Home প্রতিবেদন গল্প অন্তরের সুবাস

অন্তরের সুবাস

SHARE
Samsur-Rahman

দৈনিক বাংলা মোড়ে দাঁড়িয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলেন শামসুর রাহমান। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলেন জায়গাটার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। পাশেই দৈনিক বাংলার অফিস। একবার ঢুঁ মারলে কেমন হয়। কিন্তু কেউ তো তাকে চিনবে না। পাছে ভ‚ত বলে না তাড়িয়ে দেয়। সাহস করে সামনের দিকে পা বাড়ালেন তিনি। কিন্তু দৈনিক বাংলার গেটে এসে অবাক হলেন। এটা তো দৈনিক বাংলার অফিস নয়। একটি ব্যাংকের সাইনবোর্ড ঝুলছে। তাহলে কি অফিস বদল হয়েছে? গেটের সামনে একটা পত্রিকার দোকান ছিল। দোকানটা এখনো সেভাবেই আছে। এগিয়ে এসে দোকানে বসা একজন তরুণকে জিজ্ঞেস করলেনÑ ভাই এইখানে একটা পত্রিকা অফিস ছিল…। দৈনিক বাংলা…

তরুণ ব্যস্ততা দেখিয়ে বলল, ঐ পত্রিকাতো সেই কবে বন্ধ হইয়া গেছে। এখন এইটা ব্যাংকের অফিস।

শামসুর রাহমান একটু অবাক হলেন। একটি ঐতিহ্যবাহী দৈনিক পত্রিকা বন্ধ হয়েছে? কেন? উপরের দিকে তাকালেন। ঐতো দোতলায় কোনার রুমটায় তিনি বসতেন। পাশেই ছিল সাপ্তাহিক বিচিত্রার অফিস। সাপ্তাহিক বিচিত্রাও কি বন্ধ? নিজের রুমটা একবার দেখার ইচ্ছে হচ্ছে। রুমটা কি সেই রকমই আছে। নাকি বদল হয়েছে। ইচ্ছে করলেই নিজেকে গোপন রেখে রুমটা দেখে আসা যায়। কিন্তু গোপনভাবে যেতে চাচ্ছেন না শামসুর রাহমান। কিন্তু এই মুহূর্তে কোথায় যাওয়া যায়? সদরঘাটের পাশে বিউটি বোডিং নাকি বাংলা একাডেমি? নাকি একবার শ্যামলীতে নিজের বাড়ি থেকে ঘুরে আসবেন। ভাবতে গিয়ে সম্মিলিত সেই শর্ত নামার কথা মনে পড়ে গেল। পৃথিবীতে নেমে পারিবারিক কোনো আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তাহলে কি করবেন শামসুর রাহমান? সামনেই ফুটপাতে একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চির ওপর বসলেন। বয়স্ক দোকানদার ব্যস্ত হয়ে বললÑ স্যার কি দিমু? চা না অন্য কিছু? ভালো টোস্ট বিস্কুট আছে। চায়ের সঙ্গে টোস্ট বিস্কুট খান। মজা পাইবেন।

শামসুর রাহমান মাথা নেড়ে বললেন, ঠিক আছে টোস্ট বিস্কুট আর চা দাও।

দোকানদার প্লেটে ৩টা টোস্ট বিস্কুট রাখলো। চায়ের কাপ গরম পানি দিয়ে দুবার ধুয়ে নিয়ে প্রথমে কাপে দুধ ঢাললো। সে কাজ করছে, চা বানাচ্ছে… কিন্তু দৃষ্টিটা শামসুর রাহমানের দিকে। এক পর্যায়ে চায়ের কাপ আর বিস্কুটের প্লেট বাড়িয়ে দিয়ে সাহস করে প্রশ্ন করলোÑ স্যার আপনারে চিনা চিনা লাগতেছে। আপনার বাড়ি কোথায়?

শামসুর রাহমান একটু ইতস্তত করে বললেনÑ আমার বাড়ির খবর দিয়ে আপনি কি করবেন?

দোকানদার মুখে মৃদু হাসি ছড়িয়ে বললÑ না এমনি জিগাইলাম। আপনার সঙ্গে একজনের চেহারার হুবহু মিল পাইতেছি। তিনি অনেক দামি মানুষ ছিলেন…

শামসুর রাহমান আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেনÑ আপনি কার কথা বলছেন? দোকানদার অহংকারী ভঙ্গিতে বললÑ তার নাম শামসুর রাহমান। দেখতে ঠিক আপনার মতোই… আপনি কি তার আত্মীয়… ভাই বেরাদারদের মধ্যে কেউ? তা না হইলে চেহারার এত মিল হয় কি কইর‌্যা। স্যার বলেন তো আপনি কে?

