Home শীর্ষ কাহিনি প্রচ্ছদ মুখ আমার বইমেলা

আমার বইমেলা

SHARE
Sajol-Shanu

বইয়ের প্রতি ভালোবাসা ছাত্র জীবন থেকেই

সজল

আনন্দ আলো: বইমেলায় শেষ কবে গিয়েছেন?
সজল: আমি প্রতিবছরই বইমেলায় যাই। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা সেই ছাত্রজীবন থেকেই। আমি মেলায় সবসময় শেষের দিনগুলোতে যাই। কারণ প্রথম দিকে কী কী বই আসে তা জেনে লিখে রাখি। কোন লেখকের কোন বই কিনবো সেটা আগে থেকে লিখে রাখলে মেলায় গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয় না। এবছর এখনো মেলায় যাইনি। তবে যাব। বেশ কিছু বই কেনার জন্য ইতোমধ্যেই লিস্ট করেছি। ইচ্ছে আছে সবগুলো বই কেনার। তবে আগের মতো মেলায় গিয়ে বই দেখতে ও কিনতে পারি না। ভক্তদের কবলে পড়তে হয়। তাদের সাথে অটোগ্রাফ দেয়া, সেলফি তুলতে তুলতে সময় চলে যায়।
আনন্দ আলো: তার মানে আগের সময়টা মিস করেন?
সজল: অবশ্যই করি। তবে আমি এটাও তো চেয়েছিলাম রাস্তায় বের হলেই যেন মানুষ আমাকে ঘিরে ধরে, ছবি তোলে, তাদের কাছে টেনে নেয়। আমি এগুলোতে বিরক্ত হই না। ভালোই লাগে। তবে, হ্যাঁ মিস করি আগের সেই সময়গুলো। ছাত্রজীবনে শাহবাগ, টিএসসি আর বইমেলার আড্ডা খুব মিস করি। উৎসবের দিনগুলোতে আমাদের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার সময়গুলো কত মধুর ছিল।
আনন্দ আলো: আপনার প্রিয় লেখক কারা?
সজল: হুমায়ূন আহমেদের বই বলতে একেবারেই অজ্ঞান আমি। যখন থেকে বই পড়া শিখেছি তখন থেকেই হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তাম। একেবারেই ছোটবেলায় অবশ্য অন্য বই পড়েছি। আমার মনে আছে ছোটবেলায় মায়ের সাথে যখন নিউমার্কেটে যেতাম তখন সেই মার্কেটের গেটে কিছু বই আর স্টেশনারির দোকান ছিল। সেখান থেকে মা আমাদের পড়াশোনার স্টেশনারি জিনিস কিনতো। সেখান থেকে কমিকস-এর বইও কিনে দিতো মা। তবে সেটা পরিমাণে কম থাকতো। তখন খুব মন খারাপ লাগতো। ক্লাশ নাইন টেনে উঠার পর হুুমায়ূন আহমেদের বই পড়া শুরু করি। আর কলেজে উঠার পর হুমায়ূন আহমেদের পাশাপাশি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তারা শংকর, সমরেশ মজুমদার, সৈয়দ শামসুল হক, ইমদাদুল হক মিলনসহ জনপ্রিয় সব লেখকদের বই পড়ি। আমার কবিতাও খুব ভালো লাগে। এখনো কবিতা পড়ি বেশ। নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, জয় গোস্বামীর কবিতা আমার ভালো লাগে।

