Home শীর্ষ কাহিনি আমার বইমেলা

আমার বইমেলা

SHARE
PM

রেজানুর রহমান, সৈয়দ ইকবাল
বোধকরি আমরা এখন অহংকারের সাথেই বলতে পারি আমাদের একুশে বইমেলা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বইমেলা। সময়সীমার প্রেক্ষিতে আমাদের বইমেলা অবশ্য শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা পেয়েছে। কারণ পৃথিবীতে আর কোথাও এক মাস ধরে এত বড় বইমেলা হয় না। পাশাপাশি শুধুমাত্র একটি ভাষার ওপর লেখা বইয়ের এত বড় বইমেলাও আর কোথাও দেখা যায় না। আমাদের বইমেলায় প্রতি বছরই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিকরা আসেন। এবারও মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চার দেশ থেকে চারজন গুণী কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক এসেছিলেন। তারা এক বাক্যে স্বীকার করেছেন আয়োজন ও আন্তরিকতার দিক থেকে আমাদের বইমেলাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বইমেলা। প্রকৃত অর্থেও আমাদের বইমেলা সবার থেকে আলাদা ও অনন্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এবার বইমেলার আয়োজনগত দিক থেকে শুরু করে সার্বিক পরিবেশ সত্যি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এক সময় বাংলা একাডেমির ছোট্ট পরিসরে যে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো আজ সেই বইমেলাই বাংলা একাডেমি আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জায়গা জুড়ে আধুনিক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ যেন এক সুন্দর স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এবার বইমেলায় যারাই আসছেন তারাই মেলার নান্দনিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। প্রকাশকরা খুশি। কবি, লেখক ও পাঠকেরাও খুশি। প্রচার মাধ্যমে প্রতিদিন মেলার সৌন্দর্যকে ঘিরে সুন্দর সুন্দর কথা, প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ভারতের কলকাতা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রেতা দর্শক এবারের বইমেলায় এসেছেন। তারাও স্বীকার করেছেন ঢাকায় একুশে বইমেলা এবার সত্যি সত্যি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আন্তরিক আয়োজনের দিক থেকে এই বইমেলার সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনো বইমেলার তুলনা হয় না। অথচ একুশে বইমেলাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। যুগের প্রয়োজন বলে একটা কথা আছে। বাংলা একাডেমির ছোট্ট পরিসরে বইমেলা করাটা খুবই অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সঙ্গত কারণে একাডেমি থেকে প্রস্তাব ওঠে বইমেলার আয়তনের পরিধি বাড়ানো হোক। পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা সম্প্রসারণের প্রস্তাব তোলে বাংলা একাডেমি। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে এর বিরুদ্ধে কথা ওঠে। বলা হয়, একুশে বইমেলাকে ঘিরে বাঙালির একটি আবেগ জড়িত। কাজেই বাংলা একাডেমি থেকে এই মেলা কোনো ভাবেই সরানো যাবে না। কিন্তু এক পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়। প্রথম দুই বছর আয়োজনগত ত্রæটি ছিল। তৃতীয় বছরে সেই ত্রæটি অনেকটা দূর করা সম্ভব হয়। চতুর্থ বছরে এসে একুশে বইমেলা এবার সত্যি সত্যি অপরূপ এক বইয়ের মেলা হয়ে উঠেছে। যারা এক সময় একাডেমির বাইরে বইমেলা সম্প্রসারণের ব্যাপারে ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন তারাই এখন মেলা নিয়ে উচ্ছ¡সিত। অভিন্ন সুরে বলছেন, আমরা এ ধরনের বইমেলাই চেয়েছি…
প্রিয় পাঠক, একবর্ণ মিথ্যা নয়। ঘটনা সত্যি। এবার বাংলা একাডেমির বইমেলা সত্যি অনন্য মর্যাদায় নিজেকে উপস্থাপন করেছে। স্টল ও প্যাভিলিয়ন সজ্জার দিক থেকে বইমেলা অন্যবারের চেয়ে একে বারেই আলাদা। যারা এখনও বইমেলায় যাননি তারা একবার হলেও ঘুরে আসুন। মেলার পরিবেশ অনেক ভালো লাগবে। ও হ্যাঁ, জানেন নিশ্চয়ই বইমেলায় শতকরা ২৫ ভাগ কমিশনে বই বিক্রি হয়। প্রিয়জনের জন্য ভালো বই কেনার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।