শামসুর রাহমান একবার ভাবলেন নিজের পরিচয়টাই তুলে ধরবেন। বলবেন আমিই শামসুর রাহমান। পরক্ষণেই মনে হলো তার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। বিশ্বাস করার কথাও না। কাজেই পরিচয় গোপন রাখাই ভালো। চায়ের দোকানদারের সঙ্গে ভাব জমানোর কথা ভাবলেন তিনি। ভাই আপনি ঠিকই ধরেছেন আমি আপনাদের কবি শামসুর রাহমানের আত্মীয়, ফুফাত ভাই। আমাদের দুইজনের চেহারা প্রায়ই একই রকম।

শামসুর রাহমানের পরিচয় পেয়ে দোকানদার যারপরনাই খুশি হয়ে বললÑ আমি কিন্তু স্যারের কবিতার অনেক ভক্ত। রাহমান স্যারের স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, বর্ণমালা আমার দুখিনী বর্ণমালা, আসাদের শার্ট এই কবিতাগুলা আমার অনেক প্রিয়। আমার ছোট মেয়ের নাম সুহিতা সুলতানা তিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানে পড়াশোনা করতেছে। ভালো আবৃত্তি করে। ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ কবিতাটা আবৃত্তি করে সে স্বর্ণের মেডেল পাইছে। সে যখন এই কবিতাটা আবৃত্তি করে আবেগ ধরে রাখতে পারি না স্যার। যুদ্ধের সময়কার কথা মনে পড়ে। গায়ের লোম খাড়া হইয়া যায়। আপনি একবার যাবেন স্যার আমাদের বাসায়। মেয়েটার আবৃত্তি শুনবেন। আপনি গেলে একটা সারপ্রাইজ হবে। মেয়েটাতো সামনা সামনি কবিকে দেখে নাই। তাকে বলবÑ মা এই যে দ্যাখো তোমার প্রিয় কবি শামসুর রাহমান। যাবেন স্যার একবার আমাদের বাসায়। আমার মেয়েটা অনেক খুশি হবে।

শামসুর রাহমান একবার ভাবলেন এই দোকানদারের বাসায় যাবেন। তার মেয়ে কেমন আবৃত্তি করে দেখবেন। কিন্তু প্রথমে বাংলা একাডেমিতে যেতে ইচ্ছা করছে। ওখানে গেলে দেশের সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। কিন্তু পুরনো বন্ধুরা কি এখনো আছে বাংলা একাডেমিতে? কবি আসাদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, নূরুল হুদা ওরা কি আছে এখনো। নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, হেলাল হাফিজ, বেলাল চৌধুরীসহ অনেকের কথা মনে পড়ছে। একবার সবার সঙ্গে দেখা করতে পারলে ভালো লাগত। প্রথমে বাংলা একাডেমিতেই যাবার কথা ভাবলেন শামসুর রাহমান। সেখান থেকে না হয় এই দোকানদারের বাসায় যাওয়া যাবে। তার আগে দোকানদারের নামটা জানা দরকার।

ভাই আপনার নামটা কিন্তু জানা হলো না। নাম কি?

চায়ের দোকানদার বিনীত হয়ে বললÑ কবি আলাউদ্দিন। সবাই কবি বলে ডাকে।

ওমা তাই নাকি? আপনি কি কবিতা লেখেন?

হ্যাঁ, একটু আধটু লিখি। আমার একটা কবিতার বই বাইর হইছে। নাম জন্মভূমি। বইটাতে শামসুর রাহমানকে নিয়েও একটা কবিতা আছে। একটা মজার কথা বলি স্যারÑ আমার মেয়ের কাছে শামসুর রাহমানের যাবতীয় তথ্য পাবেন। এই যেমন ধরেন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রƒপ করে শামসুর রাহমান একটা কবিতা লিখেছিলেন। নাম ছিল ‘হাতির শুঁড়’। কবিতাটা আমার মেয়ের কাছে আছে। তারপরে ধরেন এই দেশে একবার রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আহমেদ হুমায়ুন, ফজল শাহাবুদ্দিন যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তার কপিও আমার মেয়ের সংগ্রহে আছে। আমার বাসায় চলেন স্যার আরো অনেক কিছু দেখবেন। আপনার ভালো লাগবে।

সিদ্ধান্ত পাল্টালেন শামসুর রাহমান। আগে বাংলা একাডেমি নয় এই কবির বাসায় যাবেন তিনি। দেখতে চান কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে তার জন্য। কবি আলাউদ্দিনকে প্রশ্ন করলেনÑ আমরা কি এখনই আপনার বাসায় যাব?

জি স্যার এখনই চলেন।

আপনার দোকানের কি হবে?

