ঈর্ষা হিংসা ও পরকীয়া এসবই ওদের নাটকের বিষয়

ঈর্ষা হিংসা ও পরকীয়া এসবই ওদের নাটকের বিষয়

624
SHARE
Mamunur-Rashid

খ্যাতিমান নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্যপরিচালক মামুনুর রশীদ। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চ আন্দোলনের পথিকৃৎ। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন মাধ্যমের নানান সমস্যা নিয়ে সাংগঠনিকভাবে কাজ করছেন। বাংলায় ডাবিংকৃত বিদেশি সিরিয়াল বন্ধ করা, শিল্পীদের বিভিন্ন দাবি আদায়, টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধিকরা দর্শকদের অনুষ্ঠানমুখী করার জন্য শিল্পী-কলাকুশলীদের গড়ে ওঠা আন্দোলনের নেতৃত্বও দিচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলেন আনন্দ আলোর সঙ্গে। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল

আনন্দ আলো: শিল্পী-কলাকুশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে কিছু বলুন।

মামুনুর রশীদ: প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গণমাধ্যমে শিল্পী-কলাকুশলীদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার প্রশ্নে ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনের (এফটিপিও) আন্দোলন নিয়ে নানা কথা এবং বিশিষ্টজনদের অভিমত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব আলোচনায় একটি কথাই বারবার ঘুরে ফিরে আসছে যে এফটিপিও দর্শকদের কথা ভাবছে না, একতরফা নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখছে। আর যাঁরা বিশ্লেষণ করছেন, তাঁদের অনেকের লেখায় তথ্যের বিভ্রাট আছে বলে আমি মনে করি। এফটিপিওর পাঁচটি দাবির মধ্যে একটি দাবি ছিল-ডাউনলিংকের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে হবে। অন্য দাবিগুলো ছিল চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপনের প্রচার বন্ধ হয়েছে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এফটিপিওর প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দেয়।

একটি কথা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। তা হলো- পৃথিবীর সব দেশেই জাতীয় স্বার্থ এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে বড় করে দেখা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গেøাবালাইজেশন ও বাজার অর্থনীতির উদ্যোক্তা। কিন্তু যখন তার বাজার চীন দখল করে ফেলল তখন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব বাজার রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠল এবং বিদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ আমদানি কর নির্ধারণ শুরু করল। রাষ্ট্রীয় এই তৎপরতা সবার চোখে পড়েছে। আমাদের দেশে টিভির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান আমদানির সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। ১৯৮৮ সালে ও ২০০৬ সালে সরকার দুটি আইন প্রণয়ন করে, যাতে বিদেশ থেকে অনুষ্ঠান আমদানি ও প্রচারের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা এবং তা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিধান আছে। এসব আইনে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সেন্সর এবং অনুমতির বিষয়ের উল্লেখ আছে। আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলাদেশের, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে আঘাত করে এমন কোনো বিষয় প্রচার মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না এবং যেকোনো বিদেশি সিরিয়াল/ডাবিং সিরিয়াল গণমাধ্যমে প্রচারের আগে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। বিদেশ থেকে কলাকুশলী-শিল্পী নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও ওয়ার্ক পারমিটের নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে।

অন্যদিকে বাংলায় ডাবিংকৃত একটি বিদেশি সিরিয়াল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন চ্যানেলে এক বা একাধিক ডাবিং সিরিয়াল চালু হয়েছে। সবগুলোই জনপ্রিয় নয়, কিন্তু কীভাবে এই সিরিয়ালগুলো আমদানি হয়েছে তার তথ্য জানা যায়নি। সিরিয়ালগুলো যতটা জানা যায় খুব অল্প মূল্যে কেনা হয় এবং ডাবিং করে তা প্রচার করা হলেও তার খরচ এখানে নির্মিত সিরিয়ালের এক-চতুর্থাংশ। অনুষ্ঠান কেনার ক্ষেত্রে এই অসম প্রতিযোগিতায় দেশের বিপুলসংখ্যক কলাকুশলীর বেকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সরাসরি ডাউনলিংকের মাধ্যমে যে চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে প্রচার হচ্ছে, তাও এক অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন। ভারতে আমাদের চ্যানেল দেখতে হলে সরকারকে আট কোটি টাকা ডাউনলিংক ফি দিতে হয় আর ভারতীয় চ্যানেল দেখতে হলে এখানে দেড় লাখ টাকা ফি দিলেই তা সম্ভব হচ্ছে। ফলে আমাদের চ্যানেল ভারতে দেখানো সম্ভব হচ্ছে না। বিপুলসংখ্যক দর্শক থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই নিয়মের মধ্যে থাকলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতাম এবং আমাদের আরো ভালো ভালো অনুষ্ঠান দর্শকরা দেখতে পেতো। একটি নাটকের বাজেট আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। বলা হচ্ছে- আমাদের নাটক দর্শক দেখছেন না। কিন্তু যখনই একটি ভালো প্রোডাকশন বেশি বাজেটে নির্মিত হয় তক্ষনি সেটা দেখে কিন্তু দর্শক দেখে।

