আগের চেয়ে দর্শক অনেক বেশি নাটক দেখেন

আগের চেয়ে দর্শক অনেক বেশি নাটক দেখেন

30
0
SHARE
Apurbo

ঈদে বেশকিছু ভিন্নধর্মী নাটকে অপূর্বকে দেখা গেছে। সামনের ঈদের কাজ নিয়ে আবারো ব্যস্ত হয়ে গেছেন তিনি। কথা হলো অপূর্বর সঙ্গে-

আনন্দ আলো: গত ঈদে যে নাটকগুলো প্রচার হয়েছে, সেগুলোর রেসপন্স কেমন পেলেন?

অপূর্ব: রেসপন্স ভালো। সরাসরি দর্শকদের কাছ থেকে তো রেসপন্স পাওয়ার সুযোগ নাই। তবে আশপাশের মানুষজন, বন্ধু-বান্ধব ও মিডিয়ার অনেকেই নাটকগুলোর অনেক প্রশংসা করেছে। আর ইউটিউবের মাধ্যমে দেখলাম ঈদে প্রচারিত নাটকগুলোর অনেক ভিউয়ারস রয়েছে। এটা আসলেই কাজের অনুপ্রেরণা জোগায়।

আনন্দ আলো: আপনি নিজে নাটকগুলো দেখেছেন?

অপূর্ব: কিছু তো দেখা হয়েছেই। সারাবছরে ঈদের সময়টায় কিছুদিন ছুটি পাই। তাই এই সময়টা পারিবারিক ব্যস্ততা থাকে। তবুও কিছু নাটক দেখেছি।

আনন্দ আলো: কোন কোন নাটক দেখা হয়েছে?

অপূর্ব: ‘ব্যাচ ২৭’, ‘মার্চ মাসে শুটিং’সহ আরো বেশকিছু নাটক দেখেছি। তবে আগামীতে ফাঁকে ফাঁকে ইউটিউবে কিছু দেখার ইচ্ছা আছে।

আনন্দ আলো: আর অন্যদের নাটক দেখেননি?

অপূর্ব: হ্যাঁ দেখেছি। আমি সবসময় অন্যদের নাটক দেখি। কারণ অন্য অভিনয়শিল্পীর অভিনীত নাটক দেখলে তাদের সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া কে কেমন অভিনয় করছেন- সেটাও বোঝা যায়।

আনন্দ আলো: এখনকার ব্যস্ততা কি নিয়ে?

অপূর্ব: এখন আবার আসছে ঈদের জন্য কিছু নাটকের শুটিং শুরু করেছি। আর তো রয়েছেই প্রচার চলতি ধারাবাহিকের শুটিং।

আনন্দ আলো: আচ্ছা, আপনার কী মনে হয়- এই যে এত নাটক নির্মাণ এবং তা প্রচার হচ্ছে- তা কী দর্শক ঠিকমতো দেখছেন?

অপূর্ব: সব যে দেখছেন আমি তা বলবো না। তবে দর্শক আগের চেয়ে অনেক বেশি নাটক দেখেন। তবে টিভি চ্যানেলের চেয়ে ইউটিউবে দর্শকের আগ্রহ বেশি। তাই আমার মতে, প্রতিটি টিভি চ্যানেলের নিজস্ব একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকা দরকার। যেখান থেকে সঠিকভাবে চ্যানেলটি আয় করতে পারবেন। একটি নাটক থেকে যদি টিভি চ্যানেল ও ইউটিউব- এই দুই জায়গা থেকে আয় করা যায় তাহলে একটি নাটকের বাজেট অটোমেটিকলি বেড়ে যাবে।

এত নাটক নিয়ে আমরা কোথায় যাব?