দোকান বন্ধ করে যাব। আইজ আর দোকান চালাইতে ইচ্ছা করতেছে না স্যার।

আপনি আমাকে এভাবে ‘স্যার স্যার’ বলে সম্বোধন করছেন কেন? ভাই বলে সম্বোধন করেন।

কবি আলাউদ্দিন জি স্যার বলেই জিভে কামড় দিয়ে বললÑ চায়ের দোকান চালাই। ‘স্যার বলাটা অভ্যাস হয়ে গেছে।’

চায়ের দোকান চালান কেন? অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না।

চেষ্টা করলে পারতাম স্যার। কিন্তু পৈত্রিক ব্যবসাটা ছাড়তে পারলাম না। আমার বাবা ফুটপাতে এই চায়ের দোকানটা দিয়েছিল। আমরা পাঁচ ভাইবোন। আমি বাদে সবাই ভালো চাকরি করে। এক ভাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব, এক ভাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এক বোন দিনাজপুরে শিক্ষা বিভাগে আছে। পেশাগত ভাবে আমিই একটু পিছনে পইড়্যা আছি। কিন্তু তাতে দুঃখ নাই স্যার। ছেলে-মেয়েদেরকে মানুষ করেছি। আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকা মেডিক্যালের ডাক্তার। ছোট ছেলে এবার বিসিএস দিয়েছে। মেয়েটার কথা তো আপনাকে বললাম। ভাবতেছি আর দুই এক বছর পর ফুটপাতের এই ব্যবসা ছাইড়া দিব। কারণ প্রায়ই পুলিশ ঝামেলা করে। পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়, এলাকার মাস্তানদেরকে খুশি রাখতে হয়…

বলতে বলতে দোকান গুটিয়ে ফেলল কবি আলাউদ্দিন। পাশের দোকানদার হাক ছাড়লোÑ কবি দোকান কি বন্ধ করতেছেন?

হ্যাঁ। মেহমানরে নিয়া বাসায় যাব। আইজ আর দোকানদারি করবো না।

 

একটা রিকশায় বসে যাচ্ছেন শামসুর রাহমান ও কবি আলাউদ্দিন। শামসুর রাহমান জানতে চাইলেনÑ আচ্ছা আলাউদ্দিন আপনি তো কবিতা লেখেন। নিশ্চয়ই দেশের সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পর্কে আপনার একটা ধারণা আছে।

মোটামুটি। কি জানতে চান বলেন।

দেশের বড় বড় কবি লেখকদের সঙ্গে আপনার দেখা হয়?

হ্যাঁ হয় মাঝেমধ্যে।

আগে যেমন বিউটি বোডিং, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন জায়গায় কবি লেখকদের আড্ডা হতো, এখনো কি হয়?

কবি আলাউদ্দিন ভেবে নিয়ে বললÑ আড্ডা হয় না বললে ভুল হবে। তবে সব আড্ডায় সবাই যায় না।

কেন?

সত্য কথা বলব?

বলেন।

রাজনৈতিকভাবে কবি লেখকরা এখন বহু দলে বিভক্ত। কেউ সরকারি দলের কবি, কেউ বিরোধী দলের কবি।

বলেন কি। কবি লেখকদের মধ্যেও বিভেদ? তাহলে তো সাহিত্যের অবস্থা ভালো নয়। কি বলেন?

হ্যাঁ সাহিত্যের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। কেন আপনি জানেন না? সাহিত্যের খোঁজ খবর নিশ্চয়ই রাখেন। মজার ব্যাপার কি জানেন এই দেশে এখনো সাহিত্য নিয়া কাজ করাটা সম্মানের জায়গায় দাঁড়ায় নাই। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন বাবা-মায়েরা কখনই চায় না তার কোনো ছেলে-মেয়ে কবিতা লিখুক, সাহিত্যের চর্চা করুক। কেন চায় না জানেন? এই দেশে গুটি কয়েকজন বাদে সাহিত্যিকদের কোনো মর্যাদা নাই। রেডিও টিভিতে গানের, নাচের, অভিনয়ের প্রতিযোগিতা হয়। সাহিত্যের কোনো প্রতিযোগিতা হয় না। তাহলে সাহিত্যের প্রতি ছেলে-মেয়েরা আগ্রহী হবে কেন? কথাগুলো বলতে বলতে বিনয় প্রকাশ করলো কবি আলাউদ্দিনÑ স্যার মনে কিছু নিবেন না। ছোট মুখে অনেক বড় কথা বলে ফেললাম। শামসুর রাহমান মৃদু হেসে কবি আলাউদ্দিনকে সাহস দিলেনÑ ঠিক আছে আপনি বলেন, আপনার কথা শুনতে ভালো লাগছে।

