আমার একমাত্র বাঁধা ছিল উচ্চতা আজরা মাহমুদ

আমার একমাত্র বাঁধা ছিল উচ্চতা আজরা মাহমুদ

3784
0
SHARE

আজরা মাহমুদ দেশের জনপ্রিয় একজন র‌্যাম্প মডেল ও কোরিওগ্রাফার। সফল উপস্থাপিকা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন গ্ল্যামার জগতে। ফ্যাশন শোয়ের উত্তরণের পেছনে আজরার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। আনন্দ আলোর সাথে আলাপচারিতায় আজরা নিজের মেধা বিকাশের সংগ্রামময় সময়ের কথা বলেছেন, জানিয়েছেন র‌্যাম্পের অনেক অজানা তথ্য। পাঠকদের জন্য থাকছে আলাপচারিতার বিশেষ অংশ… লিখেছেন প্রীতি ওয়ারেছা

আনন্দ আলো: র‌্যাম্পে আসার গল্পটা আপনার ক্ষেত্রে কেমন ছিল-

আজরা মাহমুদ: সেই পনের বছর আগের কথা। ছোটবেলায় সময় পেলেই এফটিভি দেখতাম। মডেলরা সুন্দর সুন্দর পোশাক পরে হেঁটে আসছে আবার চলে যাচ্ছে। শুধু যে তারা আসছে আর যাচ্ছে তা কখনো মনে হতো না। মডেলরা দর্শকের সামনে যে ব্র্যান্ডের পোশাক পরে আছে সেটার সাথে নিজেকে উপস্থাপন করছে এবং সেই ব্র্যান্ডটাকে যথাযথভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে তাও আবার মুখ বন্ধ করে, শুধুমাত্র হাঁটা ও অভিব্যক্তি প্রকাশের মাধ্যমে একটি ব্র্যান্ডের আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলাটা বিশাল একটা ব্যাপার বলে মনে হতো আমার কাছে। র‌্যাম্পে দাঁড়িয়ে ভুল করার কোন সুযোগ নাই। মানুষ যখন ফ্যাশন শো দেখে তখন মনে করে মডেলরা আসলো আর গেল কিন্তু বিষয়টা আসলে এতোটা সহজ না। এসব দেখতে দেখতে, ভাবতে ভাবতেই মনের ভেতরে একটা মুগ্ধতার জায়গা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেই মুগ্ধতা থেকেই আস্তে আস্তে চিন্তা করলাম আমিও তো কাজটা করতে পারি! সেই ভাবনা থেকেই ২০০১ সালে আমি ‘এভেলুশন’ নামে একটি মডেলিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করি। এজেন্সিটি ছিল কৌশিকি নাসের তুপার। সেখানে তিন মাসের ট্রেনিং নেই। ২০০১ সালের অক্টোবরে আমি প্রথম শো করি। এভাবেই র‌্যাম্পের শুরু। ইন্সপিরিশনের জায়গায় তুপা আমার ক্ষেত্রে অনেক বড় একটা রোল প্লে করেছে। যখন মডেলিংয়ের কথা ভাবিওনি তখনই আড়ংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে তুপার ছবি দেখতাম আর মুগ্ধ হয়ে যেতাম। ভাবতাম আমাদের দেশে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের এমন মডেলও আছে। মজার ব্যাপার হল আমি যখন ‘এভেলুশন’য়ে যাই তখন জানতামই না এজেন্সিটা তুপার। আমি কলিংবেল চাপতেই দেখলাম দূর থেকে লম্বা একটি মেয়ে মুগ্ধতা ছড়াতে ছড়াতে হেঁটে আসছে। কাছে আসতেই আমার চোখ ছানাবড়া। আমার চোখে এখনো তুপার সেই হেঁটে আসার দৃশ্যটা ভাসে। যাকে দেখে মডেলিংয়ে চিন্তাটা মাথায় ঢুকেছিল এই সেই তুপা।

আনন্দ আলো: শুরুটা তো হল এবার নিজেকে কীভাবে আজকের জায়গায় দাঁড় করলেন? এজন্য কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে?

