আজিজুর রহমানের স্থাপত্য ভুবন

আজিজুর রহমানের স্থাপত্য ভুবন

128
SHARE
Shah-cement

মোহাম্মদ আজিজুর রহমান তালুকদার। বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য স্থপতি। বর্তমানে তিনি ‘বাস্তব কনসালটেন্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পাস করে বের হওয়ার পর তিনি যোগ দেন স্থপতি আব্দুস সালাম লিটনের তত্বাবধানে পরিচালিত ‘প্রফাইল লিমিটেড’ এ। ১৯৯৮ সালে দুইজন স্থপতি বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘প্রয়োগ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। একবছর পর তিনি নিজেই গড়ে তোলেন ‘বাস্তব কনসালটেন্টস’ নামের একটি ফার্ম। এ যাবৎ তিনি অসংখ্য দর্শনীয় হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন। এবার শাহ্ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক।
সবাই যদি নিজেকে ছোট ভেবে অন্যের ভালো কাজগুলোর মর্যাদা দিয়ে মূল্যায়ন করি তবেই আমরা সবক্ষেত্রেই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারব। হোক সেটা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কিংবা লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র। আমাদের দেশের ভবিষ্যতের উন্নয়নের ব্যাপারেও আমি আশাবাদী। কথাগুলো বললেন প্রতিভাবান স্থপতি মো: আজিজুর রহমান তালুকদার। ইট, কাঠ, বালু ও কংক্রিটের মাঝেই তিনি খুঁজে ফেরেন প্রকৃতির সান্নিধ্য। আর তাই প্রতিটি স্থাপনায় থাকে সবুজের ছোঁয়া। আলো, বাতাস, সবুজসহ প্রকৃতিকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। দুই ভাই একবোনের মধ্যে সবার বড় আজিজুর রহমান। স্থায়ী নিবাস দিনাজপুর শহরে। তবে বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আজিজুর রহমানের বাবার নাম তালুকদার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। মা মৃত বিলকিস বানু। স্কুলে পড়াকালীন আজিজুর রহমানের ছবি আঁকার প্রতি নেশা ছিল। গল্পের বই পড়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। তবে ছবি আঁকার ঝোঁকটা ছিল অনেক বেশি। কলেজে পড়ার সময়ে হকি ভালো খেলতেন। লেখালেখি করতেন। ছবি আঁকাআঁকিও আর্কিটেকচারের প্রতি সেই ভালোবাসা থেকে আজ তিনি হয়েছেন সফল একজন স্থপতি।
মো: আজিজুর রহমান তালুকদার পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৮৭ সালে। ১৯৮৯ সালে একই কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন বুয়েটের স্থাপত্য অনুষদে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্য বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পাস করে বের হওয়ার পর স্থপতি আব্দুস সালাম লিটনের তত্ত¡াবধানে যোগ দেন ‘প্রয়োগ’ নামের একটি ফার্মে। সেখানে একবছর কাজ করার পর স্থপতি দুই বন্ধু শাবাব রায়হান কবির ও ফারুক আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে স্থাপত্য চর্চা শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে আজিজুর রহমান নিজে গড়ে তোলেন ‘বাস্তব কনসালটেন্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বারিধারা ডিওএইচএসতে তিনি খুব সুন্দর একটি অফিস সাজিয়েছেন। অভিজ্ঞ স্থপতিসহ মোট ৮ জন কর্মী কাজ করছেন। দেশের নামকরা ফ্যাক্টরী, কমার্শিয়াল টাওয়ার, অফিস বিল্ডিং, মসজিদ, গেস্ট হাউজ, পিকনিক স্পট, মেডিক্যাল সেন্টার, হেড কোয়ার্টারসহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন।
Shah-Cement-Projectউল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছেÑ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মঈনুল রোডের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আবাসিক ভবন সমূহ, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদের সেনাকল্যাণের ২০ তলা ট্রেড সেন্টার, পাবনার স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালের প্যানিসিলিন, আগ্রোভেড ও হারবাল ফ্যাক্টরী বিল্ডিং সমূহ, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালের ডিপো কমপ্লেক্স সমূহ, কাঁচপুরের এসকেএফ এর কিছু ফ্যাক্টরি বিল্ডিং, মহাখালীর ডিওএইচএস-এর টাইগারস ডেন, গাজীপুরের টেক্স ইরোবিডি লিমিটেডের ফ্যাক্টরী বিল্ডিং, মিরপুর ও মহাখালীর ডিওএইচএস-এর গ্রীণউড ডেভলপারের কয়েকটি আবাসিক বিল্ডিং, ধামরাই-এর ১২ তলা সিটি সেন্টার, নারায়ণগঞ্জের প্যানটেক্স-এর ফ্যাক্টরী বিল্ডিং, সাভার জিরাবোর পিকনিক স্পট ‘বর্ণচ্ছটা’, পাবনা ও ধোলাইখালের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ইন্টেরিয়র, টঙ্গীর এসকেএফ এর অফিস বিল্ডিংয়ের হেড কোয়ার্টারের ইন্টেরিয়র, সিলেটের জেবিএল মেডিক্যাল সেন্টারের ইন্টেরিয়র, জামালপুরের অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমানের গেস্ট হাউজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মঈনুল রোডের সেন্ট্রাল মসজিদ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আর্মিদের এমপি অফিস বিল্ডিং, সুমাইয়া ওয়েডিং অ্যাপার্টমেন্টের ইন্টেরিয়র, মাটিকাটা রোডের ইসিবি চত্বরের অনলাইন সিটি, ও ওয়াসি টাওয়ার, লালমাটিয়ার মি: মাসুদের আবাসিক ভবনের ইন্টেরিয়রসহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র করেছেন। বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি।
মো: আজিজুর রহমান তার সব ধরনের কাজ স্থাপত্য নীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন। ২০০৩ সালে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম মোছামৎ জরিনা পারভীন। এই দম্পতি এক সন্তানের জনক-জননী। ছেলের নাম মো: আবরার জাহিন। স্থপতি আজিজুর রহমান বলেন, প্রকৃতিকে বিনষ্ট না করে স্বাভাবিক ভাবে যে পরিবর্তন আনা যায়, ততটুকুই ডিজাইনের মাধ্যমে উন্নয়ন করা উচিত। তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে শুধু ভারসাম্যটা ধরে রাখার চেষ্টা করি। নিজে কখনও এগ্রেসিভ হই না। কিন্তু ভুলটা শুধরে একটা ভালো জিনিস দাঁড় করানোর চেষ্টা সব সময় থাকে। প্রতিটি মানুষের মাঝেই কিছু ক্ষমতা আছে, যা থেকে তারা ভালো জিনিসটা বেছে নিতে পারে। কিছু অপসনের খোঁজেই তারা বিশেষজ্ঞের কাছে উপদেশ নেয়। আমাদের দায়িত্ব ডিজাইনার হিসেবে, স্থাপনার নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করে ইতিবাচক দিকগুলোকে গ্রহণ করানো। তবেই একটা সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে উঠবে। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। এই স্থপতি তার কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করতে ভালোবাসেন। পেশার কাছে দায়বদ্ধ থেকে সেটাকে সততার সঙ্গে শেষ করতে চেষ্টা করেন।