Ñমামুনুর রশীদ

Mamunur-Rashidঈদের নাটক নিয়ে কথা বলেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা মামুনুর রশীদ। কথায় কথায় তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন সংস্কৃতির অংশ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট টেলিভিশন নিয়ে এককভাবে আলোচনা করাটা কঠিন। তারপরও প্রতি ঈদে অবসর সময়টা টেলিভিশনের সামনেই কাটাই। যে বিষয়টি লক্ষ্য করি, কোনো নির্দিষ্ট নাটক বা অনুষ্ঠান আগের মতো মনোযোগ দিয়ে কেউ দেখছে না। অন্যান্য সময়ের মতো তারা ব্যস্ত থাকছেন দেশের বাইরের বিভিন্ন চ্যানেল নিয়ে। দেশি চ্যানেলের প্রতি তাদের আগ্রহ বরাবরই কম। তবে ঈদের সময়টা আমি নাটকের প্রতি লক্ষ্য রাখি। নিজের নাটকের চেয়ে যদিও অন্যদের কাজই বেশি দেখা হয়। এবার মনে হয়েছে, বিভিন্ন টেলিভিশনে নাটকের সংখ্যা অনেক বেশি; তবে মান সম্পন্ন নাটকের সংখ্যা খুবই কম। যে কারণে আগ্রহ নিয়ে দেখার মতো নাটক নেই বললেই চলে। অনেক নাটকের হয়তো প্রথমটা ভালো ছিল; কিন্তু পরে গল্পের খেই হারিয়ে ফেলে। আবার অনেকের অভিনয় এতটাই অনুকরণীয় যে, কোনো চরিত্রই আলাদা মনে হয় না।’ এ প্রজন্মের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ প্রজন্মের জন্য আকর্ষণীয় নির্মাণ যেমন জরুরি, তেমনি দর্শকের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে ভাবনাটাও জরুরি। দর্শক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরীক্ষাপ্রবণ। তাই যুগের চাহিদা টেলিভিশনকে মেনে নিয়েই অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করতে হবে। এ জন্য অনুষ্ঠান বিভাগের উন্নতির পাশাপাশি বাজেট নিয়েও ভাবনা প্রয়োজন।’

এবারও শীর্ষে মোশাররফ করিম!

Mosarrof-Karim30প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদে মোশাররফ করিমের সবচেয়ে বেশি নাটক প্রচার হয়েছে। দর্শক গ্রহণযোগ্যতাও ছিল বেশ। প্রতিনিয়তই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছেন তিনি। অন্যান্য ঈদে পকেটমার হিজড়া, শহুরে বাটপার, ব্যাচেলর, কর্পোরেট দুনিয়ার ভদ্র চাকরিজীবী, হুমায়ূন আহমেদের হিমু, ব্যবসায়ী, পুরান ঢাকার গোল্লায় যাওয়া ছেলে, সিকান্দার বক্স, মহল্লার বড় ভাই এবং আদর্শ প্রেমিক, ঝালখোর, ঘুষখোর, পানখোর এমন অনেক চরিত্রে রূপদানের মাধ্যমে দর্শকদের মনে আসন গড়ে নিয়েছিলেন মোশাররফ করিম। এবারও ঈদে তাই করেছেন।

গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের উচ্চ বিত্তশালীদের ফ্ল্যাটের হোম থিয়েটারেও বিনোদন খোঁজা হয় এ তারকা অভিনীত নাটকে।

গেল কয়েক বছর ধরে ঈদে সবচেয়ে বেশি নাটকের অভিনেতাও তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এই ঈদেও ছিল সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন চ্যানেলে তার সমান উপস্থিতি। সেই তালিকায় ছিল সাগর জাহানের মাহিনের নীল তোয়ালে, অ্যাভারেজ আসলাম ইজ নট ব্যাচেলর ও লাইফ ইজ কালারফুল, আজাদ কালামের জমজ ৭, শামীম জামানের মেজাজ ফোরটি নাইন টু ও বডিগার্ড হোসেন। আরো ছিল আসাদুজ্জামান সোহাগের রচনা ও রিপন মিয়ার পরিচালনায় থার্ড পারসন, আর বি প্রীতমের রচনায় ও পরিচালনায় ম্যানপাওয়ার, ইমরাউল রাফাতের পরিচালনায় বেঙ্গল সমিতি  এবং কায়সার আহমেদের রূপালি প্রান্তর। ঈদে প্রায় ৩০ টির বেশি নাটক প্রচার হয় মোশাররফ করিমের।