তো আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশ। যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সমাজের অগ্রসরমান প্রতিটি সেক্টরের মানুষ হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই এই দেশের পজিটিভ অগ্রযাত্রা কেউ রোধ করতে পারবে না।

চ্যানেল আই-এর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার অনুষ্ঠানটি শুরু হয় প্রতিবারের মতো এবারও রাত ১২টা ১ মিনিটে। চ্যানেল আই প্রাঙ্গণের চেতনা চত্বরে বিরাট টেবিলে রাখা কেকের পেছনে দাঁড়িয়ে চ্যানেল আই পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সরকারি ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ, নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এক সঙ্গে চ্যানেল আই-এর জন্মদিন উপলক্ষে প্রথম কেকটি কাটেন। তৃতীয় মাত্রা খ্যাত টিভি তারকা জিল্লুর রহমানের মনোজ্ঞ উপস্থাপনায় জন্মদিনের প্রথম প্রহরের সূচনা লগ্নে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, শিশু ও মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মো: তাজুল ইসলাম, এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রফেসর ড. একে আজাদ চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক, প্রফেসর আব্দুল মান্নান খান, সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক আব্দুর রশিদ মজুমদার, মুকিত মজুমদার বাবু, নারী উদ্যোক্তা কনা রেজা, স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফারজানা ব্রাউনিয়াসহ নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Channel-i-1সকালে ছিল কাঠফাটা রোদ্দুর। গরমে হাসফাঁস অবস্থা। তাতে কী? চ্যানেল আই-এর জন্মদিন বলে কথা। চ্যানেল আই পৃথিবীতে বাংলা ভাষার প্রথম ডিজিটাল টিভি চ্যানেল। যার শ্লোগানÑ হৃদয়ে বাংলাদেশ। কাজেই হৃদয়ের টানেই সকালে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে হাজির হতে থাকলেন দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। রাতে যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যে অনেককেই দেখা গেল ফুল হাতে এসেছেন চ্যানেল আই পরিবারকে আবারও শুভেচ্ছা জানাতে। ততক্ষণে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ সেজেছে নতুন সাজে। বিরাট মঞ্চ তৈরি। মঞ্চের সামনে বিস্তৃত প্রাঙ্গণ জুড়ে মেলার আদলে সাজানো একাধিক স্টল। হোন্ডা কোম্পানি, আড়ং সহ নামি-দামি একাধিক প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আই-এর জন্মদিনের এই মিলন মেলায় তাদের পণ্য ও সেবা কার্যক্রমের তথ্য নিয়ে হাজির। পাশেই চলছিল বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসীর রান্না ঘরে অতিথি আপ্যায়নের তোড়জোড়। আকাশে কড়া রোদ। কিন্তু রোদও যেন হাসছে। তাই রোদের উত্তাপকে মনে হচ্ছিল সুশীতল হাওয়ার মতোই। মঞ্চের সামনে বিশাল সাইজের লম্বা কেক অপেক্ষা করছে। সঙ্গে উড়ার অপেক্ষায় লাল-নীল বেলুন। ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, মুকিত মজুমদার বাবুসহ চ্যানেল আই পরিবারের সদস্যবৃন্দের সঙ্গে মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম, সেলিম ওসমান এমপি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, ড. এনামুল হক, কেরামত মওলা, মুস্তাফা জামান আব্বাসী, খুরশিদ আলম, ফেরদৌস আরা, শাহীন সামাদ, নাশিদ কামাল, তপন মাহমুদ, লীনা তাপসী, শফি মÐল, হাফিজুর রহমান সুরুযসহ নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রথমে লাল-নীল রংয়ের বেলুন উড়ানো হলো। তারপরই সকলে চ্যানেল আই-এর জন্মদিনের কেক কেটে পরস্পরের মুখে তুলে দিলেন। সত্যি এ এক অনাবিল আনন্দময় দৃশ্য। চ্যানেল আই-এর পক্ষেই এমন হৃদয় ছোঁয়া পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।

Channel-i-3সকাল ১১ টায় দ্বিতীয়বারের মতো জন্মদিনের কেক কাটার পর বিশাল মঞ্চে শুরু হলো সাংস্কৃতিক পর্ব। নাচ, গানের একের পর এক পর্ব চলছিল। ততক্ষণে গোটা চ্যানেল আই চত্বর যেন মিনি বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিবৃন্দ, ক্রীড়া অঙ্গনসহ সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ফুল কেকসহ বিভিন্ন উপহার নিয়ে চ্যানেল আই কার্যালয়ে আসতে থাকলেন। হঠাৎ নজর কাড়লো কৃষিজীবী মানুষের একটি ছোটখাটো মিছিল। তাদের হাতে বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজি। চ্যানেল আই-এর হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের তারা একনিষ্ঠ ভক্ত। তাই কৃষি পণ্য নিয়েই এসেছেন চ্যানেল আইকে শ্রদ্ধা জানাতে। সম্মানের সঙ্গে মঞ্চে উঠানো হলো তাদের। চ্যানেল আই-এর সরাসরি অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন কেউ কেউ। ততক্ষণে জন্মদিনের মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান জমজমাট হয়ে উঠেছে। হঠাৎই ফরিদুর রেজা সাগরকে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হলেন গুণী অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। ঘটনা কী? তিনি কি অভিনয় করবেন? দর্শকদের মনে এমনই প্রশ্ন দোল খাচ্ছিল। না, সুবর্ণা মুস্তাফা মঞ্চে অভিনয় করতে আসেননি। এসেছেন তার স্বামী মোস্তফা সৌদ পরিচালিত সিনেমা ‘গহীন বালুচর’ এর ক্যাম্পেইন করতে। ছবিটি দেখার জন্য দর্শকদের আহŸান জানালেন সুবর্ণা মুস্তাফা।

