ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ছবি অজ্ঞাতনামা

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ছবি অজ্ঞাতনামা

1779
SHARE

রেজানুর রহমান: বাংলাদেশের সিনেমার জন্য এটি বড়ই আনন্দের খবর। একই সাথে বাংলাদেশের সিনেমাকে আনত্মর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে প্রেরণাদায়ী খবরও বটে। কেন একথা বলছি বোধকরি তার একটা ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ধরা যাক ভিনগ্রহে প্রতি বছরই একটি মেলা হয়। সেই মেলায় পৃথিবী থেকেই একদল মানুষ যায়। সেই মেলায় পৃথিবীর মানুষই মেধা প্রদর্শনের লড়াই করে। বছরের পর বছর ধরে চলছে মেধা প্রদর্শনের এই মেলা। সেখানে অনেক দেশের মানুষ যায়। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষ যাই না। কেন যাই না? আমরা ভাবি ঐ মেলা ভিনগ্রহে হয়। এজন্য যোগ্যতা লাগে। তাছাড়া ভিনগ্রহে যাওয়াটা বড়ই ঝামেলার। কী দরকার এতো ঝামেলা করে? তার চেয়ে যেমন আছি তেমনই থাকি। অথচ বাসত্মব সত্য হলো- মেলাটা ভিনগ্রহে হয় না। আমাদের পৃথিবীতেই হয়। কিন্তু ঐ যে আমরা ভিনগ্রহের একটা ধারণা পুষে রেখেছি, সেটাই বছরের পর বছর ধরে চলছে… এর মধ্যে বাংলাদেশেরই দুই একজন যে এই মেলায় যাননি তা কিন্তু নয়। কিন্তু ঐ যাওয়া পর্যনত্মই শেষ। মেলা ঘুরে এসে আবার যে যেতে হবে এমন প্রেরণা ছড়াননি কেউ। ফলে মেলাটি ভিনগ্রহেরই কিছু একটা সেই ধারণাই এখনো বিদ্যমান। আনন্দের খবর। অচলায়তন ভেঙ্গে গেছে। ধারণা পাল্টে গেছে। ভিনগ্রহের সেই মেলায় এবার বাংলাদেশ যাচ্ছে। শুধু যাচ্ছেই না। মেধা প্রদর্শনের একটা আয়োজনও করেছে।

আনন্দের খবরটা এবার তাহলে খুলেই বলি। যদিও ইতিমধ্যে খবরটা দেশের মানুষ জেনে গেছেন। বাংলাদেশের একটি সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখায় স্থান পেয়েছে। দেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত তৌকীর আহমেদের ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’ বাংলাদেশের পক্ষে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মার্ক্সে দ্যু ফিল্ম বিভাগে প্রদর্শন করা হবে। এটি হবে অজ্ঞাতনামার আনত্মর্জাতিক প্রিমিয়ার। দৃশ্যটা ভাবুন একবার- বাংলাদেশের একটি ছবি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র উৎসব কান এর একটি বিভাগে প্রিমিয়ার হচ্ছে। সেখানে বিশ্বের নামীদামী চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, পরিচালক প্রযোজক চলচ্চিত্র সমালোচক, সাংবাদিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। তারা দেখবেন আমাদের বাংলাদেশের সিনেমা। আমাদের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বড় আনন্দের এবং অবশ্যই অগ্রগতির ঘটনা বোধকরি আগে ঘটেনি।

১৭ এপ্রিল কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল কেন্দ্রের একটি হল অর্থাৎ মার্সে দ্যু ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের ছবি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত তৌকীর আহমেদের অজ্ঞাতনামার আনত্মর্জাতিক প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য কান চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি কর্তৃক সারা বিশ্বে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকায় অজ্ঞাতনামার প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর, ইবনে হাসান খান ও পরিচালক তৌকীর আহমেদের নাম যুক্ত হয়েছে।

১৭ এপ্রিল মার্সে দ্যু ফিল্ম বিভাগে ইমপ্রেস এর অজ্ঞাতনামার আনত্মর্জাতিক প্রিমিয়ার উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সেখানে অজ্ঞাতনামার প্রিমিয়ার এর পাশাপাশি আনত্মর্জাতিক ক্ষেত্রে খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, প্রযোজক, পরিবেশকের সাথে একাধিক বৈঠক করবেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম কর্তৃপক্ষ। আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক, সমালোচকসহ সংশ্লিষ্টদের হাতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ওপর বিশেষ করে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত একাধিক স্যুভেনির তুলে দেয়া হবে।

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ‘অজ্ঞাতনামা’ নিয়ে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র উৎসব কান-এ এবার উপস্থিত হবে বাংলাদেশ। ছবিটির নামের সাথে কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ এর সরব হওয়ার সংগ্রামেরও যেন একটি মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। অজ্ঞাতনামায় একটি মানুষের অস্থিত্ব অর্থাৎ ঠিকানা খুঁজে পাবার লড়াই আছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশও চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে তার ঠিকানা খুঁজে নেবার উদ্যোগ জোরদার করেছে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এক্ষেত্রে সূত্রধর হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ধারায় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর অনেক ভূমিকা আছে। বাংলাদেশের ক্ষয়ে যাওয়া চলচ্চিত্র শিল্পকে বিকশিত করার প্রেরণাদায়ী নানা কর্মকাণ্ডে সরব ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় চলচ্চিত্রের বিকাশমান ধারাকে উজ্জীবিত করেছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস সেই দিন বোধকরি আর বেশি দূরে নয় যেদিন কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল পর্বে ঢুকে যাবে বাংলাদেশের সিনেমা।

আবারও সেই ভিনগ্রহের গল্পটা বলি। শুধু কান চলচ্চিত্র উৎসব নয় বিশ্বের অন্যান্য নামীদামি চলচ্চিত্র উৎসবও যেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কর্মীদের কাছে একেকটি ভিনগ্রহ। ভাবনটা এমন ছড়ানো আছে যে ঐ গ্রহটা আমাদের জন্য নয়। ওটা উন্নত দেশের মানুষের জন্য। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ভিনগ্রহ বলে এখন আর কোনো জগৎ নাই। সবটাই এখন আপনগ্রহ। আমাদের আপন জগৎ।

আসুন ভবিষ্যত চিত্রটা আবার কল্পনা করি। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম খুলে দিয়েছে একটা দরজা। সেই দরজা দিয়ে আমরা চলচ্চিত্রের এক সাম্রাজ্যে হেঁটে চলেছি। সম্ভাবনার এতো আলোতো আগে দেখিনি। ঐতো আলো পড়ছে আমাদের ওপর। আমরা কে? প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। আলোর আভাস যখন পেয়েছি এবার ঠেকায় কে? চল এগিয়ে যাই!