আজরা মাহমুদ: তুপা আমাকে শক্ত হতে সাহায্য করেছিল। আমি উচ্চতায় শর্ট ছিলাম। র‌্যাম্প মডেলিং করতে চাই জেনে তুপা আমাকে সরাসরি বলেছিল যে আজরা আমি তোমাকে কতটুকু সহযোগিতা করতে পারবো জানিনা কারণ তুমি বেশ খাটো। তারপরেও তুমি চাইলে শিখতে পার। তুপা আমাকে এই কথা বলে হতাশ করেনি বরং নতুনভাবে চেষ্টা করার কিংবা অন্যভাবে কিছু করার আগ্রহ জুগিয়েছিল। তখন কেবলই আকাশ পাতাল অনেক কিছু ভেবেছি। ভেবেছি আমি যদি নিজের ভেতর থেকে এমন কিছু একটা বের করতে পারি যা অন্যের মধ্যে নাই তাহলে অডিশনের সময় হয়তো আয়োজকরা ও ডিজাইনার আমাকে সিলেক্ট করবে। আমি প্রতিদিন তিন চার ঘন্টা করে বাসায় আয়নার সামনে হাঁটতে লাগলাম। এমনভাবে হাঁটার চেষ্টা করতে থাকলাম যেটা অন্য কেউ করেনি। ভেরিয়েশন আনার চেষ্টা করতাম। নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা করতে না পারলে টিকে থাকা যাবে না বিষয়টা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। আমার প্রথম বাঁধা ছিল আমার উচ্চতা সেটাকে কাটিয়ে উঠতে আমাকে এভাবেই কষ্ট করতে হয়েছে।

আনন্দ আলো: র‌্যাম্পে আসার ব্যাপারে পরিবারের কতটা সহযোগিতা ছিল?

