আমার গানের অন্তর বাহির

আমার গানের অন্তর বাহির

310
SHARE
Nancy

ন্যান্সি
প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যা বেলায় আমি বই নিয়ে পড়তে বসেছিলাম। হঠাৎ করে বাবা বললেন, ঢাকা থেকে ডাক এসেছে। তোমাকে ঢাকায় যেতে হবে। ফেরদৌস ওয়াহিদের ছেলে হাবিব ওয়াহিদ তোমাকে দিয়ে গান করাবেন। খবরটা শুনে সেদিন আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। পরে ঢাকায় এসে হাবিব ভাইয়ের সঙ্গে আমি যোগযোগ করলাম। সে সময় হাবিব ভাই ‘হৃদয়ের কথা’ নামের একটি ছবির গান করছিলেন। ‘ভালোবাসব বাসব রে, বন্ধু তোমাকে’ গানটিতে একজন নারী কণ্ঠের প্রয়োজন। হাবিব ভাই আমাকে দিয়েই গানটি করান। হৃদয়ের কথা ছবিটা মুক্তি পেল এবং ছবিটি সুপার হিট হল। এই স্মৃতি এখনো আমার মনে পড়ে।
 এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে আমি এলাম চলে ঢাকায়। কলেজে ভর্তি হলাম। তখন পড়াশোনা আর গান নিয়ে ব্যস্ত, আবার হাবিব ভাই আমাকে ডাকলেন এস এ হক অলীকের আকাশ ছোয়া ভালোবাসা ছবিতে ‘পৃথিবীর যত সুখ’ গানটি গাওয়ার জন্য। আমি বলব এটাই ছিল আসলে আমার জন্য সবচাইতে বড় সুযোগ। আমার মতো নতুন একজন শিল্পী একটি বানিজ্যিক চলচ্চিত্রে বড় বড় শিল্পীর সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ হাবিব ভাই এবং ছবির পরিচালক এস এ হক অলীকের কাছে।
 ২০০৯ সালে হাবিব ভাইয়ের সঙ্গে জুটি হিসেবে আমরা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলাম ‘বাহির বলে দূরে থাকুক’ গানটি দিয়ে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ছবির এ গানটি আসলে আমাকে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়ার এক দূর্লভ সুযোগ এনে দেয়। এই স্মৃতিটা ভোলার নয়।
 সোহেল আরমানের ‘এই তো প্রেম’ ছবির ‘আমি তোমার মনের ভেতর একবার ঘুরে আসতে চাই’ গানটি আমি গেয়েছিলাম হাবিব ভাইয়ের সঙ্গে। আমার প্রতিটি সাফল্যে ছিল হাবিব ভাইয়ের অবদান। এই গানটি আমার জীবনের সেরা একটি গান।
 আমি যখন প্রথম জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাই তখন আমি আমার মায়ের চোখে পানি এবং মুখে হাসি দেখতে পেয়েছিলাম। সে সময় আমার মনে হয়েছিল আমি একটা কিছু করতে পেরেছি মায়ের জন্য। সেটা আমার অনেক আনন্দের ছিল। আমার আরও একটি আনন্দের স্মৃতি হচ্ছে মেয়ে রোদেলা যখন জন্ম নিল। আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের স্মৃতি।
 দুঃখের স্মৃতি অসংখ্য। কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব। আমার মা যখন আমাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। আমি যখন আমার সন্তান হারালাম। এইসবই আমার দুঃখের স্মৃতি। এই স্মৃতি গুলো আমি কখনোই ভুলতে পারব না।
 ২০০৯ সালে সংগীতার ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছিল আমার প্রথম একক অ্যালবাম ‘ভালোবাসা অধরা’। জীবনের প্রথম সলো অ্যালবাম আমি খুবই এক্সসাইটেড ছিলাম।
 ২০০৯ সাল থেকে টানা চারবার আমি মেরিল প্রথম আলো প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কার পেয়েছি। এটা আমার জন্য স্মরনীয় স্মৃতি বলতে পারেন।
 ২০১১ সালে ‘প্রজাপতি’ ছবির ‘দুদিকে বসবাস’ গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলাম। গানটি লিখেছিলেন জাহিদ আকবর আর সুর করেছিলেন হাবিব ভাই এটা আমার জীবনের একটি বড় পাওয়া। প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার স্মৃতি আমি কখনোই ভুলবোনা।
 ২০১০ সালের ঘটনা। ঈদুল ফিতরে আমাকে সাত দিনে মোট ১১টি টিভি চ্যানেলে গাইতে হয়েছিল। আমার সংগীত জীবনে খুবই স্বল্প সময়ের এই সময়ের মধ্যে যেভাবে শ্রোতাদের কাছাকাছি যেতে পেরেছি। এটা আসলেই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
 আমার বয়স তখন তিন বছর। ঐ সময় থেকে আমি গুণ গুণ করে গান গাইতাম। একদিন বাবা-মা দেখলেন আমি এ বয়সেই কোথাও গান শুনলে সেই গান গুণগুনিয়ে গাইতে থাকি। তারপর তারাপদ দাসের কাছে আমাকে তালিম নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। এভাবেই শুরু হলো আমার গানের চর্চা। সেটা ছিল আমার ছোটবেলায় স্মৃতি।
 আমি তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানে স্কুল থেকে নজরুল সংগীতে অংশ নিলাম। উপজেলা, জেলা ও বিভাগে প্রথম হয়েছিলাম, এরপর জাতীয় পর্যায়ে নজরুল সংগীতে প্রতিযোগিতায় নেমে সোনার মেডেল জিতেছিলাম। এটা আমার জীবনে স্মরণীয় একটা স্মৃতি।