Home এক্সক্লুসিভ আমি আমার মতো হতে চাই-নুহাশ হুমায়ূন

আমি আমার মতো হতে চাই-নুহাশ হুমায়ূন

SHARE
NUHASH-HUMAYUN

শুধু কাজের সময়ই বাসার বাইরে থাকেন তিনি। আর যেদিন কাজ থাকে না সেদিন বাসার বাইরে খুব একটা বের হন না। নিজের লেখালেখি, স্ক্রীপ্ট নিয়ে আলোচনা কিংবা গল্পের চরিত্রগুলো নিয়েই ভাবেন। ইতোমধ্যে তিনি নাটক পরিচালনায় আলাদা একটা ইমেজ তৈরি করেছেন। হ্যাঁ, পাঠক ঠিক ধরেছেন, প্রতিভাবান এই যুবকের নাম নুহাশ হুমায়ূন। সেই বিটিভির আমল থেকেই এই নুহাশের নাম এদেশের লাখ লাখ ভক্তদের কাছে পরিচিত। কারণ বাবা হুমায়ূন আহমেদের কোনো ফিকশন কিংবা চলচ্চিত্রে নুহাশ চলচ্চিত্রের নামটা ভেসে ওঠতো। আজ জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ চিরনিদ্রায় যেখানে শায়িত হয়ে আছেন সেই নুহাশ পল্লীটাও তার নুহাশের নামে। বর্তমানে দেশের টেলিভিশন মিডিয়ায় নুহাশ হুমায়ূন নামটি বেশ আলোচিত। অল্পকিছু কাজ করে দর্শকদের মনজয় করে নেন তিনি। নির্মাণে একেবারেই রয়েছে তার নিজস্বতা। সম্প্রতি ইমপ্রেস টেলিফিল্মের নতুন সিনেমার প্রজেক্ট ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ তে ১১জন নির্মাতার মধ্যে নুহাশ হুমায়ূনও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। সমসাময়িক ব্যস্ততা ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নুহাশ কথা বলেছেন আনন্দ আলোর সঙ্গে। বনানীতে নিজের বাসায় বসে তিনি নানান কথা শেয়ার করেছেন। লিখেছেন সৈয়দ ইকবাল।
আনন্দ আলো: আপনার বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলবেন…
নুহাশ হুমায়ূন: কিছুদিন আগে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। যেখানে ১১ জন তরুণ নির্মাতা এই সিনেমায় ১১টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। যা এক সঙ্গে করে ১টি চলচ্চিত্র বানানো হবে। গল্পে একটার সঙ্গে আরেকটার মিল থাকবে এর এই শহরেরই নানান গল্প এতে ফুটে উঠবে। যা দেখে দর্শক অন্য রকম আনন্দ পাবেন।
আনন্দ আলো: নির্মাতা হওয়ার পেছনে আপনার ইচ্ছার কথাগুলো জানাবেন…
নুহাশ হুমায়ূন: ছোটবেলা থেকেই তো আমি এসব বিষয়ের মধ্যে বড় হয়েছি। যখন একদম ছোট ছিলাম তখনই দেখতাম শুটিং, নায়ক-নায়িকা এসব বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা। আমি যখন ক্লাস সিক্স কী সেভেন-এ পড়ি তখন মা আমাকে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা কিনে দিয়েছিল। সেটা দিয়ে আমি ভিডিও করে মাকে দেখাতাম। নানান বিষয় নিয়ে তখন ভিডিও করতাম। এমনও হয়েছে কোনো বিষয়ের উপর ছোট্ট ছোট্ট গল্পের নাটক বানাতাম। যেগুলো বন্ধু মহল থেকে শুরু করে পরিবারের সবাই বেশ প্রশংসা করতো। বলতে গেলে তখন থেকেই নির্মাতা হওয়ার বিষয়টি মাথায় আসে। পরবর্তীতে অনেক বিষয়ে আমার মা আমাকে বেশ উৎসাহ দিয়েছেন। ইনফ্যাক্ট শুটিংয়ের সময় যে খাবার খাওয়াতে হয় সেটা আমার জানা ছিলনা। ক’দিন আগে আমাদের বাসায় একটি শর্ট ফিল্মের শুটিং করেছিলাম। যেটি চ্যানেল আইতে অনএয়ার হয়। সেটার শুটিং-এর সময় মা পুরো ইউনিটকে রান্না করে খাইয়েছেন।
