Home টি-২০ আড্ডা আমার সেই প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেছে!-ইমরান

আমার সেই প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেছে!-ইমরান

SHARE
Imran

আনন্দ আলো: প্রথমে জানতে চাই গানে না এলে কী হওয়ার ইচ্ছ ছিল?

ইমরান: আমার বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন ব্যাংকার হই। আর আমার ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। শেষ পর্যন্ত হয়েছি সংগীত শিল্পী।

আনন্দ আলো: জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় যে কাজটি

ইমরান: চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আনন্দ আলো: প্রথম প্লেব্যাক…

ইমরান: শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের ‘ভালোবাসা লাল গোলাপ’ সিনেমায় প্রথম প্লেব্যাক করি। ‘মেঘ যেখানে পাহাড়ে উড়ে যায়’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলাম। আর প্রথম প্লেব্যাকেই সাবিনা ইয়াসমিন ম্যাডামের সঙ্গে দ্বৈতগান গাওয়ার সুযোগ পাই। এটা আমার জন্য বিশাল এক পাওয়া। উনি এত বড় একজন শিল্পী। আবার আমি যেই গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসেছি, সেটার বিচারকও ছিলেন তিনি। সত্যি বলতে, তার সঙ্গে গান রেকর্ড করতে গিয়ে খুব নার্ভাস লাগছিল। তবে সেই ভয়টা অন্যরকম কেমন যেন আনন্দ মেশানো ভয়।

আনন্দ আলো: প্রথম একক অ্যালবাম…

ইমরান: ২০১১ সালের ঘটনা। গানের জগতে তখন আমি একেবারেই নতুন। ওই সময় নতুন একজন শিল্পীর প্রথম একক অ্যালবাম বের হলে যেমন অনুভ‚তি হওয়ার কথা, আমারও তেমনই হয়েছিল। ‘স্বপ্নলোক’ নামের সেই অ্যালবামে অনেক আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করেছিলাম। অ্যালবামের নয়নি গানের মধ্যে তিনটি গানের কম্পোজিশন আমি নিজেই করেছিলাম। বাকি ছয়টি করেছিলেন আরেফিন রুমি ও মাহমুদ সানি।

আনন্দ আলো: গান গেয়ে পুরস্কার…

ইমরান: ছোটবেলায় অনেক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। পুরস্কারও পেতাম। তাই আলাদা করে ঠিক প্রথম পুরস্কার কবে পেয়েছিলাম সেটা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারব না। তবে একটি পুরস্কারের কথা আমার বিশেষভাবে মনে আছে। খুব সম্ভবত ছোটবেলায় আমার পাওয়া সেভেনে থাকতে সপ্তসুর একাডেমি আয়োজনে নজরুল সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি মেডেল ও সনদ অর্জন করেছিলাম।

আনন্দ আলো: ইউটিউব চ্যানেলের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি…

ইমরান: ইউটিউবে এক লাখ সাবস্ক্রাইবার হলেই স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের সংগীত শিল্পীদের মধ্যে আমিই প্রথম এ স্বীকৃতি পেলাম। আমি ভীষণ আনন্দিত। সেটি এখন ২ লাখের মতো। এটি আমার ভক্ত, দর্শকদের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

আনন্দ আলো: দুই বাংলায় একমাত্র শিল্পী হিসেবে আপনার তিনটি গানই এরই মধ্যে ইউটিউবে কোটি দর্শক এর বেশি উপভোগ করেছেন।

ইমরান: আমার গাওয়া ‘বলতে বলতে চলতে বলতে’, ‘দিল দিল দিল’ ও ‘ফিরে এসো না’ এই তিনটি গানেরই প্রায় এক কোটি ভিউয়ার্স অর্জন করেছে। এ গানগুলোর মাধ্যমে যে ভালোবাসা পেয়েছি সেটা খুব কম মানুষের ভাগ্যে জুটে। নিঃসন্দেহে এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের ও অনুপ্রেরণার বিষয়। সব মিলিয়ে শ্রোতা, ভক্ত, শুভানুধ্যায়ীদেয় কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আনন্দ আলো: ধারাবাহিকভাবে আপনি একের পর এক হিট গান শ্রোতাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। এ সফলতার রহস্য কী?

ইমরান: সফলতার রহস্য কী সেটা জানি না। তবে চেষ্টা করছি ভালো মানের কাজ করতে। সময়ের সঙ্গে চলতে।

আনন্দ আলো: আপনার পছন্দের মিউজিক ভিডিও কোনটি?

ইমরান: এ পর্যন্ত আমার যতগুলো মিউজিক ভিডিও বের হয়েছে সবগুলোই আমার পছন্দের। একেকটা ভিডিও একেক রকমের। তার মধ্যে শফিক তুহিন ভাইয়ের লেখা ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানটি একটা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বলতে পারেন এটা আমার খুবই পছন্দের প্রিয় একটি গান। ‘ফিরে এসো না’ ও ‘দিল দিল দিল’ গান দুটিও আমার পছন্দের গান। ‘সবাই তো চলে যাবে’ ভিডিওটি অ্যাকটিং বেইজড। সবার প্রশংসা পেয়েছি। এই গানটির মিউজিক ভিডিও আমার অনেক ভালো লেগেছে। ‘ধোঁয়া’ গানটিও আমার পছন্দের একটি গান। এরই মধ্যে এ গানটি বেশ সাড়া ফেলেছে। তাছাড়া ‘আমার ইচ্ছে কথায়’ গানটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই গানটির মিউজিক ভিডিও ভালো লেগেছে।

আনন্দ আলো: আপনার মতে, গান আগে নাকি ভিডিও?