সাহস পেয়ে কবি আলাউদ্দিন একটু যেন প্রতিবাদী হয়ে উঠলো। শামসুর রাহমানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললÑ স্যার দেশের যে কোনো দুঃসময়ে কবি সাহিত্যিকরাই তো প্রথম আগায়া আসে। ৭১-এর মহান স্বাধীনতা আন্দোলন, ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। দেশে স্যার জঙ্গি বিরোধী আন্দোলন চলতেছে। এই আন্দোলন নিয়া আমাদের কবি সাহিত্যিকদের যেভাবে সোচ্চার হওয়ার দরকার ছিল তারা সেইভাবে সোচ্চার হয় নাই। এইটা স্যার ভালো লক্ষণ না।

কবি আলাউদ্দিনকে যতই দেখছেন ততই অবাক হচ্ছেন শামসুর রাহমান। একজন চায়ের দোকানদার হিসেবে তাকে যতটা সাধারণ মানুষ মনে হয়েছিল সে ততটা সাধারণ নয়। তার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালোই হয়েছে। দেশের সাহিত্য চর্চার একটা ধারণাতো পাওয়া গেল।

রিকশা একটা পাঁচতলা বাড়ির সামনে দাঁড়ালো। রিকশা থেকে নামতে নামতে কবি আলাউদ্দিন বললÑ স্যার নামেন এই বিল্ডিং-এর থার্ড ফ্লোরে আমরা থাকি। স্যার আসেন, একটু সাবধান…

 

মেয়েটির আবৃত্তির গলা অত্যন্ত চমৎকারা। ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি তার মুখস্থ। শামসুর রাহমানের অনুরোধে তিনবার আবৃত্তি করলো সে। শামসুর রাহমান মেয়েটিকে যতই দেখছেন ততই অবাক হচ্ছেন। আবৃত্তি শেষে মেয়েটিকে কাছে টেনে বসালেন। জানতে চাইলেনÑ তুমি কি নিয়মিত কবিতা পড়?

হ্যাঁ।

কার কবিতা পড়ো?

রবীন্দ্রনাথ, নজরুল তো আছেনই। শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, নির্মলেন্দু গুণ আমার প্রিয় কবি। হেলাল হাফিজের কবিতাও পড়ি। কিন্তু তিনি তো নিয়মিত লেখেন না।

তোমার নামটা যেন কি?

আমার নাম তিথি।

সুন্দর নাম। আচ্ছা তিথি। তুমি কেন কবিতা পড়?

শামসুর রাহমান ভেবেছিলেন তিথি এবার একটু সময় নিবে। ভেবে নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিবে।

কিন্তু তিথি একটুও সময় নিল না। প্রশ্ন শুনেই বললÑ আমি মনের প্রশান্তির জন্য কবিতা পড়ি।

কবিতা মনে প্রশান্তি দেয়?

শুধু প্রশান্তি দেয় না। মনে সাহসও যোগায়। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন যারা গল্প, কবিতা লেখেন এবং যারা পড়েন তারা কেউই সাধারণত অন্যায় কাজে অংশ নেন না। আপনাকে একটু অনুরোধ করব?

অনুরোধ? করো…

বাবা বললেন, আপনি কবি শামসুর রাহমানের আত্মীয়। জ্ঞাতি ভাই। কিন্তু আমার তা মনে হচ্ছে না। আমার মন বলছে আপনিই শামসুর রাহমান। আমার প্রিয় কবি। আমি কি ঠিক বলেছি?

শামসুর রাহমান অবাক বিস্ময়ে মাথা নেড়ে বললেনÑ কিন্তু একথাতো কেউ বিশ্বাস করবে না। আমি তো মৃত। এভাবে প্রকাশ্যে সবার কাছে আসব কি করে?

তিথি এবার আরো অবাক করা কথা বললÑ বিশ্বাসটা হলো অন্তরের ব্যাপার। আমার সামনে রবীন্দ্রনাথ দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। এটা আমার বিশ্বাস। এজন্য রবীন্দ্রনাথকে সশরীরে আসতে হবে এমনতো কোনো কথা নাই। আপনি যে সশরীরে আমার সামনে এসেছেন এটা সত্য নয়। সত্যটা হলো আমার বাবা বিশ্বাস করে একটা গল্প সাজিয়েছেন আমার সামনে। শামসুর রাহমানের কবিতা ভালোবাসি। তিনি ভেবেছেন শামসুর রাহমানকে সামনা সামনি দেখতে পেলে আমি খুব আনন্দিত হবো। তিনি আমাকে আনন্দিত করতে চেয়েছেন। আমি তাকে বিশ্বাস করেছি বলেই ব্যাপারটা ঘটেছে। আসলে এই বিশ্বাসটাই আসল। দেশের কবি সাহিত্যিকদের উচিত এই বিশ্বাসের গল্পগুলোই বেশি বেশি তুলে ধরা। কথায় আছে তোÑ বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর…।