আনন্দ আলো: তারমানে আপনি বলতে চাচ্ছেন- দর্শকদের ভালো অনুষ্ঠান এবং দেখার সুযোগ করে দিলে তারা অবশ্যই আমাদের টিভি দেখবেন?

মামুনুর রশীদ: অবশ্যই। নানান সমস্যার কারণে দর্শকরা আজ আমাদের টেলিভিশন থেকে বিমুখ। যে যে সমস্যাগুলো বিদ্যমান আছে তা যদি সরকারি হস্তক্ষেপে ঠিক করা এবং নিয়ম-নীতিগুলো পালন করা হয়- তাহলে দর্শকদের অবশ্যই আমরা আগের মতো টেলিভিশনে ফিরিয়ে আনতে পারবো। যেমন- আরেকটি সমস্যা হলো- আমাদের চ্যানেলগুলোতে রয়েছে অসহনীয় বিজ্ঞাপনের চাপ। দর্শকরা অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে বিরক্ত হচ্ছেন। বিজ্ঞাপন সহনীয় মাত্রায় চললে আমাদের অনুষ্ঠান আগের জনপ্রিয়তায় ফিরে আসবে। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠান নির্মাণের জন্য যে বাজেট দেয়া হয়, তা দিয়ে মানসম্মত অনুষ্ঠান করা প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে মধ্যস্বত্বভোগী, যাঁরা চ্যানেল ও বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে বিপণনের কাজটি করে থাকেন। তাঁরা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্মাতাদের বঞ্চিত করে বেশি মুনাফা অর্জন করেন। আর এখনো এজেন্সির মাধ্যমে নাটক নির্মাণ চলছে। কারা বানাচ্ছে নাটক আর কারাই বা দেখভাল করছেন সবকিছু তা আমার জানা নেই। সবটা মিলিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা চলছে বহুদিন ধরেই।

আনন্দ আলো: একসময় আমাদের বিটিভিতেও কিন্তু বাংলায় ডাবিং করা সিরিয়াল চলতো । শুধু তাই নয়- সেগুলো বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছিল…

মামুনুর রশীদ: হ্যাঁ, চলেছে। শুধু চলেছে বললে ভুল হবে- সেগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পায়। একসময়ে ১৭টি ডাবিং সিরিয়াল বাংলাদেশ টেলিভিশনে চালু হয়েছিল। আমাদের দাবির মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বর্তমানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশ দিয়ে সেসব বন্ধ করে দেন। আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য, আকাশ সংস্কৃতিতে খিল আটকিয়ে কিছু করা যাবে না। পৃথিবীর তাবৎ মহৎ শিল্প বা অনুষ্ঠান দেখার অধিকার দর্শকদের রয়েছে। বিটিভির কথা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। হ্যাঁ, বিটিভিতে আমরা মহৎ চলচ্চিত্রও দেখেছি। উৎকৃষ্ট মানের ঐতিহাসিক সিরিয়াল দেখেছি। বিটিভিতে সব সময় একটি অভ্যন্তরীণ সেন্সর কমিটি আছে, যারা প্রতিনিয়ত অনুষ্ঠানের প্রিভিউ করে। ক’টি প্রাইভেট চ্যানেলে এই প্রিভিউর নিশ্চয়তা রয়েছে? দু’চারটির কথা বাদ দিলে অন্যদের প্রিভিউ নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। আসলে বেশিরভাগ প্রাইভেট চ্যানেল ব্যবসায়িক এবং ক্ষমতার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি হয়েছে। প্রাইভেট টিভি চ্যানেলে আয় করেই চ্যানেল চালাতে হয়। তবে এই ব্যবসা অন্য ব্যবসার মতো নয়। এতে মানুষের রুচি, মনন ও মূল্যবোধের কথা ভাবতে হয়। কারণ, কোটি কোটি মানুষের তথ্য ও বিনোদনের চাহিদা মেটাতে হয়। এই চাহিদা মেটানোর জন্য নিজের মুনাফার কথা ভেবে নিম্নমানের অনুষ্ঠান দেখানো একেবারেই অনুচিত।

