আসছে শীতের প্রস্তুতি

আসছে শীতের প্রস্তুতি

3221
SHARE

শরৎ প্রায় শেষ। শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে ভোরের বাতাস। ভোরে ঠান্ডা শীতল বাতাসের সঙ্গে ঘাসের ডগায় জমছে শিশির বিন্দু। পথপ্রান্তর আর রাজপথে উড়ছে ধুলোবালি। ফসলের মাঠে শীতের সবুজ শাক সবজির চারা বেড়ে উঠছে তর তর করে। এসবই প্রকৃতির শীতের আয়োজন। কিন্তু শহর বন্দর নগরবাসীর শীতের আয়োজন বা প্রস্তুতি কতটুকু? এই পরিবর্তিত আবহাওয়া মোকাবেলা করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত তাই উঠে এসেছে এবারের ফ্যামিলি নিড বিভাগে।

চাঁদর শাল আর সোয়েটার প্রসঙ্গ

মহিলাদের শীতের পোশাক তুলনামূলক ভাবে ঢাকায় বেশি পাওয়া যায়। শীতে শাল, সোয়েটার, হুডি, কার্ডিগান ও নরমাল চাদর এ দেশের মহিলারা বেশি ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের নারীদের ঐতিহ্য গত একটি শীতের পোশাক চাঁদর। এখনও সেই চাঁদর ঐতিহ্য বহাল রয়েছে। এখন সেই চাদরের সাথে সাথে শাল পরেন অনেকে। আগে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বেশির ভাগ চাদর আসত। এখন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মানসম্পন্ন শাল তৈরি করছে তার মধ্যে রয়েছে আড়ং, দেশি দশ। শীত জেকে বসার আগেই আপনার পছন্দের শালটি কিনে নিতে পারেন। দেশি শাল বাদে বিদেশি শাল পাবেন গুলশানের শপার্শ ওয়ার্ল্ড, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, এ আর প্লাজাসহ বিভিন্ন সুপার মার্কেটে। ভালো মানের সোয়েটার কার্ডিগান, মহিলাদের মাফলার, হুডি, লং সোয়েটার ও বেøজার পাওয়া যায় বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর রোডসহ অভিজাত মার্কেটগুলোতে। এই মার্কেটগুলোতে আরো পাওয়া যায় শীতে পরার জন্য মেয়েদের টাইলস ও টুপি।

যা করা জরুরি

dry-Cleaning-1সেপ্টেম্বর শেষে অক্টোবরের শুরুতে ভোরে উত্তরদিক থেকে বয়ে চলা ঠাÐা বাতাস শরীরে আছড়ে পড়ার পর যেন অন্যরকম অনুভ‚তি হয়। এই শীতল বাতাস বেশিক্ষণ গায়ে লাগার পর আচমকা সর্দিকাঁশি অথবা জ্বর হতে পারে। বিশেষ করে নবজাতক, শিশু কিশোরদের সমস্যা বেশি হয়। তাই এই সময় পাতলা চাঁদর, পাতলা কাঁথা অথবা কুইল্ট ব্যবহার করতে পারেন সকালবেলা। শীত জেঁকে বসার আগে তুলে রাখা লেপ, কাথা, কম্বল, কুইল্ট, কম্ফোটার, চাদর, জ্যাকেট, মাফলার, সোয়েটার, ফুল ীভ গেঞ্জি, শাল বের করে অন্তত দুইবার রোদে দিন। বিশেষ করে শিশুদের শীতের কাপড় খুব ভালোভাবে এপাশ ওপাশ উল্টিয়ে রোদে দিয়ে জার্ম ফ্রি করে নিন। শীত শেষে শীতের কাপড় তুলে রাখার পর আলমারি, ওয়্যারড্রপ বাক্সে ছোট ছোট ধুলিকনা থেকে এক ধরনের অতিক্ষুদ্র কিট তৈরি হয়। এই কিটসহ জামা, কাপড়, লেপ, কম্বল, চাঁদর পরলে তা নাকে প্রবেশ করে এলার্জি তৈরি করে শরীরে। সঙ্গে সঙ্গে হাঁচিকাশি শুরু হয়। অনেকের এই হাঁচিকাশি পুরো শীতকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তা থেকে গলা ব্যথা, বুকে কফ জমে সৃষ্টি হয় শ্বাসকষ্ট। এই শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু হয় অ্যাজমা সমস্যা। তাই এখনই পুরনো কাপড় মচমচে করে রোদে শুকিয়ে অথবা ধুইয়ে সম্ভব হলে ইস্ত্রি করে পড়া উচিত। নতুন কেনা কোনো শীতের কাপড়ের বেলায় একই ধরনের নিয়ম অনুসরণ করা উচিত। গত শীতের পর আপনি শীতের কাপড় যদি কোনো লন্ড্রি বা ড্রাইওয়াশে দিয়ে থাকেন তবে মনে করে এখনই তা তুলে আনুন।