Azra-1আজরা মাহমুদ: মিডিয়াকে নিয়ে একটা খারাপ ধারণা এখনো আছে তখনো ছিল। তবে ভালো খারাপ সব ক্ষেত্রেই আছে এখন সবাই সেটা বোঝে। ভালো হওয়া ও খারাপ হওয়া পুরোটাই নিজের মধ্যে। বিশেষ কোন মাধ্যম কখনো ভালো খারাপ বিচার করতে পারে না। এই মাধ্যমের মানুষ ভালো আর ঐ মাধ্যমের মানুষ খারাপ এটা মানুষের ভুল ধারণা। ১৬-১৭ বছর বয়সে আমরা যখন মডেলিং শুরু করি তখন কে বলল তেমন গুরুত্ব দেইনি। কেন দেব? আমরা তো খারাপ কিছু করিনা! বয়সের দাপটে সৃষ্টির নেশায় রক্ত গরম। তবে আমাদের বাবা-মাকে তো সমাজকে পাশে রেখেই চলতে হয়েছে। পাশের বাড়ির মহিলা কী বলল, আরেক বাড়ির চাচা কী বলল সেটা বিবেচনা করেই তাদের চলতে হয়েছে। সুতরাং সেই জায়গা থেকে আমার বাবা কিছুটা বিরোধী ছিলেন। তিনি পুরো ব্যাপারটিকে একেবারেই সাপোর্ট করেননি। মূলত আমার র‌্যাম্প শুরুই হয়েছে বাবার কাছ থেকে লুকিয়ে। তবে আমার আম্মার সাপোর্ট ছিল। আম্মা অন্যরকমের মানুষ।  কিছু একটা করতে চাইলে আম্মা আমাকে ঐ বিষয়টার ভালো ও খারাপ দুই দিক সম্পর্কেই জানিয়ে দিতো। তারপর আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলতো। আমি আম্মাকে যখন আমার মডেলিংয়ের কথা বলি তখন তিনি আমাকে সরাসরি বলে দিয়েছিলেন সমাজ কিন্তু এই বিষয়টাকে সহজভাবে গ্রহণ করবে না। তোমার পরিবারেরও অনেকে গ্রহণ করবে না। তারপরেও যদি তুমি করতে চাও সেটা তোমার সিদ্ধান্ত। এতকিছুর পরেও আমি কোন পথে হাঁটবো সে বিষয়ে তৈরি ছিলাম।  ২০০২ সালে ‘ইউ গট দ্য লুক’ বিউটি কনটেস্টে অংশ নেই। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছি বিষয়টা জানাতে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমাদের বাসায় একদিন একটা ফোন কল আসে। সেই ফোন ধরলেন আব্বা। আব্বা সরাসরি তাদের জানিয়ে দেন- এসব বিষয়ে আমার মেয়ে অংশ নেবে না। আমি বাসায় ফিরলে আব্বা আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি তখন বাধ্য হয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলেছিলাম অসম্ভব! আমি তো জানিই না। আমার কোন বন্ধু হয়তো দুষ্টুমি করে আমার ছবি পাঠিয়েছে। আমার কথা শুনে আব্বা আশ্বস্থ হয়েছিলেন। আব্বা আর্মি অফিসার ছিলেন, ভীষণ কাজ পাগল মানুষ। আব্বার কাছ থেকে আমিও এই বিষয়টা পেয়েছি। ও লেভেল দেয়ার পরেই আমি একটা স্কুলে চাকরি শুরু করে দেই, টিউশনিও শুরু করি। ‘ইউ গট দ্য লুক’ প্রতিযোগিতায় আমি বেস্ট লুক অ্যাওয়ার্ড পাই। আমার পরিবারের একটা সদস্যও উপস্থিত ছিলনা অনুষ্ঠানে। আমি যখন জিতে যাই তখন আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না আমি কার সাথে এই আনন্দটা সেলিব্রেট করব। আমি চুপ করে একটা কোনায় বসে ছিলাম। সেই ক্রাউনটা না জিতলে আজ এতদূর আসতে পারতাম না। আব্বা তার কাজের জগত নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকতো যে আমি টুকটাক মডেলিংয়ের কাজ করে বাসায় ফিরলে টের পেতো না। পত্র-পত্রিকায় ছবি ছাপা হলে আম্মা লুকিয়ে রাখতেন। আব্বার কাছ থেকে আমার মডেলিং জগতকে লুকিয়ে রাখতে পেরেছিলাম ২০০৪ পর্যন্ত।

আনন্দ আলো: কোরিওগ্রাফিতে কবে আসলেন?

আজরা মাহমুদ: আমার সব ধরনের এক্সপেরিমেন্টেশন শুরু হয় ২০০৪ সালে। প্রথম কোরিওগ্রাফি করি ‘ইউ গট দ্য লুক’ প্রতিযোগিতায়। গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং এবং প্যান্টিন আমাকে সুযোগটি করে দিয়েছিল। তারপরে টুকটাক কোরিওগ্রাফি করতে করতে ২০০৭ সালে কোরিওগ্রাফির মেইনস্ট্রিমে আসি লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। ২০০৪ থেকে ২০০৭ এই তিন বছর ছিল কোরিওগ্রাফিতে আমার স্ট্রাগলিং পিরিয়ড। ২০০৪ সালেই টিভিতে ‘সানসিল্ক অল্পরা’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে উপস্থাপনা শুরু করি। একই সালে মিমি আপুর প্রোডাকশন ‘ডলস হাউজ’ নাটকে অভিনয় করি। সবমিলিয়ে ২০০৪ সালটা আমার কাছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৭ সালে আমি মডেলিং ছেড়ে নিয়েছি। এখন শুধু উপস্থাপনা আর কোরিওগ্রাফিটাই ধরে রেখেছি।

আনন্দ আলো: কোরিওগ্রাফার হতে হলে কী যোগ্যতা থাকা দরকার?