ততক্ষণে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ অতিথিদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভেতরে-বাইরে কোথাও দাঁড়াবার জায়গাটুকুও নাই। অতিথিরা ফুল, কেকসহ অন্যান্য উপহার নিয়ে আসছেন, প্রিয়জন কাউকে কাছে পেয়েই আড্ডা জুড়ে দিচ্ছেন। কেকা ফেরদৌসীর রান্না ঘরের লুচি আর সবজি আপ্যায়ন চলছিল। হঠাৎ এলো বেয়ারা বৃষ্টি। অনেকে ভেবে ছিলেন বৃষ্টি বুঝি জন্মদিনের আনন্দটা মাটি করে দিল। কিন্তু চ্যানেল আই-এর জন্মদিন বলে কথা। প্রাণের টানে চ্যানেল আই পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন সবাই। তাই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে আড্ডায় মত্ত থাকতে দেখা গেল অনেকে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ফুল আর কেক নিয়ে অতিথিরা আসতেই থাকলেন। মঞ্চে তখন জোর কদমে চলছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Channel-i-2বৃষ্টি থেমেছে। কিন্তু আকাশ তখনও পরিষ্কার হয়নি। তাই বলে চ্যানেল আই-এর জন্মদিনে কাক্সিক্ষত সেই কেক কাটা পর্বটি তো আর বাদ দেয়া যায় না। বছরে এই একটা মুহূর্তের জন্য যেন সকলের অপেক্ষা থাকে। কী এক মায়াময় দৃশ্য। সামনে সাজানো লম্বা কেক। পিছনে দাঁড়ানো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। সরকারি দল, বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ কাছাকাছি, পাশাপাশি দাঁড়ানো। কেক কেটে একে অন্যের মুখে তুলে দেন। অনিন্দ্য সুন্দর এই মুহূর্তটির সাক্ষী হতে সকলেই চান। কিন্তু বৃষ্টি কি এবার বাগড়া দিবে? না, বৃষ্টি বাগড়া দিতে পারল না। কেক কাটা হবে সন্ধ্যে ৭টায়। তার আগেই সরকারি ও বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের সকল সেক্টরের নেতৃত্বদানকারী বিশিষ্ট জনের উপস্থিতিতে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণ আবারও জমজমাট হয়ে উঠলো। জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনায় শুরু হলো এপর্বের কেক কাটা অনুষ্ঠান। ততক্ষণে চ্যানেল আই-এর জন্মদিন উপলক্ষে বানানো বিশাল সাইজের আরেকটি কেকের সামনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সায়ীদ, বিচারপতি (অব) শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মো: শফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আ. স. ম আব্দুর রব, বিএনপি নেতা এস এ সুলতান, জহির উদ্দিন স্বপন, আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মোহন, ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন, লে. জে. (অব) মাঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা অসীম কুমার উকিল, সাবেক এমপি নাজমা আক্তার, নীলুফার চৌধুরী মনি, অধ্যাপক অপু উকিল, অঞ্চনা সুলতানা, জাসদ নেতা নাজমুল হক প্রধান, বিএনপি নেতা হাবিবুন নবী সোহেল, এডভোকেট আমানত চৌধুরী কেয়া, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা এডভোকেট স. ম রেজাউল করিমসহ বিশিষ্টজনেরা দাঁড়িয়ে আছেন। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সকলে অভিন্ন সুরে চ্যানেল আই-এর মঙ্গল কামনা করলেন। দেশ গঠনে চ্যানেল আই-এর ভ‚মিকার ভ‚য়সী প্রশংসা করে সকলে বললেনÑ চ্যানেল আই শুধুমাত্র একটি টিভি চ্যানেল নয়। এটি বাংলাদেশের চেতনার বাড়িঘর। জয়তু চ্যানেল আই।

এরপর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চ্যানেল আই-এর জন্মদিনের কেকটি কাটলেন সকলে। পরস্পরের মুখে কেক তুলে দিলেন। চ্যানেল আই-এর পর্দায় বন্ধুত্বের এই আলো ঝলমল পরিবেশ দেখে অভিভ‚ত বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে অবস্থানরত বাংলাদেশের কোটি কোটি বাঙালি অর্থাৎ চ্যানেল আই পরিবার। সকলের অভিন্ন মন্তব্যÑ ওয়াও! এই তো আমাদের গর্বের মাতৃভ‚মিÑ বাংলাদেশ! চলো এগিয়ে যাই।