লেপ কম্বল কেনার এই তো সময়

Blanketশীত জেকে বসার আগেই খোঁজ করুন ভালো আরামদায়ক কম্বল, কুইল্ট, কম্ফোটার বা লেপের। রাজধানীর বড় বড় সুপার মার্কেট, সুপারসপে ইতিমধ্যে শীতের পণ্য সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। আপনি দেখে শুনে দরদাম করে ভালো মানের পণ্যটি বেছে নিন। শীতের শুরুতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন হালকা কুইল্ট। অনেকটা মোটা চাঁদরের মতো সেলাই করা এই কুইল্ট বেশির ভাগ আমদানী করা। ইদানিং আমাদের দেশেও তৈরি হচ্ছে এই কুইল্ট। আমাদের দেশে শীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় লেপ। শিমুল তুলা বা কৃত্তিম তুলার লেপ রেডিমেট পাওয়া যায়। তবে শৌখিন মানুষেরা শিমুল তুলা দিয়ে লেপ বানিয়ে শীতে ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। ইদানিং শহরে লেপের প্রচলন অনেকটা কমে এসেছে। এখন অনেকের পছন্দ শীতে কম্বল মুরি দিয়ে ঘুমানো। তুলতুলে নানা রঙের কম্বল দেখতেও চমৎকার। কম্বল পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করা। কোনো কম্বল সিঙ্গেল কোনোটা আবার ডাবল। কোয়ালিটি ভেদে এর দাম নির্ধারিত হয়। ভালো সিঙ্গেল একটি কম্বল ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ডাবল ভালো মানের একটি কম্বল পাওয়া যায় ৩ তাজার ৫’শ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। একটি কুইল্ট বা কম্পোটার পাওয়া যায় ২ থেকে ৪ হাজারের মধ্যে। লেপ সাধারণত রেডিমেট কেনার চাইতে তৈরি করে নেয়াই ভালো। শিমুল তুলার একটি ডাবল মাপের ভালো লেপের খরচ পড়বে কাপড় মুজুরীসহ ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা। কম্বল, কুইল্ট ও কম্ফোটার পাবেন নিউ মার্কেট, শাহাবাগ, বসুন্ধরা সিটি, গুলিস্তান, রমনা, গুলশান, যমুনা সুপার মল, মিরপুর রোড ধানমন্ডি, মিরপুরসহ ঢাকার বড় বড় সুপার সপে।