ইমরান: অবশ্যই গান আগে। কারণ গান শুনতে ভালো না লাগলে তা কখনোই গ্রহণ যোগ্যতা পাবে না। সেটার যত ভালো ভিডিও করা হোক না কেন অডিওকে আগে প্রাধান্য দেয়া উচিত। আর ভিডিওটা হলো গান প্রচারণার একটা মাধ্যম।

আনন্দ আলো: ইদানীং মিউজিক ভিডিওতে রুশ, শ্রীলঙ্কান কিংবা ভারতীয় মডেল দেখা যাচ্ছে। গানের থেকে মডেলের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না?

ইমরান: গানের গল্পের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন দেশের মডেল নেয়া। তাতে গানের গুরুত্ব কমে যায় না। গান ভালো না হলে যে দেশ থেকেই মডেল নেয়া হোক না কেন, গানের ভিডিও জনপ্রিয়তা পাবে না।

আনন্দ আলো: গায়ক হিসেবে কম্পোজার ইমরান আর কম্পোজার হিসেবে গায়ক ইমরানের সমালোচনা করুন?

ইমরান: কম্পোজার হিসেবে বলব, গায়ক ইমরানকে আরো অনেক বেশি চর্চা করতে হবে। আর গায়ক হিসেবে বলব, কম্পোজার ইমরানের আরো অনেক বেশি গান শোনা দরকার।

আনন্দ আলো: নাটকের প্রস্তাব পেলে অভিনয় করবেন কী?

ইমরান: না ভাই, আমি অভিনয় করব না। গানের মানুষ গানেই থাকতে চাই। আগে একাধিকবার নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। করিনি। গানটা আমার আসল ঠিকানা।

আনন্দ আলো: যে নাটক দেখে প্রচÐ ভালো লেগেছে…

Imran-1ইমরান: মেহজাবীনের ‘বড় ছেলে’ নাটকটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। জীবনে একটি মাত্র নাটকই নিজের ফেসবুকের টাইমলাইনে আপ করেছি সেটি বড় ছেলে।

আনন্দ আলো: আপনার কাছে সংগীত কী?

ইমরান: সংগীত হচ্ছে এমন এক বিনোদন যা আপনাকে খুব অল্পসময়ে হাসাবে, কাঁদাবে, আনন্দ দিবে। সংগীত এক ধরনের  প্রার্থনার মতো যা আপনার মনকে শান্তি দেয়। মনকে পরিশুদ্ধ করে।

আনন্দ আলো: প্রথম কেনা উপহার

ইমরান: আমাদের শৈশব-কৈশোরের ঈদের আনন্দ শুরু হতো রোজার সময় থেকেই। পাড়ায় ছোট ছোট কার্ডের দোকান বসত ঈদ উপলক্ষে। তখন কার্ডগুলোও হতো ছোট আকৃতির কিন্তু দেখতে খুব সুন্দর। আর ওই বয়সটায় ওই ধরনের জিনিসের প্রতি আমরা খুব আকৃষ্ট হতাম। টিফিন বাঁচানো টাকা দিয়ে বা বড়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বন্ধুদের জন্য সে সব কার্ড কিনতাম। তাই বলা যেতে পারে ঈদকার্ডই আমার কেনা প্রথম উপহার।

আনন্দ আলো: পত্রিকার যে অংশটি আগে পড়া হয়…

ইমরান: পত্রিকার বিনোদন পাতাটা আগে পড়া হয়।

আনন্দ আলো: আপনার কাছে প্রেম কী?

ইমরান: আমার কাছে প্রেম মানে বিশ্বাস, প্রেম মানে সেক্রিফাইস, প্রেম মানে একটা সম্পর্কের মধ্যে সৎ থাকা।

আনন্দ আলো: প্রথম প্রেম…

ইমরান: প্রথম প্রেম হয়েছিল ক্লাস টেন এ থাকতে। আমি তো বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেছি, তাই সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমের কোনো সুযোগ ছিল না। মজার বিষয় হলোÑ গানই আমাকে প্রথম প্রেমের সুযোগ করে দিয়েছিল। সেই মেয়েটির স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলাম। সেখানেই পরিচয়, তারপর প্রেম। ছোটবেলায় প্রেমগুলো যেমন হয় আর কী? কিছুদিন আগে মনে হয়, আমার সেই সাবেক প্রেমিকার অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে গেছে। হা হা হা।

আনন্দ আলো: প্রেম কিংবা বিয়ের কোনো সংবাদ আছে কী?

ইমরান: না। একদমই না। আমার প্রেম গানের সঙ্গে। আর সত্যি বলতে যে প্রেমের কথা বলছেন তা করার সময় নেই। কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রতিনিয়ত। আর এরই মধ্যে যদি জীবন সঙ্গী করার মতো কাউকে পেয়ে যাই অবশ্যই তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করব।