আনন্দ আলো: কাজের ক্ষেত্রে আপনার বাবা দেশের নন্দিত নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের অনুপ্রেরণার কথা জানতে চাইÑ
নুহাশ হুমায়ূন: আমাকে এই বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেন। অনেককেই বলতে শুনেছি বাবার মতো এরকম করা উচিত, তার মতো ঐটা করা উচিত ওটা করা উচিৎ। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে আমার পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধবরা কিন্তু এই বিষয়টা চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করেন না। আমার কথা হচ্ছে, বাবা তার মতো একটা ট্র্যাকে কাজ করেছেন। তার সময়কার সামাজিক মূল্যবোধ, মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল এক রকম। এখন এসে এই জেনারেশনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাই আমার মতে, আমার কাজ এখনকার সময়ের প্রতিনিধিত্ব করবে। মজার বিষয় হচ্ছে আমি যাদের সঙ্গে কাজ করছি তারা কেউ-ই কিন্তু কার মতো আমার নির্মাণ হতে হবে এমন কোনো বিষয় উল্লেখ করেন না। তারা বলে দেন আমার মতো করেই এটা করতে। কিন্তু বাইরের মানুষের এই প্রত্যাশাটা বেশি থাকে। অনেকেই আমার কাজের মধ্যে বাবার কাজের ছাঁয়া খুঁজে থাকেন। আমি বলবোÑ এটা আসলে হবার না কখনো। আমার কাজটা আমারই মতো হবে। আমার গতি এবং আমার রুচির মতোই হবে। আরেকটি কথা না বললে নয় সেটি হলো তখনকার কাজের জায়গাটা একরকম ছিল। আর এখন আরেকরকম।
আনন্দ আলো: পূর্ণাঙ্গ সিনেমা বানাবেন কবে?
নুহাশ হুমায়ূন: পূর্ণাঙ্গ সিনেমা তো বানাবোই। তবে আরেকটু সময় নিয়ে এগুতে চাই। বলতে গেলে আমি নিজেকে আরো গোছাতে চাই এবং নিজেকে পাকাপোক্ত করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি একটা কাজের জন্য প্রচুর সময় দিতে হয় নিজেকে। আমি সেই সময়টা দিচ্ছি এবং সময়টা নিচ্ছিও বলতে পারেন।
আনন্দ আলো: সেই সিনেমা তো একেবারেই নুহাশ হুমায়ূনেরই হবে?
নুহাশ হুমায়ূন: অবশ্যই। আমি আসলে ফরম্যাটে বিশ্বাসী না। আর নির্দিষ্ট টাইপের বাইরে গিয়ে একেবারেই নিজস্ব স্টাইলে নির্মাণ করতে পছন্দ করি। আবার নির্মিত ‘হোটেল অ্যালাবট্রস’ কিন্তু আমারই মতো করে বানানো। এখানে কারো নির্মাণের বিষয়টাকে মাথায় রাখিনি। তাই আমার সব নির্মাণেই তেমন হবে। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের জায়গাটা দর্শকদের কাছে তুলে ধরাটাই আমার একটা ভালো লাগা। প্রতিনিয়ত নতুনত্ব খুঁজতে চাই কাজের মধ্যে।
আনন্দ আলো: লেখালেখি করার ইচ্ছা আছে? মানে বই আকারে কোনো সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করার কথা চিন্তায় আছে কী?