আজরা মাহমুদ: প্রথমত ব্র্যান্ড ও ব্র্যান্ডের আইডেন্টিটি বুঝতে হবে। পোশাক অনেক ধরনের হয়। আড়ংয়ের ফ্যাশন শোতে আড়ংটাকে বুঝতে হবে, আলমিরা কোন শো করলে আলমিরাকে বুঝতে হবে। দুটো ব্র্যান্ডের আইডেন্টিটির মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। নির্ধারিত ব্র্যান্ডের আইডেন্টিটির সাথে কী ধরনের মিউজিক ব্যবহার করা যেতে পারে, র‌্যাম্পের হাঁটাটা কেমন হবে, এক্সপ্রেসন কেমন হওয়া উচিত, অডিয়েন্স থেকে র‌্যাম্পারের অবস্থান কতদূর হবে সবকিছু মাথায় রেখে কোরিওগ্রাফি প্ল্যান করতে হয়। অডিয়েন্স যাতে বোরড হয়ে না যায় সেটাও মাথায় রাখতে হয়।

আনন্দ আলো: ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই-

আজরা মাহমুদ: মডেলিং এর কথা বললে ২০০১ সালের ২১ অক্টোবরে ‘সুপার ফ্ল্যাশ’ নামে আমার প্রথম শোটির কথা বলতেই হয়। শোটি সোনারগাঁয়ে হয়েছিল। বিদেশ থেকে ডিজাইনাররা এসেছিল। আর  কোরিওগ্রাফির ক্ষেত্রে ‘ইউ গট দ্য লুক’ আমার উল্লেখযোগ্য কাজ। ২০০৭ সালে লাক্স চ্যানেল আই এর গ্রæমিংয়ের কথাও বলা যেতে পারে আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ। উপস্থাপনার কথা বললে বলব সানসিল্ক অল্পরার কথা। গালিব ভাই ছিলেন অনুষ্ঠানটির ডিরেক্টর ও প্রডিউসার। সংকোচ লাগছে বলতে আমি বাংলায় খুব খারাপ ছিলাম। সেই জায়গা থেকে গালিব ভাই আমাকে বের করে আনতে পেরেছে।

আনন্দ আলো: উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের র‌্যাম্পের মূল পার্থক্য কোথায়?

Azra-2আজরা মাহমুদ: আমদের দেশে ফ্যাশন শো এখনো এন্টারটেইনমেন্ট মিডিয়া হিসেবেই গণ্য হয়। বহিঃবিশ্বে কিন্তু তা না। মূলত ফ্যাশন শো হচ্ছে ডিজাইনারদের কাপড় অডিয়েন্সের সামনে উপস্থাপন করা। নতুন একটা কালেকশন আসলে সেটাকে সবার সামনে পরিচিত করাটাই হচ্ছে ফ্যাশন শো। বহিঃবিশ্বে সিজনকে কেন্দ্র করে ড্রেস ডিজাইন করা হয় আর আমাদের দেশে ফেস্টিভ্যালকে কেন্দ্র করে ড্রেস ডিজাইন করা হয়। একটা ব্যাংকের ব্রাঞ্চ উদ্বোধন করা হচ্ছে সেই উপলক্ষে একটি ফ্যাশন শোর আয়োজন করতে দেখা যায় আমাদের দেশে। এগুলো তো ফ্যাশন শো না। বিদেশে ফ্যাশন শো মানে ফ্যাশন শো, এন্টারটেইনমেন্ট শো না। আর একটা প্রকট পার্থক্য আছে। আমাদের দেশের মডেলরা আসে কোন বিউটি কনটেস্টের মাধ্যমে বা কোন ফটোগ্রাফারের কাছে ছবি তুলে একে তাকে কোনভাবে ম্যানেজ করে মডেল হয়ে যায়। আর বিদেশে মডেল তৈরি করে এজেন্সি, রিক্রুট করে এজেন্সি।

