Home প্রতিবেদন শাহ সিমেন্ট সুইট হোম অনন্যার অনন্য স্থাপত্য ভূবন

অনন্যার অনন্য স্থাপত্য ভূবন

SHARE

স্থাপত্যশিল্পে যারা দেশের জন্য সৃষ্টিশীল কাজ করে চলেছেন তাদের মধ্যে স্থপতি সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানা অনন্যা অন্যতম। আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির স্থাপত্য বিভাগ থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রী লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়ার পর তিনি যোগদেন স্টুডিও ৩৬০ লিমিটেড নামের একটি ফার্মে। তারপর যোগদেন ‘ইনডিজেলয়াস’ নামের একটি কনসালটেন্সি ফার্মে। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, হোস্টেলসহ বিভিন্ন স্থাপনার ডিজাইন করেছেন। ছবি আঁকাআঁকি ছিল তার পছন্দের বিষয়। ২০১৩ সাল থেকে এখনো পর্যনত্ম স্থাপত্য অধিদপ্তরে সহকারি স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার শাহ সিমেন্ট সুইট হোমে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন। লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক।

দুই ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় স্থপতি সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানা। তার গ্রামের বাড়ি গফরগাঁও জেলায়। কিন্তু তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানার বাবার নাম মো: আব্দুল মালেক। তিনি বিআরডিবির ডেপুটি ডিরেক্টর ছিলেন। মা খোশনাহার বেগম ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন এর সিনিয়র এসটিও হিসেবে কর্মরত আছেন। স্কুল জীবন  থেকে  সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানা ছবি আঁকাআঁকি করতেন। বই পড়া ছিল তার পছন্দের বিষয়। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল আর্কিটেক্ট হওয়ার। ড্রইংচর্চা করতে করতে তিনি হয়েছেন সফল একজন স্থপতি। মনিপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ২০০২ সালে। ২০০৪ সালে বিসিআইসি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। ভর্তি হন আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির স্থাপত্য বিভাগে। এরপর বুয়েট থেকে মাস্টার্স করছেন তিনি। তার সহপাঠী বন্ধুদের মধ্যে আছে স্থপতি জুবাইরিয়া সাবেরিন, শফিউল আজম ও সায়মা আক্তার। এরা সবাই প্রতিষ্ঠিত আর্কিটেক্ট। প্রিয় শিক্ষকের মধ্যে আছেন স্থপতি তানভীর আহমেদ। স্থপতি সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানা অনন্যা আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রিলাভ করেন ২০১০ সালে। পাস করে বের হওয়ার পরই যোগদেন স্টুডিও ৩৬০ লিমিটেড-এ। সেখানে কিছুদিন চাকরি করার পর স্থাপত্য অধিদপ্তরের একটি প্রজেক্টে যোগদেন। সেখানে তিনি দুই বছর চাকরি করেন। তারপর ইনডিজেলয়াস ফার্মে ৫ মাস চাকরি করার পর ২০১৩ সালে স্থপতি অনন্যা যোগদেন  স্থাপত্য অধিদপ্তরে। সেখানে তিনি সহকারি স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ইতোমধ্যে সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানা নামকরা মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, অডিটোরিয়ামসহ অসংখ্য বিল্ডিংয়ের ডিজাইন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- সহকারি প্রধান স্থপতি একেএম মাসুদ পারভেজের সাথে যৌথভাবে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বরিশাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নোয়াখালির আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, পাবনা মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, যশোর মেডিকেল কলেজ, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, স্থপতি সাঈদ আহমেদের সাথে যৌথ ভাবে ক্যান্টনমেন্টের জেসিও কোয়াটার, সেনাকল্যাণ সংস্থার ভবন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের লেক ডেভলপমেন্টের দামাল কোর্ট, ইউরেকা হোমস এর বিল্ডিং ডিজাইনের কাজসহ অসংখ্য ভবনের ডিজাইন করেছেন। এছাড়া বর্তমানে বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ করছেন তিনি। সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানা তার সব ধরনের কাজ স্থাপত্যনীতি ও রাজউকের নিয়ম মেনেই করেন।

অনন্যা বলেন, একজন স্থপতি হিসেবে স্থাপত্য অধিদপ্তরে যোগদান করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহ বিশেষ করে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ভবনসমূহ ডিজাইন করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবানদের একজন মনে করি। যেহেতু এ অধিদপ্তর স্থাপত্য কাজের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করারও একটি সুযোগ তৈরি করে দেয় সেহেতু সাধারণ মানুষের স্বচ্ছন্দ্য ও সুবিধাদির কথা মাথায় রেখে ভবনের নকশা প্রণয়নের চেষ্টা করে থাকি। সরকারি দায়িত্ব পালনে পেশার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে স্থপতি হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও সবরকম নিয়ম মেনে কাজ করতে চেষ্টা করি। তিনি আরো বলেন, সরকারের সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অঙ্গিকারের বিষয়টি মাথায় রেখে পরিবেশ বিবেচনা করে কাজ করি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা প্রদানে সহায়ক অবকাঠামো সৃষ্টি ও দৃষ্টিনন্দন কাঠামো তৈরির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আসেত্ম আসেত্ম দেশ অন্যান্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানেও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গুলোতে অসংখ্য মানুষ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করছেন। এ সব প্রতিষ্ঠানে স্বনামধণ্য অনেক চিকিৎসক, নার্স, আয়া অক্লানত্ম পরিশ্রম করে সেবা দিচ্ছেন। তাদের কর্ম পরিবেশ চিত্তাকর্ষক করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে আপামর জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবাদানে জড়িত হতে পেরে আমি গর্ববোধ করি। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কাজে নজর দেন স্থপতি সিদ্দিকা নাসরীন সুলতানা অনন্যা।