নুহাশ হুমায়ূন: আমার ফিকশনগুলোর স্ক্রীপ্ট কিন্তু আমি নিজেই লিখে থাকি। এক অর্থে আমি লেখালেখি করছি। তবে হ্যাঁ, পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য রচনা মানে উপন্যাস, গল্প এগুলো বই আকারে বের করার এখনই ইচ্ছা নেই। আসলে সবকিছুকে একই রকম হতে হবে বিষয়টা কিন্তু তা নয়। আমার মতোই আমি এগিয়ে যেতে চাই।
আনন্দ আলো: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সম্প্রতি ‘দেবী’ নিয়ে একপ্রকার আলোচনা-সমালোচনার কথা গেছে। এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
NUHASH-HUMAYUNনুহাশ হুমায়ূন: আমার বক্তব্য আমি একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলাম। আর শিলা আপু বিষয়টি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার পর জয়া আপু (জয়া আহসান) বেশ আন্তরিকভাবে রেসপন্স করেন। আসলে উনিও বিষয়টা ক্লিয়ার জানতেন না। এখন বিষয়টা একটা মীমাংসা হয়েছ। এই বিষয়ে আমি সবার উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলবোÑ বাবার কোনো বিষয় কিংবা সাহিত্য কর্ম নিয়ে কাজ করতে চাইলে প্রসেসিংটা প্লিজ জেনে নিবেন। কোথায় কোথায় কথা বলতে হবে এটাও জানা জরুরি। এখন আসলে অনেক স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমার মতে, বাবার মতো এত বড় একজন সৃষ্টিশীর মানুষের সাহিত্যকর্ম নিয়ে কাজ করার সময় কেউ যেন কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়েন। সেজন্য উচিত বিষয়টি সম্পর্কে জেনে নেয়া।
আনন্দ আলো: আপনার অবসর সময়ে কী করেন?
নুহাশ হুমায়ূন: কাজ না থাকলে আমি বাসা থেকে একদমই বের হই না। আমি সারাক্ষণ বাসায় কাটাতে পছন্দ করি। আমি খুব রাত জাগি। আমার কাছে রাত জাগাটা বেশ আনন্দের মনে হয়। সবাই যখন ঘুমায় তখন জেগে থেকে নিজের ভাবনাকে জাগানো বেশ রোমঞ্চকর। এমনও হয়েছে আমি একরাত জেগে একটি স্ক্রীপ্ট পর্যন্ত শেষ করে ফেলেছি। সেটা দেখা গেছে অন্যরকম হয়েছে। আমি প্রচুর মুভি দেখি, গান শুনি আর বইও পড়ি। আমি আমার মতো সময় কাটাতেই বেশি ভালোবাসি।
আনন্দ আলো: অভিনয়ে আসার ইচ্ছা আছে কী?
নুহাশ হুমায়ূন: অবশ্যই আছে। আমি অভিনয় করতে চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ ওপেন একটা ছেলে। আমার কাছে কোনো কাজেই ছোট বলে মনে হয় না। আমার সঙ্গে যদি কোনো চরিত্র মিলে যায় এবং সেটা যদি আমি মনে করি ‘ওকে’ তাহলে অবশ্যই করবো। কোনো সমস্যা নেই।
আনন্দ আলো: আপনার কাছে বন্ধুত্ব মানে কী?
নুহাশ হুমায়ূন: পরস্পরের আস্থা, বোঝাপড়া আর আরেকজনের মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়া মানেই সেটা বন্ধুত্ব। যার সঙ্গে গল্প করতে ভালো লাগে। সময় কাটাতে ভালো লাগে এবং সবকিছু শেয়ার করা যায় সেটাই বন্ধুত্ব।
আনন্দ আলো: আর ভালোবাসা?
নুহাশ হুমায়ূন: দুটি মানুষ একজন আরেকজনকে বোঝার আগেই বুঝে ফেলা সে কী চায়। দায়িত্ববোধ, সম্পর্কের গভীরতা এবং পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস থাকা। সেটাই ভালোবাসা। তবে একজন আরেকজনের প্রতি ভালোবাসা জন্মানোর আগে বন্ধুত্বটা খুব জরুরি।
আনন্দ আলো: নিজের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলবেনÑ
নুহাশ হুমায়ূন: নিজের চিন্তা-ভাবনাটাকে নির্মাণের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাই। যে কাজ দেখে মানুষ বলবে এটা নুহাশ হুমায়ূনের কাজ। আমি এমন কিছু কাজ দর্শকদের উপহার দিতে চাই যেন সেই কাজটি আমার একটা স্টাইল-এ পরিণত। আমি আসলে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।