আনন্দ আলো: সাধারণদের ধারণা র‌্যাম্প মডেলদের ‘অন্ধকার জগত’ প্রবণতা আছে। আপনার মতামত জানতে চাই-

আজরা মাহমুদ: শুধু যে র‌্যাম্প মডেলরাই অন্ধকার জগতে জড়িয়ে যাচ্ছে এটা আমি বিশ্বাস করি না। র‌্যাম্প মডেলদের সমস্যা হচ্ছে তারা খুব বেশি মাত্রায় ওপেন। আমরা যা করি সবাইকে দেখিয়ে করি। আমরা সাহসী। র‌্যাম্প মডেলরা ইন্ডাস্ট্রিতে আসেই একটা ধারণা নিয়ে যে- আমি শুধু আমিই। মনোভাবটা এমন-মানুষ আমার যদি কিছু জেনে যায় তো জেনে গেল, তাতে কিছু আসে যায় না। র‌্যাম্পাররা ড্রাগস্ নিলেও সেটা ওপেন করে, কোথাও গেলে সেটাও ওপেন। লাইম লাইটে থাকার কারণে মানুষ তাদের ব্যাপারে জানছে বেশি। অন্যান্য পেশাধারীরা যে অন্ধকারে জড়াচ্ছে না তা আমি বিশ্বাস করি না।

আনন্দ আলো: পরিবার প্রসঙ্গে জানতে চাই-

আজরা মাহমুদ: আমার আব্বা মোঃ মাহমুদুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট কর্নেল। পরবর্তীতে বিমানের এমডি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। মা গৃহিনী। বড় ভাই নিউজিল্যান্ডে মাস্টার্স করছে। ওর রোযা নামে একটি মেয়ে আছে। খুবই আদুরে। আমরা পরিবারের সদস্যরা নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু কখনো যদি প্রয়োজন পরে এক হয়ে যেতে আমাদের সময় লাগে না। ছোটবেলায় আব্বাকে টাইগার ডাকতাম। আর এখন আব্বা আমার খুব ভালো বন্ধু। এখন তিনি আমার কাজকে খুব এপ্রিসিয়েট করে। আর আমার স্বামী সাজিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সাজিদ পাগলা টাইপের একটা ছেলে। ওকে আমার পছন্দ হওয়ার কারণও ছিল এটি। আমার জীবনের একটাই ফিউচার  প্ল্যান সেটা হল পৃথিবীর কোনা কোনা ঘুরে দেখা। সাজিদের সাথে পরিচয় হওয়ার পর দেখি সেও একই রকম। আমি ভাবিওনি এমন একজন মানুষকে আমি পার্টনার হিসেবে পাব। আমার পুরো শ্বশুড়বাড়ি ইসলামিক মানসিকতার। কিছুটা ভয়ে ছিলাম তারা আমার প্রফেশনকে কীভাবে গ্রহণ করবেন। তবে শ্বশুড়বাড়িতে গিয়ে বুঝেছি আমার স্বামী কীভাবে এতটা ব্রড মাইন্ডেড হয়েছে। ইসলাম যা তারা ঠিক সেটাই ধারণ ও লালন করে। আমি তাদের সাথে থাকি। সারাটা জীবন তাদের সাথেই থাকতে চাই।

আনন্দ আলো: নতুন র‌্যাম্প মডেলদের যা বলতে চান-

আজরা মাহমুদ: নতুনদের একটা কথাই বলব শিকড় কখনো ভুলবে না। শিকড় ভুলতে নেই। শিকড় ভুলে গেলে ভিত্তি নষ্ট হয়ে যাবে, কখনো শক্ত পায়ে দাঁড়াতে পারবে না।

আনন্দ আলো: প্রিয় শখ-

আজরা মাহমুদ: আমার জীবনের মোটিভ হচ্ছে পৃথিবী ঘোরা। আমি টাকা সঞ্চয় করি পৃথিবী ঘোরার জন্য। সুযোগ পেলেই উড়াল দেই। আর বই পড়তে ভীষণ পছন্দ করি।