বইমেলার সময় কোনো শুটিং রাখি না

শানু

আনন্দ আলো: বইমেলার স্মৃতির কথা বলবেন?
শানু: ছোটবেলায় সিলেটে বাবার হাত ধরে বইমেলায় যেতাম। তখন বাবা অনেক বই কিনে দিতো। এরপর যখন বই পড়ার প্রতি আলাদা একটা ভালোলাগা তৈরি হয় তখন মেলায় যাওয়া শুরু করি নিয়ম করেই। তবে প্রায় সময়ই বাবা থাকতো সাথে। বাবাই আমাকে বইয়ের প্রতি, বইমেলার প্রতি, লেখকদের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছেন। আমার বাবা একজন কবি। তার নাম একে শেরাম। তিনি নিয়মিতই কবিতা লিখেন। এই বাবা আমাকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে দিয়েছেন। তবে ঢাকার বইমেলায় আমার যাওয়া শুরু হয় ঢাকায় আসার পর। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়ে বিজয়ী হওয়ার পর শোবিজে কাজ শুরু করি। অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। তবে বিভিন্ন দিবসে যেমন পহেলা বৈশাখ, ভ্যালেন্টাইন ডে, একুশে ফেব্রæয়ারির দিন গুলোতে মেলায় যাই। তবে গতবছর থেকে বইমেলার প্রতি আমার অন্যরকম এক আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে।
আনন্দ আলো: সেটা কী আপনার লেখা কবিতার বই প্রকাশিত হওয়ার পর?
শানু: হ্যাঁ, সেটা বলা যেতেই পারে। গতবছর বইমেলায় আমার লেখা ‘নীল ফড়িং কাব্য’ প্রকাশিত হয়। আর এবছর তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়। বইগুলো হলোÑ অনন্যা থেকে ‘লাল এপিটাফ’, তা¤্রলিপি থেকে ‘ত্রিভুজ’ ও চৈতন্য থেকে ‘অসময়ের চিরকুট’ প্রকাশিত হয়। তাই গতবছর থেকে প্রায় প্রতিদিনই প্রাণের মেলায় ছুটে যাই। মেলার স্টলে বসি, পাঠকদের সাথে কথা বলি, তারা অটোগ্রাফ নেয়। সেলফি তোলে সব মিলিয়ে অন্যরকম এক আমেজের মধ্যদিয়ে যায় আমার বইমেলা। সবচেয়ে অবাক করা সংবাদ হচ্ছে আমি বইমেলার সময় কোনো শুটিং পর্যন্ত রাখি না। গতবছর পুরো একমাস আমি বইমেলায় ছিলাম। প্রতিদিন মেলার সময় হওয়ার সাথে সাথেই সেখানে হাজির। তবে এবছরও তেমন ইচ্ছা ছিল। আগে থেকে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য ফেব্রæয়ারির প্রথমদিকে কক্সবাজার শুটিং করতে হয়েছিল। তবে এরপর আর কোনো শুটিং রাখি নাই। পুরো মাস শুধু বই আর বইমেলা নিয়েই আছি।
আনন্দ আলো: আপনার লেখালেখির শুরুটা কীভাবে?
শানু: এটা আমি আমার বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। বাবা-ই আমাকে এই বইয়ের জগৎ-এ প্রবেশ করায়। জেনেটিকভাবে তো বাবার কাছ থেকেই পেয়েছি। কারণ বাবা নিজেও একজন কবি। তবে যখন থেকে বুঝতে শিখেছি বই পড়া শুরু করি, তখন থেকে আমার মধ্যে নানান শব্দ খেলা করে। সেগুলো অনেক জায়গায় লিখে রাখি। গত কয়েক বছর ধরে ফেসবুকে অনেকগুলো লেখা পোস্ট দেই। যখন যেটা ভাবনার মধ্যে আসে সেটাই পোস্ট দিয়ে থাকি। তখন অনেকেই আমাকে বই লেখার ব্যাপারে উৎসাহ দিতে থাকেন। সেখান থেকেই জীবনের প্রথম বই গতবছর অনন্যা থেকে ‘নীল ফড়িং কাব্য’ প্রকাশিত হয়। জীবনের নানান অধ্যায়, সামাজিক চিন্তা-চেতনা আর মানবিক অনুভ‚তি ও মূল্যবোধ আমাকে ভাবিয়ে তোলে প্রতিনিয়ত। তাই তো আমি সেই ভাবনাগুলো লিখার চেষ্টা করি।
আনন্দ আলো: আপনার প্রিয় কবি সাহিত্যিক কারা?
শানু: আমি যখন থেকেই বই পড়ি তখন থেকেই হুমায়ূন আহমেদের বই পড়া দিয়ে শুরু হয়। উনার লেখা পড়ে এতটাই ভালো লাগে যে অন্যকারো বই পড়ে তেমন মন ভরে না। আরেকজনের লেখার আমি খুব ভক্ত তিনি হলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আরো ভালো লাগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও সমরেশ মজুমদার-এর লেখা বই। তবে এখনকার সময়ে এসে অনেকের লেখা বই-ই পড়ি। জানার জন্য, বোঝার জন্য এবং নিজেকে অনুধাবন করার জন্য সব ধরনের বই-ই পড়ার চেষ্টা করি।