আনন্দ আলো: আমাদের এখানে তো ভারতীয় নাটকগুলোই বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে-

মামুনুর রশীদ: ভারতীয় অনেক টিভি চ্যানেল মানুষের স্থ‚ল কিছু বিকৃত ভাবনা যেমন ঈর্ষা, হিংসা, পরকীয়া- এই সব নিয়ে নাটক নির্মাণ করে থাকে, যা আমাদের দেশে জনপ্রিয়ও হয়েছে। এই জনপ্রিয়তা আমাদের জীবনের গভীরে প্রবেশ করে পারিবারিক বন্ধনকে ভেঙে দিচ্ছে। সমাজে একটা পারস্পরিক অবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। মিডিয়ার দায়িত্ব কি শুধু অবিশ্বাস বা ঈর্ষার জন্ম দেয়া, নাকি মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখা, মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত করা? তাই আমাদের চ্যানেলগুলোর উচিত হবে মানসম্মত এবং রুচিশীল সব নতুন প্রোগ্রাম এবং নাটক নির্মাণ করা যা দর্শকদের আকৃষ্ট করবে। তখনই কিন্তু বাজেটসহ যোগ্য লোকের বিষয়গুলো চলে আসবে। বিটিভির কথা আবারও বলতে হয়। বিটিভি চলে অনুষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনায় আর অধিকাংশ প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল চলে বিপণন বিভাগের নির্দেশনায়, যেখানে ব্যবসাটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

আনন্দ আলো: শিল্পী-কলাকুশলীদেরও তৈরি হওয়ার বিষয় রয়েছে…

মামুনুর রশীদ: অবশ্যই শিল্পী ও কলাকুশলীদের অভিনয় দক্ষতা বাড়াতে হবে। যার জন্য প্রয়োজনীয় চর্চা ও প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সেই সুযোগগুলো সৃষ্টির জন্যই এফটিপিও গঠন করা হয়েছে। এসব করা সম্ভব হবে শিল্পটি সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকলে। আজকে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক শিল্পী-কলাকুলশী কাজ করছেন। এদের মধ্যে ক’জনই বা আছেন থিয়েটার থেকে আসা। আর এখন তো নানাভাবে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট এবং অভিনয় কর্মশালার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই যে যে জায়গায় কাজ করুক না কেন শেখা এবং জানাটা খুব জরুরি।

আনন্দ আলো: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। নাট্যকার বা অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন কি শৈশবেই দেখেছিলেন?

Mamunur-Rashid-1মামুনুর রশীদ: শৈশবে কখনো ভাবিনি নাট্যকার বা অভিনেতা হব। স্বপ্ন ছিল স্কুলের মাস্টার হওয়ার। ক্লাসে যখন মাস্টারদের দেখতাম, তখন মাস্টার হওয়ার সাধ জাগতো মনে। ভাবতাম, মাস্টারদের কী অসীম ক্ষমতা, ছাত্রছাত্রীরা সম্মান করে তাদের। শিক্ষকরা ছিলেন আমার কাছে বড় আদর্শ। বাবার চাইতেও তাদের গুরুত্ব ছিল আমার কাছে অনেক বেশি। শিক্ষক হওয়ার এ স্বপ্নের কথা মাঝেমধ্যেই বলতাম বাবা-মার কাছে। আমার বাবা চাকরি করতেন। চাকরির কারণে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়েছে। জন্ম টাঙ্গাইলে হলেও আমার ছোটবেলা কেটেছে ময়মনসিংহের ফুলপুরে। ফুলপুরেই আমি প্রথম স্কুলে গিয়েছিলাম। এছাড়া যে দুটি জায়গায় আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে সেগুলোর একটা হচ্ছে এলেঙ্গা, অন্যটি বল্লা। দুটোই টাঙ্গাইলের কালিয়াদি থানার অন্তর্গত। এলেঙ্গা স্কুলে সিক্স, সেভেন এবং এইটে পড়েছি। এই সময়টাতে আমাদের একজন প্রতিবেশী ছিল, যেটা দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বাড়ি। ওদের অধিকাংশই তখন এ দেশে ছিল। ইন্ডিয়ায় যায়নি। তাদের কালীপূজা, দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজাগুলো হতো তখন। এই পূজাগুলোকে কেন্দ্র করে আসলে একটা বিরাট সাংস্কৃতিক উৎসব গড়ে উঠল। নানা ধরনের যাত্রাপালা। মানুষের ঢল নামতো সেখানে।