শিশুদের শীতের পোশাক

Family-1শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাই ঋতু পরিবর্তন হয়ে শীতের আগমনে শিশুদের শীতজনিত নানা রোগ দেখা দেয়। এ থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন সচেতনতা। শীত আসার সাথে সাথে পোশাক পরিধানে অভিভাবকদের যতœবান হওয়া উচিৎ। রাতে পায়জামা ফুল ীভ মোটা কাপড়ে শার্ট পরে ঘুমানো উচিৎ। শিশুদের জন্য আলাদা লেপ, কুইল্ট ও ছোট কম্বল পাওয়া যায় ইচ্ছে করলে ব্যবহার করতে পারেন। শীতের সময় শিশুদেরকে গরম কাপড়ে জড়িয়ে রাখা জরুরি। যেমন পা মোজা, মাথায় টুপি বা হ্যাট, গায়ে সোয়েটার এবং ফ্যালালীন বা পশমী কাপড়ের প্যান্ট বা ট্রাউজার পরতে দেয়া উচিৎ। শীতের সময় সকালে শিশু স্কুলে যাওয়ার সময় তার নাকে মেডিকেডেট মাস্ক, স্কুলের সোয়েটারের উপর একটি জ্যাকেট এবং মাথায় টুপি বা হ্যাট পরানো উচিৎ। কারণ শীতের সময় প্রচুর ধুলোবালি বাতাসে উড়ে বেড়ায়। রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে শিশুদের প্রচুর শীতের পোশাকের ভালো ভালো আউটলেট রয়েছে। যেমন আর্টিসান, বেবিসপ এবং দেশি দশের আউটলেট। এসব আউটলেটে শিশুদের মানসম্পন্ন সোয়েটার, জ্যাকেট, মোটা পশমী কাপড়ের শার্ট প্যান্ট, ট্রাউজার, মোজা, টুপি, হ্যাট পাওয়া যায়। এ ছাড়াও আছে ফুল ীভ গেঞ্জি, হাত মোজা এবং হুডি। আছে বিভিন্ন ধরনের হাফ সোয়েটার ও শার্ট। এই পোশাকগুলোর বেশির ভাগ এক্সপোর্ট কোয়ালিটি তাই দাম একটু বেশি। এক্সক্লুসিভ এই শপ ছাড়াও নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, ফার্মগেট, গুলশান, মিরপুর, গুলিস্তান ও উত্তরার বিভিন্ন মার্কেটে শিশুদের ভালো মানের শীতের পোশাক পাওয়া যায়।

জ্যাকেট মাফলার হুডি ও টুপি

Family-1-2একটা সময় শুধু ছেলেরা শীতে জ্যাকেট পরতো। এখন ছেলে- মেয়ে, শিশু কিশোর কিশোরী সবার জন্যই জ্যাকেট তৈরি হয়। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের জ্যাকেট তৈরি করে থাকে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যেমন ক্যাটস আই, ইনফিনিটি, আর্টিসান। শিশুদের জন্য ভালো মানের জ্যাকেট তৈরি করে বেবী সপ। সুতি, আর্টিফিসিয়াল বিভিন্ন ধরনের জ্যাকেট কিনতে পারেন এবারের শীতে। তুলনামূলকভাবে দেশে তৈরি জ্যাকেট দামে সস্তা। জ্যাকেটের সাথে সাথে ছেলেদের হুডি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গত কয়েক বছর ধরে। বিশেষ করে আজিজ সুপার মার্কেটে ছেলেদের নানা রঙের ও ডিজাইনের হুডি পাওয়া যায় সাধ্যের মধ্যে। এখানে শুধু ছেলেদের নয় মেয়ে ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের হুডি কিনতে পারেন। শীত নিবারনে হুডি খুবই কার্যকরী একটি পোশাক। এটা হালকা শীতে যেমন পরা যায় তেমনি তীব্র শীতে কোট বা জ্যাকেটের সাথেও পরা যায়। হুডির সাথে সাথে আজিজ মার্কেটে অনেক ধরনের টুপি পাওয়া যায়। শুধু ছেলেদের নয় মেয়ে ও শিশুদেরও নানা ধরনের টুপি পাওয়া যায়। এছাড়াও আছে মাফলার। তবে আজিজ মার্কেটের চেয়ে ভালো মানের মাফলার পাওয়া যায় দেশি দশ-এর আউট লেট গুলোতে। শুধু ছেলেদের নয় মেয়ে ও শিশুদের নানা ধরনের ও রঙের মাফলার পাওয়া যায়। মানসম্পন্ন এই মাফলার গুলো দামেও সস্তা।