নাইন-টেন পড়েছি যেখানে, সেটা হচ্ছে বল্লা। বল্লায় একটা এলাকা ছিল বল্লানগর। নগর মানে হচ্ছে বর্ধিষ্ণু হিন্দুদের বাড়ি। সেখানে থিয়েটার হতো। কলকাতা থেকে বাবুরা আসতেন, থিয়েটার করতেন। যাত্রাপালা হতো। সেখানে চমৎকার সব যাত্রা দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। বল্লা থেকে মাত্র আড়াই-তিন মাইল দূরেই আমার মামার বাড়ি। আমার ছোট মামা দুদুমিয়া থিয়েটার, খেলাধুলা এসব নিয়ে থাকতেন। আমার ছোটবেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র ছিল আমার এই মামা। ঈদের সময় যখন ছাত্ররা গ্রামে যেত তখন ছোটমামা থিয়েটারের আয়োজন করতেন। ছাত্ররা সেখানে অভিনয় করত। তাই তো ছোটবেলায় আমার কাছে অভিনেতাদের বিশাল ক্ষমতাবান বলে মনে হতো। একেকজন অভিনেতা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অভিনয় করছেন, দর্শক তাকে এতটা সময় দেখছে, নিষ্ফলক তার দিকে তাকিয়ে আছেÑ এটা কী করে হয়? সোহরাব-রুস্তম পালা আমার বিরাট প্রেরণা। এসব দেখে দেখে আমিও স্কুলে অভিনয় শুরু করলাম। সেই সময়ের আনন্দময় দেখাগুলোই হয়তো আমাকে পরবর্তীকালে নাট্যচর্চায় আগ্রহী করে তোলে ।

আনন্দ আলো: বাংলাদেশের মঞ্চের সা¤প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে বলুন-

মামুনুর রশীদ: সা¤প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মঞ্চের অবস্থা খুবই ভালো। গত কয়েক বছরে অনেক ভালো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এটি খুবই আশার কথা। নাটকের বিষয়বস্তু, প্রকাশভঙ্গি, উপস্থাপনার স্টাইলÑ সবকিছু মিলিয়ে এখন একটা বেশ ভালো সময় যাচ্ছে। মঞ্চ অনেকটা আধুনিক হয়েছে বলতেই হবে। কিছু কিছু নাটক তো বটেই, সামগ্রিকভাবেই আমাদের দেশের নাটক আন্তর্জাতিক মানে চলে গেছে। এটা শুধু ঢাকায় না, ঢাকার বাইরেও। এগুলো দেখে মনে হয়, আমরা ১৯৭১-৭২ সালে মঞ্চের যে যাত্রাটা শুরু করেছিলাম, সেই যাত্রাটা নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন একটা ভালো সময় পেয়েছে। তবে এটা সত্যি যে, এখন তরুণদের মধ্যে আগের মতো মঞ্চের জন্য নিবেদিত ভাবনা নেই। সবাই তাড়াতাড়ি স্টার হতে চায়। সেই স্টার হওয়ার জন্য যে সময়টা প্রয়োজন সেটা কেউ দিতে চায় না। সবকিছুর জন্যই ধৈর্য লাগে। আর অধ্যবসায়টাও প্রয়োজন। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে- যা খুব তাড়াতাড়ি আসে তা কিন্তু আবার তাড়াতাড়ি চলেও যায়। হয়তো অনেক কাজ করা যাবে, নামি দামি স্টারও হবেন। কিন্তু জেনে বুঝে শিখে যদি না হাঁটেন তবে হঠাৎ একদিন হযতো হোঁচট খাবেন।